page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

শ্রাবণী

এমন হইতেছে কেন, সেটা বুঝতে উঠতে উঠতে আমিই প্যাচে পইড়া যাইতেছি। আমি শ্রাবণীর দিকে তাকাইতেছি, পরক্ষণেই তাকাইতেছি রাস্তার দিকে। দোল দোল ছন্দে রিকশা আগাইতেছে, মাত্রই দুপুরটা ঝিমাইতেছে। কোনো জ্যাম তো পাইতেছি না, ফলে খালি রাস্তাটারেই আমি দেখতেছি। আবার দেখতেছি—শ্রাবণীরে।

আমি শ্রাবণীর দিকে না তাকায়াই অরে কত কথা বলতেছি। তাকায়াও বলতেছি। এইবার অরে কইলাম, “ওয়েদারটা দেখছো? অদ্ভুত না?”

শ্রাবণী আমার দিকে তাকাইলো। আমি আবার অরে কইলাম, “এই জার্নিটা কিন্তু অফিসিয়াল না। তুমি কি তেমন ভাবতেছো?”

saad rahman logo

শ্রাবণী রিকশার চাকা হইতে ওড়নাটা সরায় আনলো। মুচকি হাসির ভাব করলো। আমি অরে বোঝাইতে চাইলাম, এইটা একটা ব্যক্তির লগে ব্যক্তির হিসাব। মানে আমার লগে শ্রাবণীর গণিত চলতেছে। অফিস বহুদূর। বাংলা মোটর। এখানে অফিস নাই।

অর ওড়না উঠাইতে দেইখা আমার মনে হইলো, সতর্ক করা চাই। একবার বললাম, “তা শ্রাবণী, ওড়নাটা লাগে ক্যান তোমার? না হইলেও তো চলে।”

এই কথাতে মনে হয় শ্রাবণী মৃদু ভরসা পাইলো আমার উপর। আমি আর ওই একই মাইন্ড নিয়া থাকি। ওড়না লাগে না নারীর। এই টাইপের ধইরা নিলো বোধ হয়। বাদে কইলো, “ধুর, মানুষ হা-কইরা তাকায় থাকে, সেটা খুব ভালো দেখায়, তাই না?”

আমি ভাবলাম। তাই তো, সেটা তো উচিত না। অরে কইলাম, “তাইলে এটাই বেটার। তুমি ওড়না নিবা অলটাইম।”

রিকশা আবুল হোটেল পার হইলো। আমি বায়ে তাকাইলাম। ফাঁকে একবার দেইখা নিলাম শ্রাবণীরে। অর বয়সের তুলনায় অর বুবসের অসঙ্গতি আমি আগেই টের পাইছি। প্রেম-ভালোবাসা মার্কা একটা অনুভূতি আমারে গ্রাস করতে থাকার কারণে এই ব্যাপারটাই এখন আমারে দুঃখ আইনা দিলো। মনে মনে কইলাম, না ভাবি ওইসব। তবু মাথায় আইলো খালি এই-সেই প্রশ্ন। অরে জিগাইলাম, “শ্রাবণী, তোমার বাড্ডে তো নাইন্টি সেভেনে? তাই না?”

ওই আমার দিকে ঘুইরা তাকায়া মুহূর্তেই চোখটা সরায় নিলো। অনেক উপরে একটা সাইনবোর্ডের দিকে দৃষ্টি দিয়া দুষ্টামির ভাব করলো। বড়ই সুন্দর ভঙ্গিতে কইলা, “তোমার কী মনে হয় শুনি? কতো-তে?”

আমি কইলাম, “এমনই হবে। বাট ভুল তো হইতেই পারে। তুমি বলবা না? আমার খুব জানতে মন চাইতেছে।”

ওই হাত দিয়া আমারে ছয়টা আঙুল দেখাইলো। অনামিকায় পইরা ছিলো আংটি। আংটিটার দিকে চোখ রাইখাই আমি অরে জিগাইলাম, “নাইন্টি সিক্সে?”

শ্রাবণী চোখটারে সঙ্কুচিত কইরা শিউর করলো। “হুম, স্যার।”

অর স্যার কওয়াতে আমি হইসা উঠলাম। এর মাঝেই একটা অজান্তা-ভাব কইরা হাতটা ধইরা ফেললাম। হাসির ভেতর দিয়া কামটা আমি করলাম। অর আঙুলগুলা টল-কায়দার। আমি হাতের হাড্ডি টের পাইলাম, তবু কি অসাম সেই হাত। আমি দলামলা করতে থকলাম। এটা-সেটাও জিগাইতে থাকলাম।

বয়সের লগে শ্রাবণীর বুবসের অতি বৃদ্ধি আমারে কষ্ট দিতেছে কেন? সেই প্রশ্ন বারংবার আমার মাথায় ঘুরপাক খাইতেছে। আমি কি তাইলে এই মডেলের কাছেই পটে গেছি? ভেবে আসছিলাম, তারে পটাবো। কত আশা ছিলো, ভেঙেচুড়ে খান-খান করে দিবো তার হৃদয়খানি। ভাবছিলাম, সে খালি আমারে ফোন দিবে। আমি ব্যস্ত ভাব নিয়া সেই কল রিসিভ কইরাই দ্রুত-দ্রুত রাইখা দিবো। এখন যেহেতু এই সকল কিছুই মারা খাওয়ার জোগাড়, আমি হাল ছাইড়া দিলাম। পাক্কাপাক্কি প্রেমে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়া ফেললাম। অর হাত ধরলাম, আরো জোরে। আরো মধুর আবদার নিয়া। কত আকুতি যে লুকায় আছে এই হাতে, আমার হাতটি হইতে শ্রাবণীর হাতে। দুই হাতে লাগে কতো বসন্তের মিল!

রামপুরা ব্রিজ শেষ হইলেই রিকশাটা বাঁক নিয়া ঢুইকা গেল আফতাব নগরে। ধীরে ধীরে যাইতে থাকলো গহীনের দিকে। আমি শ্রাবণীরে বললাম, “কেমন লাগতেছে?”

ওই হাত দুইটা প্রর্থনার সময়ের মতন উঁচায়া দিছে। আমি ভাবলাম, যদি বৃষ্টি নামতো। এই দুই হাত বৃষ্টি দিয়া ভইরা যাইতো।

শ্রাবণী মুগ্ধ কণ্ঠে কইলো, “এত ভাল্লাগতেছে, আমি একদম ভেসে যাইতেছি।” ওই এদিক সেদিক তাকাইতে থাকলো।

অবাক হইলাম, ওই আমারে জিজ্ঞাস করলো, “তুমি কি ক্রিকেট খেলো?” আমি হাইসা দিলাম। এত ছেলেপেলে যে দুই পাশে খেলতেছে, তা দেইখা শ্রাবণীর কত ভাল্লাগতেছে। ফলে নিজেরে বারংবার থ্যাংকু জানাইতে লাগলাম। অরে কইলাম, “খেলি মানে, খেলতে পারি। বাট এখন তো খেলার চান্স হয় না।”

শ্রাবণী পথের বায়ে একটা খেলারত দলের দিকে তাকায়া কইলো, “আই লাভ ক্রিকেট সো মাচ।” আমি স্বচ্ছ একটা হাসি দিলাম। পরে মনে হইলো একটু চেতাই অরে, কইলাম, “তাইলে মডেলিং ক্যান, ক্রিকেটার হয়া গেলেই তো পারো। হা হা। সালমারা একটা সুন্দরী ক্রিকেটার পাইলো।” আমার কথায় অ-রো হাসি আইসা গেলো। হাসিটারে একটা মিথ্যামিথ্যি চাপা দিয়া ওই আমার পেটে গুঁতা মারলো। সেই গুতা কতই না সুখের, আমি হাসতে থাকলাম। সেই হাসি, আমার মনেরে নীরবেই রাত্রির মনের উপরে নিয়া ফেললো। অর মনটা, ভালো না মন্দ, আমি বুঝতেছি না।

আফতাব নগরটা সম্বন্ধে আমার কিছু বইলা নেয়া দরকার? আমি ঠিক বুঝতেছি না। এইটা একটা নতুন এলাকা হইতে থাকা অঞ্চল। বিরাট জায়গা নিয়া এইখানের পথ, যেন আর শেষই হয় না। আমরা প্রথম গেট হইতে যাইতে যাইতে প্রায় বিশ মিনিট গিয়া একটা ছোট ব্রিজের সামনে নামলাম। সিকিউরিটির লোকটা বাধা দিলো যে, ব্রিজের এইপারের রিকশা ওইপারে যায় না। তা, নাইমা আমি ভাড়া মিটায় দিয়া শ্রাবণীরে নিয়া হাঁইটা ব্রিজ পার হইলাম। টং টং শব্দ হইতে হইতে ব্রিজটা শেষ হয়া গেল।

আরেকটু দূরে গিয়া এইখানে বড় বড় ঘাস। মিডলক্লাস এবং নিম্নতর লোকেরা মেয়েছেলে নিয়া আসছে। শ্রাবণী তেমন ইতস্তত না হইলেও, আমি অরে নিয়া খাপ খাওয়াইতে একটু বিলম্বিত হইলাম। এক রিকশা ডাক দিয়া লজ্জা ঢাকাতে হবে বুঝতে পারতেছি, মানে, এই যে এইখানে আমি শ্রাবণীরে নিয়াসছি। সমাজের এক নম্বর ক্লাসের সন্তান হইয়া আমি সেটা ক্যামনে করি? না, আমি তা পারি না। শ্রাবণীরে কইলাম, “তোমার কি খারাপ লাগতেছে? আমার বিশেষ ভাল্লাগতেছে না।”

saad-203

শ্রাবণী আমার কথায় ভুরু কুঁচকাইলো। তার মানে এই যে, এই জায়গা অর মর্যাদাহানি ঘটাইবার মতন কিছু না। আমি মনে মনে একটু আরাম পাইলাম বটে, তবে নিজের ক্লাসটারে তুইলা ধরনের জন্য কইলাম, “এই যে দেখো না, কী পরিবেশ। এইখানে বউ-পোলাপান নিয়াইসা পিকনিক আরম্ভ করছে।”

শ্রাবণী মৃদু হাসলো। মানে এই যে আমার এলিট শ্রেণীর মতই সমাজের মধ্যে বসবাস, সেটা শ্রাবণীরে মুগ্ধ কইরা তুললো। ওই বললো, “তাইলে কি চলে যাইবা?” আমি কইলাম, “এখনই না-যাই। রিকশা দিয়া একটু ঘোরা-টেনা করা যাইতে পারে।” একথা বলতে বলতেই রিকশা একটা যাইতেছিল, আমি আনন্দে ডাক দিলাম। সহজেই এক ঘণ্টায় একশো বিশ টাকা দেওনের পরিবর্তে রিকশাটায় উইঠা গেলাম। পুবের দিগন্ত অথবা দক্ষিণ পাশ হইতে সমুদয় বাতাস আসতে থাকলো, দেখলাম, শ্রাবণীর গলার ওড়নাটা আরো সুন্দর কইরা উড়তেছে। আমি অর বুবসের দিতে তাকাইলাম। আমার বামহাতটি অর পিঠের পেছন দিয়া নিয়া কোমড়ে রাখলাম। ওই চোখ বুজলো। সেই দৃশ্য মনে হয়, শালিক পাখির চাইতেও মহান।

আমি হঠাৎ কইরা বুঝে ফেললাম যে, শ্রাবণী আমার উপরে ক্রাশমান অবস্থা কাটাইতেছে। ফলে অরে আমার লগে বান্ধার কাজটি এখনই সারতে হবে। আমি ভাবলাম, নিজের কিছু এখন গুণগান ড্যাম কেয়ার ভঙ্গিমায় অরে বইলা দিই। তাতে, ওর ক্রাশটা ভাইঙ্গা যায়ার বদলে আরো পোক্ততায় আদল নিলো। আমি তাই করলাম। যেমন কইলাম, আমি এইখানে সেইখানে লেখি। পিয়া বিপাশা, শাওন, পরে মেহজাবিনের ইন্টারভিউ লই, পরে আরো লওয়ার কথা আছে অনেকেরই। আমার প্রিয় শিল্পী সঞ্জিব। এর বাইরেও আমি শ্রাবণীরে ভাব মারার জন্য কই যে, আমি মূলতই সেক্সবাদি লোক। কিন্তু কখনো-সখনো মনগত হয়া উঠি। এখন কি হইতেছি কি না, তা জানি না। অরে একটু দোলের মধ্যে ফালাই। আরো কই অরে, আমি ভাবি, দেশ ও জাতি লইয়া। আমি মনে করি, এই দেশে মডেলিং নিখাদ এক ব্যক্তি পর্যায়ের প্রফিট আদায় করে। সামগ্রিক কিছুই দেয় না। ইত্যাদি কথাগুলা শ্রাবণী সব বোঝেও না, তবু হুদাই হু-হা-হু করতে থাকে। কোনো কোনো ব্যাপারে চিন্তিত হইতেও দেখা যায় অরে। সেক্স বিষয়ে এক দুই বাক্য উইঠা আসলে অর চোখ জ্বল জ্বল কইরা ওঠে। ওই আমারে গুঁতা মারে। যেন বলে, “আরো কও। আই লাভ দ্যাট।”

আমি ওর কোমড়ে সুসসুড়ি দিই। এই-সেই করি। নিকট হইতেই অরে চোখটিপ মারি। একবার কেমন কইরা একটু আগায়া গিয়া নাভিতে হাত লাগায় দেই। শ্রাবণী এতে চোখ বুইজা সরাসরিভাবে মোচড় মারে। মনে হয় নিজেরই ঠোঁটে ওই নিজে কামড় মারতেছে। আমি আস্তে কইরা বলি, “নাইস।” ওই হাসে আর জিগায়, “কোনটা নাইস?” আমি চুপ কইরাই থাকি। ওই আবার জিগায়, “কী নাইস, হু?” আমি মুচকি হাসতে হাসতে কথা কাটাই, “কিছু না তো। দেখো শ্রাবণী, বৃষ্টি নামবে। আই লাভ বৃষ্টি!”

এইসেই বলতে বলতে আসলেও দেখি বৃষ্টি নাইমা পড়তে পারে অবস্থা। রিকশাঅলা বড়ই চালাক। তার উপরে আমার রাগ জাগে। সে আস্তে রিকশা ঘুরায় নিয়া আবার সেই অতীত-ব্রিজের দিকে ছুটে। বৃষ্টি বিষয়টি আসার পরে ঘটনা পুরাই বদলায়ে যায়। মজার বিষয়ে কথা বলা বাদ দিয়া আমাদের কামের কথায় মন দিতে হয়। এই যে আমি শ্রাবণীরে নিয়াসছি, মূলত একটা ডিল হইবো। শ্রাবণী মডেলিং করে। ছোট মডেল ওই এখনো, বাট সে বড় হইতে চায়। আমার লাইফ স্টাইল পাতায় অর একটা ফটোশুট যাবে। এর রেশ ধইরা সে আসছে আমার কাছে, আমার একটা মিছা ডে-অফ থাকায় আমি অর লগে বাইর হইছি। ওই-ও আসছে।

শ্রাবণী আমারে জানায়, ইতিমধ্যেই ওই বেশ কয়টা কাজ করছে। যেমন, বাংলামেইলে অর গ্যালারি গেছে। এইটায় সেইটায় গেছে। এই সাংবাদিকের লাগে তার পরিচয়। ওই আমারে বলে, “কিছু দিন এই শুটের জন্য গেলাম উত্তরা। ইনডোরে শুট ছিলো।” আমার বুক ছলাৎ কইরা ওঠে। ইনডোর! ওই বলে, “দ্যান এত্তো মজা হইলো! মেকআপম্যান ভাইটা চার্লি চ্যাপলিনরেও হার মানায়।” এইসব কথা বলতে বলতে অর জানি কোন এক জোকের কথা মনে পইড়া গেল। ওই হাসা শুরু করলো। সেই হাসি, ইথারে বারি খাইতেছে। সেই শব্দ আমারে ভাঙতেছে। দিলে কেবল একটাই কথা, শ্রাবণী এত আগাইছে? ইনডোরে গিয়া এতজনের মাঝখান জোক শুইনা আসছে। ভাবতেছি, ওই তবে এত নড়নড়া ভাব ক্যান করে? আমার মনটা ক্রমশ দুঃখে পতিত হয়। হইতেই থাকে। জগতেই এত কষ্ট, তাইলে এ-রে আর জগত কেন কয়। আমি অরে বলি, “আচ্ছা, এমন যদি হয়ে থাকে শ্রাবণী, আমরা সবাই হেলের মধ্যে বসবাস করছি। হইতে পারে?”

আমার কথায় যেন অর শ্রুতি নাই। শ্রাবণী অনেকখন হাইসা নিয়া একটু থামে, মুহূর্তেই বলা শুরু করে সেই মেকআপম্যান ভাইয়ের জোক। সেই জোক, কী যে বাজে। এক বড় বুবসের মেয়ে নিয়া, আমি সাদামাটা হাসি মারি। বারে বারে মনে হয়, এই জোক যদি অরে শুনায়াই থাকে ইনডোরে, তবে আর বাকি রইলো কী? আমার রাগ উঠতে থাক এত কইরা যে, খালি রাগই ওঠে। যতই জোক শুনি আমি বুবস নিয়া, আমি একবারও তাকাই না অর বুবসের দিকে। ঘাড়টা বাঁকায়া অন্য এক আকাশ দেখতে থাকি। সর্বোপরি বৃষ্টির এক আউলা ওয়েদারের ভেতরে থাকার ফলে শ্রাবণীও বোঝে না আমার মনের আলাপ। ওই হাসি-টাসি শেষ কইরা রিকশঅলারে জোরে আগাইতে বলে। ব্রিজের কাছে আসতে আসতে পুরা সন্ধ্যার চাইতে আরো ডিপ একটা অন্ধকার। বৃষ্টির মহিমায় সিকিউরিটিও উইঠা গেছে ব্রিজের, আমরা আফতাবনগর মূল গেটের দিকে চলতে থাকি।

তেমন কথা হয় না, অরে জানায় দেই, কবে কোথায়, অর শুটটা সমাধা হবে। এবং অরে আমি একটা ধারণা দেই যে, আমি নাও থাকতে পারি শুটের স্পটে। শেষমেশ রিকশা থামবার আগ মুহূর্তে শ্রাবণীরে বলি, মানে একরকম যেন নিজেরেই বলি, “আমি সেক্সবাদি লোক। জানো তুমি শ্রাবণী? আমার ভেতর অত প্রেম-সোহাগ নাই।”

saad-202

শ্রাবণী এতে কইরা ক্ষাণিকটাও বিচলিত হয় না। মিষ্টি হাসি দেয়। কেবল বলে যে, “ফটোশুটটা কি ইনডোরে করা যায়?” অর কিনা কিছু পারসোনাল ছবি দরকার। সেই জন্য আমারও থাকা চাই। আমি অর কথাগুলা না শোনার ভান কইরা রিকশঅলার ভাড়া মিটাই। ঈষৎ ঝগড়া লাগাই। শ্রাবণীর ছোবল হইতে বাঁচতে।

শ্রাবণীর পায়ের কাছে একরকম লজ্জা লজ্জা ভাব, ওই এমন জোরে ছুটতেছে বইলাই। আমি তাকায় থাকার তেমন কোনো চান্স পাইলাম না, কেননা ইতিমধ্যেই বৃষ্টি জোরে আরম্ভ হইছে। কিনারের এক চায়ের দোকানের দিকে আমি জোরে পা চালাইলাম। দোকানে আরো মানুষ, আমি ঢুইকাই পেছনে তাকাইলাম। সিএনজিটা যে আছিলো ওইখানে, আমি একটু আগে দেখছিলাম। ওইটা আর নাই। বৃষ্টি আরো বাড়তেছে।

About Author

সাদ রহমান
সাদ রহমান

জন্ম. ঢাকা, ১৯৯৬। কবিতার বই: 'কাক তুমি কৃষ্ণ গো' (২০১৬)।