লিভার বা যকৃৎ সুস্থ রাখতে চাইলে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং বার্গার খুবই খারাপ চয়েস।
লিভার সুস্থ রাখবে যে খাবারগুলি

 

ওটমিল

উচ্চমাত্রার ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার লিভারের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখার পক্ষে সহায়ক। দিনের শুরুটা সবচেয়ে ভালো খাবার দিয়ে করতে চান? তাহলে ওটমিল খান। গবেষণা বলে, ওটমিল ওজন এবং পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে। যা লিভারের রোগ দূরে রাখার ভালো উপায়।

ব্রোকোলি

লিভার সুস্থ রাখতে হলে প্রতিদিনের খাবারে বেশি বেশি সবজি রাখুন। ব্রোকোলি আপনার এই প্ল্যানের অংশ হতে পারে। গবেষণা অনুসারে, এই সবজি আপনাকে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি) থেকে বাঁচাতে পারে।

কফি

আপনার যদি কফির প্রতি আসক্তি থেকে থাকে, তাহলে জেনে খুশি হবেন লিভারের জন্য কফি কিছু উপকারী কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে দিনে ২ বা ৩ কাপ আপনার লিভারকে অনেক বেশি অ্যালকোহল বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে। কিছু গবেষণা এমনও দেখিয়েছে, কফি হয়ত লিভার ক্যান্সারেরও ঝুঁকি কমাতে সক্ষম।

গ্রিন টি

গ্রিন টি ক্যাটেকাইনস নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। গবেষণা অনুসারে, এটা লিভার ক্যান্সারসহ আরো কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। আরো বেশি ক্যাটেকাইনস আপনি পেতে পারেন যদি তা নিজে বানিয়ে গরম গরম খান। আইসড টি এবং রেডি-টু-ড্রিংক গ্রিন টিতে ক্যাটেকাইনস কম মাত্রায় থাকে।

পানি

লিভারের সুস্থতার জন্যে সবচেয়ে ভালো কাজ যেটা আপনি করতে পারেন তা হলো একটা স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা। সোডা বা স্পোর্টস ড্রিংকসের মতো চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে পানি পান করার অভ্যাস করুন। ফলাফল দেখে অবাক হবেন যে কী পরিমাণ ক্যালোরি এতে রক্ষা হচ্ছে প্রতিদিন।

কাঠবাদাম

বাদাম—বিশেষত এই বাদামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই’সহ এমন একধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে যেটা আপনাকে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ থেকে বাঁচাতে পারে। কাঠবাদাম আপনার হার্টের জন্যেও ভালো। তাই, এরপরে যখন কোনো স্ন্যাকস খেতে ইচ্ছা করবে কিছু কাঠবাদাম খেয়ে নিন, চাইলে তা সালাদে ব্যবহার করেও খেতে পারেন।

পালং শাক

সবুজ শাকে গ্লুটাথায়োন নামের এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। যা আপনার লিভারকে কর্মক্ষম রাখতে পারে। আর পালং তো রান্না করাও সহজ।

ব্লুবেরি

এতে থাকা পলিফেনল নামের পুষ্টি উপাদান আপনাকে নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ থেকে রক্ষা করতে পারে, একই সঙ্গে তা স্থূলতা এবং উচ্চ কোলেস্টেরল থেকেও বাঁচায়। ব্লুবেরি যদি আপনার পছন্দের না হয়ে থাকে তাহলে পলিফেনল সমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার যেমন ডার্ক চকলেট, জলপাই কিংবা বরই খেতে পারেন।

ভেষজ এবং মশলা

লিভার এবং হার্টকে একসঙ্গে সুস্থ রাখতে চান? তাহলে খাবারের ওপর কিছু অরিগ্যানো, সেইজ বা রোজমেরি ছিটিয়ে দিন। এগুলি স্বাস্থ্যকর পলিফেনলের ভালো উৎস। এই মশলাজাতীয় উপাদানগুলির আরেকটা ভালো দিক আছে, অনেক খাবারে এগুলি লবণের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায়। দারুচিনি, কারি পাউডার, জিরাও লিভারের জন্যে ভালো।

 

লিভারের জন্যে ক্ষতিকর যে খাবারগুলি

 

চর্বিযুক্ত খাবার 

লিভার বা যকৃৎ সুস্থ রাখতে চাইলে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এবং বার্গার খুবই খারাপ চয়েস। প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট আছে এমন খাবার আপনার লিভারের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। সময় বাড়ার সাথে সাথে তার কারণে প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে যেটা পরবর্তীতে ক্ষত তৈরি করতে পারে লিভারে, এই অবস্থাকে বলে সিরোসিস। তাই এর পরে যখন কোথাও খাবার অর্ডার করবেন, মাথা ঠাণ্ডা রেখে স্বাস্থ্যকর কিছু অর্ডার করুন।

চিনি  

অতিরিক্ত চিনি আপনার লিভারের ক্ষতি করতে পারে। তার কারণ, লিভারের কাজ হলো চিনিকে ফ্যাটে পরিণত করা। চিনি যদি বেশি খান, তাহলে লিভারও অনেক বেশি ফ্যাট তৈরি করবে, আপনিও মুটিয়ে যাবেন। পরবর্তীতে হয়ত এর কারণে আপনার ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হবে। তাই লিভারের সুস্থতার কথা মাথায় রেখে চিনি জাতীয় খাবারকে শুধু উৎসবেই সীমাবদ্ধ রাখুন।

লবণ  

লবণ অবশ্যই দরকারি শরীরের জন্যে, কিন্তু আপনি যেই পরিমাণে খান তত না। কিছুদিন আগের একটা গবেষণা দেখিয়েছে খাবারে উচ্চমাত্রার সোডিয়াম থাকলে তার কারণে ফাইব্রোসিস হয়, যা লিভারে ক্ষত হওয়ার প্রথম ধাপ। তবে কিছু সহজ উপায় আছে এই বিষয় করার। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়ান। ক্যানড সবজির বদলে মাছ কিনুন। খাওয়ার টেবিল থেকে লবণ সরিয়ে ফেলুন।

অ্যালকোহল

মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল লিভারের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। এবং এই অবস্থা চলতে থাকলে পরবর্তীতে আপনার সিরোসিসও হতে পারে। এমনকি বিশেষ উপলক্ষে অনেক খেয়ে ফেলাও স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর।

প্যাকেটজাত স্ন্যাকস 

এর পরে এই ধরনের কিছু খেতে মন চাইলে স্বাস্থ্যেকর কিছু খেতে চেষ্টা করুন। এই চিপস এবং বেক করা খাবারগুলির সমস্যা হলো এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে চিনি, লবণ এবং ফ্যাট থাকে। আর তা বাদ দিতে ছোট ছোট কিছু প্ল্যান করুন। যেমন একটা ভালো উপায় হলো, অফিসে যাওয়ার সময় সঙ্গে করে বেশ কিছু স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস নিন। ফল, বাদাম এবং এরকম স্বাস্থ্যকর খাবার সাথে নিন।