লুঙ্গি মহফেল
লুঙ্গি মহফেল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঔপনিবেশিক হীনম্মন্যতা মুক্তির কৌতুকমণ্ডিত প্রচেষ্টা। ‘কৌতুক’ কারণ বিরোধিতারে যাতে আবার তীব্র মনে না হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত লুঙ্গি মহফেল তথা লুঙ্গি পইরা ক্লাস করার ঘটনারে অনেকেই লুঙ্গির ঢাকা ইউনিভার্সিটি বিজয় হিসাবে দেখতেছেন। আমি তা দেখি না।

কেন তা দেখি না?

কারণ আমি মনে করি না, লুঙ্গির কাজ মিডল ক্লাস শ্রেণীর স্বার্থপর সমাজ-রাজনীতিরে আদৌ সার্ভ করা।

লুঙ্গি যাদের আনুষ্ঠানিক পোশাক বা সামাজিক ত্বক সেই ছোটলোকদের প্রতি শ্রেণিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ তথা ডাকাতি হইল বিশ্ববিদ্যালয়ে লুঙ্গির এই রকম উচ্চশিক্ষা গ্রহণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অবশ্যই লুঙ্গি পইরা আপনি যাইবেন, কিন্তু যখন লুঙ্গিরে উর্ধ্বে তোলার আন্দোলন আপনি করতে আছেন তখন লুঙ্গি আর লুঙ্গি থাকে না। লুঙ্গি মহফেলে লুঙ্গির বিশ্ববিদ্যালয়করণ ঘটে। লুঙ্গি ভদ্র হইয়া না-লুঙ্গিতে অধঃপতিত হয়।

বনেদি জায়গায় লুঙ্গি পইরা গেলে লুঙ্গিতে বনেদিয়ানা যোগ হয় বটে। তবে এই ভদ্রকরণ বা উন্নয়ন চোখে আঙুল দিয়া লুঙ্গির নিচু অবস্থানের স্বীকৃতিরেই নিশ্চিত করতে থাকে। যেমতি রিকশাওয়ালার মাইয়ার ডাক্তারি পাশ লইয়া আপনারা করুণা করতে করতে ছোটলোকদের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার কইরা থাকেন।

এইবার লুঙ্গি মহফেলের প্রণোদনায় ছোট জাতের লুঙ্গি বড় জাতের ইউনিভার্সিটিতে ঢুকতে পারছে সে আনন্দে লুঙ্গিরে প্যান্ট পরাইয়া দিছেন আপনারা, খুব ভালো! কিন্তু আপনারা লুঙ্গি না, বরং ইউনিভার্সিটিরই প্রেমিক-প্রেমিকা থাকতেছেন বরাবর।

লুঙ্গি মহফেল ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঔপনিবেশিক হীনম্মন্যতা মুক্তির কৌতুকমণ্ডিত প্রচেষ্টা। ‘কৌতুক’ কারণ বিরোধিতারে যাতে আবার তীব্র মনে না হয়। আমি এইসব দুই নম্বরির বিরোধিতা করি না, তবে এতে কোনো শ্লাঘাও বোধ করি না আমি।

আমরা যারা দেশের অধিকাংশ বেডা লোক ও পোলাপাইন লুঙ্গি পইরা দিনাতিপাত করি তাদের উত্তেজনার কিছু নাই লুঙ্গি কোন মহারাজার নাতি না বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডা-বাচ্চারা পরছে তা দিয়া।

আমাদের জন্যে ব্যাপারটা এই রকম যে, ও, অরা লুঙ্গি পরছে, ঠিক আছে, পরুক।

১১/৪/২০১৯

কভার. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লুঙ্গি মহফেল এপ্রিল, ২০১৯