page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয়ার গল্প — ‘দ্য বিগ শর্ট’

আমেরিকার কমেডির ভক্ত আমি। অ্যাডাম ম্যাকে গত বছর ক্রিশ্চিয়ান বেল, ব্র্যাড পিট, রায়ান গসলিং আর স্টিভ ক্যারেলরে নিয়া সিনেমা বানাইতেছে এইটা জাইনাই আমি আমার হার্ড ড্রাইভে কিছু জায়গা খালি কইরা অপেক্ষা শুরু করলাম—কবে আসবে টরেন্ট সাইটে!

অ্যাডাম ম্যাকের সব কাজ অতি অসাধারণ কিছু না—তবে তিনি স্কেচ কমেডি নিয়া কাজ করছেন বইলা তার সবচেয়ে বাজে সিনেমার মধ্যেও আপনি ৫-১০ মিনিটের অসাধারণ কমেডি পাইবেন।

Adam-McKay

অ্যাডাম ম্যাকে

সিনেমা রিলিজের পর জানতে পারলাম এইটা নাকি ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইসিস নিয়া সিনেমা। আমি একটু টাশকি খাইছিলাম, Talladega Nights, Anchorman এর ডিরেক্টর ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিস নিয়া কী করব!

আবার দেখলাম মূল স্ক্রিপ্ট লিখছে চার্লস র‍্যান্ডলফ—উনি অতি সিরিয়াস লেখক। কেভিন স্পেসি আর কেট উইন্সলেটরে নিয়া তার লেখায় বানানো The life of David Gale ভয়াবহ সিরিয়াস পলিটিক্যাল সিনেমা। ইনার অন্যান্য কাজও এই ধরনের। আরও জানলাম এই সিনেমা মাইকেল লুইসের বইয়ের ওপর ভিত্তি কইরা। মাইকেল লুইস ওয়াল স্ট্রিটে কাজ করছেন অনেক দিন—একদিন সব ছাইড়া ছুঁইড়া ফাইনান্সিয়াল জার্নালিস্ট হয়া গেলেন—এবং ওয়াল স্ট্রিটের একটার পর একটা দুর্নীতি নিয়া লিখতে থাকেন।

movie-review-logo

তার বই নিয়া দুইটা বিখ্যাত সিনেমা হইছে—Moneyball আর The Blind Side, তো এই মাইকেল লুইসের লিখা নন-ফিকশন বই The Big Short: inside the doomsday machine-এর ভিত্তিতে এই সিনেমা; কাহিনী ও চরিত্র অধিকাংশই সত্য!

এইখানে বইলা রাখি, আমার পুরস্কার নিয়া একটু শুচিবায়ু আছে, অস্কার-মস্কার এই নিয়া লম্ফ ঝম্ফ দেখলে চোখ জ্বলে। বিগ শর্ট এইবার অস্কার, বাফটা, স্ক্রিন রাইটার্স গিল্ড তিনটাতেই বেস্ট অ্যাডাপটেড স্ক্রিনপ্লে-এর পুরস্কার পাইছে, তাও এইটা নিয়া আমি তাবদ সোশাল মিডিয়াতে তেমন ফালাফালি দেখলাম না। সম্ভবত লিও সাহেবের খুশির জোয়ারে ভাইসা গেছে—তো এইবার প্রথম ফালাফালি না দেইখা চোখ জ্বলল!

ছবির দৃশ্য

ছবির দৃশ্য

ফলে যতক্ষণ ডাউনলোড চলল আমি নইড়া-চইড়া বসলাম। কিন্তু সিনেমা শুরুতেই একটু হতাশ হইয়া পড়লাম। আরেকটা wolf of wall streets দেখতাছি বোধ হইল। সত্তরের দশকের বোরিং ব্যাংকিং—এই রকমের একটা টোন দিয়া শেয়ার মার্কেটের একগাদা জার্গন বুঝায়া ধপাস কইরা আমাদের নিয়া আইল স্ট্রিপক্লাবে—এখন ব্যাংকিং সেক্সি হয়া গেছে ওয়াল স্ট্রিট দিয়া। ধপাস কইরা আবার আমাদের নিয়া আসল ২০০৮-এ। পৃথিবীর অর্থনীতি পইড়া যাইতেছে যার মূল কারণ আমেরিকার ব্যাংকিং সেক্টর। সিনেমাটা শুরু থেকেই কোনো স্পেসিফিক টোন ধইরা রাখল না। কিছুক্ষণ পর আবার wolf of wall street এর নায়িকা মার্গট রবি বাথটাবে শ্যাম্পেইন হাতে আমাদের সাবপ্রাইম মর্টগেজ আর বন্ড কী জিনিস তা বুঝাইলেন।

এমনে গোটা সিনেমার মইধ্যে মইধ্যে কয়েকজন সেলিব্রেটি আইসা আমাদের বিভিন্ন কঠিন টার্ম বুঝায় দিলেন। রায়ান গসলিং-এর ক্যারেক্টার সিনেমার মূল ন্যারেটর। সে আবার মাঝে মাঝে আমাদের সাথে কথা বলে, পুরা সিনেমা জুইড়া একটু পর পর ফোর্থ ওয়াল ব্রেকিং চলল। সিনেমার শটগুলো একেবারেই স্টেডি না, অধিকাংশ শটেই ক্যামেরা জুম লেন্সে, দূরে রাখা—হঠাৎ জুম ইন-আউট করতাছে, একটা ডকুমেন্ট্রি টাইপ ফিল দেওনের চেষ্টা। সব মিলায়া এডাম ম্যাকে-এর আগের কোনো সিনেমার অভিজ্ঞতার সাথে এইটার কোনো মিল নাই।

the-big-short-poster

দ্য বিগ শর্ট (২০১৫)

এইবার একটু ব্যাকগ্রাউন্ডে যাই, আমেরিকার ২০০৮-এর অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যেইটার কারণে পরে বিশ্ববাজারের পতন হইছে। এইটা নিয়া সিনেমার জগত তথা হলিউড বেশ তাড়িত। ২০১০-এ অস্কারে বেস্ট ডকুমেন্ট্রি পাইছিল Inside job, যেইটা এই ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিস-এর আদ্যোপান্ত উদ্ধারের চেষ্টা চালাইছে। wolf of wall street আইসা ওয়াল স্ট্রিট-এর ভালগার একটা চিত্র টানছে, ১৯৯৮-এর অলিভার স্টোনের wall street যেইখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছিল, এখনে বর্তমান অধিকাংশ সিনেমা সিস্টেম-এর সমস্যা নিয়া কথা বলছে। এই বছর অবশ্য রামিন বাহরানির 99 homes-এ আরেকটু ডিটেইলে এই সমস্যাটা নিয়া বলার চেষ্টা করছেন। ২০১১ তে আরেকটা সিনেমা আইছিল এইটা নিয়া দেখা হয় নাই, নাম Margin Call।

দ্যা বিগ শর্ট একেবারে নতুন ভাবে আমাদের এই গল্প বলার চেষ্টা করছে। এবং সত্যি বলতে ফোর্থ ওয়াল ব্রেকিং—একটু ঝাঁকানো শট, ডকুস্টাইল শুটিং সিনেমাটারে আরও বেশি মাত্রা দিছে। ফাইনান্সিয়াল বোরিং টার্মগুলারে যথেষ্ট যত্ন নিয়া অডিয়েন্সরে বুঝানের চেষ্টা করছে। যেইটা হয়ত অন্য কোনো পরিস্থিতিতে আমরা কোনোভাবেই জানতে ইচ্ছুক হইতাম না।

এইবার প্লটে যাই, যারা সিনেমাটা দেখতে চান তারা এই প্যারাটা উপেক্ষা করতে পারেন, কিছু স্পয়লার হইতে পারে।

‘শর্ট’ একটা ফাইনান্সিয়াল টার্ম, এইটা শেয়ার বাজারের একটা মাধ্যম যা দিয়া একটা দ্রব্য বা পণ্যের ভ্যালুর বিপরীতে বিনিয়োগ করা হয়। সোজা ভাষায় আপনি দ্রব্য বা পণ্যের দাম কমবে এই বাজি রাখতেছেন!

সিনেমার চরিত্রগুলা অধিকাংশই সত্যিকারের মানুষের ভিত্তিতে নির্মিত। কিছু ক্ষেত্রে নাম পরিবর্তন করা হইছে। ক্রিশ্চিয়ান বেল-এর চরিত্রের নাম ড. মাইকেল বারি, যিনি আসলেই Sicon Investor নামের একটা হেডজ ফান্ডের ইনভেস্টর হিসেবে কাজ করতেন।

স্টিভ ক্যারেল এর চরিত্রের নাম মার্ক বাম—স্টিভ আইজম্যান নামের আরেকজন ইনভেস্টর-এর উপর ভিত্তি করে এই চরিত্র।

রায়ান গসলিং অভিনয় করছেন জারেড ভ্যানেট হিসেবে—যা গ্রেগ লিপপম্যান নামের একজন ব্যাংকারের ভিত্তিতে করা। আর ব্রাড পিট-এর চরিত্রের নাম বেন রিকার্ট—যার আসল নাম বেন হকেটি। একজন রিটার্ড ইনভেস্টর।

সিনেমার শুরু ২০০৫ সাল। ড. মাইকেল বারি—যিনি বাস্তব জীবনে অ্যাসপারগাস সিন্ড্রোমে আক্রান্ত—অফিসে আসেন হাফপ্যান্ট পইরা, থাকেন খালি পায়ে আর শুনেন মেটালিকা, একাই ধরতে পারেন যে আমেরিকার হাউজিং মার্কেট একেবারেই স্টেবল না, আর মার্কেট স্টেবলের একটা মেকানিজম যেহেতু শর্ট করা, সে প্রপোজাল দেয় সিকন ইনভেসটর-এর টাকা দিয়া সে মার্কেট শর্ট করবে। অধিকাংশ ব্যাংক তার প্রপোজালে স্তম্ভিত, কারণ তাদের চোখে এর চেয়ে বাজে ইনভেস্ট সম্ভব না—হাউজিং মার্কেট প্রচণ্ড শক্ত—এর দাম কোনো ভাবেই কমবে না—সুস্থ মস্তিষ্কের কে এর পতনের উপর ইনভেস্ট করবে? —মাইকেল বারি, এবং সে সব মিলায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার হাউজিং মার্কেটের এগেইন্সটে বেট করে।

মাইকেল বারির এই ভয়ানক ইনভেস্টমেন্টের কথা গ্রেগ লিপপম্যান নিয়া আসে মার্ক বাম-এর হেডজ ফান্ডের কাছে। উদ্দেশ্য লিপপম্যানও শিউর হাউজিং মার্কেট ফল করবে—সে মার্ক বামরে দিয়া ইনভেস্ট করাইতে চায় মার্কেটের বিরুদ্ধে!

অন্যদিকে মার্কেটে নতুন আসা দুই ইনভেস্টর জেমি শিপলে আর চার্লি গেলার (বাস্তব জীবনে জেমি মে আর চার্লি লেডলে) এই ট্রেডের খবর পেয়ে তাদের বড় ভাইসুলভ বেন রিকার্ট (ব্র্যাড পিট) রে রাজি করায় তাদের সাহায্য করতে।

the-big-short-2

ছবির দৃশ্য

মার্ক বামের (স্টিভ ক্যারল) চরিত্রটা খুব ইন্টারেস্টিং। সে প্রচণ্ড রাগী একটা মানুষ। যে আবার সিস্টেমের প্রতি চরম ক্ষোভ ধইরা রাখছেন। সে এই সুযোগটাকে মনে করে সিস্টেমরে একটা শিক্ষা দেওনের রাস্তা। সিস্টেমের পতনের উপর টাকা কামানো। এবং পুরা সিনেমা জুড়ে মার্ক বাম আর তার দল ধীরে ধীরে গ্রাউন্ড লেভেলে সিস্টেমের সমস্যা আইডেন্টিফাই করতে থাকে আর বাম সাহেব রাগতেই থাকেন। তার রাগ এক সময় হয়া যায় চরম মেলানকলিক—সে যতই বুঝতে পারে মার্কেট কলাপস করবেই—বন্ডের রেটিংস সিস্টেম, ওয়াল স্ট্রিটের নিয়ন্ত্রক সবাই করাপ্ট ততই সে এইটাও বুঝতে পারে তাদের করাপশনের কারণে এই যে মার্কেট ফল করতেছে–সেইটা দিয়া তো সে নিজেই লাভবান হইতেছে! গোটা সিনেমার মধ্যে একটা চরম ডাইকটোমি বিদ্যমান।

আমাদের মূল চরিত্রগুলা সবাই মার্কেটের মিথ্যাচার, অনাচার, আইনের যথেচ্ছ ব্যবহার সবই ধরতে পারতেছেন, কিন্তু কেউ এইটা এক্সপোজও করতে পারতেছে না—কারণ কেউ তাদের বিশ্বাস করতেছে না, আবার তারাই এই অর্থনৈতিক পতনের পক্ষে বাজি ধইরা বইসা আছে। অর্থাৎ মার্কেট ফল করলে, হাজার হাজার মানুষ বাস্ত্যুচ্যুত হলে তারা প্রত্যেকে কোটি কোটি টাকা কামাবে! দর্শক হিসেবে একটা চরম ডিলেমায় পইড়া যাইতে হয়।

সিনেমাটার মধ্যে একটা হাইস্ট মুভি টাইপ ব্যাপার আছে—কতগুলা বাইরের লোক এবং মিসফিট যারা সমস্যা আইডেন্টিফাই করতে পারছে সবার আগে এবং তারা সিস্টেমরে একটা বাঁশ দিয়া বেশ কিছু টাকা মাইরাও নিতেছে। স্বাভাবিক ভাবেই দর্শক চাবে এই চরিত্রগুলা জিতুক। এবং সাধারণ ক্ষেত্রে সিনেমাও এই অনুভূতিটাই ট্রান্সলেট করে স্ক্রিনে। কিন্তু এই সিনেমাতে আমরা দেখতেছি মার্ক বাম স্পাইরালি আরও আরও সিনিক হয়া যাইতেছে। ডিপ্রেশনে চইলা যাইতেছে, ডা. মাইকেল বারি পুরাই একঘরে হয়া বয়া আছেন তার ফার্মে।

বাস্তব জীবনে এই সময় নাকি মাইকেল বারি এত বেশি মানসিক চাপে ছিলেন যে তার অন্ত্রের কিছু অংশ কেটে ফালায় দিতে হয় যাতে সে বসতে পারেন! দর্শক জানে ফাইনান্সিয়াল ক্রাশ আসতেছে—আমাদের মূল চরিত্রগুলাও শিওর—এবং তারা টাকায় ভাইসা যাইব এই ক্রাশে—কিন্তু আমরা সবাইরে দেখি আরও আরও সিনিক হয়া যাইতে। মার্ক বাম অনেকটা প্রফেটিক বাণী দেয় সিনেমার শেষে—“আমার মনে হচ্ছে আর কয়েক বছরের মধ্যে সবাই ইমিগ্রেন্ট আর গরীবদের উপর এই সব কিছুর দোষ চাপায় দিব।” শেষ পর্যন্ত আমাদের হিরোরা(!!) সকলেই অনেক দুঃখের সহিত (একমাত্র রায়ান গসলিং-এর চরিত্র ছাড়া) অনেক বড়লোক হয়।

দ্য বিগ শর্ট আমেরিকার ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিসকে একটা সম্পূর্ণ ডিফারেন্ট অ্যাঙ্গেলে বেশ সাফল্যের সাথে চিত্রায়ন করছে। যেই গল্পে আসলে ‘ভাল’ হিরো বইলা কেউ নাই, আবার কনভেনশনাল অ্যান্টি হিরো চরিত্রও নাই। রায়ান গসলিং-এর ক্যারেক্টারটার মধ্যে খালি এই ছাপ ছিল। তারা কেউ এই ফাইন্সান্সিয়াল ক্রাইসিসরে থামাইতে পারল না—অথচ এইটা থেকে বেশ প্রফিট কামায় নিল।

এই কিম্ভূত গল্প দিয়া আমার মতে মূল সিস্টেমের আসল রূপ অংকন হইছে। অনেকেই এই সিনেমাটা ক্রিটিসাইজ করছেন এই বইলা যে ফেডারেল রিজার্ভের আর বিভিন্ন ফাইনান্সিয়াল ইন্সটিটিউটের সমস্যা আসলে তুইলা ধরতে পারে নাই। অনেকে আবার সিনেমার মূল থিম নিয়া একটু আহত হইছেন। আমেরিকার হাউজিং বাবল বার্স্টের মত একটা বেদনাদায়ক ইস্যুর পক্ষে বাজি রাইখা যারা বড়লোক হইল তাদের ক্যান গ্লোরিফাই করা হইল!


দ্য বিগ শর্ট অফিসিয়াল ট্রেইলার (২০১৫)

আমার নিজের কাছে মনে হইছে সিনেমার সবগুলা চরিত্র যারা আমেরিকার ইকোনমির বিরুদ্ধে বাজি রাইখ্যা জিতল—তারা সকলে আটকা—এইটাই এই সিনেমার মূল মেসেজ। সিস্টেম এতই বেশি শক্তিশালী যে এর কাছে সবাই আটকায় আছে—ছোট ইনভেস্টর থেকে শুরু কইরা বড় হেডজ ফান্ডের ইনভেস্টর কেউই এই ক্রাইসিস ঠেকাইতে পারে নাই কারণ এই ক্রাইসিস ঠেকানোর মেকানিজম নাই। অথচ মর্ডান ইকোনমিক সিস্টেমে আপনি ক্রাইসিস দিয়া মুনাফা কামায় নিতে পারবেন।

আজকে পলিটিশিয়ানরাও এই সিস্টেমে আটকা— শেষ পর্যন্ত সব ব্যাংকগুলারে সরকার জনগণের টাকা দিয়া বেইল আউট করাইল। আর এই পুরা গ্যাঞ্জামের জন্য করিম সেরাগেল্ডিন নামের একজন ব্যাংকারের জেল হইল!

book-big-s5

বই: দ্য বিগ শর্ট

দ্য বিগ শর্ট এক অতি মেলানকোলিক টোনে এর ইতি টানছে—বিশেষ কইরা এন্ড ক্রেডিটে আমাদের মূল চরিত্রগুলার ঘটনার পরবর্তী অবস্থা—জেমি আর চার্লি বন্ড রেটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে মামলা করার বহু চেষ্টা কইরা ব্যর্থ হয়। আর ডা. মাইকেল বারি—যে সবার আগে এই তুফানের খবর পান—সে সরকারের সাথে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা কইরা ব্যর্থ হন—তিনি সরকারকে জানাইতে চাইতেছিলেন কেমন কইরা তিনি এর সন্ধান পাইলেন। তার কথা কানে দেওনের বদলে উল্টা সরকার তার সম্পত্তির অডিট করেন চার বার—এফবিআই-এর প্রশ্নেরও সম্মুখীন হইতে হইছে কয়েকবার। বর্তমানে তার ছোট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড একটা দ্রব্যের উপরই ইনভেস্ট করতেছে—পানি!

সব মিলায় দ্য বিগ শর্ট একটা ভয়াবহ ট্র্যাজেডির একটি সার্থক রূপায়ন। আড্যাম ম্যাকের কমিডিক ইনপুট সিনেমাটারে জীবন দিছে—এবং আনকনভেনশনাল স্টোরি ন্যারেশন অতি জটিল কনসেপ্ট নিয়া সহজে চিন্তা করতে হেল্প করছে। উলফ অফ ওয়াল স্ট্রিটের ভালগারিটির জন্য যেইখানে মূল সমস্যা পাতলা হইয়া যাইয়া লিওর ক্যারেকটারের ট্র্যাজেডি হয়া দাঁড়াইছে দর্শকের মুখ্য চিন্তা—সেইখানে বিগ শর্ট ভালগারেটি আর ক্যারেকটার ট্র্যাজেডির ককটেল দিয়া ভালগার ওয়াল স্ট্রিটের জেলখানামূলক সিস্টেমের দিকে আমাদের চোখ ফিরায় নিছে।

About Author

তৌসিফ শাদলী
তৌসিফ শাদলী

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন কম্পিউটার সায়েন্সে ও ইন্জিনিয়ারিং এ পড়াশোনা করেছেন।