বিল গেটস এর টয়লেট বিপ্লব

0
54
  • দূষিত পানি বাহিত রোগে বছরে প্রায় ৫ লাখ শিশুর মৃত্যু ঘটে
  • পয়োনিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থার অভাবে পুরো সমাজ এবং পুরো জাতি পিছিয়ে পড়ে
  • প্রদর্শনীতে দেখানো টয়লেটগুলি লাখো মানুষের জীবন বাঁচাবে

সম্প্রতি বেইজিংয়ের রিইনভ্যান্টেড টয়লেট এক্সপোতে বিল গেটস গিয়েছিলেন উন্নত প্রযুক্তির টয়লেটগুলি দেখতে। অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশনের কারণে প্রতিবছর প্রায় অর্ধেক মিলিয়ন শিশুর মৃত্যু ঘটে বিশ্বব্যাপী। তিনি অাশাবাদী, এক্সপোতে প্রদর্শিত টয়লেটগুলি নিরাপদ টয়লেট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারবে। বেইজিংয়ে যাওয়ার আগে গেটস নোটসে প্রকাশিত তার লেখাটি নিচে থাকছে।

পৃথিবীর আরো ভালো টয়লেট যে কারণে প্রাপ্য

বিল গেটস
অনুবাদ: অর্জয়িতা রিয়া

এই কিছুদিন হল পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকটা ঘুরেছি আমি একটা টয়লেট দেখতে।

TGN (দ্য গেটস নোটস) এর পুরনো পাঠক হলে এটায় অাপনার অবাক লাগবে না। অল্প কিছু জিনিস আছে যেগুলির ব্যাপারে আমি বেশি কথা বলতে পছন্দ করি। অামরা যা নিয়ে কাজ করছি তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে স্যানিটেশন বা স্বাস্থ্যব্যবস্থা । এমনকি কয়েক বছর আগে আমি মানুষের মূত্র থেকে বানানো পানিও খেয়েছি।

এ কারণেই এই সপ্তাহে চায়নার বেইজিংয়ে রিইনভ্যান্টেড টয়লেট এক্সপো দেখতে যেতে অামি খুবই অাগ্রহী। সেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির টয়লেটগুলির কিছু প্রদর্শিত হবে।

এক্সপো’র টয়লেটগুলি শুধু একেকটা অসাধারণ গ্যাজেটই না, সেগুলি মিলিয়ন মানুষের জীবন বাঁচাতেও সক্ষম। বিশ্বে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই অনিরাপদ স্যানিটেশন বা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যবহার করে। এমনকি যেখানে টয়লেট বা গর্ত করা ল্যাট্রিন ব্যবহারের সুযোগ আছে মানুষের সেখানেও তাদের আবর্জনার নিরাপদ নিষ্কাশন হচ্ছে না। অাবর্জনা থেকে রোগজীবাণু লোকাল পানির সাপ্লাইয়ের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে এবং মানুষ অসুস্থ হচ্ছে।

দূষিত পানি বাহিত রোগে বছরে প্রায় ৫ লাখ পাঁচ বছর বয়সের নিচে শিশুর মৃত্যু ঘটে। আর যারা বেঁচে থাকে তাদের স্কুলে যাওয়ার মত অবস্থা থাকে না।

পয়োনিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থার অভাবে পুরো সমাজ এবং পুরো জাতি পিছিয়ে পড়ে, এটা বললে বাড়িয়ে বলা হবে না।

অাপনি লেভেল থ্রি বা ফোর ধরনের কোনো দেশের বাসিন্দা হলে দেশের ড্রেন বা নর্দমা ব্যবস্থাকে ধন্যবাদ দিতে পারেন আপনাদের নিরাপদে রাখার জন্য। ঐতিহাসিকভাবেই ড্রেন সবচেয়ে ভাল পন্থা অাবর্জনা থেকে পরিবেশে ক্ষতিকর রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করার।

কিন্তু যদি মানুষকে নিরাপদে রাখতে ড্রেনের দরকার না পড়ত তাহলে কী হত? কী হত যদি অাপনার টয়লেট নিজে নিজেই অাবর্জনা নিষ্কাশন করতে পারত?

চায়নাতে, এই জিনিস আমি দেখেছি এবং আরো বহুরকমের অসাধারণ সব উদ্ভাবন যেগুলি ড্রেনবিহীন ব্যবস্থা প্রকল্পে কাজ করতে পারে।

আমাদের ফাউন্ডেশন পরবর্তী প্রজন্মের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার পাইপলাইন উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। ২০১১ তে, অামরা রিইনভ্যান্টেড টয়লেট চ্যালেঞ্জ শুরু করেছিলাম। সেগুলির অনেকগুলিই এখন লাইসেন্স করানোর জন্যে রেডি। ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, বিভিন্ন কোম্পানি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটা অসাধারণ দল একটা নিরাপদ, অবৈদ্যুতিক স্যানিটেশন মার্কেট তৈরি করার মত কঠিন কাজটা করেছে। যেটা এখন যাত্রা শুরু করার জন্যে প্রস্তুত। আমার আশা, এই সপ্তাহের প্রদর্শনীতে যা দেখানো হয়েছে, তাতে তাদের কঠিন পরিশ্রম পৃথিবীব্যাপী মানুষের ব্যবহার উপযোগী ব্যবস্থার দিকে অারো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।

এই টয়লেটগুলির প্রতিটাই একই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে, কিন্তু তা ভিন্ন ভিন্ন উপায় অবলম্বন করে। সৌর শক্তি দিয়ে অনেকগুলি চলে, যাতে বিদ্যুৎ ছাড়াও সেগুলি কার্যকর রাখা যায়।

বাকিগুলি নিজস্ব শক্তি নিজেরাই তৈরি করে। যেমন, ক্র্যানফিল্ড ন্যানোমেমব্রেন টয়লেট। এর ঢাকনা খুললে বা বন্ধ করলে একটা স্ক্রু সরে যায়, যেটা কঠিন থেকে তরলকে আলাদা করে। একটা গ্যাসিফায়ার (অর্গানিক বা ফসিল ফুয়েল ভিত্তিক পদ্ধতি, কার্বোনেশাস বা কয়লাজাতীয় বস্তুকে কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডে পরিণত করে) কঠিন বস্তুকে ছাই এবং টয়লেট চালাতে ব্যবহৃত তাপে পরিণত করে।

“২০১১ তে, আমরা রিইনভ্যান্টেড টয়লেট চ্যালেঞ্জ শুরু করেছিলাম। সেগুলির অনেকগুলিই এখন লাইসেন্স করানোর জন্যে রেডি।” – বিল গেটস

পরবর্তী প্রজন্মের টয়লেটের বড় ব্যাপারটা হচ্ছে অাবর্জনাকে ব্যবহার উপযোগী কোনো কিছুতে পরিণত করা। ইকোস্যান (ইকোলজিকাল স্যানিটেশন) পদ্ধতি পানি পরিষ্কার করে, যেটা হাত ধোয়ার জন্য নিরাপদ। ডিউক ইউনিভার্সিটি নেইবারহুড ট্রিটমেন্ট সিস্টেম দিয়ে তৈরি পানি টয়লেট ফ্লাশ করতে বা সাপ্লিমেন্ট সার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। দি ইউনিভার্সিটি অভ সাউথ ফ্লোরিডার নতুন জেনারেটর তো রান্না বা তাপ প্রয়োগের জন্য মিথেন গ্যাসও সংগ্রহ করে।

এ ধরনের টয়লেটের কাজের আরেকটা পদ্ধতি হচ্ছে আবর্জনা থেকে নিষ্কৃতি পেতে তা পুড়িয়ে ফেলা। জানিকি ফায়ারলাইট টয়লেট প্রস্রাব এবং মল শুকিয়ে ফেলে সেগুলিকে অপচনশীল ছাই এবং পানিতে পরিণত করে।

যেরকমটা ভেবেছেন, এই টয়লেটগুলি বাকিসব সাধারণ টয়লেট থেকে একটু জটিল।

এগুলি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা কম বেশি যে কোনো সাধারণ টয়লেটের মতই। জাদুর বেশিরভাগটাই ঘটে পর্দার পেছনে।

অামি জানি বেশিরভাগ লোক এই টয়লেটগুলি জাদুর কী করছে তা ব্যাখ্যা করবে না, কিন্তু আমার মনে হয় এই ক্ষেত্রে বিষয়টা সত্যি। ভাবুন: গত একশ বছরে টয়লেট তেমন একটা বদলায় নি। ১৮০০’র মাঝামাঝিতে যদি আপনি ফিরে যেতে পারতেন, তাহলে দেখতেন ওই সময়কার ফ্লাশ টয়লেটগুলিও আপনার বাসার এখনকার টয়লেটগুলির মতই। আর যদি এখনও এমন কোথাও বসবাস করে থাকেন যেখানে গর্ত ল্যাট্রিন আছে, টয়লেট সিস্টেমটা তাহলে বলতে হবে আরো বেশি সময় ধরে একই রকম আছে।

বেইজিং-এর প্রদর্শনীতে দেখানো টয়লেটগুলি হয়ত একদিন আমাদের সঙ্গে বহু সময় ধরে বাস করা প্রযুক্তির জাগয়াটা নিয়ে নেবে এবং সেটা লাখো মানুষের জীবন বাঁচাবে।

৫ নভেম্বর ২০১৮

সূত্র. দি গেটস নোটস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here