ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে বার্সা-ইন্টার ম্যাচ চলাকালীন মাঠের বাইরে বসে নিজের ছেলে থিয়াগো ও লুইস সুয়ারেজের ছেলে বেঞ্জামিনকে দেখভাল করছিলেন মেসি।

লিওনেল মেসি এখন ইনজুরিতে। কিন্তু যে কোনো অবস্থাতেই তিনি তার প্রধান দুই ভালবাসা — পরিবার ও বার্সেলোনা ফুটবল দলের পাশে থাকেন।

মেসির অনুপস্থিতিতে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন রাফিনহা এবং তিনি শুরুতেই ইন্টারকে ধসিয়ে দিয়েছেন। এই ম্যাচের পরে বার্সেলোনার জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ বি’র শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়েছে। রাফিনহা ও জর্দি আলবার গোলের মাধ্যমে ইন্টারকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বার্সেলোনা।

বার্সেলোনা যখন খেলছিল তখন মেসি ভাঙা হাত নিয়ে সাইডলাইনে ছেলে থিয়াগোর সাথে বসে খেলা উপভোগ করছিলেন।

খেলার পরে মেসি ইন্সটাগ্রামে বার্সেলোনা খেলোয়াড়দের সেলিব্রেটের ছবি ও ছেলে থিয়াগো-র ছবির সাথে সুন্দর একটি মেসেজ পোস্ট করেছেন।

ছেলে থিয়াগো-কে উদ্দেশ্য করে মেসি লিখেছেন, তোমার সাথে বেঁচে থাকা এবং এটা উপভোগ করা কী সুন্দর! এই দারুণ জয়ের জন্য গ্রুপকে অভিনন্দন।

 

View this post on Instagram

 

Que lindo vivirlo y disfrutarlo con vos !!! Felicitaciones al grupo por esta gran victoria 👏👏👏

A post shared by Leo Messi (@leomessi) on

থিয়াগো এবং মেসি শুরু থেকেই সাইডলাইনে বসে চাপা উত্তেজনার সাথে খেলা দেখছিলেন। খেলার প্রতি থিয়াগোর নিবিড় মনোযোগ এবং থিয়াগোকে মেসির আদর করার দৃশ্য বার বার টিভি দর্শকদের নজরে পড়েছে। সাইডলাইনে বসে মেসি থিয়াগোর সাথে লুইস সুয়ারেজের ছেলে বেঞ্জামিনেরও দেখভাল করছিলেন।

রাফিনহা ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির পরে এই প্রথম বার্সেলোনার হয়ে গোল করলেন। গত সিজনের দ্বিতীয়ার্ধ্বে তিনি ধার হিসেবে ইন্টার মিলানের হয়ে খেলেছেন।

২০১০ সালে বার্সা-ইন্টার এর সর্বশেষ ম্যাচে ইন্টার জিতছিল। তবে এই ম্যাচে শুরু থেকেই তারা হিমশিম খেয়েছে। অবশ্য ম্যাচের শুরুর পরে অল্প কিছুক্ষণ ইন্টার ভাল খেলেছিল, কিন্তু বার্সা খুব তাড়াতাড়িই ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।

প্রথমে ইন্টার মিলানের ইভান পেরিসিচের পাঠানো বল ইকার্দির কাছে পৌঁছলে ইকার্দি বিপদজনক একটি শট নিয়েছিলেন, কিন্তু বার্সার গোলকিপার স্টেগেন সেটা প্রতিহত করেন। এরপরে স্বাগতিক বার্সেলোনার হয়ে রাফিনহা দুইবার গোলের চেষ্টা করেন কিন্তু ইন্টার মিলানের ডিফেন্ডার সামির হ্যান্দানোভিচ ও লংলেট খুব সহজেই সেগুলি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

ম্যাচের ৩২ মিনিটের মাথায় সুয়ারেজের করা অসাধারণ ক্রস থেকে পাওয়া বল কোনোমতে পায়ে ঠেকিয়ে গোলপোস্টে পাঠিয়ে দেন রাফিনহা।

মেসি ও থিয়াগো
ছেলে থিয়াগোর সঙ্গে লিওনেল মেসি; ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে বার্সেলোনা-ইন্টার মিলানের খেলা উপভোগ করছেন।

রাফিনহা যদিও গোলটি সেলিব্রেট করেন নি, কিন্তু এই গোলই বার্সার পরের খেলাকে প্রভাবিত করে। হাফ টাইমের ব্রেকের কিছুক্ষণ আগে বার্সার কৌটিনহো দারুণ একটি গোলের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ইন্টারের স্ক্রিনিয়ারের ডিফেন্সের কারণে বল গোলপোস্টের কোণায় লেগে ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধ্বের খেলা শুরুর পাঁচ মিনিট পরেই ইন্টার প্রায় সমতা ফিরিয়ে এনেছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়। পলিটানোর একটি ক্রস দুর্দান্ত ভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন বার্সার গোলকিপার স্টেগেন। এরপরে সুয়ারেজ গোল করার অসাধারণ একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু হ্যান্দানোভিচ তা ঠেকিয়ে দেন।

ম্যাচের ১৯ মিনিট বাকি থাকতে, অর্থাৎ ৬৯ মিনিটে বার্সার আরেকটি অসাধারণ চেষ্টা থামিয়ে দিয়েছেন লংলেট। প্রথমে সুয়ারেজের হেডার ঠেকিয়ে দিলে ফিরে আসা বলটিকে ঠিকভাবে কন্ট্রোল করতে পারেন নি রাকিটিচ। রাকিটিচের কাছ থেকে বলটি সরে গেলে কৌটিনহো সেই লুজ বলে শট নিয়েছিলেন, কিন্তু বল আবারও গোলবারে লাগে।

ম্যাচের ৮৩ মিনিটে রাকিটিচের কাছে থেকে আসা বলটিকে জর্দি আলবা দৌড়ে এসে ধরে গোলপোস্টে পাঠিয়ে দেন।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here