page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

মার্টিন স্করসেসির উচ্ছ্বাস নিয়ে রবার্ট ডি নিরোর হাসি

১.
১৯৭১ সালে কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে অস্ট্রেলিয়ান পরিচালক টেড কোশেফের ‘ওয়েক ইন ফ্রাইট’ ছবির প্রিমিয়ার হচ্ছিল।

নির্দিষ্ট দিনে বিকাল চারটায় প্রিমিয়ারে ছবি শুরু হয়েছে। টেড কোশেফ সেখানে উপস্থিত। শুনতে পেলেন পিছনে একটি আমেরিকান কন্ঠ—বাহ! বাহ! এই ডিরেক্টর ছেলেটি যা করেছে… সাঙ্ঘাতিক!

‘ওয়েক ইন ফ্রাইট’ ছবিতে অভিনেতা ডোনাল্ড প্লেস্যান্সের একটা দৃশ্য ছিল যেখানে সমকামী এক লোক আরেক লোককে ধর্ষণ করে। সেই দৃশ্য যখন এল তখন টেড কোশেফ শুনতে পেলেন পিছনের সেই আমেরিকান কণ্ঠটি বলছে, ওহ মাই গড! এই পরিচালক তো অনেকদূর যাবে, সে নিশ্চিত অনেকদূর যাচ্ছে! ওহ মাই গড! সে অনেকদূর চলে গেছে!

টেড কোশেফ পিছন থেকে আসা কণ্ঠস্বরটি শুনতে শুনতে ভাবছিলেন, এই লোকটা কে?

wake-in-frieit-1

‘ওয়েক ইন ফ্রাইট’ ছবির দৃশ্য

২.
ছবি শেষ হওয়ার পরে হলে আলো জ্বলে উঠল। কণ্ঠস্বরটির মালিক কে তা দেখার জন্য টেড কোশেফ পিছনে তাকিয়ে দেখলেন ২৫ বছর বয়সের এক আমেরিকান তরুণ।

টেড কোশেফ বাইরের ব্যালকনিতে এলেন। সেখানে সেই তরুণটিকেও দেখলেন। তিনি চিন্তা করলেন, নিশ্চয়ই এ সিনেমার সাথে জড়িত কেউ, কারণ ব্যালকনিতে শুধু সিনেমার লেখক, প্রযোজক আর পরিচালকদেরই থাকার কথা।

anecdot-logo

দূর থেকে তরুণটিকে দেখিয়ে  টেড ‘ইউনিভার্সাল আর্টিস্টস’-এর লোকজনকে জিজ্ঞেস করলেন, আমার পিছনে উনি বসেছিলেন, উনি কে? আপনারা চিনেন ওনাকে?

তারা তাচ্ছিল্যের সাথে উত্তর দিল, চিনি আর কি, তেমন কেউ না। একটাই ছবি বানিয়েছে—ফ্লপ। তারা একটু অবাক হয়ে বলল, এখানে সে কী করছে!

টেড বললেন, সেটা আমার বিষয় না, আমার দরকার এর নাম জানা ।

একজন বলল, তার নাম মার্টিন স্করসেসি।

টেড বললেন, ঠিকই বলেছেন, ওনার নাম তো কখনো শুনি নি।

martin-scorcess-1971

১৯৭১ এর মার্টিন স্করসেসি

৩.
মার্টিন স্করসেসি এখন বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত পরিচালকদের একজন। হলিউডের অন্যতম প্রধান চলচ্চিত্র নির্মাতা তিনি। ট্যাক্সি ড্রাইভার, গুডফেলাস, গ্যাংস অব নিউ ইয়র্ক, শাটার আইল্যান্ড সহ  আরো অনেক বিখ্যাত সিনেমার পরিচালক মার্টিন স্করসেসি।

ted-kosef

টেড কোশেফ (জন্ম. টরন্টো, কানাডা ১৯৩১)

এ ঘটনার বহু বহু দিন পরে ২০১০-১১ সালের দিকে ১৯৭১ এর সেই ২৫ বছরের তরুণ মার্টিন স্করসেসি টেড কোশেফের ‘ওয়েক ইন ফ্রাইট’ ছবিটি সবাইকে দেখতে বলেন এবং এটাকে কানের একটা ক্লাসিক ছবি হিসাবে ঘোষণা দেন। এই সময় স্করসিস কানের ক্লাসিক কমিটির প্রধান ছিলেন।

২০১৩ সালে নিউ ইয়র্কে এই ছবির প্রদর্শনীর সময় মার্টিন স্করসেসি আবারো ছবিটার প্রশংসা করেন। স্করসিস বলেন, আমি এই ছবি প্রথম দেখে নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম।

১৯৭১ সালে সেই প্রিমিয়ারের ঘটনার পরে মার্টিন স্করসেসির সাথে টেড কোশেফের অনেকদিন পর্যন্ত আর দেখা হয়নি। একজন আরেকজনকে মেইল করেছেন, তবে দেখা হয় নি। অনেক বছর পরে একটি অস্কার পার্টিতে স্করসিসকে দেখে টেড কোশেফ এগিয়ে যান, স্করসিস তখন অভিনেতা রবার্ট ডি নিরোর সঙ্গে ছিলেন।

গডফাদার, গুডফেলাস, রেজিং বুল সহ আরো অনেক ছবির জন্য বিখ্যাত অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো এবং পরিচালক মার্টিন স্করসেসি দীর্ঘদিনের বন্ধু। স্করসেসির অনেক বিখ্যাত ছবির প্রধান অভিনেতাও রবার্ট ডি নিরো। দুজনই প্রায় একই সময় ক্যারিয়ার শুরু করেছেন এবং দুজনের উত্থানও একই সাথে।

martin-niro

১৯৭৬: রবার্ট ডি নিরো ও মার্টিন স্করসেসি

টেড কোশেফ স্করসেসির কাছে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন, স্করসিস তখন বলেন, আপনার ছবিটা একটা মাস্টারপিস। টেড কোশেফ তখন ডি নিরোকে ১৯৭১ সালের প্রিমিয়ারে স্করসেসির সেই ঘটনা বলেন, পুরো সিনেমা জুড়ে স্করসেসির সেই উচ্ছ্বাসের কথা।

ডি নিরো হাসতে হাসতে বললেন, টেড, সবার ফিল্ম নিয়েই সে এই কাজ করে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক