ফিরে এসে ফ্লেমিং দেখলেন, সেই পাত্র জুড়ে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়েছে, তবে শুধু একটা জায়গায়ই ছড়ায় নি।

পেনসিলিন ও অ্যানেস্থেশিয়া থেকে শুরু করে স্যাকারিন ও সিলি পুটি, গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কারগুলির ক্ষেত্রে নিয়তির খুব বড় একটা ভূমিকা ছিল । সেই আবিষ্কারগুলি কীভাবে ঘটেছিল সেটাই এখানে বলা হয়েছে:

 

পেনিসিলিন

আবিষ্কারক: আলেক্সান্ডার ফ্লেমিং

সাল: ১৯২৮

যা ঘটেছিল: ব্যাকটেরিয়া নিয়ে একটা গবেষণা করছিলেন ফ্লেমিং। মাঝপথে তিনি গবেষণা থামিয়ে রেখে কিছুদিনের জন্য ছুটিতে গেলেন। আলেক্সান্ডার ফ্লেমিং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে খুব একটা সচেতন ছিলেন না, ল্যাবরেটরির সিংকে গবেষণা পাত্রটি নোংরা অবস্থায়ই ফেলে রেখে গিয়েছিলেন।

আবিষ্কার: ফিরে এসে ফ্লেমিং দেখলেন, সেই পাত্র জুড়ে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়েছে, তবে শুধু একটা জায়গায়ই ছড়ায় নি। পাত্রের যেই জায়গাটায় ছত্রাক গজিয়েছে ঠিক সেই জায়গাটায়।

ফলাফল: এই আবিষ্কারের ফলে দুটি জিনিস পাওয়া গেল। ১. পেনিসিলিন। ২. মিসেস ফ্লেমিং একজন কাজের লোক ঠিক করলেন।

 

অ্যানেস্থেশিয়া

আবিষ্কারক: হোরেস ওয়েলস

সাল: ১৮৪৪

যা ঘটেছিল: শুরুর দিকে নাইট্রাস অক্সাইডের তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার ছিল না। মানুষকে হাসাতে পারত বলে অনেকটা খেলনার মত ব্যবহার হত এই নাইট্রাস অক্সাইড। একবার এক ডেন্টিস্টের বন্ধু একটা স্টেজ শো-তে লাফিং গ্যাস হিসাবে অতিরিক্ত নাইট্রাস অক্সাইড নিয়ে ফেলেছিল এবং এতে তার পা অবশ হয়ে যায়।

আবিষ্কার: সেই বন্ধুটি বুঝতে পারে নি এতে তার ক্ষতি হতে পারে।

ফলাফল: অ্যানেস্থেশিয়ার প্রাথমিক রূপ হিসাবে নাইট্রাস অক্সাইডের ব্যবহার শুরু হয়।

 

স্যাকারিন

আবিষ্কারক: কনস্টানটিন ফাহলবার্গ ও ইরা রেমসেন

সাল: ১৮৭৯

যা ঘটেছিল : কয়লার আলকাতরা নিয়ে সারাদিন ধরে কাজ করছিলেন ফাহলবার্গ। তারপরে জন হপকিন্স ল্যাবরেটরি সেই অবস্থায়ই রেখে ডিনারে গিয়েছিলেন তিনি।

আবিষ্কার: খেতে বসে কিছু একটা খাওয়ার সময় তার কাছে জিনিসটা মিষ্টি লাগছিল। তিনি অবাক হয়ে বুঝতে পারেন তার হাতে কিছু একটা রাসায়নিক দ্রব্য লেগে থাকার কারণে এমনটা হয়েছে। পরে দেখা গেল এই রাসায়নিক উপাদানটি খেতে মিষ্টি হলেও একদম ক্যালরি ফ্রি।

ফলাফল: পরে রেমসেন ও বিশ্ববিদ্যালয়কে বাদ দিয়ে ফাহলবার্গ কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই আবিষ্কারটি গোপনে নিজের নামে পেটেন্ট করিয়েছিলেন।

 

মাইক্রোওয়েভ

আবিষ্কারক: পার্সি স্পেনসার

সাল: ১৯৪৬

যা ঘটেছিল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে, রেথিওন ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানিটি ম্যাগনেট্রন আরো কীভাবে ব্যবহার করা যায় সেটা খুঁজে দেখছিল। ম্যাগনেট্রন তখন ইতিমধ্যে রাডারের জন্য মাইক্রোওয়েভ তৈরি করতে পারত। স্পেনসার তখন ম্যাগনেট্রনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তার পকেটে ছিল একটা চকলেট বার। সেটা গলে গিয়েছিল।

আবিষ্কার: পরে দেখা যায় পপকর্নের ক্ষেত্রে ম্যাগনেট্রন আরো ভাল কাজ করে।

ফলাফল: অরভিল রেডেনবেচার (আমেরিকার পপকর্ন কোম্পানির মালিক) বিরাট ধনী হয়ে গিয়েছিল।

 

ভায়াগ্রা

আবিষ্কারক: পফিজার ঔষুধ কোম্পানির বিজ্ঞানীরা

সাল: ১৯৯২

যা ঘটেছিল: গলার সমস্যার জন্য কয়েকজনের উপর একটা বড়ির পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাতে আক্রান্ত ব্যক্তির তেমন কোনো কাজ হয় নি।

আবিষ্কার: তবে কাজ না হলেও যাদের উপর পরীক্ষা চালানো হয়েছিল তারা আর ওষুধটি বাদ দিতে চায় নি।

ফলাফল: পরে বিজ্ঞানীরা নিজেদের রাস্তা বদলে এই ওষুধটারই মার্কেটিং করা শুরু করেন। সম্পূর্ণ অন্য একটা উদ্দেশ্যে। সেটাই ভায়াগ্রা।

 

চুইং গাম

আবিষ্কারক: থমাস অ্যাডামস

সাল: ১৮৭০

যা ঘটেছিল: থমাস অ্যাডামস চিকলে (রাবারের বিকল্প প্রাকৃতিক আঠা, দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপন্ন হয়) নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। বার বার ব্যর্থ হওয়ার পরে হতাশ হয়ে অ্যাডামস একটা খণ্ড নিজের মুখে দিয়েছিলেন।

আবিষ্কার: তিনি জিনিসটা খুব পছন্দ করলেন।

ফলাফল: অ্যাডামস নিউ ইয়র্ক নাম্বার ওয়ান হয়ে গেল পৃথিবীর সর্বপ্রথম বাণিজ্যিকভাবে তৈরি চুইংগাম।

 

সিলি পুটি

আবিষ্কারক: জেমস রাইট

সাল: ১৯৪৩

যা ঘটেছিল: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জেনারেল ইলেক্ট্রিক কোম্পানির এক ইঞ্জিনিয়ার ট্যাংক, বুট ইত্যাদিতে ব্যবহৃত রাবারের বিকল্প কিছু তৈরির জন্য সিলিকন অয়েলের সাথে বরিক এসিডের মিশ্রণ ঘটিয়েছিল।

আবিষ্কার: তাতে কাজ হয় নি। কিন্তু পরে কমিক ক্যারেক্টারগুলিকে কাগজে রূপান্তরিত করার বড় একটা উপায় পাওয়া গেছে।

ফলাফল: শিশুদের খেলনা হিসাবে সিলি পুটির জনপ্রিয়তা।

 

বোটক্স

আবিষ্কারক: অ্যালেস্টেয়ার ও জ্য কারুথার্স

সাল: ১৯৮৭

যা ঘটেছিল: চোখের অসুখের জন্য অ্যালেস্টার ও কারুথার্স দম্পতি একটি মারাত্মক বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান অল্প মাত্রায় ব্যবহার করছিলেন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে তারা খুব মজার একটি জিনিস লক্ষ্য করলেন কয়দিন পরে।

আবিষ্কার: চোখের পাতার বলিরেখা একদম দূর হয়ে গেল।

ফলাফল: বোটক্সের কারণে অভিব্যক্তিহীন চেহারায় সৌন্দর্য ফিরে আসল।

 

ব্র্যান্ডি

আবিষ্কারক: একজন ডাচ নাবিক

সাল: ষোড়শ শতাব্দীতে

যা ঘটেছিল: পরিবহন করা যাতে সহজ হয় সেজন্য তিনি মদকে তাপ দিয়ে ঘন করছিলেন। তার বুদ্ধি ছিল, যখন তিনি গন্তব্যে পৌঁছাবেন তখন আবার এর সাথে পানি মিশিয়ে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবেন।

আবিষ্কার: দেখা গেল ঘনীভূত মদ পানিতে দ্রবণীয় মদের চাইতে উৎকৃষ্ট।

ফলাফল: ‘বার্ন্ট ওয়াইন’ বা ডাচ ভাষায় ‘ব্র্যান্ডেউইন’ জিনিসটা বিরাট হিট হয়ে গেল। সেই জিনিসটার নামই বিবর্তিত হয়ে পরবর্তীতে ব্র্যান্ডিতে পরিণত হয়েছে।

 

ফিরোজা রঙ

আবিষ্কারক: উইলিয়াম পারকিন

সাল: ১৮৫৬

যা ঘটেছিল: পারকিন চেষ্টা করেছিলেন তখনকার পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক রোগের অন্যতম একটি রোগ, ম্যালেরিয়ার একটা কার্যকরী চিকিৎসা আবিষ্কার করার।

আবিষ্কার: পারকিন তার ল্যাবরেটরীতে ম্যারেলিয়ার প্রতিষেধক কুইনাইনের অনুরূপ কিছু একটা তৈরি করার চেষ্টা করছিলেন। তখন তিনি অনেকটা অসাবধানবশত ফিরোজা রঙ আবিষ্কার করে ফেলেন।

ফলাফল: পরবর্তীতে পারকিন ম্যালেরিয়া ভুলে কৃত্রিম রঙের ইন্ড্রাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করেন।