page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

“বাংলাদেশের মাটির গন্ধটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প-উপন্যাসে খুব কম আমরা পেয়েছি।”—সাইফুল ইসলাম

সাঈদ রূপু: আপনার জন্ম কত সালে?

সাইফুল ইসলাম: ‘৫২ সালে।

সাঈদ: জন্মস্থান?

সাইফুল: সিরাজগঞ্জ।

সাঈদ: গ্রামের বাড়ি?

সাইফুল: গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের গজারিয়া সদর থানাতে।

সাঈদ: আচ্ছা, এই বইমেলাতে আপনার কী বই আসছে?

সাইফুল: এবার দুইটাই মুক্তিযুদ্ধের, একটা উপন্যাস আর একটা ছোটগল্প।

boimela-logo-2016

সাঈদ: দুইটা আসছে?

সাইফুল: প্রথম বইটা এখনও আসে নাই আর কি।

সাঈদ: একটা আসছে একটা আসে নাই, তো ওইটা কবে আসবে?

সাইফুল: ১৫ তারিখের ভেতরেই।

সাঈদ: আচ্ছা এটার নাম কী, মানে যেটা আসছে?

সাইফুল: এটার নাম হচ্ছে ‘বিস্কুটের টিন’।

সাঈদ: এটা কী নিয়ে লেখা?

সাইফুল: এইটা মুক্তিযুদ্ধের। ওই বিস্কুটের টিনের ভিতরে ওই সময় এক সুবেদার মেজর শওকত আলী, সে হচ্ছে পোর্টেবল ট্রান্সমিটার পায়, মানে ইপিআরে চাকরি করতেন। এবং ওই পোর্টেবল ট্রান্সমিটার থেকেই বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার মেসেজ সারা দেশে পৌঁছায়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার মেসেজটা সারা দেশে পৌঁছায় এইটা একটা আওয়াজ আছে। কিন্তু ওইটা নিয়া কোনো গবেষণা ওইভাবে নাই। এইটা নির্মলেন্দু গুণ প্রথম আলোচনা করেন। সম্ভবত ‘৯৮ সালে তার যুদ্ধকথা ১৯৭১-এ।

সাঈদ: মানে উনার বই থেকে নেওয়া?

saifur-rahman bookসাইফুল: মানে উনার বই থেকে এই গল্পটা নেওয়া।

সাঈদ: মানে আপনে ভাব-সম্প্রসারণ করেছেন?

সাইফুল: মানে আমার মতো করে আমি তৈরি করছি।

সাঈদ: আচ্ছা আচ্ছা, মানে উনি কি আপনার প্রিয় লেখক?

সাইফুল: হ্যাঁ, প্রিয় কবি।

সাঈদ: তাছাড়া আপনার অন্য কোনো লেখক…?

সাইফুল: আছে শওকত আলী ভালো লাগে, সত্যেন সেন ভালো লাগে।

সাঈদ: বই ছাড়া এখন আপনি কী করতেছেন, লেখালেখি ছাড়া?

সাইফুল: আমি সাংবাদিকতা করছি পত্রিকায়।

সাঈদ: আপনার এর আগে কোনো বই বের হইছে?

সাইফুল: হ্যাঁ অনেক, ছড়া বই প্রধানত। উপন্যাসও বের হইছে, নাটকের বইও বের হইছে।

সাঈদ: তো আপনি এই যে লেখালেখি করছেন,  আবার মানে অন্য একটা সংবাদিকতাও  করছেন, এতে কি লেখালেখির কোনো সমস্যা হচ্ছে?

সাইফুল: না, বাংলাদেশে অবশ্য সংবাদপত্র জগতটা লেখক-বান্ধব না। লেখার কেরানির মতো কাজ করতে হয়। তারপরও আমার খুব একটা সমস্যা হয় না।

সাঈদ: আচ্ছা আপনি কোন সময়টায় লেখেন?

সাইফুল: আমি সকালের দিকেই সাধারণত বাসায় যখন থাকি। আমি দুইটার দিকে অফিসে আসি, তার আগে লেখালেখি করি।

সাঈদ: আচ্ছা, আপনার এই বইটা  কবে আসছে?

সাইফুল: এটা গতকালকে। আমি মূলত মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই লেখালেখি করি। মুক্তিযুদ্ধ এবং ইতিহাস।

সাঈদ: আচ্ছা, এটা কত দিন ধরে লিখছেন?

সাইফুল: আমি একদম অনেক দিন আগে, সেভেনটি ওয়ানেরও…।

সাঈদ: না না, এই বইটা কত দিন ধরে লিখছেন?

সাইফুল: এইটা খুব বেশি সময় লাগে নাই।

সাঈদ: যেমন?

সাইফুল: একমাস সময় লাগছে। মানে এই গল্পটা তো আমার রেডি ছিল। গল্পটাকে স্ট্রাকচারে ফেলানো হইছে। গল্পটা যেই রকম নির্মলেন্দু গুণ গল্পটা একবার বলছেন, তারপরে ওই সুবেদার মেজর শওকত আলীর মেয়ে একবার বলছেন। তারপর গল্পটাকে একটা উপন্যাসের ফরম্যাটে ফেলানো আর কি। ওই অর্থে কিন্তু আমাকে তেমন ভাবতে হয় নি। শুধু ভাষাটা দেওয়া। তারা হয়তো এটা দশ লাইনে লিখছে। সেটাকে আমার দশহাজার শব্দে নিয়া যাইতে হইছে। বিভিন্ন পরিবেশ তৈরি করতে হইছে—এইটাই ডিফারেন্স।

সাঈদ: লেখালেখিতে কীভাবে আসলেন?

সাইফুল: আমি মূলত এক সময় সিরিয়াসলি রাজনীতি করতাম। এবং এখনও সেই রাজনীতির কারণেই লেখালেখি করি।  না হলে আমি ঠিক অন্য লেখকরা যে রকম লেখার জন্যে লেখক হয়, আমি ঠিক সেই ধরনের না।

সাঈদ: মানে আপনি লেখালেখিতে থাকতে চান শেষ পর্যন্ত?

সাইফুল: হ্যাঁ, অবশ্যই সেটা তো থাকবই।

সাঈদ: মানে আপনে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চান?

সাইফুল: একদম সাধারণ জায়গায়, এখনো যেইখানে আছি। লেখার জন্যেই লেখা আর কি। আমি একটা কিছু বলতে চাই, সেই জন্যে লেখা। আমার একটা কিছু হবে…!

সাঈদ: মানে আপনে পাবলিককে মেসেজ দিতে চান?

সাইফুল: হ্যাঁ, এইটাই হচ্ছে মূল। আমার যে কোনো লেখা পড়ে যেন পাঠক কিছু পায়।

সাঈদ: এই বইটাতে লেখকের মেসেজ কী, এক কথায় যদি বলেন?

সাইফুল: এটাতে মুক্তিযুদ্ধের একদম সাদামাটা একটা ঘটনা। বাংলাদেশে বেশির ভাগ মুক্তিযুদ্ধের গল্পগুলো মনে হইছে যে যুদ্ধের ঘটনা, সেটা আমাদের দেশের সঙ্গে রিলেটেড না। ভিয়েতনাম যুদ্ধ হইতে পারে, অথবা অন্যান্য জায়গার যুদ্ধ হইতে পারে— সেই ফরম্যাটে এইটা লেখকরা লিখছে। কিন্তু বাংলাদেশের মাটির গন্ধটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প-উপন্যাসে খুব কম আমরা পেয়েছি। এটা আমার কাছে মনে হয়।

সাঈদ: আর তরুণ লেখকদের ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?

সাইফুল: তারা তো এখন সবে শুরু, অতএব তাদের স্পেস তো অনেক। অনেক দিন ধরে লিখতে পারবে। ফলে অনেক সঠিক জায়গায় তারা পৌঁছাইতে পারবে। আমি তো একদম শেষ বয়সে লেখা শুরু করছি।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ১০/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাঈদ রূপু
সাঈদ রূপু

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স। ইন্ডিপেনডেন্ট টিভিতে শিক্ষানবিশ সাংবাদিক।