page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

বই কি আসলেই মানুষের ব্রেইনের গঠন চেন্জ করে ফেলে?

বইয়ের ঘটনাগুলি যেন পাঠকের চেতনায়ও ঘটতে থাকে
বই এবং অন্যান্য যেসকল ম্যাটেরিয়াল মানুষের কল্পনাশক্তিকে উজ্জীবিত করে, সেগুলি মানুষের মনের ভিতর নিজের একটি জগত তৈরি করে দেয়। কিন্তু এই জগত তৈরির ব্যাপারে ব্যক্তির সচেতন না হলেও চলে। বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বা সচেতনতা ছাড়াও এটা আপনা-আপনিই ঘটে।

গবেষণায় দেখা গেছে দৃশ্যসহ কল্পনা ব্যাপারটা একদম অটোমেটিক। মানুষের মন কোনো বস্তুর ভিজ্যুয়াল বর্ণনা করছে এমন বাক্য থেকে খুবই দ্রুত সেই বস্তুর ছবি তৈরি করতে পারে। কেউ যখন কোনো বাক্য পড়ে তখন সেই বাক্যের ভিজ্যুয়াল তার মনের মধ্যে আপনা-আপনিই তৈরি হয়ে যায়।

শব্দ শুনলে মানুষের ব্রেইন কার্যকর হয়
গবেষণায় দেখা গেছে কোনো গল্প শুনলে মানুষের ব্রেইন খুব দ্রুত কাজ করতে পারে। এ কারণে অডিও বই এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। কেউ যখন কোনো গল্প শোনে তখন শুধু ভাষা তৈরি হওয়ার ব্যাপারটাই ব্রেইনকে কার্যকর রাখে না, সেইসাথে অভিজ্ঞতার অংশটুকুও ব্রেইন আত্মস্থ করে নেয়।

brain-298

গভীর মগ্ন হয়ে পড়ার অভ্যাসের ফলে ব্রেইনের ফিজিক্যাল পরিবর্তন ঘটে।

যেমন কেউ যখন কোনো খাবারের কথা শোনে তখন তার মস্তিষ্কের ইন্দ্রিয়ের সাথে যুক্ত অংশটি উদ্দীপিত হয়। এটা শুধু বই পড়া বা অডিও বই শোনার ক্ষেত্রেই ঘটে না, মানুষের ব্রেইন যে কোনো বর্ণনার ক্ষেত্রে এই আচরণ করে।

গবেষকরা দেখিয়েছেন মানুষের দৈনিক পারস্পরিক আলাপের শতকরা ৭০ ভাগই গুজব নয় তো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।

অভিজ্ঞতার পাঠ মানে সেই অভিজ্ঞতা নিজের হওয়া
কেউ যখন কোনো অভিজ্ঞতা পড়ে তখন তার ব্রেইন সেই অভিজ্ঞতা পড়া বা সেই অভিজ্ঞতা ঘটার মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না। কোনো অভিজ্ঞতা হওয়া বা কোনো অভিজ্ঞতা পাঠ করা ব্রেইনের একই অংশকে উদ্দীপিত করে। উপন্যাস এ কারণে মানুষের চিন্তায় বা অনুভূতিতে বেশি প্রবেশ করতে পারে।

আলাদা পড়ার স্টাইলের জন্য ব্রেইনে আলাদা আলাদা পদ্ধতি তৈরি হয়
যে কোনো ধরনের পড়াই ব্রেইনকে উদ্দীপিত করলেও পড়ার ধরন ব্রেইনে আলাদা অভিজ্ঞতা তৈরি করে। যেমন খুব বেশি সাহিত্য পড়লে ব্রেইন বহু ধরনের জটিলতায় কাজ করতে পারে, আবার শুধু আনন্দের জন্য পড়লে ব্রেইনের বিভিন্ন অংশে রক্ত প্রবাহ বাড়ে। কোনো উপন্যাস ভালোভাবে পড়া এবং এর সাহিত্য মূল্য নিয়ে চিন্তা করা ব্রেইনের জন্য একটি ভালো অনুশীলন।

নতুন ভাষা ব্রেইনের শক্তি বাড়ায়
যে কোনো বিদেশী ভাষার উপন্যাস পড়লে ব্রেইনের ব্যায়াম বেশি হয়। তাই যারা অন্য ভাষা শেখে তাদের ব্রেইনের বৃদ্ধি সেরিব্রাল কর্টেক্স এবং হিপোক্যাম্পাস এই দুই অংশেই ঘটে। এই বৃদ্ধি নির্ভর করে কত বেশি চেষ্টা এবং অনুশীলন করা হয় তার উপর।

গল্পের গঠন ব্রেইনকে সিকোয়েন্স অনুযায়ী ভাবতে অভ্যাস করায় এবং মনোযোগ বাড়ায়
প্রতিটা গল্পের শুরু, মধ্য অংশ এবং শেষ আছে। ব্রেইনের জন্য এটা একটা পজেটিভ দিক। এই স্ট্রাকচারের কারণে ব্রেইন সব সময় সিকোয়েন্স অনুযায়ী ভাবতে অভ্যাস করে। কার্য এবং কারণের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। যত বেশি পড়া হয়, ব্রেইন তত বেশি এই চক্রে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

শিশুদের পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠা এই কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই স্ট্রাকচারের কারণে মস্তিষ্কের অ্যাটেনশন স্প্যানগুলি বাড়ায় ফলে ব্রেইনের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাও বেড়ে যায়।

পড়ার অভ্যাস ইতিবাচকভাবে ব্রেইনের কাঠামো বদলায়
সবাই জন্ম থেকে পাঠক হয় না। যাদের পড়ার অভ্যাস কম তারা হয়ত সাহিত্যের আনন্দ বুঝতে পারে না। কিন্তু অভ্যাস তাদের সেই জায়গায় নিয়ে যেতে পারে। আর এই অভ্যাসের সময় তাদের ব্রেইন বদলায়। নিউরোলজিস্টরা দেখেছেন যে পড়ার কারণে ব্রেইনের ভাষা অঞ্চলের সাদা অংশের আয়তন বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ব্রেইনের উন্নতি ঘটে।

গভীর পাঠ সংবেদনশীলতা বাড়ায়
গভীর মগ্ন হয়ে পড়ার অভ্যাসের ফলে ব্রেইনের ফিজিক্যাল পরিবর্তন ঘটে। যাদের মগ্ন হয়ে পড়ার অভ্যাস, কোনো গল্পের চরিত্র যা অনুভব করে তারাও একই জিনিস অনুভব করে। ফলে তারা আরো বেশি সংবেদনশীল হয় বাস্তব জীবনে।

Tagged with: ,

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক