page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

ফকির লালন পাগল কিন্তু বাউল কেন না?

লালন নিজেকে ফকির বলেছেন, পাগল বলেছেন, কটাক্ষে ভেড়োও বলেছেন কিন্তু কখনো বাউল বলেন নাই।

তথাপি সাধারণে তিনি বাউল বলে পরিচিত। আবার, লালনের অনুসারীদের মধ্য এ বিষয় নিয়ে ভেদ দেখতে পাওয়া যায়। লালনকে ফকির বলা এবং বাউল না বলার জন্য সুপারিশ আছে।

প্রথমত, লালনের গান বিচার করলে বলা যায়, এমনি এমনি কোনো পরিচয় তিনি জাহের করেন নাই। লালন নিজেকে ফকির বলার পেছনে নিশ্চয়ই মাহাত্ম্য আছে।

ahmed-shamim-logo

আবার অনেক পরিচয় তিনি গোপন করেছেন, তারও মাহাত্ম্য আছে। যেমন ধর্ম, জাত ইত্যাদি তিনি পরিচয় নেন নি। নিতে নিরুৎসাহিত করেছেন। লালনের আত্মপরিচয় যা দিয়েছেন তা জানাতে চান বলেই দিয়েছেন—যেমন ফকির, পাগল ইত্যাদি।

আবার নিজের নামের সঙ্গে বাউল প্রত্যয়টি না জুড়ে দেয়ার পেছনেও লালনের বাছবিচার আছে বলেই আঁচ করা যায়।

এসবের মর্ম না বুঝে, বাউল সংস্কৃত (আসলে কি সংস্কৃত, নাকি বাংলা), ফকির আরবি শব্দ—এ ভাবে বাউল লালনকে ভারতীয়, ফকির লালনকে আরবীয় ঘরানার লোক বা মুসলমান বোঝা, কিংবা লালন শুরুতে বাউল ছিলেন, পরে ফকির হয়েছেন—এসব খোঁজায় ফল নাই, ফয়সালা নাই।

ফকির আর বাউল ক্যাটাগরিগতভাবে ইনসাইডারদের কাছে কতটা আলাদা সেটাও বিবেচনার। আরো বিবেচনার বিষয়, লালন এক দিকে যেমন ক্যাটাগরির বিরোধীতা করেছেন, অন্যদিকে ভেদ জানার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তাই বর্তমান পলিটিক্যাল প্রিজম দিয়ে লালনকে রাঙানোর চেয়ে লালনের ঢঙে বর্তমান রাজনীতির দর্শনকে দেখা ফলদায়ক মনে করি এবং ভেদবিচারে আগ্রহী হই। অপরকেও সেই ভাবে আহ্বান জানাই।

lalon-joti1

“লালনের জীবদ্দশায় তার একমাত্র স্কেচটি তৈরী করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। লালনের মৃত্যুর বছরখানেক আগে ৫ মে ১৮৮৯ সালে পদ্মায় তাঁর বোটে বসিয়ে তিনি এই পেন্সিল স্কেচটি করেন- যা ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যদিও অনেকের দাবী এই স্কেচটিতে লালনের আসল চেহারা ফুটে ওঠেনি।” – উইকিপিডিয়া

বাউল এবং ফকিরের ভেদ কোথায় গিয়ে স্পষ্ট হয় তা বোধকরি ইনসাইডার বা ভেতরের লোক না হলে সম্যক জানা যায় না। তাই ইনসাইডারদের শেয়ার করা তত্ত্ব-তথ্যের উপর এবং তা থেকে লালন বিশেষজ্ঞদের বিচার-বিবরণের ওপর আমাদের ভরসা করতে হবে।

তবে এ লেখার প্রধান পদ্ধতি ভাষা দিয়ে সেই ভেদ জানা।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখতে পাই, আরবি فقر (faqr, গরিবী) এবং فکر (fakr, চিন্তা, চিন্তা করা), বড় ক্বাফ আর ছোট কাফের তফাৎ পারস্যে গিয়ে ফারসির ভেতরে অর্থের বিকাশ ঘটিয়ে, সংশ্লেষণ ঘটিয়ে অবশেষে সাধকদের সঙ্গে এসে ভারতীয় উপমহাদেশীয় ভাষায়—যেমন হিন্দি-ঊর্দু আর বাংলায় ফকির শব্দের দ্ব্যর্থকতা নিয়েছে। ফলে, ফকির বলতে গরীব যেমন বুঝি—ফকির-মিসকিন; আবার ফকির বলতে ভাবুকও বুঝি—ফকির-দরবেশ। আবার যারা ফকির ভাবুক অর্থে, তারা গরিবীকেই আপন করেছেন। ফকির বললে এও বোঝায়—তিনি নিরোগ থাকার আর নিরাময়ের উপায় জানেন। ফকিরের অই অর্থব্যঞ্জনায় লালনের প্রাপ্ত পরিচয় মিলে যায় বৈকি।

লালন নিঃসন্দেহে ফকির, কারণ তিনি ফকিরি করতেন, এবং ফকিরি করার কথা বলেছেন “মধুর দেল দরিয়ায় ডুবে করো ফকিরী”। ফকিরি এখানে অনাড়ম্বর বা সহজ, নিরোগ, এবং ভাবুক বা দার্শনিকের জীবন যাপন বোঝায়, এর শাব্দিক ইতিহাস বাবদে। লালনের গানের মোদ্দা ইন্টারপ্রিটেশন এবং লালন অনুসারীদের সার কথায়ও ফকিরির অমন মানে পাওয়া যায়। সকলের মত—ফকির দেহবাদী।

এখন দেহবাদী কী বস্তু, এর প্রকারভেদ আছে কি নাই তা বাইরে থেকে বোঝা খুব সহজ নয়। তবে দেহবাদ কী নয় তা বোঝা যায়। এবং তা থেকে দেহবাদ সম্পর্কে ধারণা পেতে পারি। যেমন দেহবাদ আত্মা বা স্পিরিটকে অস্বীকার করে বিধায় তা আধ্যাত্ম/অধ্যাত্মবাদ বা স্পিরিচুয়াল কিছু নয়। সহজ দেহবাদের আরাধ্য বিধায় মরমি বা মিস্টিসিজমের ব্যাপার নেই এখানে।

মিস্টিসিজমেও দেহাতিরিক্ত সত্তার ধারণা থাকতে পারে, যার স্থান দেহাত্মবাদে নেই। আবার ভাববাদ আর বস্তুবাদ আলাদা থাকে না দেহবাদে, তাই দেহাত্মবাদও বলা হয় দেহবাদকে—যেখানে দেহ এবং আত্মা আলাদা কিছু নয়।

লালন দেহাত্মবাদী। এই ভাবে লালনের ভাব সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যায়। লালন বস্তুবাদী বাউল বলে পরিচয় পান। এখানে বস্তুবাদী বোঝা গেল, কিন্তু লালনের বাউল পরিচয় বুঝতে বাউল কী তা বোঝা লাগে।

লালনের গান বাউলেরা গায়, বাউলেরা লালনকে বাউল ভাবে, গুরু জ্ঞানে ভজনা কর—এ বাবদে লালনের বাউল পরিচয় পায়।

বাউল শব্দটির ইতিহাস খুঁজে একমাত্রিক উত্তর পাওয়া সহজ নয়। মিশ্র পথে বাউল বাউল হয়েছে, এটাই বাউলের সর্বমান্য পরিচয়।

সংস্কৃত বায়ু থেকে আসা বায়ুল বাউল, কিংবা বায়ু থেকে বাই, বাই থেকে বাইইল (রবি ঠাকুর ব্যবহৃত পদ) ইত্যাদি যে অর্থ দেয় তা বায়ুগ্রস্ত অর্থে পাগল। আবার বাউল আর পাগলে অর্থের সংযোগ হয়, যদি বাতুল থেকেও বাউল আসে। কেননা, বাত মানেও বাতাস, বায়ু, বাতাসগ্রস্ত অর্থে বাতুল মানে দাঁড়ায় পাগল। আউল থেকে বাউল আসার কথাও বলেন অনেকে, আউল চাঁদের তরফে বাউল পন্থা প্রবর্তনের কথাও আছে। সেখানে আউল শব্দটি আরবি ফারসি থেকে আসা, অলি আউলিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দ সেটা। বাংলায় আউলা আবার পাগল অর্থে ব্যবহার হয়। এখানে গুণে পাগল মানসিক রোগ অর্থে না ব্যবহৃত হলেও লক্ষণে কিছু মিল পাওয়া যায় বৈকি—অন্তত সমাজের চোখে।

পাগল শব্দটি অতীতে খুব কম পরিসরে হলেও মিশ্র বর্ণের লোক বোঝাতে ব্যবহার হয়েছে বলে মনিয়ের উইলিয়ামের অভিধানে পাই। সেই অর্থ ইতিবাচক নয় তা সহজেই অনুমেয়। আবার, আহমদ শরীফ লিখছেন, বিভিন্ন মত মিলে গড়ে উঠেছে বাউল মত।

