page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

বন্দরে ভিড়েছে ডেভেলপমেন্টাল ডিক্টেটরশিপ

ডেভেলপমেন্টাল ডিক্টেটরশিপ এসে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বন্দরে নোঙ্গর করেছে। এটা এক প্রকারের লুম্পেন ফ্যাসিজম, এবং তা ‘সিঙ্গেল পার্টি ডিক্টেটরশিপ’-এর উপর ভর করে চলে। লুম্পেন এই কারণে যে এখানে একনায়ক পার্টির জন্য উন্নয়নের এজেন্ডা সচারচর তাদের রাজনীতি থেকে নির্মিত হয় না, বরং দেশী বিদেশী (ব্যবসা) প্রতিষ্ঠানের জন্য পুঁজির পাহাড় বানানোর প্রকল্প দ্বারা হুটহাট নির্মিত হয়।

আর ফ্যাসিজম এই কারণে যে, জাতি বা ধর্ম গোষ্ঠীর তথাকথিত অনুন্নতিকে ভিলেইন বানিয়ে সে উদ্ধারকর্তা নায়ক হতে চায়—একনায়ক। এই দুইয়ের কম্বিনেশনের নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে পাওয়া যায় না। বাকশাল ছিল অন্য ধরনের ডিক্টেটরশিপ; পারসনিজমের একনায়কতন্ত্র। অন্যদিকে ‘ডেভেলপমেন্টাল ডিক্টেটরশিপ’-এর কারিশমাওয়ালা পারসনের দরকার নাই, ডেভেলপমেন্টকেই পারসনিফাই করা হয়। দেখানো হয়, সেই ডেভেলপমেন্টই দেশের সকল দুর্দশা দূর করে দেবে।

ahmed-shamim-logo

অবশ্য দ্রুত উৎপাদনের সহ-উৎপাদ হিসাবে সেই পার্টির কর্তাব্যক্তি নায়ক হিসেবে হাজির হয়, আসলে তাকে নায়ক হিসেবে হাজির করা হয়, কারিশমা যোগানোর জন্য বিভিন্ন ইতিবাচক ভূষণে ভূষিত করা হয়। কিন্তু তা আদতে ডিক্টেটর নাম ঢাকার আড়ম্বর মাত্র।

ডেভেলপমেন্টাল ডিক্টেটরশিপ বা উন্নয়ন স্বৈরাচার আসার পথ বিভিন্ন হতে পারে; যেমন মিলিটারি ক্যু থেকে মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ ডেভেলপমেন্টাল ডিক্টেটরশিপে উত্তরণ; যেমন ধরা যাক পার্ক চাঙ-হী’র কোরিয়ার (১৯৬১-১৯৭৯) কথা। শিশু গণতন্ত্রের হাত পা ভেঙে দিয়ে অভ্যন্তরে উন্নয়নের দোহাই, আর আন্তর্জাতিকে (অর্থাৎ আমেরিকাসহ পশ্চিমে) কম্যুনিজম বিরোধিতার দোহাই দিয়ে তার শুরু। রপ্তানিমুখী অর্থনীতি, আমেরিকা নির্ভর পররাষ্ট্রনীতি আর দমন নিপীড়নের স্বরাষ্ট্রনীতি নিয়ে দ্রুতই সে দেশে উন্নয়ন নিয়ে আসে। প্রহসনের নির্বাচন দিয়ে নিজেকে ‘জায়েজ’ করে নেয়। কিন্তু সেই উন্নয়নের জোয়ারে ভাটাও পড়ে এক দশক পার হতে না হতে। তখন তার জুলুম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সেও সেই প্রশ্নের গলা চাপতে বাকস্বাধীনতার আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর জুলুম আরও বাড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে তার তৈরি করা ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তাকে তার দেহরক্ষীদেরসহ গুলি করে মেরে ফেলে।

তারপর কোরিয়াকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে বহু বছর অপেক্ষা করতে হয়। তবু উত্তর কোরিয়ার কম্যুনিজম বিরোধিতা জারি রেখে আমেরিকার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দেশটি আবার উন্নয়নের ধারায় ফিরে আসে। বর্তমানের রাষ্ট্রপ্রধান পার্ক কেন-হে সেই পার্ক চাঙ-হী’র সন্তান, দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। গত ২০১৩-এর ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তার রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি পিতার পথ অনুসরণ না করলেও অন্যান্য পূর্বসূরিদের মত আমেরিকার সঙ্গে আলায়েন্স রেখে চলেছেন—নিজ-দেশে ২০,০০০ মার্কিন মুলুকের সেনাসঙ্গ করে চলেছেন, কম্যুনিজমের জুজু ঠেকাতে, আর আদতে উন্নয়নের দায় মেটাতে।

south-korea-us-1

দক্ষিণ কোরিয়ায় আমেরিকান সৈন্য, ২০১৩। “বর্তমানের রাষ্ট্রপ্রধান পার্ক কেন-হে… নিজ-দেশে ২০,০০০ মার্কিন মুলুকের সেনাসঙ্গ করে চলেছেন, কম্যুনিজমের জুজু ঠেকাতে, আর আদতে উন্নয়নের দায় মেটাতে।”

ইলেক্টোরাল ডিক্টেটরশিপ থেকেও উন্ণয়ন স্বৈরাচারে চলে যাওয়া যায়, যদি বহির্বিশ্বে পার্টনার থাকে। অর্থাৎ যে পথেই এইরূপ ডিক্টেটরশিপ আসুক, তার আসার পেছনে আন্তর্জাতিক প্রভুর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা আবশ্যক। মূলত একারণেই তা লুম্পেন।

রেভুলিউশনারি উন্নয়ন বা রাষ্ট্রের খোলনলচা পাল্টে সামগ্রিক উন্নয়নে এর আগ্রহ নাই; এই ডিক্টেটরশিপ কেবল কর্তার ইচ্ছায় উন্নয়নের কর্ম করে, আর সেই কর্ম করতে গিয়ে কর্তৃত্ব উপভোগ করে, নিজেদের পকেট ভরে। এ প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ নস্যাৎ করা হয়। অর্থাৎ সিঙ্গেল পার্টি একনায়কতন্ত্রের জন্য রাস্তা তৈরির প্রাথমিক কাজটি সম্পাদন করা হয়। তখন বেশি প্রভুসেবা প্রদানকারী পার্টির জন্য স্বৈরাচারী হয়ে ওঠা কেবল নিয়তি—দেশী বিদেশী (ব্যবসা) প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দরকষাকষি বাবদে ব্যবসায়িক পরিণতি। যেমন, দেশী-বিদেশী (ব্যবসা) প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ভেতর পুঁজি জমানোর আসর বসাবে, আর সরকার সেটাকে দেশের উন্নয়ন বলে চালাবে—এটা তাদের বিনিয়োগ; লাভ হিসেবে পাবে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর সমর্থন, ওই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতাসীন পার্টিকে ক্ষমতায় ধরে রাখার বন্দোবস্ত করে যাবে। এই কাজে দেশের ভেতরের জনগণকে ভাগ করে ফেলা হয় দেশে বিদ্যমান বিভাজনের কোনো ইস্যু দিয়ে। অন্যান্য পার্টিগুলো তখন প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না; কেননা আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিচারে যোগ্যতর প্রতিযোগীকেই প্রথমে বেছে নেয়া হয়। কথাটা উন্নয়নপিয়াসী আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত শাহরিকেরা, মানে এই আপনারা কন্সপাইরেসি থিওরি বলে উড়িয়ে দিতে চাইবেন। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয় এত এত বিদেশী প্রতিষ্ঠান একটি দেশে ইন্টেলিজিন্স সংগ্রহ করে কী কামে? তখন আমতা আমতা করবেন না যেন।

ধরেন একটা উদাহরণ দেয়া যাক। আপনি যদি বিজ্ঞাপন সম্পর্কে কিংবা মার্কেটিং সম্পর্কে অল্পবিস্তর ধারণা রাখেন তবে দেখবেন ক্রেতার জীবনযাপনের উপর ডেটা সংগ্রহ করা হয়। তাদের পণ্যে আপনার কাছে বিক্রি করাই তাদের উদ্দেশ্য। তাই আপনার মধ্যে চাহিদা তৈরির জন্য আপনাকে জানা তার জরুরি। সেই ডেটার ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো, কিংবা পণ্য উদপাদক কোম্পানিগুলো তাদের ক্যাম্পেইন তৈরি করে। আপনি সেই ক্যাম্পেইনের ফাঁদে পড়েন (কিংবা পড়েন না)। কিন্তু এটাকে আপনি কন্সপাইরেসি বলতে নারাজ।

রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোও আপনার জীবনযাপনের উপর ডেটা সংগ্রহ করে যাচ্ছে। তো এই ডেটা নিয়ে কেবল আপনি রাষ্ট্র বা সরকারের জন্য থ্রেট কিনা সেটাই যাচাই করা হয়? সেখানেই কি সরকার থেমে যায়? জনগণের ভাবগতিক জানা এক গবর্মেন্ট কি সেই জনগণকে নাকে রশি দেবে না? আপনাকে তথা আপনাদেরকে ম্যানিপুলেট করার রাস্তা কি আপনাদের উপর সংগৃহীত ডেটা থেকে খুঁজবে না? যদি তা নাই হয়, তাহলে রাষ্ট্রগুলিতে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এত আড়িপাতা কেন? আগের সেই দিন বদলেছে, আগে আপনি রাষ্ট্রের জন্য থ্রেট হবেন কি হবেন না সেই জন্য আপনার উপর নজর রাখা হত, আপনার ডেটা সংগ্রহ করা হত; এখন আপনার উপর রাষ্ট্র কী করে থ্রেট আকারে বিরাজ করতে পারে, সেটা জানতেও আপনার ডেটা সংগ্রহ করা হয়। নাইলে এন্টায়ার জনগোষ্ঠীর উপর নজরদারির দরকার কী? এটা একটা ডিক্টেটরিয়াল টুল, কিন্তু সরকারকে কোনো এক কালে ভোট দিয়েছিলেন কি দেন নাই, সেই বাবদে তারে নির্বাচিত বলেই ভাবছেন, অন্তত তারা আপনাকে ভাবাতে পারছে, কিংবা আপনার ভাবনাকে অন্য দিকে চালিত করতে পারছে। এই অন্য দিকগুলোর অন্যতম দিক হচ্ছে উন্নয়ন। কিন্তু আপনার জন্য আফসোস, সেই উন্নয়নও মূলত তাদের এবং তাদের প্রভুদের স্বার্থে।

উন্নয়ন প্রসঙ্গে উন্নত দেশের কথা ভেবে দেখুন; আপনার ডেভেলপমেন্টের পার্টনার কারা? ভারত, আমেরিকা, চীন কিংবা রাশিয়া। তারা কি উন্নত দেশ? কীসের ভিত্তিতে তারা উন্নত দাবি করে? পারমাণবিক বোমার সংগ্রহ? তারা আপনার সঙ্গে উন্নয়নের অংশীদার, উন্নয়ন তাদেরও দরকার। তো, তারা আপনার সঙ্গে উন্নয়নের যখন পথ বের করে তখন যে পথে তাদের উন্নয়ন হবে সেই পথই আপনার উপর চাপায়। আর আপনি তাদের উন্নয়নের কামলাগিরি করে কিছু পয়সা পাওয়াকে উন্নয়ন ভেবে বগল বাজান।

এদিকে আপনার উন্নয়ন পিপাসা উন্নয়ন স্বৈরাচার ডেকে আনে। এমন কি ভারতের মত গণতন্ত্রের দেশেও দেখেন উন্নয়ন মন্ত্র কীভাবে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদীর হাত থেকে মাইনরিটি হত্যার দাগ মুছে দিল। যে আমেরিকায় প্রবেশ তার জন্য নিষিদ্ধ ছিল, সেই আমেরিকায় উন্নয়নের বরপুত্রের সম্বর্ধনা পেল। এখন সারা ভারত শুধু নয় উন্নয়নের মদীয়ময়তা সাউথ এশিয়ায় সীমা পেরিয়ে বেরিয়ে পড়তে চাইছে।

modi123

“এমন কি ভারতের মত গণতন্ত্রের দেশেও দেখেন উন্নয়ন মন্ত্র কীভাবে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদীর হাত থেকে মাইনরিটি হত্যার দাগ মুছে দিল। যে আমেরিকায় প্রবেশ তার জন্য নিষিদ্ধ ছিল, সেই আমেরিকায় উন্নয়নের বরপুত্রের সম্বর্ধনা পেল।”

কিন্তু আপনার সৌভাগ্য যে ডিক্টেটরিয়াল ডেভেলপমেন্টের (দুই অর্থেই) পথে উজানোর ফল ভাল হয় নি ইতিহাসে। কেননা, প্রভুর চাহিদা ক্রমাগতই বাড়ে, সেই চাহিদা যোগান দেয়ার জন্য সরকারকে হাতে চাবুক নিতে হয়, নিজের জনগণের উপর সেই চাবুক চালাতে হয়। তাতেও শেষ রক্ষা হয় না; প্রভুর আরও ভৃত্য জুটে যায়, উন্নয়নের ক্ষেত্র পাল্টে যায়। ইত্যাদি কারণে আপনার সঙ্গে তার অংশীদারিত্বে অনীহা হয়, আপনার উন্নয়নের জোয়ারে ভাটা পড়ে; তখন প্রভুকে দেয়ার মত আর কী আছে আপনার ঘরে? সাউথ কোরিয়ার আছে নর্থ কোরীয় জুজু; আপনার কী আছে বাংলা দায়েশ? আছে তো, নাকি চাহিদাই তার জোগান দেবে? সে যাই হোক, আপনি জানেন এর পরিণতি ভীষণ ভয়ঙ্কর হবে।

তো, উন্নয়নশীল দেশগুলো এ পরিণাম বিবেবচনা থেকে শিক্ষা নিতে পারে; প্রভুকে দেওয়ার মত তার কী কী আছে তার একটা সমীক্ষা করতে পারে। উন্নয়ন স্বৈরাচারে আপগ্রেড করার আগে আগপিছ ভেবে এগুতে পারে।

যদি দেখা যায় সেই রাস্তায় উঠলে ছালাটিও যায়, সেক্ষেত্রে সেই দেশগুলিতে বরং ‘ইলেক্ট্রোরাল ডিক্টেটরশিপ’ এবং ‘ফ্যামিলি ডিক্টেটরশিপ’-এ থেকে যেতে পারে; সে দেশগুলোর জনগণ এতে অভ্যস্ত আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাহিদা আর দলের ভেতরে আরও আরও টাকা আর ক্ষমতার লোভ ডিক্টেটরিয়াল ডেভেলাপমেন্টের দিকে তাদের নিয়ে যাবে। এবং এক সময় ডিক্টেটরের পতন হবে। জনগণ তখন লাভের লাভ উন্নয়নকে আর খুঁজে পাবে না; কেননা তা গণতান্ত্রিক উন্নয়ন কিংবা টেকসই উন্নয়ন নয়; এসব উন্নয়নে পুঁজির পাহাড় গড়া যায় না বলে ডিক্টেটরশিপের কালে এ ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচিতে স্থান পায় নাই। এদিকে ডিক্টেটরের পতনের পর দেখা যাবে, লাভের ধন পাচার হয়ে গেছে বহু আগেই। তখন একদিন সকাল বেলা পরিত্যক্ত সুপার স্ট্রাকচারগুলির মাঝে নিজেকে ভীষণ ক্ষুদ্র আর অসহায় হিসেবে আবিষ্কার করে উন্নয়নবাদী আধুনিক নাগরিক। নিঃস্ব, মোহভঙ্গ হওয়া রেনেসাঁ মানবের কারিক্যাচার হয়ে, প্রহসন হয়ে ইতিহাসে যায়গা নিবে। কিন্তু আশার কথা তখনও জনগণ থাকবে, ঘাতসহ নতুন জনগণ; সেখান থেকে শুরু হবে নতুন কোনো যাত্রা।

অস্টিন, টেক্সাস, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

About Author

আহমেদ শামীম
আহমেদ শামীম

টেক্সাস ইউনিভার্সিটির (অস্টিন) এশিয়ান স্টাডিজ বিভাগে বাংলা পড়াচ্ছেন। পাশাপাশি সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডির অংশ হিসেবে রাজশাহীর কডা ভাষার ব্যাকরণ বর্ণনার কাজ করছেন। তার আগে, ভাষাতত্ত্ব পড়িয়েছেন নিউইয়র্কের লাগুয়ারডিয়া কমিউনিটি কলেজে, ঢাকায় ব্র্যাক এবং ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভাষাবিদ্যায় আসার আগে তিনি ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে, এবং পড়িয়েছেন স্ট্যামফোর্ড, ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা ভাষা ও ভাষাতত্ত্ব নিয়ে বেশ কিছু পত্র পত্রিকায় এবং জার্নালে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৩ সনে প্রকাশিত প্রবন্ধ সংকলন 'বাঙলা কথা' একমাত্র গ্রন্থ ।