page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

মাথার উপর বাজি পোড়াতে গিয়ে মৃত্যু—আতশবাজির কঠোর আইন চান নিহতের মা

এ বছর ৪ জুলাই, আমেরিকার ইনডিপেনডেন্স ডেতে মৃত্যু হয় ডেভন স্টেপলসের। তিনি তার মাথার উপর একটি আতশবাজি জ্বালানোর সময় মারা যান।

২০১২ সালে আমেরিকার উত্তর-পূর্বের অঙ্গরাজ্য ‘মেইন’-এ আতশবাজি বৈধ করে দেওয়া হয়। আতশবাজি বৈধ করে দেয়ার পর মেইন-এ স্টেপলসই প্রথম এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হলেন। অনেকেই এই মৃত্যুকে স্রেফ দুর্ভাগ্য মনে করলেও স্টেপলসের মা ক্যাথলিন স্টেপলস তা মনে করছেন না। তিনি মনে করেন আতশবাজি কারা কীভাবে জ্বালাতে পারবে বা পারবে না সে বিষয়ে কঠোর আইন না থাকার কারণেই তার ছেলের মৃত্যু ঘটেছে।

স্টেপলসের শোকার্ত মা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, “এটা আরো বড় কিছু। এটা একটা বিস্ফোরক। তারা আমাকে একটা লাইসেন্স ধরিয়ে দিয়ে গাড়িতে বসিয়ে দিতে পারে না।”

devon-staple3

ছবি আঁকছেন ডেভন স্টেপলস

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, স্টেপলস শনিবারের সে রাতে মেইনের ‘ক্যালাইস’-এ তার এক বন্ধুর বাড়িতে অন্যদের সঙ্গে মদ খাচ্ছিলেন। তারা এক সময় বাড়ির পিছনে জড়ো হন আতশবাজি জ্বালানোর জন্যে। একটি রিলোডেবল মর্টার টিউব স্টেপলসের মাথার ওপর বিস্ফোরিত হলে তিনি মারা যান। স্টেপলসের বন্ধুরা ও তার বড় ভাই কোডি স্টেপলস জানান, তারা স্টেপলসকে এমনটি করতে নিষেধ করছিলেন কিন্তু স্টেপলসের দুর্ভাগ্য তাকে এই পথে নিয়ে যায়।

এখন স্টেপলসের মা চাচ্ছেন এসব আতশবাজি জ্বালাবার জন্যে সেফটি ট্রেনিং কোর্সের ব্যবস্থা করা হোক। যদিও তিনি বলছেন তার ছেলে স্টেপলস মনে করত আতশবাজি একটা তুচ্ছ ব্যাপার তবু স্টেট ফায়ার মার্শাল জো থমাস এ কথা মানতে নারাজ। তিনি ভাবতেই পারেন না কেউ আতশবাজিকে তুচ্ছ কিছু মনে করতে পারে।

নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোডি স্টেপলস জানান, স্টেপলসকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্যে কোনো ব্যবস্থাই করা হয়নি। আমি যখন সেখানে পৌঁছেছিলাম তখন সেখানে ডেভন ছিল না। এটা একটা ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা… কিন্তু ডেভন অতটা বোকাও ছিল না যে সে এমন একটা কাজ করবে। সে আসলে বোকামির ভান করে মানুষজনকে হাসানোর চেষ্টা করতো।

reloadable-mortar-tube

রিলোডেবল মর্টার টিউব, মেইনের দোকানগুলিতে সহজলভ্য

ইন্ডেপেন্ডেন্স ডে’র আতশবাজির সময়ে মাথা বিচ্ছিন্ন হওয়া, অঙ্গহানি ঘটার মত ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। বিশেষ করে যাদের সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কেউ থাকে না তারা নানা ধরনের দুঘর্টনার শিকার হন।

উল্লেখ্য বাজি পোড়ানোর ঘটনায় আমেরিকায় বছরে গড়ে ৪ জনের মৃত্যু ঘটে, মারাত্মক আহত হওয়ার ঘটনা ৯,৩০০। প্রতি বছর এক চোখ বা দুই চোখ হারানোর ঘটনা গড়ে ৪০০টি। পরিসংখ্যান স্ট্যাটিসটিকস ব্রেইন-এর।

About Author

নাদিয়া নাহরিন রহমান
নাদিয়া নাহরিন রহমান

শিক্ষার্থী: গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়