আঁচ করা যায়, জাতপাত ছেড়ে আসা লোকগুলিকে সমাজ জেনেরিক নাম দিয়েছে বাউল এবং তাদের পাগলও বলেছে। দেখা যায়, পাগলে আর বাউলে একটা যোগসূত্র আছে।

এই পাগল সমাজের বিদ্যমান cohesion স্বার্থে আরোপিত coercion-কে চ্যালেন্জ করে বলে সমাজ তাকে পাগল বলে discount করতে চায়। সেই পাগলেরা সেই নাম ইতিবাচকতায় আপন করে নেয়।

অনুমান করি, দমের নিয়ন্ত্রণ সাধনার কেন্দ্রীয় বিষয় বিধায় বায়ুগ্রস্ত বাবদে বাউল বা পাগল পরিচয় তাদের পক্ষেই যায়। ফলে, দেয়া নাম আর নেয়া নামে বিরোধ থাকে না।সমাজের ছুঁড়ে দেয়া কলসীর কানার আঘাত সহ্য করে প্রেম দেয়, সমাজে নতুন order তৈরি করে বা করতে অনুপ্রেরণা আর রসদ যোগায়। অদ্বৈত, নিত্যানন্দ, চৈতন্য এই তিনজনকে তেমনি পাগল বলেছেন স্বয়ং লালন।

পাগল বাংলা শব্দ, আপাতদৃষ্টে সংস্কৃতজাত। আপাতদৃষ্টে বললাম এই জন্য যে, বাংলা একাডেমি বলে পাগলের মূল সংস্কৃত, অন্যদিকে, মনিয়ের উইলিয়ামের সংস্কৃত অভিধান বলে পাগলের মূল বাংলা। আবার জন প্লাটসের ঊর্দু আর ধ্রুপদী হিন্দির (হিন্দুস্তানি) অভিধান বলে পাগল হিন্দি। আর হিন্দি অভিধানগুলা বলে পাগল সংস্কৃত।

যাই হোক, লালন নিজেরে পাগলও বলেছেন। কিন্তু বাউল বলেন নাই।

বুঝতে পাই, ভাষার হিন্দুয়ানি-মুসলমানি বাবদে নিজেরে বাউল বলেন নাই এ কথা ঠিক হবে না। নিশ্চয়, ফকিরে বাউলে কোনো অন্তর্গত ভেদ আছে এর পেছনে। আমার বোঝাপড়ায় ভেদটা কার্যত পদ্ধতিগত। সহজকে সন্ধানের পদ্ধতি। পাগলের আরাধ্য বস্তু পাবার পদ্ধতি ভেদে কেউ বাউল কেউ ফকির।

এক পাগলের হরি নাম জপের সঙ্গে ফকিরের মনের বা সহজ মানুষের জিকির তুলনীয়। আবার জাত-অজাতের বিভেদ ভুলিয়ে দেয়া এই পাগলের অধীন লালন ফকির, ফিরোজ সাঁইকে বললেন স্বামী। সংস্কৃত শব্দ স্বামী থেকেই সাঁই, তাতে লালনের আপত্তি নাই। বাউল কিন্তু বললেন না তাকেও। কিন্তু কেন? নিশ্চয়ই বাউল সংস্কৃতজাত সে কারণে না। তাই, ফকির মুসলমানবাদী আর বাউল হিন্দুবাদী এই বিবেচনা এখানেও হালে পানি পায় না। আবার পদ্ধতি বিচারেও ফকির এবং বাউলকে হিন্দু-মুসলমান ক্যাটাগরিতে ভাগ করার প্রচেষ্টা বৃথা।

লালন যেমন এই ভব পার হবার জন্য বলছেন, “পারে কে যাবি নবীর নৌকাতে আয় রূপকাষ্ঠের নৌকাখানি নাই ডুবায় ভয়” আবার বলেছেন, “পারে কে যাবি তোরা আয় না জুটে/ নিতাইচাঁদ হয়েছে নেয়ে ভবের ঘাটে/হরি নামের তরী আর রাধা নামের বাদাম তার/পারে যেতে ভয় কিরে আর নায়ে উঠে”।

নবীজী আর নিতাইচাঁদের পরিচয় আদতে গুরু। এই গুরু মানুষ। এই গুরু যারা মানে না তারাই লালনের বিচারে কাফের।

আবার, বে-শরা নেয়ে হচ্ছে সেই যে শরা বা নিয়ম না মেনে নৌকা চালায়। ঢেউয়ের এক ধাক্কায় যে তার নৌকা ডুববে এতে সন্দেহ কী!

