page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
আন্তর্জাতিক

“ফকিন্নি টাইপের লোকদের জন্যে মেলা, ভালো লোকদের জন্যে মেলা না।”—সাইয়েদ জামিল

সাদ রহমান: আপনার এবার যে বইটা আসলো, এই বইটার নাম কী?

সাইয়েদ জামিল: আমার তো দুইটা বই আসার কথা। একটা আসছে, আরেকটা আসবে দুইদিন পরে। একটা বইয়ের নাম হচ্ছে ‘হারানো প্রেমিকার মুখ’। আরেকটার নাম হচ্ছে ‘নিয়ম না মানা মাষ্টার’।

সাদ: কোনটা আসছে?

জামিল: আসছে ‘হারানো প্রেমিকার মুখ’।

সাদ: এটা কোন প্রকাশনী থেকে আসলো?

জামিল: এটা হচ্ছে, প্রকাশনীর নাম হচ্ছে ‘আলোঘর প্রকাশনা’। এটা একটা এনজিওর আর কি। ‘দিশা’ নামের একটা এনজিও আছে, ওদের প্রকাশনী আর কি। প্রেমের কবিতার বই।

boimela-logo-2016

সাদ: দুইটা বইয়ের ভেতর যদি পার্থক্য করতে চাই?

জামিল: পার্থক্য, একটা প্রেমের কবিতা। আরেকটা হচ্ছে যে, মানে নরম শান্ত স্বরের— আরেকটা হচ্ছে যে মানে যেটাকে আমি বলছি যে লুতুপুতু। মানে যেই কবিতা চিপলে, মানে একদম দুই হাত দিয়ে মুচড়াইলে, চিপলে খালি হচ্ছে যে হাহাকার আর পানি ছাড়া কিছুই বের হবে না। ওরকম কবিতা। আর ‘নিয়ম না মানা মাস্টারে’র কবিতা হচ্ছে, ওইখানে হচ্ছে আমি হাজির আছি। আমি যেরকম একটু রাফ, মানে বকা ছাড়া তো কথা বলতে পারি না। ওরকম বকাবাজি, স্ল্যাং-ট্যাং, মানে সোজা কথা যে, বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে কথা বলে, হ্যা? ওইরকম কইরা আর কি লিখছি একটা। আর প্রেমের কবিতা তো একটু, মানে বানায়া-ছানায়া লিখতে হয় আর কি। যে এই ধরেন, একটু ভদ্র হয়ে যাইতে হয়। যেমন ধরেন, স্তন, যোনি, দুধ এইসব শব্দ আর কি দেয়া যায় না। মানে এটা, মানে ওই অর্থে আমার স্বতঃস্ফূর্ততা নাই। ‘নিয়ম না মানা মাস্টার’ নিয়ে আমার স্বতঃস্ফূর্ততা আছে।

harano premikar mukh

সাদ: তাহলে আপনে তো স্বতস্ফূর্ততা বয়কট করছেন এক হিসাবে।

জামিল: হ্যাঁ। স্বতঃস্ফূর্ততা, আমি হচ্ছে যে, সোজা বাংলায় হচ্ছে যে খিচুড়ি টাইপের। আমার যখন যেটা ভাল্লাগে। আমার যদি মনে হয় যে, স্বতঃস্ফূর্ততা বয়কট করা দরকার, করবো। আবার যখন মনে হয়, না স্বতঃস্ফূর্ততা দরকার, তখন করবো। তখন আবার সেরকম লিখবো। হ্যাঁ?

সাদ: এর আগে আপনার কী কী বই আসছে?

জামিল: এই দুইটা বইয়ের আগে হচ্ছে, প্রথম বই আসছে ২০১৩ সালে। ওইটার নাম হচ্ছে, ‘রাষ্ট্রবিরোধী গিটার’। ওইটার সেকেন্ড এডিশন হইছে ২০১৫ সালে। আর পনেরো সালের জুনে একটা বই আসছে, বইটার নাম হচ্ছে, ‘কায়কাউসের ছেলে’।

সাদ: সবাই তো সাধারণত বইমেলা উপলক্ষে বই বের করে। এই ব্যাপারটারে আপনে কেমনে দেখেন, আপনের যেহেতু একটা বই আসছে দুই বইমেলার মাঝে, জুনে?

