(আগের অংশ)

দার্শনিক ও ধর্মীয় অবস্থান

সময়টা ২০০২ সালের কোনো এক সময়। অস্ট্রেলিয়া আর সাউথ আফ্রিকার মধ্যে ক্রিকেট ওডিআই ম্যাচ চলছে। বল হাতে দৌড়ে আসছেন সাউথ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার মাখায়া এনটিনি, ব্যাট হাতে অপেক্ষা করছেন অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ব্যাটসম্যান ডেমিয়েন মার্টিন। ছুটে এসে এনটিনি বল ছুঁড়তেই সজোরে ব্যাট চালালেন মার্টিন, বুলেটের বেগে ছুটল বল, সবার ধারণা নিশ্চিত বাউন্ডারি হবে। কিন্তু স্টেডিয়াম ভর্তি হাজার হাজার আর টিভির সাথে লাখো দর্শককে হতবাক করে দিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে পাখির মত উড়ে অবিশ্বাস্য এক ক্যাচ লুফে নিল জন্টি রোডস।

দুটি কারণে ম্যাচটি আমার মনে গেঁথে আছে এখনো। প্রথমতঃ ওই ক্যাচটি ছিল জন্টি রোডসের একশতম ওডিআই ক্যাচ, দ্বিতীয়তঃ ওই ম্যাচটি থেকেই আমি অনেকদিন পরে সময় নিয়ে আবার গভীর ভাবে ভাবতে শুরু করেছিলাম। দ্বিতীয় কারণটির পিছনে ছিল একটি তথ্য। ম্যাচ চলাকালে দেখানো হয়েছিল ক্যাচটির ‘রিএ্যাকশন টাইম’ অর্থাৎ ক্যাচের সময় বলটি ব্যাট থেকে জন্টির হাতে পৌঁছানোর মধ্যবর্তী সময় ছিল ০.১৩ সেকেন্ড বা এর কাছাকাছি।

বিষয়টা আমার কাছে নতুন কিছু ছিল না। আমি বিজ্ঞানের ছাত্র, পদার্থ বিজ্ঞানের ক্লাসে সেকেন্ডের ভগাংশ নিয়ে অনেক অংকের সমাধান করেছি। কিন্তু কখনোই ওগুলোকে বাস্তব বলে আমার কাছে মনে হয় নি। কিন্তু ওই প্রথম আমি উপলব্ধি করলাম সেকেন্ডের চেয়েও অনেক কম সময় আমরা আসলে বাস্তবেও অনুভব করি। এই উপলব্ধির সাথেই আমার একটা পুরানো ঘটনা মনে পড়ে গেল।

১৯৮৮-‘৮৯ সাল হবে। আমি তখন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মৌলিক উৎকর্ষ প্রোগ্রামে নিয়মিত ছাত্র। আমরা ক্লাস করছিলাম, দূরে কোথাও গান বাজছিল, ‘এক মুহূর্তের নাই ভরসা’ বা এ ধরনের একটা কিছু। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার আমাদের ক্লাস নিচ্ছিলেন, হঠাৎ তিনি প্রশ্ন করে বসলেন, “আচ্ছা তোমাদের কেউ বলতে পারবে, এই মুহূর্ত মানে কী?”

আমাদের ভেতরেই কেউ একজন বলে উঠল, “মুহূর্ত মানে এক সেকেন্ড।”

স্যার বললেন, “হল না। তার চেয়েও কম।“

আমরা সবাই জানতে উৎসুক। এটা লক্ষ্য করে একটা স্নেহের একটা হাসি দিয়ে স্যার বললেন, “এক মুহূর্ত হল এক প্রহরের (বর্তমান এক সেকেন্ডের) তিন ভাগের এক ভাগ। মানে তিন মুহূর্তে এক প্রহর বা বর্তমান সেকেন্ড।“

