শান্তিনগর মোড়ে নাইমা ডাইন দিকে গলিতে ঢুকলে একটা নতুন ক্যাফে হইছে। ‘রোজমেরি’ সম্ভবত নামটা, ঢুকার পথে যে পার্লারটা আছে তার নামও রোজমেরি।

বিকালে আমার এক বান্ধুবীর সঙ্গে গেছিলাম বেইলি রোডে। মানে সে ছিল, আমি গেছিলাম। দৌড়াইয়া দৌড়াইয়া বেইলি রোড যাই না অনেকদিন। এইবার কতদিন পর গেছি মনে নাই।

শান্তিনগর মোড়ে নাইমা ডাইন দিকে গলিতে ঢুকলে একটা নতুন ক্যাফে হইছে। ‘রোজমেরি’ সম্ভবত নামটা, ঢুকার পথে যে পার্লারটা আছে তার নামও রোজমেরি। রোজমেরি কীসের নাম? সাইনবোর্ড না কী জানি থাকে যে একটা নেইমপ্লেট, ওইটাতে, পার্লারের দেয়ালে মারা ছিল তাতে দুইটা তিনটা কুৎসিত মেকআপ করা মেয়ের ছবি, আর নাম দেইখা ফুল ফুল মনে হইছিল আমার, রোজমেরি।

ক্যাফেটা একটু মজার আছে। সেইটা কেন বলি, দরজা দিয়া ঢুইকাই একটা ব্রিটেন ব্রিটেন ফিল আসছে। ভিতরে নামটা ঝুলানো কাউন্টারে, বেগুনি রঙের বাতি জ্বলতেছে নামে। একটু পপ পপ। লাইটিংয়ের আরো বিষয় ছিল।

কিছু সময়ের জন্যে ভাবছি একটা বার এইটা। মেঝের সিস্টেমও ওদের আলাদা। মূল মেঝে থেইকা আরেকটু উঁচু কইরা আরেকটা সেকেন্ড মেঝে করা হইছে। আর গোল গোল ছোট টেবিল, রাউন্ড শোল্ডারের চেয়ার। হলুদ বাতিগুলি ঠিক টেবিলের উপরে। দেয়ালে বেশি কিছু নাই আবার দেয়ালের সাধারণ কাজকর্ম আছে জাস্ট। জায়গাটা খুবই কনজাস্টেড, অতি অল্প একটা মোটামুটি বড় আকৃতির রুমের মধ্যে নিচের ফ্লোরে দুইটা ছোট টেবিল আরো কয়টা বাড়তি চেয়ার এবং কাউন্টার, উপরের ফ্লোরে একটা লম্বা টেবিল এবং একটা ছোট টেবিল। কিন্তু আবার প্রত্যেকটারে প্রত্যেকটা থেইকা আলাদা করা গেছে। প্রত্যেক টেবিলের যেন নিজস্ব ঘরবাড়ি আছে অল্প মাপের।

আমরা দুই স্টেপের সিঁড়ি দিয়া উইঠা মিনি সেকেন্ড ফ্লোরে একটা ছোট টেবিলে বসছিলাম। আমি বসছিলাম দরজার দিকে মুখ কইরা। বইসা চোখ পড়ল নিচে, দুই ধাপের সিঁড়িতে, মনে পড়ল আমরা যে বর্ষাকালে মাছ ধরা মাছ ধরা খেলতাম।

ছোটকালে অনেক বৃষ্টি হইলে আমাদের দুই স্টেপের সিঁড়িওয়ালার বাসার বাইরে পানি জমত হাঁটু সমান। তখন আমাদের স্কুলে পাঠানো হইত না। আমরা বাসায় থাইকা যা ইচ্ছা করতাম। আমি মনের সুখে আমার মাছ ধরার যন্ত্রপাতি বের কইরা দুয়ারে পাপোষের উপর বইসা যাইতাম। খেলনা বড়শিতে খেলনা মাছ আটকাইয়া ওই পানিতে ফেলতাম। জিনিসটা খুব সতর্কতার সহিত করতাম এবং অবশ্যই ধীরে সুস্থে।

ফেইলা কতক্ষণ এদিক ওদিক তাকাইতাম, পাশের ফ্ল্যাটগুলাতে কারা মাছ ধরতেছে দেখতাম, তাদের জিজ্ঞেস করতাম আপনাদের কয়টা মাছ উঠছে বড়শিতে? মাছের নাম কী? কত বড়? তারপর নিজেরটার ডান্ডি ঘুরাইয়া সুতা উপরে তুইলা দেখতাম মাছ উঠছে কিনা। না উঠলে আফসোস কইরা আবার টোপ দিয়া বড়শি ফেলতে হইত।

মাঝে মাঝে কী হইত, চাঁচের মাছগুলি বড়শি থেইকা খুইলা পানিতে পইড়া যাইত। যাইত হারায়া। তা তখন আর পাওয়া যাইত না। পাওয়া যাইত পানি শুকায়া গেলে পরে। কাদার মধ্যে কোথাও কাদা মাখামাখি হইয়া আমার লাল, নীল, সবুজ রঙের মাছ হা কইরা আছে। ওইগুলি তখন টোকায়া নিয়া সাবান দিয়া ধুইয়া মুইছা শুকনা কইরা আবার খেলনার মধ্যে রাইখা দিতাম। আর মাছ উঠলে বলতাম, মাছ উঠছে, মাছ উঠছে, বোয়াল মাছ উঠছে!

ওগুলি পরে ছোট ঝুড়িতে কইরা মাছ বেচা বেচাও খেলছি হয়ত, এইটা মনে নাই। তবে আমার সব মাছ রাখার জন্য আলাদা জায়গা ছিল।

রোজমেরি’র ছোট সিঁড়ি দেইখা আমার ওই মাছ ধরার কথা মনে পড়ল। ভাবতে গিয়া মনেই হয় নাই কত আগের কথা ভাবতেছি। খেলনাগুলিও কবে নাই হইয়া গেছে। কীভাবে নাই হইছে, কারে দিছি তাও বলতে পারব না।

৭/১১/২০১৮