উপরের ছবি: চিত্রশিল্পীর আঁকা পারভিরাপটর এস্তেসেই (Parviraptor estesi) সাপের ছবি। এই সাপ জুরাসিক আমলের প্রথম দিকে অথবা ক্রেটাসিওয়াস আমলের শেষের দিকে শামুক এবং ছত্রাক আছে এমন একটি মিঠাপানির লেকে সাঁতার কাটছে। ইংল্যান্ডের সোয়ানেজের পুরবেক লাইমস্টোনে এই সাপের ফসিল পাওয়া যায়।

একটি সরিসৃপ ফসিল নতুন করে বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা সাপেরা কীভাবে পা হারিয়েছিল বিবর্তনের এই ধাঁধার সমাধান খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, আগে যেমন ভাবা হত যে সাগরে বাস করার জন্য সাপেরা পা হারিয়েছিল, ধারণাটি ঠিক নয়।

সাপেদের কীভাবে বিবর্তন ঘটেছিল সে সম্পর্কে ৯০ মিলিয়ন বছর বয়সী একটি খুলি থেকে বিজ্ঞানীরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পেয়েছেন।

সেই ফসিলের সিটি স্ক্যান এবং আধুনিক সরীসৃপের মধ্যকার তুলনায় দেখা গেছে গর্তের ভিতরে শিকার করার জন্য সাপেরা পা হারিয়েছিল। এখনো অনেক সাপ গর্তের ভিতরে শিকার করে থাকে।

ডাইনিলাইসিয়া পাতাগোনিকা নামের ২ মিটার লম্বা একটি সরীসৃপের ফসিলের ভিতরের কান পরীক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানীরা সিটি স্ক্যান ব্যবহার করেছেন। এই প্রাণীটি আধুনিক সাপেদের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ফসিল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এই প্রাণীটির শোনা এবং ব্যালেন্সের কাজ নিয়ন্ত্রণ করত যে অংশ, আধুনিক গর্তজীবি সাপেদের কানেও সেই অংশ রয়েছে।

আধুনিক সাপ ও টিকটিকির সাথে তুলনা করার জন্য তারা এই ফসিলটির কানের ভিতরের অংশের একটি থ্রিডি ভার্চুয়াল মডেল বানিয়েছিলেন। গবেষকরা দেখেছেন যে শুধুমাত্র গর্তজীবি প্রাণীদের ভিতরের কানে এই আলাদা ধরনের গঠন রয়েছে, এটা সম্ভবত তাদেরকে শিকার এবং শত্রু শনাক্ত করতে সহায়তা করে। যেসব সাপ পানিতে বা গাছে থাকে তাদের কানে এই গঠনটি নেই।

সাপেদের বিবর্তনের তথ্যে যে অসম্পূর্ণতা ছিল তা পূরণে সহায়তা করবে এই গবেষণার ফলাফল। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে ডাইনিলাইসিয়া পাতাগোনিকা এখন পর্যন্ত জানা সবচেয়ে বড় গর্তজীবি সাপ। এটা আধুনিক গর্তজীবি সাপদের সম্পর্কে আরো অনেক হাইপোথেটিক্যাল ক্লুও দিয়েছে।

রয়াল সোসাইটির সহায়তায় এই গবেষণাটি সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত হয়েছে।

এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব জিওসায়েন্সের ড. হঙ্গিউ উইয়ি ছিলেন এই গবেষণার প্রধান। তিনি বলেছেন, সাপেরা কীভাবে পা হারিয়েছে তা বিজ্ঞানীদের কাছে অনেক দিন ধরে একটি রহস্য, কিন্তু মনে হচ্ছে তাদের পূর্বপুরুষেরা গর্তজীবি যখন হয় তখন এটা ঘটেছিল। এই ফসিলের ভিতরের কানটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উন্মোচন করতে পারে। এই তথ্যগুলি খুব উপকারীও। ফসিলটির বাইরের অংশ এতই ভঙ্গুর এবং আঘাত পেয়েছে যে তা আর পরীক্ষা করা যায় না।

আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টোরির মার্ক নরেল এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এক দশক আগে এই আবিষ্কার সম্ভব হতো না—সিটি স্ক্যানের ক্ষেত্রে এতটা বিপ্লব হয়েছে যে আমরা এর মাধ্যমে প্রাচীণ প্রাণীদের পরীক্ষা করতে পারি। আমরা আশা করি এই ধরনের আরো গবেষণা টিকটিকি, কুমির ও কচ্ছপসহ আরো অনেক প্রজাতির প্রাণীদের বিবর্তনের ওপর আলো ফেলতে পারবে।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here