page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

ভিটামিন পিল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে!

সাধারণ মানুষের কাছে সম্পূরক ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট খুব জনপ্রিয়, কারণ সবাই মনে করে থাকে এতে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।

তবে যথেষ্ট প্রমাণ থেকে দেখা যায় যারা এইসব ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে না তাদের থেকে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীরা স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে কোনোভাবেই এগিয়ে নেই। তাদের নিজেদের সুস্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তাও নেই।

সবচেয়ে উতকণ্ঠার ব্যাপার হলো, কয়েক বছরের গবেষণায় দেখা গেছে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর চেয়ে কিছু কিছু ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট বরং ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষক টিম বায়ার্স বলেছেন, শরীরের একদম মৌলিক অণু পর্যায়ে এটা কেন ঘটে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই, তবে প্রমাণ পাওয়া গেছে যারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সম্পূরক ভিটামিন গ্রহণ করে থাকে তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি।

২০ বছর আগে এই বিষয়ে গবেষণা শুরু হয়। গবেষকরা তখন দেখেন যারা বেশি ফলমূল এবং শাকসব্জি খায় তাদের ক্যান্সার হওয়ার ঘটনা কম। এই ভিটামিন সাপ্লিমেন্টগুলি যেহেতু ফলমূল এবং শাকসব্জির মতই উপকারী ভিটামিন এবং যৌগে পরিপূর্ণ বিজ্ঞানীরা তখন এইগুলি পরীক্ষা করতে শুরু করেন।

মানুষ এবং অন্য প্রাণীর টিস্যু নিয়ে গবেষণা করে প্রাথমিকভাবে যে ফলাফল পাওয়া যায় তাতে মনে হয়েছিল সাপ্লিমেন্টগুলি আসলেই উপকারী। তখন বিজ্ঞানীরা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে জনসংখ্যা ভিত্তিক গবেষণা শুরু করেন। কয়েক হাজার লোক পর্যবেক্ষণ করে এর বিপরীত ঘটনা দেখে বিজ্ঞানীরা অবাক হয়ে যান। এই ভিটামিন সাপ্লিমেন্টগুলি নিশ্চিতভাবেই স্বাস্থ্যগত কোনো উপকার করে না বরং কিছু কিছু সাপ্লিমেন্ট দরকারের চেয়ে বেশি গ্রহণ করার কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

২০০৬ সালের একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। তখনকার গবেষণায় দেখে গেছে ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট স্তন ক্যাসারের ঝুঁকি বাড়ায় ২০ শতাংশ। তাছাড়া যেসকল নারী সম্পূরক হিসেবে বেশি মাত্রায় ফলিক এসিড গ্রহণ করেন তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি যারা কম গ্রহণ করেন তাদের চেয়ে শতকরা ৩২ ভাগ বেশি। ফলিক এসিডের ঘটনা এখানেই শেষ নয়, এটি কোলনে পলিপস নামের একধরনের উপাদানের বৃদ্ধি ঘটায়। যদিও এগুলির বেশিরভাগই ক্ষতিকর নয় তবে এদের কিছু কিছু ক্যান্সার তৈরি করতে পারে।

পুরুষদের উপর অনেকগুলি গবেষণায় দেখা গেছে ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সাথে সম্পর্কিত। এমনকি এটি প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিও দ্বিগুণ করে দিতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে যারা মাল্টিভিটামিন গ্রহণ করেন তাদের ব্রেস্ট টিউমারের ঝুঁকি যারা গ্রহণ করেন না তাদের চেয়ে শতকরা ২০ ভাগ বেশি।

বায়ার্স বলেন, এর মানে এই নয় যে ভিটামিন এবং মিনারেল গ্রহণ করার ব্যাপারে মানুষের আতঙ্কিত হওয়া উচিৎ। সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করলে মাল্টিভিটামিন আপনার জন্যে উপকারী হতে পারে।

তবে আসল কথা হলো, বেশিরভাগ মানুষেরই উচিৎ স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার মাধ্যমে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেল গ্রহণ করা। সে কারণেই জনপ্রিয় ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট পিল গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই বেশিরভাগ মানুষেরই। এতে অবশ্য টাকার অপচয়ও কম হবে।

বায়ার্স বলেন, সবশেষে বলব, আমরা গবেষণায় পেয়েছি অতিরিক্ত ভিটামিন এবং মিনারেল উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক