page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

মানুষ কেন বুড়া হয়

অকালে বয়স বেড়ে যাওয়ার অসুখ ‘ওয়ার্নার সিনড্রম’-এর গবেষণা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা আবিষ্কার করেছেন, মানুষের সাধারণ বার্ধক্যের মূল কারণ শিথিল ও অগোছালো কিছু ডিএনএ সমষ্টি।

গবেষণার ফলাফল এ বছর (২০১৫) এপ্রিলে সায়েন্স ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে।

ওয়ার্নার সিনড্রমে (যা অ্যাডাল্ট প্রগেরিয়া নামেও পরিচিত) আক্রান্ত ব্যক্তি অল্প বয়সেই বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত সমস্যা, যেমন চোখে ছানি পড়া ও চুল পাকা থেকে শুরু করে অস্টিওপরোসিস, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, অথেরোস্ক্লেরোসিস এমনকি ক্যান্সারের মত রোগে আক্রান্ত হয়।

ওয়ার্নার সিনড্রমে আক্রান্তের অধিকাংশই ৫০ বছর বয়সের আশেপাশে মারা যান। WRN জিনের মিউটেশন এবং WRN প্রোটিনের অভাবের কারণেই এই রোগ হয়ে থাকে। এর আগের গবেষণায় জানা গেছে, এই প্রোটিন ডিএনএ’র গঠন ঠিক রাখে এবং ডিএনএকে মজবুত রাখে। অথচ ঠিক কীভাবে এই প্রোটিনের রূপান্তর ঘটে আর কেনই বা শরীরের কোষে মারাত্মক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের এখনও স্পষ্ট ধারণা নেই।

ওয়ার্নার সিনড্রমের একটি সেলুলার মডেল তৈরি করতে গিয়ে চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেস এর ওয়েকি ঝ্যাং এবং তার সহকর্মীরা মানুষের প্রাথমিক স্টেম কোষ থেকে WRN জিনের একটি অংশ ভেঙে ফেলে। পরিণত অবস্থায় WRN ছাড়া ওই কোষগুলি ওয়ার্নার সিনড্রমে আক্রান্ত ব্যক্তির জেনেটিক মিউটেশন ঘটা কোষগুলির মত আচরণ করে আর অকালে বয়স বেড়ে যাওয়ার লক্ষণগুলি দেখাতে থাকে। কোষগুলির বিভাজনের ক্ষমতা হ্রাস পায়, টেলোমেয়ারগুলি (ক্রোমোজম প্রান্তের আবরণী) খাটো হয়ে যেতে থাকে এবং রিপোর্ট অনুসারে বিশেষ করে হেট্রোক্রোমাটিন (সেলের কেন্দ্রে আঁটসাঁটভাবে পুঞ্জীভূত ডিএনএ) বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। এই ব্যাপারটি একইভাবে ঘটে যখন কোনো কোষ স্বাভাবিকভাবেই বুড়িয়ে যায়।

গবেষকদের মতে, NRW প্রোটিন হেট্রোক্রোমাটিন স্থিতিশীল রেখে সেলগুলিকে বয়স বেড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ সমষ্টি সুইচবোর্ডের মত জিনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিভিন্ন আণবিক উপাদান পরিচালনা করে। অন্যদিকে WRN জিনের অনুপস্থিতি কোষের হেট্রোক্রোমাটিনের কাঠামো বদলে দিয়ে কোষের বয়স দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।

জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত কোষ

ছবিতে দেখা যাচ্ছে মানব দেহের সাধারণ কোষ (বামে) এবং ওয়ের্নার সিনড্রোম ঘটানোর জন্য সল্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের জেনেটিক্যালি পরিবর্তন করা কোষ (ডানে)। জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত কোষ আকারে বড় এবং তাতে বার্ধক্যের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।

এই পরিবর্তনটাই মানুষের স্বাভাবিক বার্ধক্যের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

আর সুন্দরভাবে গোছানো এই ডিএনএগুলি কীভাবে নষ্ট হয় তা বুঝতে পারলেই ওয়ার্নার সিনড্রম, এমনকি বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগ প্রতিরোধ করা বা এর চিকিৎসা করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

গবেষণা প্রতিবেদনের লেখক সল্ক ইনস্টিটিউটের হুয়ান কার্লোস ইস্পিসুয়া বেলমণ্ট একটি সংবাদ বিবৃতিতে বলেন, “আমরা গবেষণায় আণবিক গতিবিধি, যার ফলে কোনো জেনেটিক মিউটেশন কোষের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নষ্ট করে তা বিশ্লেষণ করে ওয়ার্নার সিনড্রম আর হেট্রোক্রোমাটিনের বিশৃঙ্খলার যোগসূত্র পেয়েছি। আরও বিশদভাবে বলতে গেলে, হেট্রোক্রোমাটিনের গঠনে ব্যাপক পরিবর্তন কোষের বার্ধক্যের প্রধান অন্তর্নিহিত কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা যায়। তাতে করে প্রশ্ন চলে আসে, বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা ও রোগব্যাধি প্রতিরোধ বা পুরনো গাড়ি-বাড়ি পুনরায় নির্মাণ করার মত বয়স পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা কি এই পরিবর্তন থেকে পুনরুজ্জীবিত হতে পারব।”

About Author

শামিমুর রহমান
শামিমুর রহমান

আইটি প্রফেশনাল । উত্তরা, ঢাকা। জন্ম. রাজশাহী ১৯৮১। স্থায়ী ঠিকানা: কানাইখালি, নাটোর।