page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

বাতাস আর পানি থেকে ডিজেল বানাচ্ছে অডি

সানফায়ারের ই ডিজেল

সানফায়ারের ই ডিজেল

জার্মানির গাড়ি বানানোর কোম্পানি অডি ঘোষণা দিয়েছে তারা একটি ‘ই-ডিজেল’ বা ইথানল ডিজেল তৈরি করতে পেরেছে। নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে তরল জ্বালানি উৎপাদনের জন্য কেবল পানি এবং বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে এটা তৈরি করা হয়েছে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা কোম্পানি সানফায়ার জার্মানির ড্রেসডেনের প্লান্টে এ গবেষণাটি পরিচালনা করছে। মাত্র ৪ মাসের মধ্যে তারা এর প্রথম ব্যাচ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। অডি এর নাম দিয়েছে ‘ব্লু ক্রুড’। এই তরলটি দীর্ঘ চেইনের হাইড্রোকার্বন যৌগ দিয়ে গঠিত। এটা ফসিল জ্বালানির মতই, তবে সালফার ও সুগন্ধিমুক্ত। এ কারণে পোড়ার সময় কালি তৈরি হয় না।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি কাজে লাগানোর এই পদ্ধতিতে প্রথম ধাপে সৌর শক্তি, বায়ু বা জলবিদ্যুৎ চালনা করতে হয়। এরপর এই জ্বালানি ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৪৭২ ফারেনহাইট) এর চেয়েও বেশি তাপমাত্রায় পানি গরম করতে ব্যবহার করা হয়। তখন জলীয়বাষ্প উচ্চ তাপমাত্রার তড়িতের মাধ্যমে অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেনে বিভাজিত হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎপ্রবাহ একটি জলীয় দ্রবণের মধ্যে চালনা করা হয়।

তারপর হাইড্রোজেন সেখান থেকে সরে গিয়ে উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে কার্বন মনো অক্সাইডের সাথে মিশ্রিত হয়। তারা একটি হাইড্রোকার্বন জাতীয় বস্তু তৈরি করে সেটার নাম দিয়েছে ‘ব্লু ক্রুড’। সানফায়ার দাবি করেছে সংশ্লেষিত জ্বালানি ফসিল জ্বালানি থেকে অধিক পরিবেশবান্ধব নয়, তবে এই পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য শক্তিকে তরল জ্বালানিতে রূপান্তরের সক্ষমতার হার প্রায় ৭০ শতাংশেরও বেশি। এই ই-ডিজেল সাধারণ ডিজেলের সাথে মিশ্রিত হয়ে অথবা নিজেই জ্বালানি হিসেবে কাজ করতে পারে।

audi-4

জার্মানির ড্রেসডেনে সানফায়ারের ব্লু ক্রুড তৈরির পাইলট প্ল্যান্ট

কিন্তু এটা যেরকম মনে হচ্ছে পুরোপুরি সেরকম নাও হতে পারে। আসলে অডি যেই পদ্ধতি ব্যবহার করেছে সেটাকে বলা হয় ফিসার-ট্রপস। বিজ্ঞানীরা ১৯২০ সাল থেকে এই পদ্ধতির সাথে পরিচিত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দেয় জার্মানিতে। তখন তারা কয়লাকে ডিজেলে রূপান্তরিত করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল। সারা বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি বর্তমানে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছে। বিশেষ করে যেসব দেশের তেল মজুদ আছে খুব অল্প পরিমাণে, কিন্তু অন্যান্য ফসিল জ্বালানি যেমন গ্যাস, কয়লা ইত্যাদির মজুদ অনেক বেশি।

পড়ুন: বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিরোধে কার্বন ইনজিনিয়ারিং—বায়ু থেকে জ্বালানি!

মনে করা হচ্ছে, বায়োগ্যাস সুবিধা ব্যবহার করে কার্বন-নিরপেক্ষ জৈব-জ্বালানি উৎপাদনের চিন্তা অডি প্রথম করে নি। বায়োগ্যাস এবং ফিসার-ট্রপস প্রক্রিয়া ব্যবহার করে জৈব-জ্বালানি উৎপাদনের জন্য চরেন নামের জার্মানির আরেকটি কোম্পানি ইতিমধ্যে একবার চেষ্টা করেছে। শেল অ্যান্ড ভক্সওয়াগেনের সাহায্যে মূলত কোম্পানিটি সকল অর্থ ও সমর্থন পেত, কিন্তু অবাস্তবধর্মী প্রক্রিয়ার কারণে ২০১১ সালে এটা ব্যর্থ ও দেউলিয়া হয়ে যায়।


ইউটিউব ভিডিও – sunfire: Alternative fuels from air, water an renewable energy

অডি নির্দ্ধিধায় স্বীকার করেছে যে, তাদের ব্যবহার করা পদ্ধতিগুলি একটাও নতুন নয়। তবে দাবি করেছে যেভাবে তারা এটা করেছে তা নতুন। তারা বলেন, তাপমাত্রা বাড়িয়ে পানি বিভাজিত করার সময় এই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। অপচয় হওয়া তাপ তখন উদ্ধার করা যায়। যতক্ষণ তাদের এই ঘোষণা ফসিল বা জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত একটি নতুন যুগের প্রবর্তক হতে না পারবে, প্রাকৃতিক জ্বালানিকে সংশ্লেষিত জ্বালানিতে রূপান্তর করা এই প্রযুক্তির প্রচেষ্টা হতে পারে একটি ব্যাটারির মত, যা নবায়নযোগ্য জিনিস দ্বারা উৎপাদিত বাড়তি শক্তি সঞ্চয় করে রাখে।

About Author

সাইফুদ্দীন মাছুম
সাইফুদ্দীন মাছুম

জন্ম. চাঁদপুর, ১০ জানুয়ারি ১৯৯৩