page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

‘সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ইরানের অর্থায়ন’—ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক প্রতিবেদন

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে কঠিন বাধা আসা সত্ত্বেও ইরান ইসরায়েলকে টার্গেট করে ২০১৪ সাল জুড়ে তাদের অস্ত্র মজুদ করেছে। তারা ইসরায়েলের জন্য আতঙ্ক সৃষ্টি করতে অর্থায়ন করেছে। ১৯ জুন, ২০১৫ তে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

সারা পৃথিবীতে সংগঠিত সন্ত্রাস বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদন—’দ্য স্টেট ডিপার্টমেন্ট রিপোর্ট’টিতে (Country Reports on Terrorism 2014) নিশ্চিত করা হয়েছে পরে এটা না বাড়লেও ইরান তখন এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। গাজার হামাস এবং লেবাননের হেজবুল্লাহর প্রতি ঐতিহাসিক ফোকাস ছাড়াও আফ্রিকা, এশিয়া এবং ল্যাটিন আমেরিকায় সীমিত সংখ্যক অপারেশন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গ্রুপকে সহায়তা করেছে তারা।

warship 1

ইরানি যুদ্ধজাহাজ।

রিপোর্টটিতে লেখা হয়েছে, ইরান ঐতিহাসিকভাবে অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং অর্থ দিয়ে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনী সন্ত্রাসী দল, ফিলিস্তিনী ইসলামিক জিহাদ এবং লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন-জেনারেল কমান্ডের জনপ্রিয় অংশকে সহায়তা করেছে। গাজা এবং পশ্চিম তীরে হামলার মাধ্যমে অনেক মানুষকে হত্যা করেছে ফিলিস্তিনী এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি।

quashem solemani

কুদস কমান্ডার মেজর জেনারেল কাশেম সোলেমানি।

রিপোর্টর বক্তব্য অনুযায়ী ২০১৪ জুড়ে ইরানের মূল লক্ষ্য ছিল শিয়া সরকার এবং মিলিশিয়াদের সমর্থনের মাধ্যমে সিরিয়া এবং ইরাকে প্রতিরোধ বজায় রাখা। রিপোর্টটিতে বলা আছে, ইরাক এবং সিরিয়া এই দুই দেশের মাটিতেই ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস-কুদস (IRGC – Islamic Revolutionary Guard Corps-Qods) ফোর্সের উপস্থিতি রয়েছে।

উল্লেখ আইআরজিসি বা কুদস ১৯৮০ সালে থেকে এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জেরুসালেম ফোর্স নামে পরিচিত এই সংগঠনটি ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ডের শাখা সংগঠন যারা ইরানের বাইরে অপারেশন চালায়। বর্তমানে এর কমান্ডার মেজর জেনারেল কাশেম সোলেমানি এবং তার ডেপুটি হোসেন হামাদানি। এই ফোর্স ইরানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে রিপোর্ট করে থাকে।

david j dionisi 1

৯/১১ দি সিক্রেট ওয়ার এগেইনস্ট দি জিয়ুস গ্রন্থের লেখক মার্কিন সাবেক গোয়েন্দা অফিসার ডেভিড জে. ডায়োনিসি।

সংগঠনটি সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। কুদস ফোর্সের সদস্যসংখ্যা অজানা। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে এই ফোর্সের সক্রিয় সদস্য ২০০০ এর মত। এর মধ্যে ৮০০ সদস্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তবে অন্যেরা ধারণা করেন, সদস্য সংখ্যা ৩ হাজার থেকে ৫০ হাজার হতে পারে।

সাবেক মার্কিন আর্মি গোয়েন্দা অফিসার ডেভিড ডায়োনিসির মতে, মেজর জেনারেল কাশেম সোলেমানির পরিচালনায় সিক্রেট কুদস ফোর্স মোট আটটি লোকেশনে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এগুলি হচ্ছে:

  • পশ্চিমা বিশ্ব
  • ইরাক
  • আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইন্ডিয়া
  • ইসরায়েল, লেবানন ও জর্ডান
  • টার্কি
  • উত্তর আফ্রিকা
  • বৃহত্তর অারব
  • পুরাতন ইউএসএসআর

২.
যদিও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে হামাসের সাথে তেহরানের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ২০১৪ এর ২৫ নভেম্বরের বক্তৃতায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি গাজা এবং পশ্চিম তীরে ‘ফিলিস্তিনী ভাইদের’ সামরিক সহায়তার কথা বলেছেন, যেটা থেকে অস্ত্র প্রদানের ব্যাপারে অনুমান করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ২০১৪ এর ডিসেম্বরে হামাসের ডেপুটি লিডার মুসা আবু মারজুক ঘোষণা করেন ইরান এবং হামাসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আবার “আগের জায়গায় ফিরেছে”।

আর উত্তর দিকে ইরান সিরিয়ায় সক্রিয় এবং ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত লেবাননের হেজবুল্লাহকে সাহায্য করেছে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার দিয়ে। রিপোর্টে আরো দাবি করা হয়েছে তেহরান হাজার হাজার সৈন্যকে ইরানের ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ এর মার্চে লোহিত সাগরে সুদান উপকূলে ক্লস সি নামের একটি কার্গো জাহাজে ইসরায়েলি নৌ হামলা হয়েছিল। সেখানে ৪০ টি এম-৩০২ রকেটস, ১৮০ টি মর্টার এবং ৪ লাখ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। গুলির সিমেন্টের ক্রেটে ‘মেড ইন ইরান’ লেখা ছিল।

iranian army 3

ইরান স্পেশাল ফোর্স – হোয়াইট।

IRGC বিমানবাহিনীর প্রধান জেনারেল আমির আলি হাজিযাদেহ ২০১৪ এর নভেম্বরে বলেছেন IRGC ( Iranian Revolutionary Guard Corps) এবং হেজবুল্লাহ দুইটি আলাদা অংশ একসাথে হয়েছে। লেবানিজ সংগঠন হেজবুল্লাহ’র ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল নাইম কাশেম বলেছেন, ইরান তার সংগঠনটিকে মিসাইল দিয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের দাবি এই কথা যে অনেকবার প্রকাশ্যে বলা হয়েছে স্পষ্টভাবে সেটিরই ইঙ্গিত।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, হেজবুল্লাহকে অস্ত্র দিয়ে ইরান জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের ১৭০১ এবং ১৭৪৭ চুক্তি ভঙ্গ করেছে।

২০১৪ এর গ্রীষ্মে গাজায় হামাসের সাথে ৫০ দিনের যুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকির যে প্রতিক্রিয়া ইসরায়েল দেখিয়েছে তার প্রশংসা করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

ali khameni 1

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

২০১৪ সালে গাজা এবং সিনাই থেকে রেকর্ড পরিমাণ রকেট এবং মর্টার দিয়ে ইসরায়েলকে আক্রমণ করা হয়। ইসরায়েলি সরকারের মতে, ৪৬৬০টি প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়েছিল ২০১৪ এর জুলাই-আগস্টের সংঘর্ষে। ২০১৩ তে ছোড়া হয়েছিল ৭৪ টি এবং ২০১২ তে ছোড়া হয়েছিল ২৫৫৭টি। রিপোর্টে ইসরায়েলকে উল্লেখ করা হয়েছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দায়বদ্ধ সহযোগী হিসেবে।

প্রথমবারের মত গাজার জঙ্গিরা ৬টি টানেল ব্যবহার করে সমুদ্র পথে ইসরায়েলি অঞ্চলে হামলা চালায়। সিনাইতে হামাসের টানেল অপারেশনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আগ্রাসী পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য রিপোর্টে মিশরের প্রশংসা করা হয়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রবিস্তার এখনো উদ্বেগজনক।

লিংক: Country Reports on Terrorism 2014

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক