page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

সহজে মানসিক চাপ কমাতে চাইলে এক্ষুনি ছবি আঁকতে বসুন

যারা চিন্তা বা ভাব প্রকাশে একেবারেই অক্ষম তাদের অব্যক্ত চিন্তা বা অনুভূতি প্রকাশ করে থাকে আর্ট থেরাপি। তার অর্থ এই না অন্যেরা এ দিয়ে উপকৃত হবে না। দক্ষতা ও মনোযোগ বাড়ানোর জন্যে, মানসিক বা শারীরিক যন্ত্রণা উপশমের জন্যে বা কনফিডেন্স বাড়ানোর জন্যে আপনিও আর্টের আশ্রয় নিতে পারেন।

৫ বছর বয়সী ছেলে শিশুর আঁকা ছবি। সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলেটি রক্ষা পেলেও তার মা মারা যায়। ছবিতে মাকে ও নিজেকে রক্ষার জন্যে বেষ্টনির ব্যবহার লক্ষণীয়।

লাইন এঁকে শুরু করুন
প্রতিদিনকার জীবনে আর্ট থেরাপি দিয়ে আপনি কোনো মাস্টারপিস তৈরি করবেন না, বরং যা কিছুই করবেন উদ্দেশ্য থাকবে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি। আর্ট থেরাপিতে আপনি কী আঁকছেন তা নয় বরং কাজের পদ্ধতিরই বেশি গুরুত্ব।

আপনার দরকার একটা পেন্সিল তুলে নেওয়া আর আঁকা শুরু করে দেওয়া। যা আপনাকে বর্তমানের মধ্যে নিয়ে আসবে সঙ্গে সঙ্গে। আপনি বইয়ের কোণে ডুডল করছেন না পত্রিকার মার্জিনে আঁকছেন তাতে কিছু আসে যায় না। ট্রেনে, বাসে কিংবা কাজে যাওয়ার পথে আপনার কল্পনাকে একটু খেলতে দিন।

দেখার চেষ্টা করুন
একটা জার্নালের পেইন ম্যানেজমেন্ট রিপোর্ট দেখিয়েছে, ছবি আঁকার পাশাপাশি ছবি দেখাও ক্যান্সার রোগীদের উৎকণ্ঠা ও যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে। ছবি যদি আঁকতে ইচ্ছা না-করে, ছবি দেখুন, মনোযোগ ঘুরিয়ে দিন উৎকণ্ঠা-কমানো ছবির দিকে। পার্কে হাঁটুন, গাছের একেকটা ফুলের দিকে মনোযোগ দিন যতক্ষণ না বর্তমানের সাথে একাত্ম হয়ে যান আপনি। প্রদর্শনীতে যান, ছবির ফুলদানির ফুলগুলিতে তুলির একেকটা আঁচড়ের দিকে তাকান। আর-সবকিছু ভুলে গিয়ে বর্তমান সময়টাতে উপস্থিত থাকাটাই মূল কথা।

স্রোতের সাথে ভেসে যান
মোজাইক বানানোর জন্য গ্লাস আর টাইলের টুকরার মাঝে হারিয়ে যাওয়াটাকে আর্ট এক্সপার্টরা বলবেন স্রোতে ভেসে যাওয়া, অনেকটা ধ্যানমগ্ন অবস্থায় চলে যাওয়া। চাপ কমাতে প্রচলিত ধ্যানের যে প্রভাব, শিল্পেরও তাই। নিজেকে হারিয়ে ফেলার স্রোতটাকে খুঁজে বের করতে শিল্পের কোনো মাধ্যম বেছে নেয়াই কার্যকর বেশি| কোনো নিয়ম নাই, কোনো সফটওয়ার প্রোগ্রাম বা যন্ত্র নাই। মোজাইকের কাচের টুকরায় হারিয়ে যাওয়াটা আনন্দের, আর ভুল বলতে কোনো কিছু নেই।

আঁকতে-আঁকতে নিজেকে সুখী করে তুলুন
বাচ্চাদের মাঝে দেখা যায়, সৃজনশীল কোনো কাজ শুরু করলে শেষে গিয়ে কী দাঁড়াবে তা-নিয়ে ভাবে না। বড়দের ক্ষেত্রে যা হয়, কাজ শুরু করার আগেই সমাপ্তি নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় সবাই, কাজের আনন্দটাও উধাও হয়ে যায়। পরের বার বাড়িতে মোম-রঙ নিয়ে আসলে চেয়ার টেনে বাচ্চাদের সাথে বসে যান। রঙ করা শুরু করুন ওদের দেখাদেখি। আর ফ্রিজের দরজায় ওরা নিজেদের ছবি টাঙিয়ে দিলে নিজের ছবিটাও সাথে-সাথে টাঙিয়ে দিন।

ভালোবেসে আঁকুন
আপনার যদি হাতের কাজে আগ্রহ থাকেই, কখনো-কখনো নিজ হাতে টুকিটাকি জিনিস বানিয়ে ফেললেই আর্ট থেরাপি হয়ে যায়। দৃশ্যমান জগতের সাথে যোগসূত্র স্থাপনে, আর বর্তমানের সাথে একাত্ম হতে এসব হাতে-বানানো ছোট-ছোট জিনিসের ভূমিকা যারপরনাই বড়।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক