page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

মেটাবলিজম কী ও কীভাবে আপনার মেটাবলিজম বাড়াবেন

মেটাবলিজম কী

প্রাণিদেহে জীবন্ত কোষগুলিতে যে রাসায়নিক চেন্জগুলি হয় এর ক্রিয়া-বিক্রিয়াকে আমরা বলি মেটাবলিজম।

মেটাবলিজমের কারণে প্রাণিদেহ টিকে থাকে ও বেড়ে ওঠে। দেহের গঠন ঠিক থাকে, পুনরুৎপাদনে সক্ষম হয় এবং পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। বয়স ও লিঙ্গভেদে মেটাবলিজমের হার ভিন্ন হয়। এমনকি ওজনও মেটাবলিজমের হার ঠিক করে দেয়।  স্বাস্থ্যকর মেটাবলিজম যথাযথ পুষ্টির ওপর নির্ভর করে।

মেটাবলিজমের প্রধান তিনটা উদ্দেশ্য হলো:

১. খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা। 

২. প্রোটিন, লিপিড, নিউক্লিইক এসিড ও কিছু শর্করা ধরনের খাদ্যকে দেহ গঠনের ব্লকে পরিবর্তিত করা; এবং

৩. দেহ থেকে নাইট্রোজেন ধরনের উপাদানকে বর্জ্য  হিসাবে অপসারিত করা।

মেটাবলিজমের ধরন

মেটাবলিজম দুই রকমের।

১. এক হচ্ছে অ্যানাবলিজম। শরীরের কোষের জন্য দরকারি সব উপাদান ঠিক ভাবে কাজে লাগে অ্যানাবলিজমে।

২. আরেকটা হচ্ছে ক্যাটাবলিজম। এই প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদনের জন্য পুষ্টি উপাদানকে ভেঙে ফেলা হয়।

কোন জিনিসগুলি মেটাবলিজম নির্ধারণ করে

• বয়স — বয়স খুব গুরুত্বপূর্ণ। বয়স যত বাড়তে থাকে মেটাবলিজমের হার তত কমতে থাকে। ৪০ বছর বয়সের পরে প্রতি ১০ বছরে মেটাবলিজম ৫ পার্সেন্ট করে কমতে থাকে। এই কারণে এই সময়ে পেশীর ভরও কমে যায়।

• লিঙ্গ — পুরুষের মাসলের ভর নারীর মাসলের ভরের চেয়ে বেশি এবং পুরুষের দ্রুত ক্যালরি খরচ হয়। সন্তান ধারণের পরে নারীদের মেটাবলিজমের হার বেশ কমে যায় এবং বেবি ফ্যাট থেকে যায়।

• বংশগতি — মেটাবলিজমের ওপর বংশগতির প্রভাব আছে।

• ওজন — যারা বেশি লম্বা এবং যাদের মাসলের ভর বেশি চিকন ব্যক্তিদের চেয়ে, তাদের ক্যালরি খরচ বেশি হয়। কারণ, তাদের নড়াচড়া করতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়।

বাসাল মেটাবলিজম রেট কী?

মৌলিক মেটাবলিক রেটই হচ্ছে বাসাল মেটাবলিক রেট। সংক্ষেপে বিএমআর (BMR)। এটা ঠিক করে আপনার শরীরের ম্যাক্সিমাম ক্যালরি খরচের জন্য কত মিনিমাম শক্তির দরকার হবে। এই রেট অনুযায়ী বেঁচে থাকার জন্য আপনি প্রতিদিন দেহের ৪০ থেকে ৭০ পার্সেন্ট শক্তি খরচ করেন।

মেটাবলিজমের এই হার আপনার জীবন যাপনের ধরনের ওপরও নির্ভর করে। আপনি কতটা সক্রিয় তার ওপর। কেউ যদি বলে আপনার মেটাবলিজম কম— এর অর্থ হচ্ছে আপনার বিএমআর কম।

মেটাবলিজম ও দেহের পুষ্টি উপাদানের মধ্যে কী সম্পর্ক?

পুষ্টি ছাড়া আমাদের দেহের পুষ্টি উপাদান অর্থাৎ ডিএনএ ও আরএনএ এই নিউক্লিক এসিডগুলি ভাঙবে না। মেটাবলিজম এগুলি ভাঙতে সহায়তা করে ও এগুলি ভেঙে শক্তি উৎপাদন করে। শরীরের কী পরিমাণ পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন তা নির্ধারণ করে মেটাবলিজম।

১. মেটাবলিজম ও শর্করা — শরীরের শক্তি উৎপাদন করে শর্করা। আমরা প্রতিদিন যে স্টার্চ, সুগার ও সেলুলোজ খাই তা থেকে আমরা শক্তি পেয়ে থাকি। মেটাবলিজম এই পুষ্টি উপাদানগুলিকে ভেঙে ফেলে ও প্রতিদিনের শক্তি সরবরাহ করে।

ভাত, রুটি, পাউরুটি, পাস্তা, আলু, সেরেয়াল ইত্যাদি খাবারের মাধ্যমে মানুষ শর্করা পায়। গ্লুকোজ হল শরীরের শক্তির প্রধান উৎস, মেটাবোলাইজোশ স্টার্চ ও সুগার থেকে এই গ্লুকোজ তৈরি হয়। খাবার হজমের পরে এই প্রক্রিয়া ঘটে।

২. মেটাবলিজম ও আমিষ — আমাদের দেহের পেশী ও টিস্যু গঠনের জন্য আমিষ বা প্রোটিন দরকারি। প্রোটিন শরীরের কোষের খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রোটিন হিমোগ্লোবিন তৈরি করে। রক্তপ্রবাহে অক্সিজেন, ডিএনএ ও নাইট্রোজেন পরিবহনের জন্য প্রোটিনের ভূমিকা প্রধান। প্রোটিনে অ্যামিনো এসিড থাকে। খাবার থেকে আমরা যেসব অ্যামিনো এসিড পেয়ে থাকিতা হচ্ছে:

  •  ভ্যালাইন
  • ট্রাইপটোফান
  • মেথিওনিন
  • লুসিয়েন
  • আইসোলিউসিন
  • ফেনাইল্যাল্যানিন
  • থেরোনিন
  • লাইসিন

৩. মেটাবলিজম ও ফ্যাট — প্রোটিন ও শর্করার দুই গুণ শক্তি উৎপাদন করে ফ্যাট। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরের জন্য খুবই দরকারি।

কোষের গঠন তৈরি ছাড়াও  দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে রক্ষা করে ফ্যাট। ফ্যাট বা চর্বি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে । ফ্যাটে দ্রবণীয় বিভিন্ন ভিটামিন শরীরে শোষিত হয় ফ্যাটের মাধ্যমে। শরীরের মেটাবলিক ফাংশন যথাযথ রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খুব দরকার। আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হল স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যেমন, আরাকিডনিক ও লিনোলেইক ফ্যাট।

healthy-fat-32

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরের জন্য খুবই দরকারি।

৪. মেটাবলিজম এবং ভিটামিন ও মিনারেল — শরীরের বিভিন্ন ফাংশন নিয়ন্ত্রণের জন্য মিনারেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন খাবার থেকে যে মিনারেল পাওয়া যায় তা সরাসরি শক্তির জন্য ব্যবহৃত না হলেও মেটাবলিক প্রক্রিয়ায় মিনারেলের গুরুত্ব অনেক। কিছু মিনারেলের অভাবে শরীরের নিয়মিত ফাংশনে বিঘ্ন ঘটে।

শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় মিনারেলগুলি হল:

  • আয়োডিন
  • ক্যালসিয়াম
  • ফসফরাস
  • আয়রন
  • সোডিয়াম
  • ক্লোরাইড আয়ন
  • পটাসিয়াম
  • কোবাল্ট
  • কপার
  • ম্যাঙ্গানিজ
  • ম্যাগনেসিয়াম
  • জিঙ্ক
  • ফ্লুরিন
green-tea-232

গ্রিন টি মেটাবলিজম বাড়ায় এবং ফ্যাট ঝরায়।

কীভাবে মেটাবলিজম বাড়াবেন?

• গ্রিন টি ও কফি পান করুন — গ্রিন টি মেটাবলিজম বাড়ায় এবং ফ্যাট ঝরায়। সকালে এবং সারাদিন ধরে কফি পান করলে তা আপনাকে সক্রিয় রাখে ও কর্মস্পৃহা বাড়ায়।

• ভিটামিন ডি গ্রহণ করুন — গবেষণায় দেখা গেছে যাদের শরীরে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ কম তাদের ওজন খুব দ্রুত বাড়ে।

• সঠিক খাবার খান — বেশি প্রোটিন ও প্রচুর আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান। পেটের মেদ কমানোর জন্য ও মেটাবলিজম বাড়ানোর জন্য শুকনা মরিচ, ক্যাপসিকাম ও গোল মরিচ সমৃদ্ধ খাবার খান।

• নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করুন — নিয়মিতভাবে দিনে কয়েকবার অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করুন। এতে মেটাবলিজম রেট ঠিক থাকে ও রক্তে সুগারের পরিমাণ স্থিতিশীল থাকে।

• ব্যায়াম করুন — ভালো খাবার খাওয়া ছাড়াও মেটাবলিজম বাড়ানোর প্রধান উপায় হলো ব্যায়াম করা। হাঁটা, সাঁতার অথবা পরিশ্রম হয় এমন যে কোনো ধরনের ব্যায়াম খুবই কার্যকরী।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক