page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

মুম্বাইয়ের ‘স্মৃতি’ (৫)

(আগের কিস্তি)

একটা ভরসার জায়গা পাইলাম। এবং এই জায়গাতে আলিয়া ভাটের চকলেটের অ্যাডটা হইছিল।

আমি তাজ মাজ ফালায়া রিল্যাক্সে চিৎ কাইত হইয়া বিচের পাড়ের ময়লা, ত্যানা, কাকের ছবি তুলতে লাগলাম। কিছু লোক পাস করার সময় বুইঝা ফালাইল যে আমি শুটিং করতে আইছি। হিন্দিতে ‘শুটিং চালরাহা হ্যায় কিয়া?’

লেখা ফোন দিল, সিএসটি স্টেশনের পাশে একটা ‘ম্যাকডোনাল্ড’ আছে। সেইখানে গিয়া বসতে কইল।

পয়লা ফোনে চার্জ হোক। তারপর?

সে আসতেছে কইল। আমি না আসা পর্যন্ত যাতে ওয়েট করি। যতক্ষণ লাগুক আমি যাতে ম্যাকডোনাল্ডে থাকি। তাইলে ফোনে না পাইলেও আমারে খুঁইজা পাইতে সুবিধা হবে।

মহারানি যাহা কন, আজ্ঞা। ‘গেইটওয়ে অফ ইন্ডিয়া’ থেইকা সিএসটি স্টেশন কাছেই। টেক্সি একটা লইয়া রওনা দিলাম ট্যুরিস্ট মেজাজে। সিএসটি স্টেশনের সামনে নাইমা কিছুক্ষণ দেখলাম। যেহেতু সকালবেলা, কাজেই কাজের লাইগা ট্রেনে কইরা কইরা মানুষের মিছিল আসতে লাগল। ট্রেন, ট্রেনের মানুষ বরাবরই আমার প্রিয়। কিন্তু এত্ত মানুষ!

bhromon-logo

১৬.
ম্যাকডোনাল্ড খুঁইজা বাইর কইরা ঢুকলাম। ওদের চার্জারের কথা কইতেই জানাইল, চার্জের ব্যবস্থা নাই।

আমি: ক্যান? থাকে তো।

উত্তর আইল, থাকে কিন্তু স্যার এখন নষ্ট।

রেগুলার কফির অর্ডার কইরা বাইরে বসার স্পেস আছে সেখানে বইলাম। লেখারে টেক্সট করলাম। আমি সহি সালামতে ‘ম্যাকডোনাল্ডে’ পৌঁছায়া আসন গ্রহণ করছি।

কফি আসল, কফি খাইতে থাকলাম। কাস্টমাররা আসে যায়, রিড করতে থাকলাম। ক্যামেরা বাইর কইরা ছবি তুললাম কিছু র‍্যান্ডম। লেখার টেক্সট ঢুকে ফোনে।

‘আমি আসতেছি, নইড়ো না’ এই জাতীয়। সে আইবই আমারো বিশ্বাস। উদ্ধার করব এই আজাব থেইকা। আগে কখনো ভাবি নাই দেখা হইব। আর এখন সে কষ্ট করে আসতেছে, আমার বিপদে হেল্প করবে সেটাও আশা করতেছি।

মোবাইল দেখি, টেবিল দেখি, ম্যাকডোনাল্ডের দরজা দেখি, সিসিটিভি আছে একটা লাগানো দেখি, আমারেও তারা দেখে নিশ্চয়, কাস্টমার দেখি। মায়ের সাথে বাচ্চা, যুগলের চাপা কথা, ভালোবাসার আশ্বাস-ফিসফাস শুনি—মৌনমৌনি, তরুণী, বান্ধবীর দঙ্গল, হি হি হা হা।

macdonaled-cst

মুম্বাইয়ে ম্যাকডোনাল্ডস

আমি তাদের ছবি তুলি না। দরজা, বেঞ্চির ছবি তুলি। কমফোর্ট বলে হয়তো আমার সামনে এক মাইয়া একা একটা বার্গার লয়া বইল। এই যে বলিউড ফিল্ম শুরু হয়া যাবে এখুনি। কিন্তু না, মাইয়া বার্গার খায়া গেল গা। এখানে অবশ্যই ইয়াং কাস্টমার বেশি। দেখতে-টেখতে সবই বাংলাদেশের মতই। শুধু ভাষা। হিন্দিও না, তাদের নানান ভাষার কাহিনীতে নিজেই সংলাপ বসায়া ডাবিং করি। অনেকক্ষণ হয়া গেল। আশা ছাইড়া দিমু নাকি?

লেখা কি আদৌ আইব, সে কেন আসবে? যামু গা নাকি!—এইসব ভাবনা কিল বিল করতে থাকে। এইসব ভাবনা আসে বইলা ভাবতে পারি বইলা, এ সময় লেখার টেক্সট আসে।—তার দেরি হইতাছে, আমি যাতে কিচ্ছুতেই না যাই।

কাইন্দা দিমু নাকি। এইবার ঈমান পোক্ত হয়, নড়ুম না। সে আইলেও, না আইলেও। কিন্তু কেন এত কিছু এত কষ্ট এত কেয়ার? কী হইতে পারে? রহস্য ঘনাইতে থাকি। ঘণ্টা পার হইতে লাগল। বারোটা বাজার দিকে।

আমি ম্যাকডোনাল্ডে বসা। অদ্ভুত আঁধার অচেনা এক পৃথিবী।

আশেপাশে নানা এলাকার কালারফুল মেয়েরা ম্যাকডোনাল্ডের বেঞ্চিতে বসে থাকা হলুদ মামুর লগে নানা ভঙ্গীতে পোজ দিয়া ছবি তুলতাছে। এবং এসময় দুর্গা শ্রীমতি লেখার উদ্ভব। দেখেই আমাকে কইল, চ্যালো।

প্রথম ফেস টু ফেস। নমস্তে করবো না? হাই-হ্যালো হবে না?

প্রসাধনহীন, ঠোঁটের চামড়া ওঠা, চোখের নিচে কালি, ফতুয়া, কান্ধে ঝোলানো ব্যাগ, থ্রি কোয়ার্টার আর চপ্পল। বলল চ্যালো, মানে চলো, আর আমি চলা ধরব?

একটা লাজুক হাসি না বাইর করতা চায়াও বাইর হয়া গেল। কইলাম, কই যাব? বসো আগে। কিছু খাবা না?

সে জানাইল যে, সে খাবে না। কইলাম, আইচ্ছা, বসো, জিরাও। বুঝায়া কও কই যামু।

লেখা: আমার ওখানে।

আমি তার দিকে তাকায়া থাইকা কইলাম, কেমনে! আমি মহিলা হোস্টেলে উঠব না।

লেখা: আমি মোটেও মহিলা হোস্টেলে থাকি না। কমদামি একটা জায়গার একটা ঘরে থাকি।

আমি: সেইখানে আমি থাকব?

তারে মিছা কইলাম, না, সেইখানে না উঠি। আমি ড্রিঙ্কস করি। প্রবলেম হবে।

কইলাম না যে, চিনি না যারে ফার্স্ট মিটে তার ওখানে উঠব? রিস্কি হয়া যায়? অপ্রকাশ্য অবিশ্বাস তো থাকছেই।

লেখা: আচ্ছা ঠিকাছে, আগে চলো। আমার এলাকায়ই অন্য ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।

আমি: অন্য কী?

লেখা: আমি যেভাবে রুম নিছি তাদের বলে কোনো পিজি (পেইং গেস্ট) করে দিব। আগে আমার ওদিকে চলো। তাইলে যেটা হবে, সমস্যায় পড়লে আমি হেল্প করতে পারব।

আমি: তাইলে ঠিকাছে চলো। (উঠতে নিয়ে) কিচ্ছু খাও?

লেখা: না, আমি খাইয়ে আইছি। গেলে আমাদের তাড়াতাড়ি যাওয়া উচিত।

আমারো তাড়া আছিল। যাইতে যাইতে সে খুঁটখাট কিছু ফান করল “ম্যাকডোনাল্ডের বাইরে বসলে সুবিধা। কিছু খাইতে হয় না। কে কী খাইল না খাইল কেউ দেখে না, যাক তোমার গাট্টি কম আছে, ভাল হইছে।”

পরে আমারে টায়ার্ড দেইখা জিগাইল, ওখানে যাইতে ট্রেনে গেলে ভাল। কিন্তু আমি চাইলে ক্যাবেও যাইতে পারি।

কইলাম, টাকা-সময়-শ্রম ব্যাপার না। আমি ট্রেনে যাইতে চাই। সে কইল, সুপার।

তার ট্রেনের টিকেট আছিল। প্রত্যেক ট্রেনেই লেডিস কামরা আছে, সে সেই কামরায় উঠল না। দুইজনে দৌড়ায়া এক কামরায় উঠলাম। নোংরা মতন সিট। আমারে বুঝাইল, এই ট্রেন বেশি নোংরা।

ভাবলাম, তাইলে ভাল ট্রেনে উঠতি। কী জানি! আমারে জানালা দিয়া সিন সিনারি দেখায়া জায়গা চিনাইতে লাগল। কোনো স্টেশন পড়লে বুঝায়া দেয়। পরে আমার কামে লাগবে।

আলাপ শুরু হইল। ইন্ডিয়ায় সবাই ট্রেনটা চুজ করে। জ্যাম থাকে না, সব জায়গা থেইকা সব জায়গায় যাওন যায়, কম টাকায় কম সময়ে। এমন কি নাকি ধনকুবেররা দামি গাড়ি নিয়া স্টেশনে আইসা গাড়ি রাইখা ট্রেনে যায়। কাজ-কাম শেষ কইরা ট্রেনে আবার আইসা গাড়ি নিয়া বাসায় যায়। জ্যাম থেইকা বাঁচতে টাইমসেভিং। এইটাও কইল আর কি।

এরপর আমার হোটেল কেলেঙ্কারির বিস্তারিত কইলাম। সেও এ বিষয়ে ব্যাপক ফেড আপ আর কি। লজ্জাও পাইল। সম্পূরক কাহিনী শুনাইল, মাত্র কদিন আগেও নাকি হোটেলে পুলিশে হঠাৎ রেড মাইরা পুরা মুম্বাইতে হইচই ফালায় দিছে। চাইলে তো কেউ এইটা করতে পারে না। এইটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা লয়া মিডিয়া তোলপাড়। কেস-কামারি, পরে পুলিশের চাকরি গেল, স্যরি পর্যন্ত নাকি কইতে হইছে। পুলিশ ধান্ধাবাজির লাইগা নাকি এসব করে। এরমধ্যে এইসব ঘটছে আর কি। সবাই ফেড আপ আসলে।

আমার ‘ফেড-আপ’নেস ডাউন মাইনে কমল। ট্রেনের জানলা দিয়া ‘হু হা’ বাতাস বয় আর লেখা আমারে জায়গা দেখায় পরিচিত করে। আমরা যাব নিউ মুম্বাই’র ওয়াসি (VASI)। ওয়াসির আগেই একটা স্টেশানে লেখা কইল, চল নাইমা যাই।

ও যা কয় তাই—নাইমা গেলাম। স্টেশান পার হয়া বাইরে অটো আছিল, লেখা অটো লইল।

চারপাশে খোলা আর রাস্তাও বিশাল। লেখা বুঝাইল, নিউ মুম্বাই এক্কেরে পরিকল্পিতভাবে হইতাছে এর লাইগা সুন্দর, ছিমছাম, পরিষ্কার, মানুষ কম। মুম্বাই’র মত বাজে না। পাহাড় কাইটা রোড, ঝর্না এগুলা দেখাইল। মুরুব্বির মত আমারে স্মরণ কইরা দিয়া কইল, বাইরে আসছো পাসপোর্ট, কাগজপত্র, টাকা ঠিকঠাক রাখছো তো?

ঠিকঠাকই রাখছিলাম। সে জিগাইল কেন? ব্যাগটা কাছে টাইনা আরো সাবধান হইয়া গেলাম।

যাইতে যাইতে যত স্থাপনা, পাহাড়, রাস্তা পড়ে সব ট্যুরিস্ট গাইডের মত চিনাইতে চিনাইতে গেল। সে এত জানে প্রথমে তেমন কিছু মনে হয় নাই, মনে হইছিল এখানেই থাকে জানতেই পারে। অটো থেইকা নাইমা আমি ভাড়া দিতে গেলাম সে দিতে দিল না। বলল, তার কাছে খুচরা আছে।

থাকতেই পারে, কিন্তু সে দিবে কেন?

আমারে একটা এজেন্সির মত অফিসে নিয়া গেল। তাদেররে একটা ‘রুমে’র কথা না কী জানি বলল। একটা ছেলে বের হয়া গেল।

রুম হয়া গেছে। একজন এসে আমাদের নিয়ে যাবার কথা। আমরা দুইজন ওয়েট করতে থাকলাম।

লেখা: কিছু খাওয়া উচিত না?

আমার গায়ে কী অসুরের শক্তি আইল কদিন ট্রেন জার্নি কইরা, রাতভোর হাঁইটা, আবার এখন পর্যন্ত ঘুরতেছি একটুও টায়ার্ড না। পরিবেশ অনুযায়ী আমার এমন হয়। পূর্বেও প্রমাণিত।

আমি ঠাণ্ডা কিছু খাইতে চাইলাম। মুম্বাই দুইন্নার গরমের জায়গা। পাশেই একটা খাবারের দোকান থেইকা ‘কী নাম জানি’ একটা ঠাণ্ডা বস্তু খাইলাম। এখানেও আমি বিল দেবার সময় লেখা হাত সরাইয়া দিল। খুব বিলা খায়া কইল, এমন করতাছো কেন? আমি আরো বেশি বিলা + খটকা! এসবের মানে কী! বেশি হয়া যাচ্ছে না? এই বেশির না মাসুল দিতে হয়। আমি ব্যাগ হাতছাড়া করি না। আরো চাইপা ধরি।

আবার অফিসে গিয়া বইলাম। লেখা বুঝাইল, দেখো পোলাটা আসুক, আমরা দুইজন মিলা দেখব রুম কেমন, থাকা যায় কিনা। পরিবেশ ভাল না হইলে থাকার দরকার নাই। আমার ঐখানে থাইকো।

আমার দূরভিসন্ধি তারে বুঝতে দেই না। পায়া লই না রুম একটা। ফ্রেশ হয়া ফোন চার্জে দিয়া আগে ঘুম। তারপর ফোন কইরা ভাই-ব্রাদার সব এক কইরা ফালামু। আগে বিপদ থেইকা ছুটি।

এর মাঝে লেখা কিছু ফান করল, এখানে কি শুটিং? কার সাথে?

অনেকক্ষণ পর পোলাটা আসল। আমরা দুইজন হেঁটে রওনা দিলাম। কাছেই। একটা ফ্ল্যাটবাড়ির মধ্যে বদ্ধ ঘর। গুমোট, অন্ধকার। এর মধ্যেই থাকতে হবে। হইলে হবে। বাথরুমের অবস্থা যা-তা! লেখা হাঁটা দিল।

আমি: কই যাও?

লেখা: না না এখানে হবে না। ঘুমের মইধ্যে দম আটকায়া মারা যাবা। আর কী বিশ্রি গন্ধ!

এখান থেকে পালাইতে পারলে বাঁচে যেন। সে জোরে জোরে হাঁটতেছে আমি তার লগে পিছে পিছে। লেখা পোলাটারে চার্জ করল, এইটা কেমন ঘর! বদ্ধ, গুমোট, অন্ধকার। ভালো ঘর দেবার কথা। খোলামেলা সুন্দর নাই?

পোলাটা কইল, ওহ্‌ আইচ্ছা কইবেন না? আছে তো।

লেখা: কই দেখাও। আমি আর লেখা কথা বলতে বলতে পোলার পিছে পিছে রাস্তার উলটা দিকে হাঁটা ধরলাম।

১৭.
এইবার যে বাসায় ঢুকমু ‘লেডিস নট অ্যালাউড’। তারপরেও লেখা নিজে দেখার জন্য একটু আগিয়ে গেল। ফ্ল্যাট খোলামেলা, বাতাস, আলো ভরপুর। একটু বেশিই খোলামেলা। লেখা ভিত্রে যাইতে পারল না, অবস্থা শোচনীয়। চকির মইধ্যে পাবলিকরা যার যেমনে ইচ্ছা চেতায়া শুইয়া আছে। গায়ে জামা নাই, লোম কাটা নাই, একজনের পরনে লুঙ্গি পতাকার মত উড়তাছে। আমি ঢুকলাম।

বেশ কয়েকটা রুম। প্রত্যেক রুমেই ঢালাও চকি বিছানো। কেয়ারটেকার ফ্যান ছাইড়া দিয়া দেখাইল চব্বিশ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিদ্যমান। ফ্যানটা ঘণ্টার মত ঝুলতাছে, ফ্যানের উপ্রে সিলিং-এর অবস্থা নাজুক। ফ্যান ভাইঙ্গা পরুক না পরুক চকির খুটিতে গ্যাটিস দেয়া, রাত দুপুরে ভাইঙ্গা পড়তেই পারে।

বাথরুমের কথা জিগাইলাম। দেখাইল। চব্বিশ ঘণ্টা পানি। ভিত্রে কে জানি উনার বা সবাই মিলা তাদের সব কটা জাঙ্গিয়া ভিজায়া রাখছে। তাছাড়া বাথরুম পরিপাটি, সুন্দর, পরিষ্কার। খালি বাথরুমের দরজাটা আলগা। দরজা দুইহাত ধইরা আল্গাইয়া তারপরে ঢুইকা আবার আগের জায়গায় সেট কইরে দিতে হবে। ইমার্জেন্সি টাইমে সেটা কি সম্ভব হবে!

বের হবার পর লেখা জিগাইল, কী অবস্থা!

আমি: বাথরুম তো সুপার। কিন্তু…।

লেখা: কিন্তু?

আমি: কিন্তু আগেরটা আরো ভাল আছিল। আমি থাকতে পারব। আমার তো রেস্ট নেয়া দরকার। পরে না হয় শিফট করুম নি।

সে কইল, বুঝছি। কোনো দরকার নাই।

পোলাটারে ধমকাইল, ইয়ে ক্যায়সা তামাশা হো রাহা হ্যায়!

—তুমি আমার এখানে চল। ফ্রেশ হও। খাও। ফোনটা চার্জ দাও।

তার প্রস্তাব পছন্দ হইল। ফোনটা চার্জ দেই, তারপর আমার খেল দেখাইতেছি।

যাইতে যাইতে কইলাম, তোমার ওখানে? মানুষ কী বলবে? মধ্যবিত্ত মন মানসিকতা প্রকাশ পায়া গেল। সে কইল, ওখানে (বা ভারতে) কেউ কারো খেয়াল করবে না।

আমি: তারপরও। বাড়িওয়ালা কই থাকে?

লেখা: হ্যাঁ বাড়িওয়ালা থাকে অবশ্য উপরে। বলে দিও, ভাই।

‘ভাই’! সে একটু খাড়াইল—“আচ্ছা, বইলো কাজিন।”

ডায়লগটা পছন্দ হইছে। আমরা ফিরতেছি ঐসময় স্কুল ছুটি। স্কুলের বাচ্চা-কাচ্চারা ছুটতে ছুটতে আসতেছে, দুলতে দুলতে। তাদের মত আমিও লেখার পিছনে দুলতে দুলতে যাচ্ছি। আমরা পয়লা যে এজেন্সিতে গেছিলাম তার কাছেই লেখার ঘর। অনেকগুলা একই রকম ঘর। ঢুকতে ঢুকতে লেখা চিহ্ন দিয়া আমারে চিনায়া দিল, এইটা আমারটা।

লক খুলে ভিতরে ঢুকলাম। সে যদিও ধর্ম কর্ম তেমন করে না, (তার কথামতে) কিন্তু ছোট্ট একটা টেবিলে গনপতি বাপ্পার মূর্তি। সেগুলা সাফ সুতরো করল। আমি চাই নাই। তারপরেও আমার ব্যাগ জিনিসপত্র রাখার জন্য একটা জায়গা খালি কইরা দিল। আমি আমার সবকিছু রাখলাম। এবং খোদার কসম, চামে পাসপোর্ট আর টাকা গোপন জায়গায় রাখলাম। পরে সে যখন আমারে পাসপোর্ট আর টাকা লুকানোর জন্য গোপন ব্যাগ দিল তার থেইকা আমার চোখে পানি আইসা গেছিল। কারে ঈ মনে করলাম, পাপ করলাম!

ঘরে ঢুকে সে আমারে কইল, তুমি ফ্রেশ হও, আমি ১৫ মিনিটের মধ্যে আসতেছি।

১৮.
সে চলে যাবার পর আমি দরজা লক করে, জানালা লাগিয়ে জামা কাপড় খুলে আগে গোসলের প্রস্তুতি নিলাম। এবং আমি ঘোরে ছিলাম কোনো সন্দেহ নাই। ঘনঘোর। এইরকম স্বপ্নে দেখছিলাম, সেইটা এইভাবে ঘটতে পারে না। সামথিং ইজ রঙ!

কী হচ্ছে না হচ্ছে পুরাই আমার কন্ট্রোলের বাইরে। তারপরেও আমি একটা অশ্লীল ড্যান্স দিলাম যে, ব্যাপারটা ঘটায় দিলাম।

গোসল করে বের হয়ে মাথা মুছতে মুছতে ঘরের কিছু ছবি তুললাম। লেখা আইল। দরজা খুললাম। আমার জন্য ফাস্টফুডসহ বেশ কিছু খাবার নিয়া আসল। বার্গার, রুটি, পেস্ট্রি বের করে ফ্রিজে রাখল। ফ্রিজ ভর্তি খাবার আছিল।

লেখা: এগুলা খাও তো?

আমি: এগুলা কে আনতে বলছে? আমি তো ভাত খাই। তুমি কেন এত টেনশন করতেছো?

লেখা: চুপচাপ খায়া নাও।

ফ্রিজ খুইলা বিয়ার দেইখা কইলাম, বিয়ার কইত্থেকে?

লেখা: এই যে আনলাম।

আমি: তুমি কি ডেইলি বিয়ার খাও?

লেখা খুব আশ্চর্য হয়া কইল, ধুর, আমি ড্রিঙ্কস করি নাকি!

আমি: তাইলে বিয়ার?

লেখা: তোমার জন্য আনলাম, আজব!

আমি: আমি? আমার জন্য! আমি ড্রিঙ্কস করি কে বলল?

লেখা: তুমিই তো বললা।

আমার মনে পড়ল।

আমি: ওহ্‌। তাই বইলা তুমি কিনা আনবা? সেটা তো আমি তোমার এখানে না থাকার জন্য কইছি। আজিব!

খুবই অবাক হবার ব্যাপার। কী করতেছে লেখা এগুলা? কিঁউ?

রহস্যটা কী? হুম, লেখা একটা রহস্যমানবী।

(চলবে)

About Author

হুমায়ূন সাধু
হুমায়ূন সাধু