page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

“যা কবিতা লেখার সেটা ১৯৬০ সালে লেখা হয়ে গেছে।”—সোয়েব মাহমুদ

সাঈদ রূপু: এইবার আপনার কি বই বের হইছে?

সোয়েব মাহমুদ: এইবার আমার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ বের হচ্ছে, ঘাসফুল প্রকাশনী থেকে। এবারের কাব্যগ্রন্থটার নাম হচ্ছে ‘আড়াইতলা সিঁড়িঘরে ব্যক্তিগত নিঃশ্বাস’।

সাঈদ: এটা কতদিন যাবৎ নিয়ে লেখা?

সোয়েব: এটা, এবারের পাণ্ডুলিপিটায় আপনার পুরনো কিছু কবিতাও আছে, আর নতুন কিছু। আমরা সময়কাল যদি চিন্তা করি তাহলে এখানে কিছু কবিতা ২০১০-এর আছে, কিছু ২০১২, আর বাকিটা আপনার ২০১৫-র বইমেলার পর।

সাঈদ: আচ্ছা, লেখালেখিতে আসা হইল কতদিন যাবৎ?

সোয়েব: লেখালেখিটা আসলে হুট করেই চলে আসা, ২০০৮-এ।

boimela-logo-2016

সাঈদ: এর আগে কি লেখালেখি করতেন?

সোয়েব: এর আগে লিখালিখি হতো, কিন্তু ওভাবে না। মানে পাবলিশড আকারে কিছু না। জাস্ট ওটা ছিল নিজের জন্য।

সাঈদ: আচ্ছা, এই বইয়ে কতগুলি কবিতা আছে?

সোয়েব: আমার প্রথম বই যেটা ছিল সেটা হচ্ছে ‘রবীন্দ্রনাথ কখনওই এখানে চা খেতে আসেননি’—ওখানে মূলত কবিতা ছিল, ওটা গত বইমেলাতে প্রকাশিত হয়েছিল বর্ণচাষ থেকে, ওখানে কবিতা ছিল ৭৫টার মতো। আর এবারেও যেইটা ‘আড়াইতলা সিঁড়িঘরে ব্যক্তিগত নিঃশ্বাস’, এই বইটায় কবিতা আছে আপনার ৬২।

সাঈদ: এই ৬২ কি একই থিম নিয়ে লেখা, নাকি…?

Shoyeb-book

আড়াইতলা সিঁড়িঘরে ব্যক্তিগত নিঃশ্বাস। সোয়েব মাহমুদ । ফেব্রুয়ারি ২০১৬ । ঘাসফুল । দাম: ১৫০ টাকা। প্রচ্ছদ: মোস্তাফিজ কারিগর।

সোয়েব: না না, একই থিম নিয়ে কবিতা লিখতে গেলে আসলে, আপনি যখন একই তরকারি দিয়ে বার বার ভাত খান সেটা আপনার জন্য সুখকর হবে না কখনো। তো এইজন্য কবিতার চেন্জ আনার জন্য বিভিন্ন সাবজেক্ট নিয়ে লেখালেখি হয়েছে। তবে আমি মূলত বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা যেটা বা আমরা যেই জায়গাটায় আটকা পড়ে আছি, আমাদের চিন্তার জায়গা সেই জায়গাগুলো নিয়ে একটু লেখার চেষ্টা করছি। সবাই যেখানে বলছে মুক্তচিন্তা, সেখানে আমি চিন্তা করছি যে মুক্তচিন্তা বলে তো আসলে কিছু নেই, আমরা চিন্তার মুক্তিটা ঘটাতে পারি।

সাঈদ: আচ্ছা, এই কবিতার নামকরণের ক্ষেত্রে…।

সোয়েব: নামকরণের ক্ষেত্রে আসলে, আড়াইতলা সিঁড়িঘর তো, আমাদের প্রত্যেকটা মানুষেরই কিন্তু কিছু ব্যক্তিগত জিনিস থাকে। বা ব্যক্তিগত নিঃশ্বাসের কিছু জায়গা থাকে, ভালো লাগার কিছু জায়গা থাকে, ওই থেকে।

সাঈদ: প্রিয় লেখক?

সোয়েব: আমার প্রিয় লেখক আসলে কবিতার জায়গাটায় রাকিবুল হায়দার। কারণ আমি অনেকের নাম বলতে পারতাম, কিন্তু ব্যাপারটা হচ্ছে যে আমরা একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছি বার বার যে আমরা কিছু হলে রবীন্দ্র-নজরুল টান দিচ্ছি। উনারা যে সময়ের, উনারা অগ্রজ, বাংলা সাহিত্যের পথপ্রর্দশক সব কিছু আমি মানলাম, কিন্তু আমাদের এখন উচিত আমাদের সময়কালে যারা আছেন তাদের লিখাগুলা পড়া। এখন আমরা যদি এখনো ২০১৬ তে এসে ১৯২০ সালের কবিতা নিয়ে আলোচনা করি এটা হচ্ছে না। ১৯২০ সালের প্রেক্ষাপট আর ২০১৬ র প্রেক্ষাপট দুইটা আলাদা প্রেক্ষাপট। তো এ ক্ষেত্রে আমি যেটা করি যে, আমাদের সমসাময়িক যারা আছেন, আমি তাদের কবিতাই বা তাদের ছোটগল্প, তাদের গল্প—সেগুলাই পড়ছি।

সাঈদ: আচ্ছা, আপনি কি কাউকে ফলো করেন?

সোয়েব: আমি বাংলা ভাষায় যারা কবিতা লিখছেন বা লিখে এসছেন…।

সাঈদ: মানে আপনার লেখালেখিতে কি ও রকম কারো প্রভাব আছে?

সোয়েব: প্রত্যেকের, প্রত্যেকের। বাংলা ভাষায় যিনি প্রথম কবিতা লিখেছেন সেই থেকে শুরু করে, চর্যাপদ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত প্রত্যেকের কাছ থেকে আমি কিছু না কিছু নেওয়ার চেষ্টা করি। আমি বিশ্বাস করি যে যা কবিতা লেখার সেটা ১৯৬০ সালে লেখা হয়ে গেছে। এখন যেটা হচ্ছে, আমি পুরোনো শব্দগুলিকে নতুন ভাবে উপস্থাপন… নতুন করে কিছু লেখার নাই আর!

সাঈদ: আচ্ছা, এটা কি ভাষার রূপান্তরের যে ব্যাপারটা?

সোয়েব: হ্যাঁ, জাস্ট রূপান্তরটা।

সাঈদ: আচ্ছা, সেটা কি আপনার কবিতায় আসছে এবার?

সোয়েব: হ্যাঁ কিছুটা, আমি চেষ্টা করেছি।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ১/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাঈদ রূপু
সাঈদ রূপু

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স। ইন্ডিপেনডেন্ট টিভিতে শিক্ষানবিশ সাংবাদিক।