মাইকেল জ্যাকসনের গালে চড় বসিয়ে দিলেন বৃদ্ধা!

১৯৭৯ সালের ঘটনা। মাইকেল জ্যাকসনের তখন ২১ বছর বয়স। বন্ধু ডেভিড গেস্ট তার সঙ্গে। বেশ রাত হয়েছে। ১টা বাজে। প্যানকেক খাওয়ার জন্য বের হয়েছেন তারা।

তারা সাধারণত ভেঞ্চুরা বুলেভার্দের ডুপারসে খেত যেতেন। সেদিন বেশি রাত হয়ে যাওয়ায় ডুপার’স তখন বন্ধ। তাই ভেঞ্চুরা বুলেভার্দেই আর একটা খাবারের দোকানে গেলেন তারা। অনেক রাত। কয়েকটা মাত্র লোক দোকানে। খাবার সার্ভ করছিলেন সত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধা।

এর কিছুদিন আগে মাত্র মাইকেলের ‘অব দ্য ওয়াল’ অ্যালবাম বের হয়েছে। মাইকেল তখনই বিশ্বের এক নাম্বার শিল্পী। কিন্তু ওয়েট্রেস মহিলা গায়ক মাইকেল জ্যাকসনকে একদমই চিনেন না। উনি জ্যাকসনদের টেবিলে এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কী খেতে চাও। ডেভিড গেস্ট মহিলার সাথে মজা করার জন্য আরবি উচ্চারণে বললেন—‘ইয়ামাকা ফালেশ’।

গেস্টের বলার ভঙ্গি দেখে মাইকেল হাসতে লাগলেন। তা দেখে সেই মহিলা হাতের উলটা পিঠ দিয়ে মাইকেল জ্যাকসনের গালে একটা চড় বসিয়ে দিলেন। বললেন, এটা কি হাসির ব্যাপার নাকি! তোমার বন্ধু বিদেশ থেকে এসেছে, বিদেশ থেকে আসা লোকদের সম্মান করতে শেখো।

এই ধরনের আচরণ মাইকেলের কাছে একদমই প্রত্যাশিত ছিল না। তিনি বেশ নার্ভাস হয়ে গেলেন। মহিলার উল্টা চড় থেকে বাঁচতে মাইকেল টেবিলের নিচে লুকালেন। গেস্ট তখন উপর থেকে জানতে চাইলেন, মাইকেল, প্যানকেক জিনিসটা আসলে কী? আমাকে বুঝিয়ে বলো প্লিজ।

বৃদ্ধা মুখ বাঁকিয়ে বললেন, প্যানকেক চেনো না? প্যানকেক হলো ভেঙে যাওয়া বা গুঁড়া হয়ে যাওয়া কেকের মত একটা জিনিস।

মহিলার বলার ভঙ্গিতে মাইকেল আবার হেসে উঠলেন। সেই মহিলা আবার চড় মারতে হাত ওঠান, মাইকেল নিজেকে যতটা পারেন সরিয়ে নেন।

প্যানকেকে সিরাপ

এরপর বৃদ্ধা মাইকেল আর গেস্টকে রেস্টুরেন্টের ভেতরের দিকটায় নিয়ে গেলেন। রান্নার জায়গায় নিয়ে সে রেস্টুরেন্টের কুক আর বৃদ্ধা তাদের দুজনকে সংক্ষেপে প্যানকেক বানানো শিখিয়ে দিলেন। দুজন তখন অনেকগুলি প্যানকেকের অর্ডার দিয়ে টেবিলে বসলেন। যথা সময়ে প্যানকেক সার্ভ হলো। গেস্ট প্যানকেকে ঢালার জন্যে দেয়া সিরাপের বোতলের সবটা সিরাপ একবারে কেকের উপর ঢালতে লাগলেন। তা দেখে বৃদ্ধা এবার গেস্টের মুখে চড় বসালেন। গেস্টকে চড় খেতে দেখে মাইকেল আবার হাসতে লাগলেন। বৃদ্ধা বললেন, এটা হাসির ব্যাপার না।

আবার নতুন করে প্যানকেক নিয়ে আসা হলো তাদের জন্যে। খেয়ে বের হওয়ার সময় মাইকেল বৃদ্ধাকে টিপস দিলেন ২০০ ডলার।

পার্কিং লটে মাইকেলের রোলস রয়েস পার্ক করা ছিল। দুজন বের হয়ে গাড়ির দিকে যখন আগাচ্ছিলেন তারা দেখলেন, মহিলা দৌড়ে তাদের দিকে আসছেন। বৃদ্ধা বললেন, আমি তোমাদের এই টিপসের টাকা রাখতে পারব না। কলেজে লেখাপড়া চালাতে নিশ্চয়ই অনেক কিছু করা লাগে তোমাদের, এই টাকা রাখো, পরে কাজে লাগবে।

পার্ক করা রোলস রয়েস দেখেও বৃদ্ধা ভাবতে পারছিলেন না মাইকেল তাকে এ পরিমান টিপস দিতে পারে। যাই হোক, মাইকেল মহিলাকে অনেক অনুরোধ করছিলেন টাকাটা রাখার জন্যে। কিন্তু বৃদ্ধার ওই একই কথা—এই টাকা আমি নেব না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here