page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

শান্তিবাগ—শান্তির নিবাস

জীবনের সব অভ্যাস বদলে গেলেও একটা অভ্যাস আমি কোনো দিন বদলাতে পারি নাই।

সেটা হল দিনে একবেলা হলেও মাছ, ডাল দিয়ে ভাত খাওয়া। ভাত না খেয়ে অন্য যে কোনো কিছু খেলে মনে হয় আমি কী জানি খাই নাই। তাই ভাত আমাকে খেতেই হয়। আগে দুইবেলা ভাত খেলেও এখন শুধু দুপুরে খাই। যেখানেই থাকি না কেন দুপুরে আমি ভাত খাবই। সকালের নাস্তায় ডিম, পরোটা, মাংস, ভাজি এসব খাওয়া আমি কবেই বাদ দিয়ে দিয়েছি। পেলেও খেতে ইচ্ছা করে না। কিন্তু দুপুরে ভাত না খেলে মনে হয় মরেই যাব, এমন মনে হয়।

কাজে যাই আর বাসায় থাকি খাওয়ার নিয়ম আমার এক রকম। বাইরে কোথাও গেলে দুপুর গড়িয়ে গেলে ক্ষুধা লাগে। ইচ্ছা হয় কিছু খেয়ে নেই। আবার ভাবি, তার চেয়ে বাসায় চলে যাই। বাসি তরকারি গরম করে ভাত দিয়ে খেয়ে নিব কাঁচামরিচে কামড় দিয়ে। অমৃতের স্বাদ সেই খাওয়ায় পাই আমি।

murad hai logo

আজ দুপুরেও বাইরে থেকে ঘুরে এসে মাছ ভাত গরম করে খেতে বসেছি। খালাম্মার কথা মনে পড়ে গেল। সকালে কথা বলেছি অনেকক্ষণ ওনার সাথে। এই মানুষের সাথে কথা বললে খুব শান্তি লাগে। কিশোরের বেড়ে ওঠার সময় কত রকম স্মৃতি তৈরি হয়। কিছু মধুর, কিছু তিক্ত। আমার সব মধুর স্মৃতিগুলি তৈরি হয়েছে এই খালাম্মাকে ঘিরে। ভাত খাওয়ার সাথে খালাম্মাকে কেন টানছি! সেখানেই তো মজা। ভাতের প্রতি এত টান হয়েছে আমার ওনার কারণেই।

শান্তিবাগের শান্তির নিবাস হল খালাম্মার বাসা। ইনি আমার স্কুলের বন্ধু সাঈদের মা। ক্লাস এইট থেকে ওদের বাসায় যাওয়া শুরু। মা মরা ছেলে আমি। বাসায় কী খাই  না খাই—এই চিন্তায় খালাম্মার ঘুম হারাম হত। আমি গেলেই ভাত বেড়ে দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে খাওয়াত। আমার সব কিছু একসাথে নিয়ে টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে খাওয়ার অভ্যাস। সেই অভ্যাস বদলে দিল খালাম্মা। পাশে দাঁড়িয়ে গরম ভাতের সাথে প্রথমে পাতাকপি ভাজি দিত। সেটা শেষ হলে তারপর রুই মাছের দোপিঁয়াজী। আহা, কী মজার রান্না ছিল। মনে হলে এখনো জিভে পানি চলে আসে।

মাছের কাঁটা বাছতে পারতাম না। পাশে দাঁড়িয়ে মেহেদি লাগানো হাত দিয়ে খালাম্মা কাঁটা বেছে দিত। ভাত টেবিলে পড়া শুরু করলে গুছিয়ে দিত। আমার একটুও খারাপ লাগত না। বরং অদ্ভুত ভাল লাগত। সেই যে আমার ভাতের প্রতি প্রেম হল, আর কোনো দিন কমে নাই। বিরিয়ানী, ভুনা খিচুঁড়ি ভাল লাগে। কিন্তু ভাতের মত মজা পাই না। স্কুল থেকে যেতাম। খালাম্মা বলত হাত মুখ ধুয়ে আসতে। এসব অভ্যাসগুলি আমার আগে ছিল না। কত দিন হাত না ধুয়েই খেতে বসে যেতাম। কিন্তু খালাম্মা আমার সব বদভ্যাস বদলে দিল। সাঈদের চার বোন, সাইদ, ওর বাবা আর আমি একসাথে খেতে বসতাম। খালাম্মা ঘুরে ঘুরে সবার পাতে খাবার বেড়ে দিত। নিজে তখন খেত না। সবাইকে খাওয়ায়ে বিকেল চারটার পর একা একা খেতে বসত।

"খালাম্মা—অজানা তারিখের ছবি। ওনার অ্যালবাম থেকে পাওয়া।"—লেখক

“খালাম্মা—অজানা তারিখের ছবি। ওনার অ্যালবাম থেকে পাওয়া।”—লেখক

সেই বাসার ছোট মেয়ে সুইটি সব সময় মুরগীর রান দিয়ে ভাত খেত। দুইটা রান তার জন্য বরাদ্দ থাকত। তাই আমরা কেউ কোনোদিন মুরগীর সেই পিসগুলি ভাগে পেতাম না। এই নিয়ে আমার অনেক দুঃখ ছিল। পরে দেখা গেল, রান পেলেও আমি আর সেটা খেতে পারি না। মুখে রুচে না। পরীর মত ফুটফুটে দেখতে পিচ্চি সুইটিকে আমরা সবাই অনেক বেশি আদর করতাম। তাই তার পছন্দের উপর কেউ হাত দিতাম না।

খালুসাহেব অফিস থেকে ফিরে আসার সময় অনেক খাবারের প্যাকেট নিয়ে আসতেন। অলিম্পিয়ার মিষ্টি বিস্কুট, সুইস বেকারির পেস্ট্রি, দড়িতে ঝোলানো সাগর কলা, বাক্সভর্তি ইগলু আইসক্রিম। সব ফেলে আইসক্রিম নিয়ে আমাদের কাড়াকাড়ি লেগে যেত। জীবনে কত আইসক্রিম খেয়েছি তার ঠিক নাই কিন্তু ইগলু আইসক্রিমের স্বাদের সাথে আমি আর কিছুই মেলাতে পারি না।

সব সময় তো ভাল নাস্তা থাকে না। শান্তিবাগে বিকালের কমন নাস্তা ছিল টোস্ট বিস্কুট আর চা। নইলে দুধের উপর ভাসতে থাকা সেমাই। এই খাবারটা আমার খুব অপছন্দের ছিল। প্রায়ই না খেয়ে পাশ কাটিয়ে যেতাম পেট ভরা আছে বলে।

তখন কলেজে পড়ি। সাঈদ আর আমি ভিন্ন কলেজে পড়ি। তাই বলে আমাদের সম্পর্কে চিড় ধরে নাই। আমারও শান্তিবাগে যাওয়া কমে নাই। আসলে সম্পর্কটা তখন আর শুধু সাঈদের সাথে একা নয়, আমি হয়ে গেছি সেই পরিবারের অলিখিত আরেক সদস্য।

খালাম্মা ও খালু

খালাম্মা ও খালু ১৯৭৮।—লেখক

আমাদের বিলাস ছিল মৌচাকের মধুমিতা হলে সিনেমা দেখতে যাওয়া, ‘চাংপাই’ রেস্তোরায় চাইনিজ খাওয়া, ইগলু আইসক্রিম, কাচের বোতলের কোক খাওয়া। কিছু কিছু ব্যাপার মনে হলে আমি এখনো আনমনা হয়ে যাই। মনে আছে, খালু কখনো আইসক্রিমের বাক্স আনলে সবাই সেটা খাওয়ার জন্য ব্যাকুল হলে খালাম্মা নাকি বলত—এখন থাক, মুরাদ আসলে খেও।

ছোট বোনগুলি বলত, “মুরাদ ভাই, আপনাকে ফেলে আম্মা আর আমাদেরকে কিছুই খেতে দেয় না। আপনি আমাদের বাসায় থেকে যান। তাহলে আমরা আইসক্রিম আনলে সাথে সাথে খেতে পারব।”

খালাম্মা আমাকে এত আদর করত মনে হলে আমি আসলেই আনমনা হয়ে যাই।

আমার কাছে মনে হত, খালাম্মা দেখতে একদম শাবানা আজমি’র মত। সব সময় খুব সুন্দর করে ইন্ডিয়ান প্রিন্টের নিপাট ইস্তিরি করা সুতি শাড়ি পরতেন। এত গোছানো, পরিপাটি মানুষ উনি যে বাসার টেবিল ক্লথগুলি পর্যন্ত মাড় দিয়ে ইস্তিরি করা থাকত। মনে আছে কলেজের দিনগুলিতে আমি বাসায় গেলে উনি সব সময় আমার গায়ের ময়লা জামাকাপড় খুলে নিয়ে নিতেন। সাঈদের শার্ট-প্যান্ট পড়তে দিতেন। পরে দেখতাম আমার জামা-কাপড় লন্ড্রি থেকে ধুয়ে ইস্তিরি করে আনিয়ে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রেখেছে। মজার ব্যাপার হল, আমি দশ বছর পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে শান্তিবাগে খালাম্মার সাথে দেখা করতে গিয়ে দেখি তখনো আলমারিতে আমার ধোয়া পাঞ্জাবি হ্যাংগারে ঝোলানো আছে।

আমি ছিলাম একদম শুকনা পাটকাঠির মত লিকলিকে লম্বা। দেখতে কালো বর্ণের । কিন্তু খালাম্মার ধারণা হল, আমি কালো নই। কিন্তু আমার গায়ে অনেক ময়লা জমেছে।

বলত, “দেইকসনি, হ্যাতের হাতে পায়ে কত মইলা। মনে কয় নিজের হাতে ডলি সাফ করি দি।”

উনি পারলে তখুনি আমাকে ধরে বাথরুমে নিয়ে ঝামা ইট দিয়ে ঘষে আমার গায়ের ময়লা তুলে ফেলে। এমন ধারণা পেলেই আমি এক দৌড়ে পগাড় পার হয়ে যেতাম। আসলে খালাম্মা আমাকে নিজের ছেলেই ভাবত। সেইরকম আদর করত। আমি যখন আমেরিকার ভিসা পেয়ে ওনাকে জানাতে গিয়েছি, শুনে উনি একদম খুশি হয় নাই। ওনার কথা আমি কেন বিদেশে চলে যাব! বিদেশে কি ভাল মানুষ যায় নাকি! যাদের চালচুলা নাই, ভাতকাপড় নাই শুধু তারাই বিদেশে যায়। আমি কেন যাব। উনি এটা মানতেই পারে নাই। মনে পড়ে ওনার সেই কাঁদো কাঁদো মলিন চেহারা।

ইউনিভার্সিটির জীবনে আমি হলে কাটিয়েছি। হলের খাবার তো একদম দায়সারা গোছের। তাই যখন-তখন শান্তিবাগে চলে যেতাম ক্লাস না থাকলে। দুপুরে খেয়ে সাঈদের ঘরে ঘুমিয়ে যেতাম। একদম রাতের খাবার খেয়ে মাঝরাতে হলে ফিরে আসতাম। মনে আছে পাড়ার রিকশাওয়ালারা সবাই আমাকে চিনত। ওরা জানত আমি কোথায় যাব। অনেক দিন রিকশায় উঠে হেলান দিয়ে আমি ঘুমিয়ে গিয়েছি। রিকশা হলের গেইটে পৌঁছে আমাকে ডেকে উঠিয়ে বলত, যান, স্যার আপনে রুমে যান। পয়সা পরে আপনের খালার কাছ থেকে লইয়া লমু। বলে চলে যেত।

তখন সেঞ্চুরি আর্কেড মার্কেট মাত্র নতুন হয়েছে। চশমার মার্কেট হয় নাই তখন। শুরুর দিকে সব রকমের দোকানপাট ছিল। ওখানে বন্ধু দুলালের (স্টার হোটেলের মালিক) মমতাজ বেকারির শাখাও খুলেছে। খালাম্মা আমাকে সাথে নিয়ে ওখানে কেনাকাটা করতে ঢুকেছে। দুলাল দুষ্টামি করে সব সময় ঢাকাইয়া ভাষায় কথা বলত।

আমাকে দেখে বলে, “আবে ঐ কাউঠা, তর লগে শাবানা আজমি’র লাহান এই ভদমহিলা কেঠা?”

shantibag2

আমি ও খালাম্মা ১৯৭৮।—লেখক

খালাম্মা ওর কথা শুনেছে। উনি উত্তর দেয়, “বাবা আমি মুরাদের মা।”

এইবার দুলাল লাফ দিয়ে কাউন্টারের পিছন থেকে বের হয়ে খালাম্মাকে পা ছুঁয়ে সালাম করে বলে, “আচ্ছা খালাম্মা, একটা কথা কন। আপনের মত এত সুন্দর মাইনষের পেটে মুরাইদার মত এমন কাউঠা পোলা ক্যামনে হইল?”

খালাম্মা দুলালের কথায় হেসে দিল।

আমেরিকার ভিসা পেয়ে খালাম্মার সাথে দেখা করতে গেলাম। গলব্লাডার অপারেশন করে শান্তিনগরের ফরিদা ক্লিনিকে শুয়ে ছিলেন উনি। বাইরে চলে যাব শুনে খুব মন খারাপ করেছিলেন।

বললাম, “খালাম্মা, আমার টিকেট কেনার টাকা নাই। টাকা দেন।”

কত লাগবে জানতে চাইলেন। বললাম, পঞ্চাশ হাজার হলেই হবে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। কিছু টাকা জমানো আছে ব্যাংকে। খালুকেও একবার জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করে নাই। ভ্যানিটি ব্যাগের ভিতর থেকে চেক বই বের করে আমাকে বলে, “আমি সই করে দেই। তুমি বাকি সব লিখে নিও।”

সই করে চেকের পাতা হাতে ধরিয়ে দিল।

তারপর কত বছর পার হল। সাঈদের সব বোনের বিয়ে হয়েছে। সাঈদ নিজেও বিয়ে করেছে। আমি দেশে বেড়াতে যাই। গেলে খালাম্মার সাথে দেখা করি। খালু সাহেব মারা গেছেন । খালাম্মার বয়স হয়েছে। কিন্তু এখনো আগের মত অনেক ভারি ব্যক্তিত্ব ধরে রেখেছেন। মেয়েরা সবাই বিয়ে হয়ে দূরে চলে গেছে। ঘরবাড়ি ফাঁকা। কিন্তু সব কিছু আগের মতই রয়েছে। সাজানো, গোছানো, পরিষ্কার। সেই একই ফার্নিচার এখনো আগের মত। একইরকম ভাবে রাখা। দেখে এত ভাল লাগে। মনে হয় আমি যেন কোথাও যাই নাই। এখানেই ছিলাম। দেশের এই একটা মাত্র ঠিকানা যা এখনো একদম আগের মত আছে। ঠিক যেমন ১৯৮৯-এ রেখে গিয়েছিলাম। তাই শান্তিবাগের এই বাসা আমার কাছে অফুরন্ত শান্তির নিবাসের মত লাগে। প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেই। যেন সেই আগের অনেক পুরনো গন্ধগুলি নাকে এসে লাগে। জানালার পরিচিত গ্রিল, দরজার পাল্লা, ফ্লোরের মোজাইক, সিঁড়িতে আলপনা আঁকা।—সব যেন আগের মত।

নিজের দীর্ঘদীনের প্রিয় সঙ্গী ওনাকে ছেড়ে ওপারে চলে গেছেন। অনেক বেশি ভালবাসার জুটি ছিলেন ওনারা দুইজন। খালাম্মা যখন গল্প করে, জানো মুরাদ, তোমার খালু আমার পেটে গ্যাস হলে রাতের বেলায় দোকানে গিয়ে আমার জন্য সেভেন আপ কিনে আনত—শুনে আমার পেট ফেটে হাসি আসে। কিন্তু ওনার কথার গভীরতা অনেক। সেখানে উনি বোঝাতে চায় ওনার জন্য খালু সাহেবের ভালবাসা কত গভীর ছিল। উনি খালুকে কত বেশি মিস করেন।

খালুসাহেব যে বছর মারা গেলেন, তার কিছুদিন আগে আমি ঢাকায় গিয়েছিলাম। খালু আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে বলে, “ মুরাদ, আমি চলে গেলে, তুমি তোমার খালাকে দেখে রেখো।” কথাগুলি এখনো আমার কানে বাজে। উনি হয়ত কিছু না ভেবেই বলেছে। কিন্তু খালাম্মার কাছে এই কথাগুলি খুব মিনিংফুল মনে হয়েছে। উনি এখনো আমাকে বলে, ওনার ছেলেমেয়েরা আছে। তবুও কেন উনি তোমাকে এই কথাগুলি বলে গেল?

shantibag4

“আমি ও খালাম্মা। ২০০২-এ।”—লেখক

বয়সজনিত রোগ, বয়সের ভারে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে আমার এই অনেক প্রিয় মানুষটা। কিন্তু এখনো ভেঙে পড়েন নাই। লাঠির সাহায্য ছাড়া হাঁটতে কষ্ট হয়। তবুও লাঠি ধরতে নারাজ থাকেন। এখনো ঠিক আগের মতই কুঁচি করে নিপাট ইস্তিরি করা ইন্ডিয়ান প্রিন্টের শাড়ি পরে মাথায় ঘোমটা দিয়ে থাকেন। এখনো বিকেল চারটায় একা একা ভাত খান সেই একই চেয়ারে বসে। দুই ফিতার পাতলা চটি স্যান্ডেল পরেন। সেন্ট ব্যবহার করেন। সবাই ওনাকে ছেড়ে দূরে চলে গেলেও সাঈদের দুই ছেলে এখন ওনার হাতের লাঠি হয়েছে। ওরা সারাক্ষণ দাদুর সাথে লেগে থাকে। দাদুর জন্য ওদের ভালোবাসা অপরিসীম। দাদুকে ছাড়া এক রাতের জন্যও কোথাও থাকতে রাজি নয় ওরা।

এত বছর পরেও আমি যখন দেশে যাই—নিজে বিছানা ছেড়ে উঠে আসেন। নিজে আর রান্নাঘরে যেতে পারেন না। কিন্তু তদারকি করে আমার প্রিয় খাবারগুলি রান্না করান। তারপর পাশে বসে একের পর এক খাবার বেড়ে দিতে থাকেন। ঠিক আগের মত। আর মুখে বলতে থাকেন, আমি নাকি একদম শুকিয়ে গিয়েছি। আমার কোনো যত্নআত্তি হয় না।

মুখে কিছু বলি না। কিন্তু হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করি কত বেশি ভালবাসেন উনি আমাকে। নিজেকে ধন্য মনে হয়। এক মা জন্ম দিয়ে আদর করার আগেই মরে গেলেও আরেক মা ঠিকই সেই জায়গা দখল করে সব শূন্যতা মুছে দিয়েছে।

আমার পৃথিবীর একমাত্র মানুষ যিনি আমাকে দেখলেই পরম আদরে বুকের ভিতর জড়িয়ে ধরে রাখেন অনেকক্ষণ ,যা আমি আর কারো কাছ থেকে পাই নাই। এই জড়িয়ে ধরা আমাকে পরিপূর্ণ করে দেয় আমার সব না পাওয়ার পাত্রগুলিকে।

তখন মনে হয়, আমার মত সুখী আর কে আছে !

About Author

মুরাদ হাই
মুরাদ হাই

জন্ম হাতিয়ায়। ১৯৬০ সালের ৯ অক্টোবর। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। পড়তেন মার্কেটিং বিভাগে। থাকতেন সূর্যসেন হলে। ১৯৮৯ সালে পাড়ি জমান নিউইয়র্কে। সে অবধি সেখানেই আছেন। দুই ছেলে রেশাদ ও রায়ান ছাত্র, স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা স্কুলের শিক্ষিকা।