হঠাৎ করেই ০.১৩ সেকেন্ডের ওই তথ্যটা স্যারের ওই কথাটা আমাকে মনে করিয়ে দিল। আমি বুঝতে পারলাম সেকেন্ডের কম সময়ের মিলি সেকেন্ড বা মাইক্রো সেকেন্ড ছাড়া অন্য সুন্দর নামও আছে। এই ভাবনা থেকেই আমি আরো তথ্য খুঁজতে শুরু করলাম। ভারতীয়রাই প্রথমে শূন্য ব্যবহার শুরু করেছিল তথ্যটা আমার জানা ছিল, তাই প্রথমেই নজর দিলাম প্রাচীন ভারতীয় গণনা পদ্ধতির উপর।

খুঁজতে যেয়ে যা তথ্য পেলাম তাতে আমার চক্ষু চড়ক গাছ। তারা সময়কে ভাঙতে ভাঙতে এমন ক্ষুদ্র অংশ পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিল সাধারণ ভাবে সেটা কল্পনাও প্রায় অসম্ভব, আবার বড় করতে করতে এমন অবিশ্বাস্য বিশাল সংখ্যায় নিয়ে গিয়েছিল যে সময় সম্পর্কে অতি গভীর ধারণা না থাকলে এটা সম্ভব না। আবার এটাও একই সাথে লক্ষ্য করলাম যে, সময়ের ধারণার সাথে ধর্মেরও খুব গভীর একটা সম্পর্ক রয়েছে। নিচের তথ্যগুলো সহজেই বলে দেবে যে আমি কেন এতটা বিস্মিত হয়েছিলাম তখন।

ভারতীয় মতে সময়ের ক্ষুদ্রতম অংশকেও পরমাণু বলা হয়।

ক্ষুদ্রতম অংশ = ১ পরমাণু
২৪ প্রহর = ১ পল
২ পরমাণু = ১ অনু
২.৫ পল = ১ নিমিশ (১ মিনিট)
৩ অনু = ১ ত্রসেরেনু
২৪ নিমিশ = ১ গাদি
৩ ত্রসেরেনু = ১ ত্রুতি
২ গাদি = ১ মুহালা
১০০ ত্রুতি = ১ ভেধ
৩০ মুহালা = ১ দিন
৩ ভেধ = ১ লব
৭ দিন = ১ বার (১ সপ্তাহ)
৩ লব = ১ নিমেষ
১৫ দিন = ১ পক্ষ
৩ নিমেষ = ১ ক্ষণ
২ পক্ষ = ১ মাস
৫ ক্ষণ = ১ কাস্থ
২ মাস = ১ ঋতু
১৫ কাস্থ = ১ লঘু
৬ মাস = ১ অয়ন
১৫ লঘু = ১ নদিকা
৬ ঋতু = ১ বর্ষ (১ বছর)
২ নদিকা = ১ মূহুর্ত
৬০ বর্ষ = ১ বৃত্ত
৩ মূহুর্ত = ১ প্রহর (১ সেকেন্ড)
৬ বৃত্ত = ১ দিব্য বর্ষ (৩৬০ বছর)

নির্দিষ্ট সংখ্যক দিব্য বর্ষ সমন্বয়ে বিভিন্ন যুগ সৃষ্টি হয়:

ক্রিতা (সত্য) যুগ = ৪,৮০০ দিব্য বর্ষ
ত্রেতা যুগ = ৩,৬০০ দিব্য বর্ষ
দাপর যুগ = ২,৪০০ দিব্য বর্ষ
কলি যুগ = ১,২০০ দিব্য বর্ষ
চার যুগ = ১২,০০০ দিব্য বর্ষ = ১ মহাযুগ (অর্থাৎ ক্রিতা + ত্রেতা + দাপর + কলি যুগ)
১,০০০ মহাযুগ = ১ কল্প
২ কল্প = ১ ব্রহ্মদিন
ব্রহ্মার জীবন চক্র = ১ হাজার ব্রহ্ম বছর যা ৩১৩ ট্রিলিওন পার্থিব বছরের প্রায় সমান!

হিন্দু দর্শন অনুযায়ী এরপর মহাপ্রলয় ঘটবে এবং নতুন করে সৃষ্টিচক্র আরম্ভ হবে। এভাবেই কোনো এক সময়ে কাল বা সময়ের সমাপ্তি হবে এবং সেই সাথে স্থান-কালেরও আর অস্তিত্ব থাকবে না।

পরবর্তীতে আরো জানতে পারলাম হিন্দু দর্শন অনুযায়ী, ঘুমের মধ্যে সময় সাধারণ নিয়ম মেনে চলে না। তৈজস বা তেজস (ঘুমন্ত) অবস্থায় পৃথিবীর সময়ের তুলনায় সময় অনেক ধীরে চলে। উদাহরন স্বরূপ বলা যায়, পার্থিব একদিন পরিমাণ সময় হয়ত এই অবস্থায় এক সেকেন্ড থেকেও কম হতে পারে। ঠিক একই ভাবে প্রজ্ঞা (গভীর ঘুম) অবস্থায় সময় আরও অনেক বেশি ধীরে চলে। তূরীয় অবস্থায় সময় সমস্ত নিয়মের উর্ধ্বে এবং এই অবস্থায় সময়ের কোনো অস্তিত্ত নেই।

প্রথম কয়েকদিন এইসব নানা রকম নাম, নতুন নতুন তথ্য নিয়ে এতই মেতে রইলাম যে, অন্য কোনো কিছু নিয়ে চিন্তাই করি নি। কিন্তু একদিন হঠাৎ করেই বেশ কিছু প্রশ্ন বা চিন্তা মাথায় এল যা আমার মাথা রীতিমত ঘুরিয়ে দিল। যেমন:

১.   যেখানে এক সেকেন্ড অনুভব করাই সহজ নয়, সেখানে কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে সেই সব মানুষেরা সময়ের এত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশের নামকরণ করেছিল! বাস্তবে এত ব্যবহারই বা কী ছিল?

২.   একই ভাবে ৩১৩ ট্রিলিয়ন বছরের মত এরকম অকল্পনীয় বিশাল সময়ই বা তারা কীভাবে কল্পনা করত? কেনই বা করত? এর বাস্তব ব্যবহারই বা কী ছিল? একটা তুলনা করতেই সংখ্যাটির বিশালতা আমি সহজেই বুঝতে পেরেছিলাম। পৃথিবীর বর্তমান বয়স এখন মাত্র ৪.৫ বিলিয়ন বছর!  তার অর্থ হল এই সময়টা পৃথিবীর বয়সের ৬৯,৫৫৬ গুণ বেশি!

৩. “মহাপ্রলয় ঘটবে এবং নতুন করে সৃষ্টিচক্র আরম্ভ হবে” এই কথাটিও আমাকে ভাবিয়ে তুলল, কারণ আমি বুঝতে পারলাম, আমাদের সাধারণ ধারণার মত তারা সময়কে সরলরৈখিক না ভাবে চক্রাকার বা বৃত্তাকার হিসেবে ভাবছিল। কিন্তু কেন? এর প্রয়োগই বা কী ছিল?

৪.   তারা বিশ্বাস করত “এক সময়ে কালান্ত ঘটবে হবে এবং স্থান-কালের অবলুপ্তি ঘটবে।” এই ধারণাটি স্পষ্ট ভাবে প্রমাণ করে যে, তারা জানত সময় ও স্থান দুটাই ভৌত সত্তা, এদের সৃষ্টি ও ধ্বংস সম্ভব!

৫. তারা জানত সে সময়ের সংকোচন বা প্রসারণ সম্ভব, অর্থাৎ অবস্থার উপর ভিত্তি করে সময় ধীরে বা দ্রুত চলতে পারে!

প্রত্যেকটি তথ্যই দারুণ রকম চমকপ্রদ ছিল কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যে বিষয়টি কিছুদিন পর আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিস্ময় হয়ে আসে তা হল, সময় নিয়ে এই ধারণাগুলো আধুনিক বৈজ্ঞানিক তথ্যের অবিশ্বাস্য রকম কাছাকাছি! পরবর্তীতে আমি যখন ‘থিওরি অফ রিলেটিভিটি’ বিষয়ে বিস্তারিত পড়তে শুরু করি, তখন এটা বুঝতে আমার কোনো রকম অসুবিধাই হয় নি।

 

অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ একই সাথে অবস্থান করে!

হিন্দু ধর্ম ও দর্শনের এই উপলব্ধি আর তথ্যগুলো সময় নিয়ে আমাকে আরও উৎসাহিত করে তুলল। এক সময় আমি জানতে চেষ্টা করলাম অন্যান্য ধর্মগুলোতে সময় নিয়ে কী বলে।

আমি বুঝতে পারলাম বৌদ্ধ ধর্মেও সময়ের ধারণাগুলো অনেকটা একই রকম। অর্থাৎ এই ধর্মেও সময়ের চক্রাকার বা বৃত্তাকার ধারণা, সময় ও স্থান-কালের অবলুপ্তি ঘটা, সময়ের সংকোচন বা প্রসারণ এবং সময়হীনতা-র ধারণা রয়েছে। আরও অবাক হয়ে লক্ষ করলাম, সেমেটিক ধর্মগুলোতে (ইহুদি, ক্রিশ্চান ও ইসলাম) সময়ের চক্রাকার বা বৃত্তাকার ধারণা না থাকলেও স্থান-কালের অবলুপ্তি ঘটা, সময়ের সংকোচন বা প্রসারণ এবং সময়হীনতা-র ধারণাগুলোও অনেকটা একই রকম।

আমি যতই পড়ছিলাম ততই বিস্মিত হচ্ছিলাম। তবে সবচেয়ে বড় আর গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কাটা এল হঠাৎ করেই, যখন আমি সময় নিয়ে সেইন্ট অগাস্টিনের এই বক্তব্যটা পড়লাম:

“অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত একই সময়ে আপনার সামনে বিদ্যমান। তারা কখনই গতিশীল নয়, বা একে অন্যের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী নয়, কারণ সময় কখনই প্রবাহিত হয় না।“

এই বক্তব্যের সারমর্ম হল, আমাদের জীবনে, তথা এই মহাবিশ্বে সৃষ্টি লগ্ন থেকে যা যা ঘটনা ঘটেছে, তা একই সময়ে বিদ্যমান! আসলে সময় বয়ে যায় না, আমরাই সময়ের ভিতর দিয়ে অতিক্রম করি!

অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ একই সময়ে বিদ্যমান থাকার বিষয়টা আমাকে দারুণ ভাবে ভাবিয়ে তুলল। তবে খুব দ্রুতই আমি অনুভব করলাম সময় নিয়ে একই ধরনের ধারণা ইসলাম ধর্মেও আছে, যা স্পষ্ট হয়ে ওঠে শবে মিরাজের ঘটনায়। আমরা জানি শবে মিরাজের এই সফরের সময় মুহাম্মদ রসুলাল্লাহ (সঃ) বেহেশত ও দোজখ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, এবং সেখানে তিনি মানুষ দেখেন।

কিন্তু, কেয়ামতই তো এখন পর্যন্ত সংঘটিত হয় নি! কেয়ামত না হওয়া পর্যন্ত তো শেষ বিচার হবে না, আর শেষ বিচার না হলে মানুষের বেহেশত বা দোজখে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাহলে এটা কীভাবে সম্ভব? সুতরাং, এটা বলা যায় যে ইসলাম ধর্মও অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ সব সময়ে একই সাথে বিদ্যমান থাকার ধারণাটি সমর্থন করে। অর্থাৎ, সৃষ্টি লগ্ন থেকে কেয়ামত ও তার পর পর্যন্ত সব ঘটনাই আসলে একসাথে বিদ্যমান। আল্লাহর কাছে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই।

তবে শুধু যে ইসলাম, ক্রিশ্চিয়ান বা হিন্দু দর্শনেই সময়ের এ ধরনের ধারণা রয়েছে তাই না, বরং অধিকাংশ ধর্ম ও দর্শনেই সময় নিয়ে কাছাকাছি ধরনের মতবাদ রয়েছে। তাই এই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এখানে এই বিষয়ে আর বিস্তারিত লিখলাম না। তবে পরবর্তীতে যে বিষয়টা আবারো আমার কাছে চরম বিস্ময় হয়ে এসেছিল তা হল, অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ একই সময়ে বিদ্যমান থাকার ধারণাটাও আসলে আধুনিক বৈজ্ঞানিক ধারণার খুব কাছাকাছি, বলা যায় প্রায় হুবহু একই রকম।

সময় নিয়ে নানা রকম নতুন নতুন তথ্য প্রতিনিয়ত আমাকে চমকে দিতে থাকলেও, সময়ের একটা ব্যাপার আমার কাছে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকল। আমি বুঝতে পারছিলাম, বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক বা ধর্মীয় যে কোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখি না কেন, সময়কে আসলে আমরা বিভিন্ন রূপে কল্পনা বা অনুভব করি। সেগুলো হলো:

১.   দিন-রাত্রি বা ঘড়ির সময়: দৈনন্দিন সময়, যা আমাদের প্রতিদিনের কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে। ঘুম থেকে ওঠা, স্কুল-কলেজ-অফিসে যাওয়া, ঘুমুতে যাওয়া ইত্যাদি।

২.   জীবনকাল সময়: ব্যক্তিগত জীবনকাল যা শুধু আমাদের ব্যক্তিগত অনুভব। আমাদের জন্মের সাথে যেটার শুরু আর মৃত্যুতে সমাপ্তি।

৩. পৃথিবীর সময়: পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে পৃথিবীতে অনেক কিছু ঘটে যাচ্ছে। আমাদের থাকা বা না-থাকা যার উপর নির্ভরশীল না, সেই সময়।

৪.   মহাবিশ্বের সময়: বিগ ব্যাং বা মহাবিশ্বের শুরু থেকে যে সময়ের শুরু, সময়ের প্রকৃত বৈজ্ঞানিক রূপ। এই সময়ের প্রকৃতি আমরা এখনও অনেকটাই বুঝে উঠতে পারি নি।

৫. স্থান-কালের অবলুপ্তি বা সময়হীনতা: বিগ ব্যাং এর আগের ও পরের সময়। বলা যেতে পারে আল্লাহ, ইশ্বর বা ভগবানের সময়, যেখানে সময়ের কোনো অস্তিত্ব নেই।

ক্রমেই আমি বুঝতে পারছিলাম যে, আমি ধীরে ধীরে এক গভীর রহস্যের জগতে ডুবে যাচ্ছি। কিন্তু, এ ছিল এমনই এক রহস্য যে সহসাই আর ভেসে উঠতে ইচ্ছে করল না আমার।

(পরের অংশ)

Facebook Comments
Hassan Tareque Chowdhury

লেখক, কবি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে প্রধান মানব সম্পদ কর্মকর্তা। প্যারাসাইকোলজি ও স্পেকুলেটিভ সাইন্স ফিকশনের সমন্বয়ে লেখা দুটি বই: ‘দ্বিখণ্ডিত’ ও ‘যুগল মানব’।

2 COMMENTS

  1. “সময় সেমেটিক ধর্ম গুলোতে বৃত্তাকার” একথার সাথে আমি একমত না। হিন্দু ধর্মমত অনুযায়ী মানুষ বার বার জন্মাবে,বোদ্ধ ধর্ম অনুযায়ী একদিক থেকে ধংস হবে আরেক দিকে সৃষ্টি হবে… রাত আর দিনের আবর্তনের মত একটা সার্কেল। কিন্তু ইসলামে তা না, আমরা যদি কোনো সময় পার করে ফেলি তাহলে সেটা আর কখনোই ফেরত পাব না, কোনো মানুষ মারা গেলে সে আর দুনিয়াতে কখনোই ফেরত আসে না, বিগ ব্যাং এর দ্বারা আল্লাহ এই সৃষ্টির সূচনা করলেও তা শেষ হবে কিয়ামতের মাধ্যমে।

    অর্থাৎ এটা একটা সরল রেখার মত যা শুরু হয়েছে কিন্তু কখনোই তার সূচনাতে ফিরে যেতে পারবে না, যেমন এই সৃষ্টিগুলো আবার পুনর্বার একই ভাবে সৃষ্টি করবেন না আল্লাহ। অর্থাৎ প্রথমে বিগ ব্যাং, তারপর আবার আল্লাহ পুনরায় দুনিয়াতে আমাদের ফেরত পাঠাবেন না যেমন ভাবে সরল রেখা তার শুরুতে ফেরত যেতে সক্ষম না।

    তাহলে আল্লাহ যে আমদের পুনর্বার সৃষ্টি করবেন সেটা? আল্লাহ আমাদের পুনর্বার সৃষ্টি করবেন সেটা হবে ভিন্ন এক সময়ে। এই সময় ধংস করে সেটা হবে আরেক সময়ের সূচনা। সেটাও আল্লাহ সরল রেখা টাইপের সৃষ্টি করবেন। আর মেরাজের ঘটনাটা এই সরলরৈখিক সময়কে আরো মজবুত ভাবে সমর্থন করে।

    এই ঘটনার উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে একই সময়ে দুইটা ভিডিও ক্লিপ চলার মত। একটাকে থামিয়ে অন্যটা দেখার মত। দুনিয়ার সময়কে থামিয়ে অাধ্যাত্মিক জগতের সময়ে প্রবেশ করা। সেখানে তিনি যত কিছু দেখেন সব অাধ্যাত্মিক জগতের সময়। ঐ সময়ে পৃথিবীর সময় ছিল স্থির। তিনি জান্নাতে গিয়ে যা দেখেন তা হল জান্নাতের হুর। তারা অবস্থান করছে অাধ্যাত্মিক জগতের সময়ে। লক্ষ্য করুন, তিনি জান্নাতে গিয়ে কিন্তু আদম আর হাওয়াকে একেবারে প্রথমের অবস্থায় দেখেন নি। অর্থাৎ আমাদের সময়ের মতই যা একবার গত হয়েছে তা আর ফেরত আসবে না, কিন্তু সার্কেলিং এ তা সম্ভব। আর সার্কেলিং সম্ভব শুধু মাত্র আল্লাহর জন্য।

    তিনি কোনো সময়ের মধ্যে আবদ্ধ না। তিনি সময় থেকে বাইরে অবস্থান করছেন। কিয়ামতের পর আল্লাহ আমাদের যে নতুন সময়ে প্রবেশ করাবেন সেটাও সরলরৈখিক। তাই সবশেষে এটাই বলব, আমরা এমন একটা সময়ে অবস্থান করছি যেটা সরলরৈখিক।যেটার অতীতে ফেরা অসম্ভব।

  2. মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। তবে, আমার মনে হয় আপনি কোনভাবেই তথ্যচিত্র ভুল ভাবে পড়েছেন। আমি বলিনি যে “সময় সেমেটিক ধর্ম গুলোতে বৃত্তাকার” বরং বলেছি “সেমেটিক ধর্মগুলোতে (ইহুদি, ক্রিশ্চান ও ইসলাম) সময়ের চক্রাকার বা বৃত্তাকার ধারণা না থাকলেও“ অন্য কিছু বিষয় একই রকম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here