জামিল: বইমেলা হচ্ছে একটা ফালতু জিনিস, আমার কাছে। তারপরও আমি নিজেও আসছি। ধরেন মেলা, যে কোনো মেলাই হচ্ছে যে, মানে ফকিন্নি টাইপের লোকদের জন্যে মেলা, ভালো লোকদের জন্যে মেলা না। কারণ মেলায় হচ্ছে যেগুলো পাওয়া যায়, তার অধিকাংশই হচ্ছে ভুষি মাল। তো ধরেন এখন চার হাজার বই বেরুচ্ছে বাংলা একাডেমি থেকে, এই চার হাজারের মধ্যে ধরেন, তিন হাজার নয়শো বই হচ্ছে ভুষি মাল। তো মেলা মানেই ভুষি মাল। আমরা, আমিও ভুষি মাল লেখছি। আমার ‘হারানো প্রেমিকার মুখ’, আমি বলি যে ভুষি মাল। আরেকটা ধরেন ‘নিয়ম না মানা মাস্টার’, এটা হচ্ছে ধরেন ভালো মাল। মেলা নিয়ে আমার কোনো আশা নাই। এবং আমি, মানে তিরিশ দিন মেলা হোক বাংলা একাডেমিতে, এটা আমি চাই না। সর্বোচ্চ সাতদিনের উপরে মেলা, এই ম্যারাথন মেলা দিয়ে আমি কোনো তো বই কেনা দেখি না। আসে যায় ঘুরে, শেষ। হ্যাঁ?

সাদ: এই যে প্রচুর পরিমাণে বই আসছে। আপনে যেগুলোকে ভুষি মাল বলছেন। এটা আমাদের জন্য কি সমস্যাকর, ব্যাপারটা?

জামিল: না, সমস্যা না। সমস্যা হবে কেনো? পরে কাগজ আকারে বিক্রি হবে। মানুষ ঝালমুড়ি খাবে। এই খাবে সেই খাবে, অনেক… কোনো কিছুই ফেলনা না। আনন্দ তো পাচ্ছে মানুষ। ধরেন, নিজের টাকায় বই করতেছে, অধিকাংশ লেখক তো নিজের টাকায়ই বই করে। তো নিজের টাকায় তার যদি স্ট্যামিনা থাকে। সে বই করুক। সমস্যা কী? পরে ওই বই তো ধরেন, কোথাও না কোথাও, কোনো না কোনোভাবে বিক্রি হচ্ছে। ফ্রি ‍দিচ্ছে। ধরেন আমাকে কেউ ফ্রি দিলো। আমি ওইটা কী করলাম? যখন কাগজঅলা আসলো পত্রিকা কিনতে। আমি কাগজের সঙ্গে বইটাও বিক্রি করে দিলাম। তখন কী হচ্ছে? ওইটা ঝালমুড়ি বিক্রির সঙ্গে যাচ্ছে, ছোলা বিক্রির সঙ্গে যাচ্ছে, কাজে তো লাগতেছে। কাজে লাগে, কাজে লাগে।

সাদ: আপনের বই বিক্রি করার দিক থেকে আপনে এই ব্যাপারটাকে কতোটুকু গুরুত্ব দেন? বিক্রি হওয়া দরকার?

জামিল: না, আমার সোজা কথা হচ্ছে, পাঠক গোণারই টাইম আমার নাই। পাঠক আমার দরকার কী? আমি তো পাঠকের জন্য লিখি না। আমি নিজে লেইখা মজা পাই, শান্তি পাই। আমার তো, যেহেতু প্রকাশ করতে নিজের টাকা লাগতেছে না। প্রকাশক চাইতেছে, যাই ছাইপাশ লিখতেছে। চাইতেছে, আমি দিয়ে দিচ্ছি। হ্যাঁ? এজন্য আমার, এ নিয়ে আমার কোনো কথা… মানে পাঠক গোণারই টাইম নাই আমার। আমি পাঠকরে গালাগালি করি। ওদের আমার দরকার নাই।

সাদ: পাঠককে এত বড় ভাবে, মানে না গোণার কী কারণ?

জামিল: পাঠক গুণবো কেন? আমি আমারটা খাই। আমি নিজে কামাই করি। আমি যখন নিজে কামাই করতে পারবো না। আমার বাপেরটা খাবো। তো নিজেরটা খাইদাই, ঘুমাই। আমি তো, ওই পাঠক আমার বই কিনবে, সেই বই দিয়ে আমি বড়লোক হবো, ঢাকা শহরে বাড়ি করবো, এইরকম চাহিদা তো আমার নাই, এরকম প্রয়োজনও আমার নাই। আমি হচ্ছে খামু, দামু, ফুর্তিফাট্টা কইরা মইরা যামু, শেষ।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ৯/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাদ রহমান
সাদ রহমান

জন্ম. ঢাকা, ১৯৯৬। কবিতার বই: 'কাক তুমি কৃষ্ণ গো' (২০১৬)।