পণ্ডিতেরা বলেন, নিয়ম হচ্ছে শাব্দিক বিচারে, নিযম, যমের নিগেশন। মোল্লা-মুফতির বয়ানে ইসলামের যে শরিয়ত তার সঙ্গে লালনের শরা কেবল আক্ষরিক অর্থে এক, কিন্তু ভেতরকার নিয়মাচার বিলকুল ভিন্ন। এমনকি যাকে পেতে এই নিয়মাচার মানা, সেই ধন ভয়ঙ্করভাবে আলাদা।

শরিয়ত যেমন দিচ্ছে এ জগতের বাইরে ইউটোপিয়ার প্রতিশ্রুতি, লালনের শরা সেই ইউটোপিয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এই জগতের ভেতরে। তবে লালনকে নাস্তিক বলা ছহি হবে না। কারণ লালনের গানেই প্রমাণ তিনি আছেতে বিশ্বাস রাখেন, যদিও তার আছেকে অন্যান্য সব আছে থেকে আলাদা করা যায় না, ডমিন্যান্ট শরিয়ত যেমন আলাদা করে উপস্থাপন করে। আবার পবিত্র কোরআনকে তিনি প্রামাণ্য মানেন, সে বিচারেও তিনি আস্তিক—“যেই মুর্শিদ সেই তো রাছুল। ইহাতে নেই কোন ভুল খোদাও সে হয়; লালন কয় না এমন কথা কোরআনে কয়।” কিন্তু ডমিন্যান্ট শরিয়তের খোদা-চিন্তা থেকে লালনের শরার খোদা-চিন্তা কি ভয়ঙ্কর ভাবেই না আলাদা।

ফলে ডমিন্যান্ট শরিয়ত আর ফকির দরবেশের মারেফত দিয়েও লালনের শরা পন্থাকে ধরা যাবে না। আবার, বাউলের গান আর লালনের গানে বহু বিষয়-আশয় এমন কি উপমা উৎপ্রেক্ষার মিল পাওয়া যাবে, সেই মিল অবশ্য বয়াতি গানেও মিলে, মরমি গানেও মিলে। কিন্তু তাতে লালন বয়াতি বা মরমি যেমন হন না, তেমনি বাউলও হন না। বাউলে-ফকিরে পদ্ধতি অনেকদূর এক হলেও লালন বাউল হন না।

কিন্তু, লালনের বাউল বিষয়ে নিরবতার পাঠ আমাদের সতর্কতার সঙ্গেই করতে হবে। এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

বাউল গান বললে লালনের গানকে বাউল গান না বলার উপায় নাই সমাজে। লালন বাউল নামে পরিচয় পেয়েছেন সমাজ থেকে; রবি ঠাকুরের লেকচার থেকে; আবার, বাউলগণ লালনকে বাউল জ্ঞান করেন। এটা সত্য যে, বহু লালন অনুসারী নিজেদের বাউল বলেন না। ভেদ মেনে চলেন।

বাউলের মারেফতি তাদের কাছে হয়ত বে-শরা ঠেকে। কিন্তু তাই বলে সেই বে-শরাকে শরিয়ত-বিরুদ্ধ হিসাবে উপস্থাপনের উপায় নাই লালনের শরাপন্থীদের। কেননা লালনের শরাও শরিয়ত বিরুদ্ধ, শরিয়তের দৃষ্টিতে বেশরা।

লালনকে লোকে বাউল বলছে বলে বাউলের ভেদকথা যথাতথা বলে বাউলকে বাঘের মুখে ছুঁড়ে দেওয়াতে লালনের সায় না থাকারই কথা। সেই কাজ যদি ন্যায্য হত, লালনই তা বাউলের নাম ধরে করে যেত।

About Author

আহমেদ শামীম
আহমেদ শামীম

টেক্সাস ইউনিভার্সিটির (অস্টিন) এশিয়ান স্টাডিজ বিভাগে বাংলা পড়াচ্ছেন। পাশাপাশি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডির অংশ হিসেবে রাজশাহীর কডা ভাষার ব্যাকরণ বর্ণনার কাজ করছেন। তার আগে, ভাষাতত্ত্ব পড়িয়েছেন নিউইয়র্কের লাগুয়ারডিয়া কমিউনিটি কলেজে, ঢাকায় ব্র্যাক এবং ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভাষাবিদ্যায় আসার আগে তিনি ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, এবং পড়িয়েছেন স্ট্যামফোর্ড, ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা ভাষা ও ভাষাতত্ত্ব নিয়ে বেশ কিছু পত্র পত্রিকায় এবং জার্নালে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৩ সনে প্রকাশিত প্রবন্ধ সংকলন 'বাঙলা কথা' একমাত্র গ্রন্থ ।