page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিরোধে কার্বন ইনজিনিয়ারিং—বায়ু থেকে জ্বালানি!

ডেভিড কেইথের কার্বন ইনজিনিয়ারিং কানাডায় শিল্পখাতের কার্বন ডাই অক্সাইড রিসাইকল করার একটি প্ল্যান্ট তৈরি করছেন। তাদের প্ল্যান্টে বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড ই-ডিজেলে রূপান্তরিত হবে। জ্বালানি হিসাবে এই ই-ডিজেল কার্বনমুক্ত। স্টার্ট-আপ কোম্পানি কার্বন ইনজিনিয়ারিং-এর এই উদযোগে বিল গেটস আংশিক অর্থায়ন করছেন। বরফ ঢাকা অঞ্চল বা মরুভূমি এলাকায়, যেখানে গাছ নেই সেসব জায়গায় এই প্ল্যান্ট গাছের মত করে কার্বন ডাই অক্সাইড বিশোধন করবে।

এই পদ্ধতিতে নতুন সোলার সেলগুলি পানিকে ভাগ করে হাইড্রোজেন জ্বালানিতে পরিণত করে। কার্বন রিসাইকল প্ল্যান্ট পানি থেকে পাওয়া হাইড্রোজেনের সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড যোগ করে হাইড্রোকার্বন জ্বালানি তৈরি করে।

carbon-eng-4

ডেভিড কেইথের কার্বন ইনজিনিয়ারিং প্রজেক্ট: বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সংগ্রহ

এ পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য পরিবেশ বান্ধব এবং উৎস শেষ হয়ে গেলেও আবার তৈরি করা যাবে এমন বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করা। কার্বন ইনজিনিয়ারিং-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মার্ক গান্থার বলেন, বিশ বছর পরে সারা পৃথিবীর যানবাহনে কার্বন নিরপেক্ষ জ্বালানি আপনি কীভাবে দিবেন? সৌরশক্তি এবং বাতাসের শক্তির মাধ্যমে কার্বনমুক্তভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে, তাহলে বাকি থাকে যানবাহন খাত।

devid-kith1

কার্বন ইনজিনিয়ারিং-এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ডেভিড কেইথ। বৈশ্বিক উষ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তি বাড়াতে তিনি আমাদের সাহায্য করছেন। বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণে ডেভিড কেইথের কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে একটি প্ল্যান্ট তৈরি করেছে। এ পদ্ধতি যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই তিনি বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানোর ভূ-প্রকৌশলগত পদ্ধতি নিয়েও গবেষণা করছেন। এর একটি হল, বায়ুমণ্ডলের উপরের স্ট্র্যাটস্ফিয়ার স্তরে সালফেট ছড়িয়ে দেওয়া। সালফেটের কারণে সূর্যের আলো পৃথিবী থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে যাবে, ফলে পৃথিবী শীতল থাকবে। তবে এই পদ্ধতির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে অনেকেই ভয় পায়।

গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পেতে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করছে কিছু প্রতিষ্ঠান। কার্বন ইনজিনিয়ারিং তাদের একটি। নিউ ইয়র্কের গ্লোবাল থার্মোস্ট্যাট এবং সুইজারল্যান্ডের ক্লাইমওয়ার্কস-ও এ ধরনের কোম্পানি। বছরের শুরুর দিকে ক্লাইমওয়ার্কস জার্মানির গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘অডি’র সাথে মিলে আরেকটি জার্মান কোম্পানি ‘সানফায়ারকে’ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নিয়ে জ্বালানি তৈরির পদ্ধতি বাতলে দিয়েছিল। সেই পদ্ধতি অনুসারে কার্বন মুক্ত ডিজেল জ্বালানি তৈরি সম্ভব হয়েছিল।

পড়ুন: বাতাস আর পানি থেকে ডিজেল বানাচ্ছে অডি

এবার কার্বন ইনজিনিয়ারিং, গ্লোবাল থার্মোস্ট্যাট ও ক্লাইমওয়ার্কস একসাথে কাজ করছে। এই তিনটি কোম্পানিকে এখন বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে জ্বালানি তৈরির অর্থনৈতিকভাবে সম্ভবপর পদ্ধতি বের করতে হবে। প্রথমেই যে সমস্যাটির মুখোমুখি হতে হবে তাদের সেটি হল, সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করার জন্য কার্বন ডাই অক্সাইডকে ৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপ দেওয়া। এর খরচ অনেক বেশি। আরেক সমস্যা, কিছু বিনিয়োগকারী টাকা দিতে রাজি আছে কিন্তু তাদেরকে আগে দেখাতে হবে এই প্রজেক্ট যথেষ্ট লাভজনক কিনা।

carbon-4

কার্বন ইনজিনিয়ারিং-এর বায়ু আহরন যন্ত্র

গান্থার জানিয়েছেন, যতই পরিবেশ বান্ধব হোক না কেন, কেবল বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড সংগ্রহের জন্য কোনো সরকারী বা বেসরকারী বিনিয়োগকারীই বিনিয়োগে রাজি না। আর যদি কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ই তবে তারা এক্ষুনি বিশ্বের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আনতে পারবে এমন সিস্টেমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। এ কারণেই বিনিয়োগকারীদের লাভজনক কিছু দেখাতে হবে, সেই হচ্ছে জ্বালানি।

কার্বন ইনজিনিয়ারিং-এর পরিকল্পিত এই সিস্টেমটি প্রতি বছর বায়ুমণ্ডল থেকে ৪৫০ টন কার্বন ডাই অক্সাইড আহরণ করতে পারবে, যা কিনা কানাডায় গড়ে ৩৩ জন মানুষের কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ। কিন্তু তারা বলছে এই সিস্টেমকে ২০ হাজার গুণ শক্তিশালী করা সম্ভব, তখন এটি কার্যকর কিছু একটা হবে।


ভিডিও: Carbon Engineering – Industrial-scale capture of CO2 from ambient air

ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে সরাসরি বাতাস আহরণের মাধ্যমে গাড়ি, ট্রাক, প্লেন ইত্যাদির নিঃসরণ করা কার্বন অপসারণ করা যাচ্ছে। এবং এটিই সম্ভাব্য সাশ্রয়ী পদ্ধতি। বর্তমানে ৬০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ করে এইসব যানবাহন। আর এই রিসাইকল সিস্টেমটিতে একই পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড অপসারণ করতে প্রয়োজনীয় গাছের তুলনায় ১ হাজার গুণ কম জায়গার দরকার হবে। যেসব জায়গায় মানুষ বাস করে না এবং যেসব জায়গা কৃষি কাজে ব্যবহৃত হয় না, যেমন মরুভূমিতেও এই সিস্টেম সংস্থাপন করা যাবে।

carbon-e-7

কার্বন ইনজিনিয়ারিং-এর বায়ু আহরণ পদ্ধতি

২০১৫ এর শুরুতে আমেরিকান ফিজিক্যাল সোসাইটির মিটিং-এ আরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর নেগেটিভ কার্বন এমিশনের ক্লস ল্যাকনার বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমরা এমন জায়গায় পৌঁছেছি যে আমাদের প্রধান কাজ হলো সরাসরি বাতাস ধারণ করার ব্যাপারটির উন্নয়ন ঘটানো।

ক্যালিফোর্নিয়ার কার্বন অপসারণ সেন্টারের নোয়া ডেইচের মতে, বিজ্ঞানীরা ব্যাপকভাবে মনে করছেন আবহাওয়ার পরিবর্তন মোকাবিলা করার জন্য আমাদের বড় ধরনের কার্বন অপসারণ সিস্টেম থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমি সরাসরি বাতাস আহরণ করার পদ্ধতিটির ব্যাপারে এক্সাইটেড। এটা আসলেই বিবেচনা করার মত দরকারি একটি প্রযুক্তি হতে পারে।

বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইডকে জ্বালানিতে রূপান্তরিত করার এই প্রক্রিয়াটির পক্ষে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক মডেল হতে হয়ত কিছুটা সময় নিবে। কিন্তু কার্বন ইনজিনিয়ারিং, গ্লোবাল থার্মোস্ট্যাট ও ক্লাইমওয়ার্কস এই তিনটি কোম্পানি থেমে থাকবে না। তারা কী মডেল নিয়ে আসে তা দেখার বিষয়।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক