page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলির অবিচল স্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫তম প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলির স্ত্রী আইডা স্যাক্সটন ছিলেন নিতান্ত কল্পরোগগ্রস্ত ও অধিকারপরায়ণ মহিয়সী। তিনি চাইতেন স্বামী যাতে সকল সময় তার সঙ্গে সঙ্গে থাকেন। ১৮৭১ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দ্বিতীয় কন্যা সন্তান জন্ম দিবার কালে রক্তনালীর প্রদাহ ও মৃগী রোগে আক্রান্ত হন আইডা। জন্মের চার মাস পর মারা যায় শিশুটি। সে বছরই মারা যান আইডার মা। দু’ বছর পরে মারা যায় তাদের প্রথম মেয়ে ক্যাথারিন—টাইফয়েডে।

ম্যাককিনলির সার্বক্ষণিক বিষণ্ন ও অসুখসুখী স্ত্রী ঠিক করেন, তাদেরকে গড নিশ্চয়ই কোনো পাপের কারণে শাস্তি দিতে আরম্ভ করেছেন।

ক্রমে তার ভারাক্রান্ত স্বাস্থ্য আরো ডেলিকেট হইয়া পড়ে। যেন যে কোনো সময় মারা যাইতে পারেন এই করতে করতে পরবর্তী ৩৪ বছর বাঁইচা ছিলেন তিনি।

ম্যাককিনলি তার অবিচল স্ত্রীর সঙ্গে বাকি জীবন একসঙ্গে বা সঙ্গে সঙ্গেই ছিলেন। ক্ষমতায় আরোহনের পর তিনি তার রাষ্ট্রপতিত্বকে চলাচল অক্ষম স্ত্রীর সঙ্গে সমন্বিত কইরা নিতে পারছিলেন।

যেখানে যাইতেন সঙ্গে ছোট রকিং চেয়ারে স্ত্রী আইডাকে বহন করা হইত। ম্যাককিনলি অবশ্য কখনো স্ত্রীর অনুমতি মিললে তার জরুরি রাষ্ট্রীয় কাজে দূরে কোথাও যাইতে পারতেন। তেমন ঘটনা তেমন ঘটে নাই।

ফার্স্টলেডির সঙ্গে প্রেসিডেন্ট।

ফার্স্টলেডি হোয়াইট হাউসে থাকাকালীন নীল ভেলভেটের চেয়ারে আসীন অবস্থায় অতিথি সম্ভাষ করতেন। তার হাতে থাকত সার্বক্ষণিক ফুলের ডালি, যাতে গেস্টের হস্তচয়ন করতে না হয়। আনুষ্ঠানিক ডিনারে প্রটোকল ভাইঙ্গা তিনি স্বামীর পাশে বসতেই পছন্দ করতেন। কখনো অকস্মাৎ মূর্চ্ছা আক্রান্ত হইলে তার প্রেসিডেন্ট স্বামী তার মাথায় ন্যাপকিন ছুঁড়ে মারতেন যাতে অভ্যাগত কেউ তার ঘোরাবস্থায় তারে দেখতে না পায়।

সৌভাগ্যজনক ভাবে স্ত্রী আইডার মৃত্যুর আগেই প্রেসিডেন্ট নিজে নিহত হইতে পারছিলেন।

মৃত্যুর আগের দিন ওহায়োর বাফালোতে প্যান আমেরিকান বাণিজ্যমেলা ১৯০১ এর উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট ম্যাককিনলি। সাড়ম্বর এই মেলা ছিল উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বৈষয়িক উন্নতির ১০০ বছর পূর্তির উদযাপন। সেখানে তিনি বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন আবিষ্কৃত এক্স রে মেশিন উপস্থাপন করেন তার প্রজাদের সম্মুখে।

মেলা শুরুর পরদিন টেম্পল অফ মিউজিকে জনতার সঙ্গে হাত মিলাইতে গিয়া এক নৈরাজ্যবাদীর রুমালে গোপন রিভলভারের গুলিতে লুটাইয়া পড়েন প্রেসিডেন্ট। আততায়ী .৩২ ক্যালিবারের রিভলবার থিকা দুইটা গুলি করতে পারছিলেন। একটা প্রেসিডেন্টের জামার বোতামে বাধাগ্রস্থ হয়, সফল বুলেট প্রেসিডেন্টের পেটের ভিতর দিয়া কোলন ও কিডনি অতিক্রম কইরা পিঠের মাংসপেশীতে অবস্থান নেয়।

রিভলভারাহত রাষ্ট্রপতি তার সচিব কোর্টেলিয়ুরে নাকি বলতেছিলেন, “আমার স্ত্রীকে, বি কেয়ারফুল, কোর্টেলিয়ু, তুমি যে কীভাবে বলবা তাঁকে, বি কেয়ারফুল!” তিনি অবশ্য ধৃত আততায়ীরে যাতে পাবলিকে না মারে তা দেখতেও অনুরোধ জানাইতেছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ম্যাককিনলিরে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়া যাওয়া হইলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের মধ্যে অধিকতর যোগ্য ডাক্তার মান সার্জারির জন্য সাব্যস্ত হন। কিন্তু তিনি বুলেট খুঁইজা না পাওনে প্রেসিডেন্টরে শিলাই দিয়া মেলা সন্নিহিত রাষ্ট্রপতি নিবাসে পাঠায় দেন!

পরিহাসের ব্যাপার, নব আবিষ্কৃত সেই এক্স রে মেশিন দিয়া লুকায় থাকা বুলেট খোঁজনের ব্যাপারে ডাক্তাররা রাজি হন নাই। কারণ তখনো তারা এই যন্ত্রের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (মৃত্যুর অধিক!) কী হইতে পারে তা জানতে পারেন নাই। তো সেইখানে, এক সপ্তাহ পরে, সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখে মারা যান ম্যাককিনলি।

উইডো আইডা বাকি জীবন ক্যানটনে তার এক বোনের দেখভালে কাটান—আনটিল নাইনটিন জিরো সেভেন।

১৯/১২/২০১০

About Author

ব্রাত্য রাইসু
ব্রাত্য রাইসু

কবি, বুদ্ধিজীবী, চিত্রশিল্পী, সাক্ষাৎকারগ্রহীতা ও বিদূষক।