ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার মেডিকেল স্কুলের গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ভিটামিন ডি এর অভাব রয়েছে তাদের আলঝেইমারসের মত স্মৃতি লোপ পাওয়ার অসুখ দেখা দিতে পারে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “ভিটামিন ডি এর অভাবে সব ধরনের স্মৃতিভ্রংশ ও আলঝেইমার রোগ হওয়ার যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।”

গবেষকরা ৬৫ বছরের বেশি বয়সের ১৬৫৮ জনের রক্ত পরীক্ষা করে দেখেছেন। এই ১৬৫৮ জনের স্মৃতিভ্রংশ, হৃদরোগ, স্ট্রোক এইসব কিছু ছিল না। তথ্যগুলি নেওয়া হয়েছিল ১৯৯২-৯৩ থেকে ১৯৯৩ সালের কার্ডিওভাস্কুলার হেলথ স্টাডি থেকে।

গবেষণা প্রতিবেদনটির প্রধান লেখক ডেভিড লেওয়েলিন বলেন, আমরা আশা করেছিলাম যে কম মাত্রার ভিটামিন ডি এবং স্মৃতিভ্রম ও আলঝেইমার’স রোগের মধ্যে কোনো সম্পর্ক দেখতে পাব। কিন্তু যে ফলাফল পাওয়া গেছে তাতে আমরা আশ্চর্য হয়েছি। কম মাত্রার ভিটামিন D এবং স্মৃতিভ্রম ও আলঝেইমার রোগের মধ্যে সম্পর্ক আমরা যা ধারণা করেছিলাম তার থেকে দ্বিগুণ।

দেখা গেছে প্রায় ছয় বছর পরে ভলান্টিয়ারদের মধ্যে ১৭১ জনের স্মৃতিভ্রম এবং ১০২ জনের আলঝেইমারস দেখা দিয়েছে।

যাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর মাত্রা স্বাভাবিক তাদের তুলনায় যাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর পরিমাণ কম তাদের স্মৃতিভ্রম হওয়ার ঝুঁকি ৫৩ শতাংশ ও আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি ৭০ শতাংশ বেশি।

যাদের শরীরে ভিটামিন ডি এর মাত্রা মারাত্মকভাবে কম তাদের স্মৃতিভ্রম হওয়ার ঝুঁকি ১২৫ শতাংশ, একইসাথে তাদের আলঝেইমার রোগ হওয়ার ঝুঁকি ১২০ শতাংশ।

লেওয়েলেন জানিয়েছেন, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেলে খেলে অথবা ভিটামিন ডি এর সম্পূরক খাবার গ্রহণ করলে স্মৃতিভ্রম বা আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমে যায় কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো পরীক্ষা প্রয়োজন। স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়ার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা নেই।

লিওয়েলেন এখনই বলছেন না ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার বেশি গ্রহণ করলেই ডিমেনশিয়া হবে না বা ঝুঁকি কমে যাবে। তিনি বলেন, সবার উচিৎ তৈলাক্ত মাছ ও ব্যালেন্সড ডায়েট গ্রহণ করা এবং পরিশ্রম করা, যেমন, ব্যায়াম করা বা দ্রুত হাঁটা।

লিওয়েলেন বলেন, আমাদের শুরু থেকেই সাবধানি হওয়া উচিৎ। আমাদের এই নতুন গবেষণার ফলাফল সরাসরি বলছে না যে ভিটামিন ডি এর মাত্রা কম থাকলে ডিমেনশিয়া হয়। তবে এটা থেকে দেখা যাচ্ছে, ফলাফল খুবই উৎসাহজনক। যদি খুব অল্প সংখ্যক মানুষও এ থেকে উপকার পায় তবে ডিমেনশিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবের তুলনায় জনস্বাস্থ্যের জন্য তা উপকারী হবে।

লেনক্স হিল হাসপাতালের নিউরোলজিস্ট এবং মেমোরি ডিসঅর্ডার বিশেষজ্ঞ গায়ত্রী দেবী বলেছেন, আলঝেইমারস রোগ এবং ডিমেনশিয়াকে বিভিন্নভাবে দেখার ফলে অবস্থা সম্পর্কে বিশদ ধারণা পাওয়া যায়। আলঝেইমার রোগ এবং ডিমেনশিয়া মানুষের পরিণত বয়সে ঘটে থাকে অনেকগুলি কারণে, যেমন, খাবার-দাবার, লাইফস্টাইল এবং জেনেটিক্স।

ভিটামিন ডি এর অভাবে যা হতে পারে:

– হৃদরোগের কারণে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।
– পরিণত বয়সে মনোবৈকল্য দেখা দেয়।
– শিশুদের মারাত্মক হাঁপানি হতে পারে।
– ক্যান্সারের সম্ভাবনা দেখা দেয়।

তবে সম্পূরক ভিটামিন ডি বা ভিটামিন ডি এর সিনথেটিক ভার্সন গ্রহণে বিপদ রয়েছে। সিনথেটিক ভিটামিন ডি পরিচিত D2 নামে। সাধারণত এগুলির নাম হয়ে থাকে ভায়োস্টেরল অথবা এরগোক্যালসিফেরোল।

D2 বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে যে ক্ষতিকর প্রভাব দেখা দিতে পারে:

– ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়
– বিবমিষা
– বমি হয়
– ক্ষুধা কমে যায়
– পানির পিপাসা বেড়ে যায়
– প্রস্রাবে সমস্যা দেখা দেয়
– বিষণ্ণতা
– মানসিক অবস্থার পরিবর্তন
– মারাত্মক রকমের ক্লান্তি
– লাল লাল ফুসকুড়ি দেখা দেয়
– মুখে এবং গলায় চুলকানি হয়
– মাথা ঘোরে
– শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয়

বিভিন্ন উৎস যেমন, দুধে যুক্ত করা কোনো উপাদান, খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ও নির্দিষ্ট কোনো সম্পূরক থেকে ভিটামিন D2 গ্রহণের ক্ষেত্রে সাবধান থাকা উচিৎ। এর কারণে শরীরে তীব্র বিষক্রিয়া হতে পারে। এবং এই বিষক্রিয়া D2 এর সাথে বিক্রিয়া করে মারাত্মক ক্ষতিকর কিছু ঘটাতে পারে।

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here