page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

বিমান দুর্ঘটনায় ওসামা বিন লাদেনের বোন ও সৎ মা নিহত!

যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারে বিমান দুর্ঘটনায় ওসামা বিন লাদেনের বোন সানা বিন লাদেন ও সৎ মা রাজা হাশিম মারা গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তারা দুজনই সৌদি আরবের মক্কায় একটি এতিমখানা পরিচালনা করতেন।

হ্যাম্পশায়ারে ব্যক্তিমালিকানাধীন বিমানবন্দরে নামার সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে লাদেন পরিবারের বিজনেস জেট অ্যামব্রায়ের ফিনাম থ্রি হান্ড্রেড। সেটি পার্শ্ববর্তী গাড়ি নিলাম কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। শুক্রবার ব্রিটিশ সময় বেলা ৩টায় ঘটা এ দুর্ঘটনায় বিমানের ৪ আরোহীর সবাই মারা যান। নিহতদের দু’জন লাদেন পরিবারের সদস্য। মনে করা হচ্ছে বিমানটির ইতালির মিলান-মালপেনসা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করেছিল।

laden-sister4

সামাজিক মাধ্যমে সানা বিন লাদেনের এই ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এতিমদের নিয়ে কাজ করতেন।

দুর্ঘটনার পরপরই ব্রিটেনে সৌদি দূতাবাসের অফিশিয়াল টুইটার থেকে শোকবার্তা টুইট করেন সৌদি দূত প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নাওয়াফ আল সৌদ। তিনি বিন লাদেন পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তবে নিহতদের কারো নাম পরিচয় এ টুইট বার্তায় উল্লেখ করা হয় নি। বিন লাদেন পরিবারকে সৌদি আরবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে গণ্য করা হয়, পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে তাদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বিস্তৃত।

টুইট বার্তায় লেখা হয়েছে: ‘পবিত্র দুই মসজিদের রক্ষাকর্তার যুক্তরাজ্যস্থিত রাষ্ট্রদূত হিজ রয়্যাল হাইনেস প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নওয়াফ বিন আবদুল আজিজ ব্ল্যাকবুশ বিমানবন্দরে মর্মান্তিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় শোক জানাচ্ছে প্রয়াত মোহাম্মদ বিন লাদেনের পুত্র ও তার আত্মীয়স্বজনের প্রতি, যে বিমানটি এই পরিবারের সদস্যদের বহন করছিল।’

দুর্ঘটনাস্থলের কাছের একটি অফিসে কাজ করেন ব্যারি রাইট। তিনি বিবিসি রেডিও ফোরকে বলেন, “যেন একটি মিসাইল উড়ে আসছিল। সিনেমাতে যেরকম শোনা যায় সেরকম বিকট শব্দ, এবং তার পরপরই বিস্ফোরণ। সাথে সাথে ধোঁয়া বের হতে থাকে এবং তারপরে বিমানটির উপরে আগৃন লেগে যায়। মুহূর্তের মধেই বিমানটি আগুনের একটি গোলায় পরিণত হয়।”

laden-sister3

এমব্রায়ের ফিনাম ৩০০, মিলান থেকে আসছিলেন তারা

সানা বিন লাদেনের পারিবারিক বন্ধু আজওয়া তার ফেসবুকে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। প্লেনের ভিতরে তোলা একটি ছবি দিয়ে তিনি বলেছেন, সানা সৌদি আরবের মক্কায় একটি এতিমখানায় কাজ করতেন। তার সাথে তার ভাই ওসামার অনেক বছর ধরেই কোনো যোগাযোগ ছিল না।

আজওয়া আরো জানান, সানা গোছানো একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। তার কোনো কাজের লোক ছিল না। তিনি নিজেই তার বাড়ির সব কাজ এবং স্বামীর দেখাশোনা করতেন। দামি কাপড়-চোপড় বা গয়নার প্রতি তার কোনো আগ্রহ ছিল না। তিনি গরীব মানুষ ও অভাবী শিশুদের সাহায্য করতেন।

আরেকজন বন্ধু জানিয়েছেন, তার নিজের কোনো সন্তান ছিল না কিন্তু এতিমখানার শিশুরা তাকে খুবই ভালোবাসত এবং তাকে ‘মামা সোসো’ বলে ডাকত। তিনি কিছুদিন আগে এতিম শিশুদের জন্য একটি ব্রেকফাস্ট ক্লাবের আয়োজন করেন।

সৌদি দূতাবাস আরো জানিয়েছে, ঘটনা তদন্ত এবং প্রয়াতদের মরদেহ দ্রুত হস্তান্তর ও দাফনের জন্য তারা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে।

সৌদি আরবের আল-হায়াত পত্রিকা সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে প্রচারিত একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ব্ল্যাকবুশ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় ‘এমব্রায়ের ফিনম ৩০০’ নামের প্রাইভেট জেট বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে চালক ছাড়াও তিনজন আরোহী ছিলেন।

Blackbushe Airport near Yateley, Hampshire

হ্যাম্পশায়ারের ইয়েটলির কাছে ব্ল্যাকবুশ এয়ারপোর্ট

laden-sister6

বিধ্বস্ত বিমানের কালো ধোঁয়া।

ব্রিটেনের ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকায় অবশ্য বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি ইটালির মিলান থেকে হ্যাম্পশায়ারে আসছিল। ব্ল্যাকবুশ বিমানবন্দরে অবতরণের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই পত্রিকায় আরো বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পাশে কার পার্কিং এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং তাতে আগুন ধরে যায়। বিমানের পাইলট জর্ডানি নাগরিক। তৃতীয় আরোহীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায় নি। তবে অনেকের ধারণা, সানার স্বামী জুহায়ের হাশিমও এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

Hampshire plane crash

বিধ্বস্ত জেট ও পুড়ে যাওয়া গাড়ির ধ্বংসাবশেষ

উড়োজাহাজটি সালেম এভিয়েশনের। এই কোম্পানি সৌদি আরবের লাদেন পরিবারের মালিকানাধীন ব্যবসায়িক গ্রুপের অংশ। দুর্ঘটনাকবলিত উড়োজাহাজটির মূল্য ৭০ লাখ পাউন্ড।

এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত বিমান দুর্ঘটনার শিকার হলেন লাদেন পরিবারের সদস্যরা। ১৯৬৭ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ওসামার বাবা মোহাম্মদ বিন লাদেন তার ২৩তম বিয়ে করতে যাওয়ার সময় সৌদি আরবের উসরানের কাছে একটি ল্যান্ডিং স্ট্রিপে তার নিজস্ব বিমান বিচক্রাফট ১৮ বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান। সেই বিমানের লেজেও এই বিধ্বস্ত হওয়া এমব্রায়েরের মতই লেখা ছিল  ‘HZ-IBN’।  মোহাম্মদ বিন লাদেনের মৃত্যুর পরে লাদেন পরিবার এই নামে বিমানের রেজিস্ট্রেশন চালু রাখে।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন আফগানিস্তানে ওসামা বিন লাদেন।

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালীন আফগানিস্তানে ওসামা বিন লাদেন

এ ছাড়া ১৯৮৮ সালে সমারসেটের মিলফিল্ড স্কুলে পড়া ওসামার সৎ ভাই সালেম বিন লাদেন টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। তার  বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি হাই ভোল্টেজ পাওয়ার লাইনে ঢুকে পড়ায় সে দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গ্রুপ আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন ২০১১ সালের মে মাসে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ এলাকায় মার্কিন মেরিন সেনাদের গুলিতে নিহত হন।


Plane Crashes Into Hampshire Car Auction Warehouse At Blackbushe Airport(VIDEO)!!!

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক