page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

আরামে কাজ সারার ১০ টিপস

১. কাজ শুরুর একটা নিয়ম বানায়ে নেন

প্রতিদিন এক ধরনে দিন শুরু করেন। যদি বাসায় বসে কাজ করেন তাহলে কাজের আগে অল্প সময় হাঁটা বা কিছু পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন। চা পান করে বা মেডিটেশন করেও শুরু করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিদিন একই অভ্যাস মেনে কাজ শুরু করলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা সাহায্য করে। কাজের নিজস্ব যে একঘেয়েমি আছে তা দূর করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং কাজ করে সেরা ফলাফল পাওয়া যায়।

২. একইভাবে কাজ শেষ করুন

প্রতিদিন যেমন একই অভ্যাস মেনে কাজ শুরু করবেন তেমনি কাজ শেষ করুন একটি নির্দিষ্ট অভ্যাস মেনে। যেমন, আপনার ডেস্ক গোছানো বা আপনার কাজের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বন্ধ করে দেওয়া। তবে এই কাজগুলিকে আপনার মূল কাজ শেষ করার সংকেত হতে হবে, অর্থাৎ আপনি মানসিকভাবে কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিবেন।

৩. কাজের সময়ের সীমানা নির্ধারণ করুন

আমরা ২৪/৭ অর্থনৈতিক নিয়মে বাস করি। কিন্তু আমাদের সপ্তাহে ৭ দিনের ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে হয় না। স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করলে আমাদের তা উচিৎও নয়। সুতরাং, কখন আপনি কাজ বন্ধ করবেন, কখন আপনি পরিবারকে সময় দিবেন, কখন আপনি ফোন কল ধরবেন না সে সময়গুলি নির্ধারণ করুন। অন্যদেরকেও জানিয়ে দিন আপনার কাজের সময়ের সীমানা সম্পর্কে, না হলে অন্যরা আপনার কাজের নির্দিষ্ট সময়ের প্রতি সম্মান দেখাবে না। যেমন, আপনি বলতে পারেন, সন্ধ্যা ছয়টার পর আমি ফোন ধরি না, কথা বলতে হলে এর আগে আমাকে ফোন করতে হবে।

৪. আপনার কাজ যাদের সাথে তাদের ব্যাপারে ফোকাসড থাকুন

আপনার ক্লায়েন্ট বা যাদের সাথে কাজ তাদের মেইলের জবাব যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দিন। এমনকি, “আমি এই ব্যাপারে পরে কথা বলছি”—এ ধরনের রিপ্লাই হলেও যত দ্রুত সম্ভব দিন। এতে তারা আপনার প্রফেশনালিজমের প্রশংসা করবে। কারো সাথে কাজ করার পর কাজের ব্যাপারে তার ফিডব্যাক বা মতামত জানতে চান। এতে কাজের কোয়ালিটির ব্যাপারে আপনার দায়বদ্ধতা তারা বুঝতে পারবে।

৫. আপনার স্বাভাবিক প্রবণতাগুলিকে চ্যালেন্জ করুন

“এর কি আসলেই দরকার আছে”—এই প্রশ্নটি করার অভ্যাস তৈরি করুন। আপনার কি সত্যিই এখন এই মিটিংয়ে যাওয়া উচিৎ? কেন? আপনার কি এখনই এই রিপোর্টটি লেখা দরকার? এই কাজটি করা কি আপনার দায়িত্ব? আপনার কতগুলি কাজ ‘প্রয়োজনীয়’ আর ‘করলে ভালো’ এরকম বিরোধ তৈরি করে? আপনার সময় কি আপনি অন্য কোথাও ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারতেন না? আমরা বলি—আপনি নিজেই আপনার ক্যালেন্ডার, সুতরাং এটিকে সম্মানের সাথে ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় কাজ করবেন না—শুধু এরকম না ভেবে ভাবুন অপ্রয়োজনীয় কাজ করা উচিৎ নয়।

৬. আপনার ক্লায়েন্টদের মূল্যায়ন করুন

আপনি যদি কোনো চাকরি করে থাকেন তাহলে কোনো একটি কাজ হয়ে যাওয়ার পর আপনার ক্লায়েন্টদের মূল্যায়ন করুন। কোন জিনিসটির কারণে একজন ক্লায়েন্ট ভালো ক্লায়েন্ট হয়? ঠিকমত পাওনা পরিশোধ করা? ভালো কাজ করা? বেশি কাজ করা? ফলে পরবর্তীতে আপনি আবার যখন কোনো একজন ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করবেন তখন বুঝতে পারবেন তার সাথে কাজ করা উচিৎ কিনা।

৭. প্রতিজ্ঞা করুন, মেনে চলুন

যারা প্রতিজ্ঞা মেনে চলে, দায়বদ্ধ সবাই তাদেরকে কাজের ব্যাপারে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়।

৮. নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিন

আপনি কি খাবার খাচ্ছেন সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। যে খাবার আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো সেগুলি খান।

৯. একজন মেন্টর বা আদর্শ নির্ধারণ করুন

আপনি কারো অধীনে কাজ না করে স্বাধীন কোনো পেশায় নিয়জিত থাকলেও মেন্টর খুব সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মেন্টর এমন কেউ যার কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতে হতে পারে। মেন্টর আপনার কাজের লক্ষ্যের ব্যাপারে ফোকাসড থাকতে সাহায্য করে এবং আপনাকে কাজ নিয়ে যেসব প্রশ্ন তিনি জিজ্ঞাসা করবেন, অন্য কেউ তা করবে না। আপনার যদি মেন্টর খুঁজে পেতে কষ্ট হয় তাহলে আপনার কাজের ক্ষেত্র থেকে একজন পেশাদার সহযোগী বেছে নিন।

১০. পরিকল্পনা রাখুন

যেকোনো সময়ে যেকোনো কিছু করতে চাওয়া এবং শুরু করা সহজ, কিন্তু আপনার লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা কঠিন। যখন আপনার কাজ নেই, তখন পরিকল্পনা করুন।

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক