page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

মুম্বাইয়ের ‘স্মৃতি’ (৩)

(আগের কিস্তি)

৭.
দুইন্যার প্রতি যখন বিতৃষ্ণা তখন লেখার একটা টেক্সট আইল। ইংলিশে দুইন্যার রুলস, আদেশ-উপদেশ, সিস্টেম ট্রান্সলেশনসহ। মুম্বাই হোটেলে এখনই যাতে ফোন করি। ফোন করে কী কইতে হইব সেটা ইংলিশে আর হিন্দিতে লেইখা দিল ডায়ালগ আকারে।

আমি আমার মত এক জায়গায় ফোন দিয়া তার লেখা হিন্দিতে হোটেল বুক দিলাম দুইদিন পর। যাহ, আর বিপদে পড়ুম না। পুরাই ব্ল্যাঙ্ক হয়া গেছিলাম।

একটু ঝাল একটু জিদ, হালকা গরম ঝাপসা রহস্য লইয়া ওই মুহূর্তেই হাওড়া স্টেশান চইলা যামু ঠিক করলাম। পার্ক স্ট্রিট থেইকা টানা রিকশা নিলাম। শালা আইনা বাসের ঘিঞ্জি একটা রাস্তায় নামায় দিল যেখানে হুশ হুশ করে বাস চলে। সে কইল, দাদা ইধারি হাওড়াওয়ালা বাস হ্যায়। ইক বাস পাকড়াও অর হাওড়া চালে যাও!

ট্রাম চাইছিলাম। না পেয়ে একটা বাসেই উঠলাম। সেই বাস এমন হুশ হুশ করে চলা শুরু করল যে এ ওর গায়ে সে তার গায়ে পড়ে। ধরার ভাল ব্যবস্থা নাই। তাতে ড্রাইভারের কী? ড্রাইভার তার মত ড্রাইভ করে বাঁক নিয়ে কাটিয়ে চইলা যাইতেছে। ভিতরের যাত্রীরা ধাক্কা খেয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে নিজেরা নিজেদের মত করে পজিশন ঠিক করে নিচ্ছে বা অটোতে জায়গামত ফিট খেয়ে যাচ্ছে।

bhromon-logo

এত কাহিনী বলার কারণ এইটা নিত্য স্বাভাবিক নাকি দেখার অপেক্ষা করতেছিলাম। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় নাই। বেপরোয়া চলা পাশাপাশি দুইটা বাসের ড্রাইভারের মধ্যে সেই লাগা লাগল। একটা আরেকটারে মাইরা ঘেইষা টাইনা নিয়া যায়। ভাঙচুর অবস্থা!

আমার মেজাজ-মুজাজও বিলা আছিল। খুশি হইয়া চীৎকার দিলাম, “লাজ্ঞা!”

বাসের অন্য যাত্রীরা সবাই হৈ হৈ করে উঠল। আমি জানালার ফুটা দিয়া দেখলাম ওই বাসের এক মেয়ে চীৎকার করে বলতেছে, “আমার ভয় লাগজে, দোহাই লাগে বন্ধ করুন এই মারামারি।”

তাতে কিছুটা কাম হইল। দুই বাসের যাত্রী লইয়া ধাক্কাধাক্কি বন্ধ হইল। অথবা একটা বাস আগায়া গেল।

যা ভাবতেছিলাম, খেলা শেষ হয় নাই। কোইত্থেইকা আবার আমাদের বাস ছুট্টে গিয়া তাদের বাসরে দিল ধামাকা ধাক্কা। আমি নিরাপদ দূরত্বে জানলা দিয়া আবার ফ্রেম ধরলাম। ওই মাইয়ারে দেখি, মাইয়া চীৎকার করে কানতেছে—“আমাকে নামিয়ে দিন, আমাকে নামিয়ে দিন!”

mumbai-3-b

বড় কিছু ঘটে নাই, আমি জায়গামত আইসা নাইমা গেলাম। পরে লেখারে এটা কইলে সে সোনালি চোখ মেলে দিয়া ‘হা হা’ কইরা উঠছিল। কয়, বাসে উঠতে গেছিলা কেন?

আমি কই, নাইলে কীয়ের অ্যাডভেন্চার! উঠছি বলেই তো এমন ঘটনা দেখছি।

সে—এটা দেখার মত কিছু। বড় কিছু ঘটতে পারত।

৮.
বিখ্যাত হাওড়া স্টেশান পৌঁছায়া গেলাম। তারপর? লোকজনের সে কী হুড়াহুড়ি। দেখলেই আতঙ্ক আর অস্থির লাগে। সবাই ছুটতাছে। আমার ট্রেন ছাড়তে দেরি আছে।

আইসা পয়লা আরামসে খাড়াইলাম। মাথায় খালি, আগে ফোনে চার্জ দিতে হইব। তারপর খাইতে হইবেক। এরপর লেখা কী কী কিনতে বলছে, করতে বলছে চেক করে সেগুলা করতে হবে। শিকল, ব্রাশ, সাবান, মগ কী কী কইছিল কিনতে হইব।

স্টেশানে ঘুরাহুরি করতেছিল—পাইলাম মহিলা পুলিশরে। ভিতরে লাইন ধরে অনেকগুলা চার্জের পয়েন্ট আছে কইল।

কোন যে ভিতরে? আহা ভিতরে! ভিতরে ঢুইকা দেখি শরণার্থী শিবিরের মত সবাই বিছানা বালিশ লইয়া সংসার পাইতা শুইয়া আছে। কত বড় স্টেশান! এখানে ছুটি ওখানে ছুটি। একটা কাউন্টারে গিয়া আমার টিকেটের স্ট্যাটাস লইলাম।

শেষে কিছু না পাইয়া গোপন এক বিশ্রাম কক্ষ পাইয়া সেখানেই বিশ্রাম করা যুক্তিযুক্ত, উপযুক্ত বুদ্ধিমানের কাজ মনে হইল।

গিয়া দেখি চার্জের ব্যবস্থা আছে সাথে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। নিজেকে নিয়ন্ত্রিত করে শীতল মাথায় চিন্তা করার সিদ্ধান্ত নিতাছি। আমার ফোন অফ। চার্জের পয়েন্টে যে চার্জ দিতাছে সে হাত দিয়া ধইরা আছে। বোধহয় দখল লইছে। সে খুইলা ফেললে আমারটা দিলাম। একটু পর সেই চার্জার একজনের মাথার উপর পড়ছে! পয়েন্ট লুজ, এর লাইগা হাত দিয়া ধইরা রাখছিল।

এবার লাগছে সেরকম পানির পিপাসা। লগে নাই। ব্যাগ, ফোন, ক্যামেরা থুইয়া কেমনে যাই?

সব লইয়াই আবার ছুটলাম। পাশেই স্টোর কিন্তু সেখানে চিল্ড কিছু নাই। এমনে করতে করতে কেমনে যে টাইম গেল! ট্রেন আসার খবর শুইনা এবার আমার হুড়াহুড়ির পালা। এতক্ষণ যাদের হুড়াহুড়ি দেইখা মনে হইছে বান্দর, এখন গাট্টি-ব্যাগ সহ নিজে তাই হইলাম। এবং হুমড়ি খেয়ে একজনের গায়ের উপর পড়লাম। সাথে সাথে পকেটে হাত দিলাম, প্রয়োজনীয় সব আছে। ঠিকাছে। কোনোদিকে তাকানোর টাইম নাই, স্যরি-মরি কওয়ার মায়েরে বাপ!

নিল হইয়া জুতার নটটা লাগায়া উসাইন বোল্ডের মত দৌড় দিলাম। এতক্ষণ ধইরা বইসা আছি, প্ল্যান করতেছি আর এখন দেরি হয়া গেছে। আর পনেরো মিনিট বাকি, আমি আমার ট্রেন পাই না। এর মধ্যে লেখা কল দিছিল। সে কামে আছে ভাবলাম, তারে ঘাটামু না। মুম্বাই গিয়া দেখা যাইব। যখন ছুটতেছি তখন সে আবার কল, এখনও ট্রেন খুঁইজা পাই নাই শুইনা চিন্তিত হইল। কইল, কাউরে জিগাইতে আর ঠিক ট্রেনে উঠছি কিনা তার তরিকা বাতাইতে লাগল। তারে চিন্তামুক্ত করতে কইলাম, রাখো, পায়া গেছি প্রায়।

কইল, ট্রেনে উইঠা যাতে মাস্ট কল দেই। কাউরে জিগানোর কাম নাই। গার্ড, পুলিস এগো কাছে গেলাম। তারা এদিক ওদিক তাকায় কিছু কইতে পারে না। দৌড়াইতে দৌড়াইতে দেখি স্টেশানের বাইরে আইসা পড়ছি। ইনফর্মেশান সেল পাইলাম একটা, ইংরেজিতে জিগাইলাম। এদিক ওদিক দেখাইল। এদিক ওদিক গিয়াও পাই না। এক লোক পাইলাম ব্যাপক আয়েশি ভঙ্গিতে খাড়ায়া আছে। একমাত্র স্থির লোক। এরে জিগান যায়। সে একই ট্রেনে যাইব, যে প্ল্যাটফর্মে খাড়ায়া আছি সেটাই!

৯.
ট্রেনে উইঠা জানাইলাম শ্রী লেখারে। জিগাইল যা যা কইছে সব লইছি নাকি, শিকল দিয়া ব্যাগ বান্ধছি কিনা।

আমি কই, কী কও না কও, শিকল দিয়া বান্ধতে হইব… কইতে কইতে দেখি আমার বার্থের একজন শিকল দিয়া ব্যাগ বাইন্ধা থুইছে। পরে বাথরুমেও দেখি লোটা শিকল দিয়া বান্ধা। লেখারে ফোনে জিগাইছিলাম, লোটা বান্ধা কেন? এত বড় একটা নোংরা লোটা কেমনে নিব? কে নিব? নিয়া কী করব? লেখা হাসে।

ইন্ডিয়ান ট্রেনের বার্থগুলার ব্যাপার কমবেশি সবাই জানে। কেউ না চড়লেও হিন্দি ফিল্মগুলাতে প্রচুর দেখায়। সব ওই একই। ‘দুরন্ত’ একটু ভালো, ভিআইপি। খানা মানা ফ্রি। আমি ‘দুরন্ত’ পাই নাই, যেটা পাইছি সেটা এসি কিন্তু খানা আমার নিজের মতো। আর আমি খাইতে পারলে খাই নাইলে নাই।

যাওয়াটা খুব ভাল ছিলো, আমার বার্থে মজার যাত্রী ছিল। আমার পাশের বার্থে আরো মজা। কলকাতা থেকে মুম্বাই ট্রেনে যাওয়ার আরেকটা ব্যাপার যেটা সেটা হচ্ছে দূরত্ব। তিরিশ থেকে ছত্রিশ ঘণ্টা লাগে। যেটা কেউ নিতে পারে না, নেয় না। আমার মজা এখানেই। দুইদিন, পাঁচদিন ট্রেনে জার্নি করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। অ্যান্ড আই লাভ জার্নি। ট্রেন বা লঞ্চ হইলে তো তোফা।

আমার বার্থে একটা ফ্যামিলি ছিল, সাথে একটা বাচ্চা। তারা পিউর হিন্দি বলতেছে না, একটু টেনে একটু মেশানো। ওরা নাসিক যাবে, তার আগেই নেমে যাবে। এই বাচ্চাটার (নাম?) জন্য চকলেট, চিপস আরো কী কী দুই বস্তা খাওয়া। বাচ্চা ক্যাঁ কুঁ করলেই বাবা-মা বা দাদা-দাদি কিছুক্ষণ পর পর বস্তা থেকে বের করে করে বাচ্চাকে দেয়। বাচ্চা সেগুলা খাবে না, ট্রেনের কেউ খাবার নিয়ে গেলে সেগুলা খাবে। এই এক বাচ্চা মোটামুটি আশেপাশের সব বার্থ জমায়া ফেলছে। বাচ্চা মেয়েটা মিছামিছি রান্না কইরা যা দেয় সবাইরে তা খাওয়ার অ্যাক্টিং কইরা কইতে হয় ‘আচ্ছা হুঁয়া।’

mumbai-3a

সহযাত্রী।

আমার পাশের বার্থের ওরাও যাবে নাসিক। ওরা সারাদিন হই হুল্লোড় হাসিতে মেতে থাকল। আমি মাঝে মাঝে কথায় কান দেই। তার মধ্যে একজন আছে যে কলকাতা ছবির খরাজের মত হুবহু, সে আমার বার্থ পাস করে কোথাও যাবার সময় আমার দিকে মিষ্টি করে হাসি দিয়ে তাকিয়ে ভ্রুটা নাচিয়ে ভাব বিনিময় করে। ভাব বিনিময় হয়ে গেলে আরেকবার সে আমার ক্যামেরা দেখিয়ে বলে, ক্যামেরা? আমি হেসে বলি, হ্যাঁ। তারপর ‘আমি কই যাবো টাবো, কেন’ জিগাইল। হিন্দিতেই। আমি হিন্দি বুঝি, ভাল বলতে পারি না তাই ইংলিশে জবাব দিচ্ছিলাম (ইংলিশে চোস্ত ফ্লুয়েন্ট তা কিন্তু না)। আমার ক্যামেরা দেখে উনার দারুণ আগ্রহ। বার বার সে বিষয়ে কইতেছিল, ছবি তোলো? জার্নালিস্ট? ফটোগ্রাফি? আমি আমার পেশার আশপাশ দিয়া যায় দেখে কইলাম, হুম ট্যুরিস্ট ফটোগ্রাফার। খরাজ তাদের বার্থের অন্যদের কইতেছিল, “ইউ নো হি’জ বিলং টু গোয়া।” কোইত্থেকা এই ধারণা হইলো জানি না। আমি শুনতেছিলাম, তাকাইলাম। ওদের সাথে চোখাচোখি হইল। আমাকে ডাকল। আমি গিয়া ভুল ভাঙায়া দিলাম যে, আমি গোয়া’র নই, বাংলাদেশের। বাংলাদেশ শুনে কয়েকজন বেশ উৎসাহী হয়ে উঠল। ওখানে কজন কলকাতার ছিল।

সহযাত্রী।

সহযাত্রী।

“এখানে কেন? কদিন থাকব? কোথায় থাকব? প্রায় আসি কিনা?”—নানা কিসসা। তখন পুজার আয়োজন হচ্ছিল। আমি পূজার কথা বললাম। তারপর ওই খরাজ ছবি তোলার কথা বলল, আমি কিছু ছবি নিলাম। খরাজ তখন প্যান্ট খুলে হাফ বিচ প্যান্ট পরা, একদম খরাজের ক্যারেক্টারে। আমি বললাম আপনার ফুল বডি তুলতে চাই, উনি খুশি হয়ে প্যান্টের জয়েন্ট শুদ্ধা দেখায়া সে-ই একখান পোজ দিয়া দিলেন আমার জন্য। এসব ট্রেনের বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে, যেহেতু লম্বা জার্নি সবাই ট্রেনে উঠেই টপাটপ জামা-কাপড় খুলে বাসার ড্রেস পড়ে, কেউ খালি গায়ে আয়োজন করে চেতিয়ে পড়ে বসে শুয়ে থাকে।

রাতের দিকে খেয়ে সবাই যখন গা এলিয়ে ঘুমাবার আয়োজন করতাছে, পাশের ওরাও গল্প করতে করতে যে যার বেড খুলে শোবার আয়োজন করতেছে।

তখন হঠাৎ দড়াম করে শব্দ। লাইট অফ। বোমটোম না তো! ট্রেন কিছু হয় নাই, ভূমিকম্পও না। পাশের বার্থে তাকিয়ে দেখি উপরের বার্থে যিনি শুইছেন তিনি পড়ে গেছেন। কিছুক্ষণ ওইভাবে পজ ছিল। এইভাবে কিছুক্ষণ থাকবে জানলে ছবি তুলতাম। আমি আসলে ঘটনার আকস্মিকতায় বিমূঢ়। এবং তারপরেই সবাই ‘ব্যাথা পেল কিনা’—ধরতে টরতে এল। ধরণীপ্রপাততল ব্যক্তি হাত উঁচিয়ে জানান দিলেন, কিচ্ছু হয় নাই। তিনি ব্যথা পান নাই। তিনি তো ব্যথা পান নাই কিন্তু তিনি যার গায়ের উপর পড়েছেন বেচারার প্রস্তুতি ছিল না, উনি নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না। উনার বয়সও একটু বেশি ছিল।

সব ঠিকঠাকের পর আমি আমার নিচের বার্থে শুয়ে হাতের সাথে ব্যাগের টাচ দিয়ে নাকে-মুখে কম্বল দিয়ে পড়লাম। হঠাৎ আবার অনেক রাতে ফিসফিসানিতে ঘুম ভাঙল।

১০.
মুখ থেকে কম্বল সরাতেই যা দেখলাম এই বস্তু এইভাবে কল্পনা করি নাই। আমার চোখের সামনে মুখের উপর দিয়ে ‘হিন্দুস্তানি ল্যাড়কি কি দুকান’। সেটা নড়তেছে, বলা যায় চক্রাকারে ঘুরতেছে। আমার মাথাও ঘুরতেছে। বার্থ থেকে লোক পড়ে যাবার পর ঘুমাইছি, এখন মধ্যরাতে ঘুম ভাইঙ্গা ঘোরটা কাটাইতে পারতেছি না। ওই দুকানের দিকে তাকায়া বোঝার ট্রাই করতেছি। জিন্স পরা বেশ হৃষ্টপুষ্ট পাছা। দেখতেছি আমার বার্থে তিনটা মেয়ে। আমার অবস্থা বুঝে পাশে খাড়ানো আরেকটা মেয়েটা বেন্ড হয়ে থাকা মেয়েটার পাছায় হাত দিয়ে সরায়া দিল। মেয়েটা ঘুইরা ‘স্যরি’ বলল। আমি ‘মাই প্লেজার’ কইতে যামু থাইমা গেলাম। ধইন্য মুম্বাই ট্রেন। এরা মুম্বাই ইউনিভার্সিটির, মধ্যরাতে কোনো এক স্টেশান থেকে এরা উঠছে। মুম্বাই যাবে। বেন্ড হয়ে মেয়েটা আমার অপোজিট বার্থে তাদের লাগেজ মালামাল সেটিং করতাছিলো ঠেইলা ঠুইলা।

ওদের লগে হালকা কথাবার্তা হইছে। সাহসী ড্রেস আপ। বলা যায় ইন্ডিয়ায় ফার্স্ট সেক্সিদের দেখা পাইলাম।

সকালে জানালায় বাইরে তাকায় আছি। মেঘলা। ছবি তুলুম কি তুলুম না ভাবতেছি এই সময় বিশাল ঠাট-butt-অলা মাইয়াটা আমার কাছে আইসা কইল, “ক্যান আই সিট হেয়ার, প্লিজ?”

তারা নিজেগো মইধ্যে ইংলিশ আর হিন্দি মিলায়া কথা কইছে। আমি বাংলাদেশি তারা জানে না, কালারের কারণে ইন্ডিয়ানই মনে করছে। আমার লগে মাইয়া কথা কইছে পিউর ইংলিশে। তো মাইয়ার নাম বনশ্রী না পদ্মশ্রী ভুইলা গেছি, যখন আইসা কইল, এখানে বসতে পারে কিনা। আমি রাজি হইয়া জায়গা কইরা দিলাম। সে বইসাই চাইরটা মোটা বই আর দুইটা খাতা লইয়া হেব্বি গবেষণায় লাইগা গেল। রোমান্সের কোনো সিস্টেমই নাই। যদিও তার ক্লিভেজ দেখা যাইতেছে আমি সেদিকে মনোযোগ দিলাম না। মেয়েটা পড়তাছে পড়ুক, দেখতেই ভাল্লাগতাছে।

কোন একটা এক্সাম আছে মনে হয় তিনজনে কইষা গ্রুপ স্টাডি লইয়া ছিল।

আমার উপ্রে মানে উপ্রের বার্থে যে মাইয়া ছিল সে পা আগাইয়া নামতে নিলে আমি সাবধান হয়া যাই। অলরেডি উপর থেইকা পইড়া যাবার নমুনা পাইছি। মেয়েটা বুঝতে পাইরা পর থেইকা পা আগায়া দেয়, আমি সাবধান হই, সে আর নামে না। পা ঝুলায় রাখে নায়িকাদের মত। আমি ব্যাবিলনের পরীর ঝুলে থাকা অর্ধনগ্ন রানের ছবি তুলি।

(কিস্তি ৪)

About Author

হুমায়ূন সাধু
হুমায়ূন সাধু