page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

ফেসবুকে আপনার মিথ্যা পোস্ট আপনাকে বিষণ্ণ করে তুলতে পারে

আপনি যদি ফেসবুকে আপনার আসল সত্তা বা আপনার আসল রূপ ফুটিয়ে না তোলেন, তাহলে আপনার প্রচণ্ড মানসিক চাপ, উদ্বিগ্নতা এবং বিষণ্ণতায় ভোগার সম্ভাবনা আছে এবং আপনি সামাজিকভাবে বিচ্ছিনতা বোধ করতে পারেন।

গবেষকদের মতে, কারো ‘ফেসবুক সত্ত্বা’ কারো আসল সত্ত্বা বা ‘ট্রু সেলফ’ থেকে যত বেশি আলাদা তাদের মানসিক চাপের পরিমাণ তত বেশি হয় এবং তাদের সামাজিক সংযোগ অনেক কম ঘটে।

অস্ট্রেলিয়ার হোবার্টের ইউনিভার্সিটি অব তাসমানিয়ার জারাহ ওয়াটকিনসন ও রাচেল গ্রিয়েভ বলেছেন, কারো নিজেকে ফেসবুকে সৎভাবে প্রকাশ করতে মানসিক পরিশ্রম অনেক কম হয়। ফলে মানসিক চাপও অনেক কম হয়।

আর, ফেসবুকে নিজের আসল সত্তা প্রকাশ করলে এর ফলাফল মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভাল হয়। যেমন এতে নিজের সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস বাড়ে, সাইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স ঠিক থাকে এবং নেতিবাচক প্রভাব কম পড়ে।   

facebook-derression-2

যারা মনে করে তাদের সামাজিক সংযোগ বেশি, তারা ফেসবুকে নিজেদের আসল সত্তা প্রকাশ করার ব্যাপারে স্বস্তিতে থাকে।

এ ধরনের একটি গবেষণার রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফেসবুকে নিজের বানোয়াট সত্তা বা নিজেকে মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করার সাথে বিভিন্ন মানসিক উপসর্গ যেমন উদবিগ্নতা, বিষণ্ণতা জীবন নিয়ে অসন্তোষ ইত্যাদির সম্পর্ক আছে। কিন্তু নিজেকে ফেসবুকে সৎভাবে প্রকাশ করার সাথে এগুলির কোনো সম্পর্ক দেখা যায় নি।

এই গবেষণায় ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ১৬৪ জন ব্যক্তি ব্যক্তিত্ব বিষয়ক কিছু প্রশ্নোত্তরে অংশগ্রহণ করেন।

প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণকারীদের অপমানবোধ, আবেগপ্রবণতা, বহির্মুখীতা, কোনো বিষয়ে সম্মত হওয়ার প্রবণতা, বিবেচনাবোধ ও খোলাখুলি হওয়ার প্রবণতা পরিমাপ করা হয়।

দ্বিতীয় টেস্টেও এই জিনিসগুলিই পরিমাপ করা হয়েছে, তবে তারা ফেসবুকে নিজেদেরকে কীভাবে উপস্থাপন করে, দ্বিতীয় টেস্টে শুধু এই ব্যাপারেই প্রশ্ন করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের উদ্বিগ্নতা, বিষণ্ণতা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা, তাদের সামাজিক সংযোগ বিষয়ক জ্ঞান ইত্যাদিও পরিমাপ করা হয়েছে।     

দেখা গেছে অংশগ্রহণকারীদের আসল সত্তা ও তাদের ফেসবুক সত্তার মধ্যে পার্থক্য যত বেশি, তাদের সামাজিক সংযোগ তত কম বলে তারা অনুভব করে, এবং এতে তাদের মানসিক অবসাদ আরো বাড়ে।

গবেষণা দলটি বলেছে, যেসব ফেসবুক ব্যবহারকারী কম মানসিক অবসাদে থাকে, অথবা যারা মনে করে তাদের সামাজিক সংযোগ বেশি, তারা ফেসবুকে নিজেদের আসল সত্তা প্রকাশ করার ব্যাপারে স্বস্তিতে থাকে।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত ভার্চুয়াল রিয়ালিটি মেডিকেল ইন্সটিটিউটের ব্রেন্ডা কে. উইডারহোল্ড বলেছেন, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ের হিসাব অনুযায়ী সক্রিয় ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১.৭১ বিলিয়ন। আমরা অবশ্যই মনে করি, ফেসবুক হয়ত আমাদের রোগীদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সাইবারসাইকোলজি, বিহেভিয়র, অ্যান্ড সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং (Cyberpsychology, Behavior, and Social Networking) জার্নালে প্রকাশিত একটি পেপারে বলা হয়েছে, সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ও মানসিক অবসাদ কমানোয় ফেসবুককে একটি কার্যকরী উপাদান হিসেবে গ্রহণ করাটা ফলদায়ক হতে পারে।     

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক