কেউ যখন বলেন লেখা ছাপা না হইলে তা লেখা না, এতে তার সরল স্বীকারোক্তি থাকে যে ছাপা হওয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ লেখার চাইতে।

৩ জুলাই ২০১৯ কবি মৃদুল মাহবুব তার একটা ফেইসবুক পোস্টে বলছেন, “আপনা‌কে লেখক প‌রিচয় নিতে হলে অবশ্যই বই আকারে চিন্তা, ক‌বিতা, শিল্প নিয়ে নিজেকে হা‌জির রাখতে হবে।”

এই চিন্তা অনেককেই করতে দেখছি, তারা নতুন জনপ্রিয় হওয়া মিডিয়া ফেইসবুকের লেখালেখির বিরোধিতা করেন। শুধুমাত্র লেখার বই আকারে ছাপা হওয়া রূপকেই গ্রহণ করেন।

এর বিপক্ষে কথা হওয়ার দরকার আছে বইলা আমি মনে করি। যেহেতু সামাজিক অস্বীকৃতি লেখকের জন্যে মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করে। এছাড়াও এই অস্বীকৃতি ফেসবুকের মতো বিশাল একটা মিডিয়ায় যেইখানে প্রচুর পাঠক আছে সেখানে লেখালেখিকে নিরুৎসাহিত করে।

ফেসবুক মিডিয়াতে যেহেতু এখন প্রচুর লেখক ও পাঠক, তারা বিভিন্ন সামাজিক ভাষ্যকারদের দ্বারা প্রভাবিত হন। এবং এইরকম উপযাচক ও ভুল চিন্তার কোনো সমালোচনা না থাকায়, তরুণ ও প্রবীণ লেখকদের এর দ্বারা বিপথগামী হওয়ার বড় আশংকা আছে।

সে থেকেই আমার এই সামান্য সমালোচনা।

 

লেখাকে লেখা হইতে ছাপা হওয়ার দরকার নাই

কেউ যখন বলেন লেখা ছাপা না হইলে তা লেখা না, এতে তার সরল স্বীকারোক্তি থাকে যে ছাপা হওয়া অধিক গুরুত্বপূর্ণ লেখার চাইতে।

ছাপা লেখার যে সাহিত্য বিচার হইতে পারে, তা ছাপার পূর্বে না থাকার কারণ নাই। এর জন্য যদি তারে আপনার লেখা বলতেই আটকায়, সেক্ষেত্রে বলতে হবে লেখা বিচারের নামে আপনি করেন কাগজ বিচার।

অন্যভাবে বলতে গেলে, এইটা হইল ঘটনায় সাবজেক্টের বদলে টুলকে বড় কইরা দেখার সমস্যা। ঘটনায় কে বড় তা বুঝতে পারেন না আপনি।

লেখা যখন হইল, শেষ হওয়া মাত্রই সে লেখা। তার অনুমোদিত হইবার প্রয়োজন নাই। ছাপা হওয়ার সাহায্য ছাড়াই সে আলাদা এবং নিজ চরিত্রে অবস্থান করতে সক্ষম।

ছাপা হওয়ারে লেখার জাস্ট আরেকটা নতুন অবস্থা, একটা মিডিয়ায় যুক্ত হওয়া বা তার অস্তিত্বের কট্টর প্রমাণ বলতে পারেন। তা সাবজেক্ট না, সাবজেক্টের জন্যে একটি সহায়ক ঘটনা। বা লেখাকে ভিন্ন অবস্থা দানের একটি টুল। এখন সেই টুল না থাকলে সাবজেক্টই নাই এমন বলবেন কিনা?

বলেন, কিন্তু সেইটা হাস্যকর হবে।

তবে সহায়ক ঘটনা অনেক সময় সাবজেক্টের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ হইয়া উঠতে পারে। সেইটা ভিন্ন কেইস। তবুও তাতে সাবজেক্টের ছোট হওয়া ঘটে না। তার কেন্দ্রে থাকাটা কন্সট্যান্ট।

ছাপা হওয়া একটি ভঙ্গিমাত্র লেখার এবং ভঙ্গি অস্তিত্ব না। ফলে, এর থাকা না থাকায় লেখার লেখা হইয়া ওঠা না ওঠা হয় না।

প্রমাণ সাবজেক্টের অস্তিত্ব প্রমাণের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ হইতে পারে। তা দিয়া তার সাবজেক্টের চাইতে বড় হওয়া হয় না। এইটা সবচেয়ে সহজ উপায়ে বুঝতে পারবেন কে কার প্রয়োজনে ক্রিয়া করে এবং কতটুকু পর্যন্ত করে।

লেখা বড় এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ বইলাই সে প্রমাণিত হইতে পারে। এমনকি নিজস্বতা ধারণের কারণেও। যা টুল বা ভঙ্গি বা মিডিয়া পারে না, তাদের সেই ক্ষমতা নাই। তাদের দৌড় সাবজেক্টের কাজে ব্যবহৃত হওয়া পর্যন্তই এবং শুধুমাত্র সাবজেক্টের খাতিরেই কথা বলে তারা।

একমাত্র লেখা থাকলেই সেই লেখা সম্পর্কিত ঘটনা থাকা সম্ভব, না থাকলে নাই।

ফলে, লেখা ছাপা হইল কি হইল না তা দিয়া সে লেখা না। সে ছাপা হওয়ার বাইরেই লেখা।

৪ জুলাই ২০১৯