page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

“সে প্রকৃত অর্থে ওরকম অতিমানব না।”—রণক ইকরাম

সাদ রহমান: আপনার যে বইটা আসছে, ওই বইটার নাম একটু জানতে চাই।

রণক ইকরাম: ‘অতিমানব’।

সাদ: এটা কীসের বই, উপন্যাসের?

রণক: উপন্যাস।

সাদ: আপনার বইয়ের উপরে দেখলাম যে আপনার নাম নাই।

রণক: এটা প্রথমত মিসটেক। প্রকাশকের মিসটেক। কিন্তু এই মুহূর্তের ব্যাখ্যা যেটা, সেটা হচ্ছে যে আমি নিজেও অতিমানব হয়ে উঠতে চাই না, সেজন্য আমার নাম নাই। কারণ, যদি নাম থাকে—অতিমানব / রণক ইকরাম—আমি কি অতিমানব? আপাতত এইটাই। তো এই আর কি। নাম, প্রকাশক, কালকে সম্ভবত ফ্ল্যাপটা চেন্জ হবে। আর এমনিতে সাইডে তো নাম আছেই।

boimela-logo-2016

সাদ: ‘অতিমানব’ উপন্যাসটা কোন জায়গাকে কেন্দ্র করে?

রণক: ‘অতিমানব’ উপন্যাসটা, আসলে দুইটা ফ্যাক্ট। একটা হচ্ছে বর্তমান, এবং হচ্ছে অতীত। অতীত যেটা, আমি এটাকে ফ্যান্টাসি ফিকশন বলি, আবার আপনি ইচ্ছা করলে ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাসও বলতে পারেন। ফ্যাক্ট হচ্ছে এখনকার সময়ের আর্কিওলজির একটা স্টুডেন্ট, সে হচ্ছে নেফারতিতির আমলে ভ্রমণ করতে যায়। নেফারতিতি হচ্ছে মিশরীয়, প্রচীন মিশরীয় একজন ফারাও। আজ থেকে তিন হাজার বছর আগেকার একজন রাণী ফারাও আর কি উনি। ওই সময়টাতে যান। তার আগে একটা জিনিস বলে রাখি, আমার এই উপন্যাসটা কিন্তু আরেকটা উপন্যাসের সিক্যুয়াল। আমার জাগৃতি থেকে গতবছরের আগের বছর একটা উপন্যাস বেরিয়েছিলো, নাম ছিলো ‘অন্য মানবী’। সেই উপন্যাসটা ছিলো বেসিক্যালি এই সময়ের একটা আরকিউলজির স্টুডেন্টের জীবনে প্রাচীন মিশরের রাণী ক্লিউপেট্রা এসে ধরা দেয়। এবং তাকে বলে যে, তুমি আমাকে অভিশাপমুক্ত করো। আমি মমির অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে আমার জগতে ফেরৎ যেতে চাই। কারণ তুমি হচ্ছো সাত হাজারের মধ্যে একজন সৌভাগ্যবান। তখন সামহাউ ক্লিউপেট্রা মুক্তি লাভ করে, এবং বলে যে আমাকে মুক্তি দিলে সৌভাগ্য তোমার দাস হবে, তুমি এটা পরে প্রমাণ পাবে।

Untitled-1

অতিমানব । রণক ইকরাম । ফেব্রুয়ারি ২০১৬ । প্রিয়মুখ । দাম: ১৫০ টাকা । প্রচ্ছদ: শাকীর এহসানুল্লাহ ।

এটা ছিল আমার প্রথম উপন্যাসের প্লট। প্রথম উপন্যাসের শেষে দেখা যায় যে নায়ক হচ্ছে মেন্টাল হসপিটালে চিকিৎসাধীন, রূপম, মূল ক্যারেক্টার। সে মেন্টাল হসপিটালে চিকিৎসাধীন থাকে, এবং ওখানেই গল্পটা শেষ। আর দ্বিতীয় উপন্যাসটা ওখান থেকে শুরু। ওখান থেকেই শুরু, এবং দ্বিতীয় উপন্যাসের শুরুতে দেখা যায় যে, তার কাছে ক্লিউপেট্রার দূত হয়ে মিশরীয়দের আলো এবং বাতাসের দেবতা শু আসেন তার কাছে, ক্লিউপেট্রার দূত হয়ে। এবং তাকে বলেন যে, রূপম আপনি এখন আর সাধারণ মানুষ নেই। আপনি একজন অতিমানব হয়ে উঠছেন।

সাদ: প্রথম উপন্যাসটা যখন লিখছিলেন, তখন কি মনে হচ্ছিল যে আপনি এটার পরে লিখবেন?

রণক: না, একদমই না। প্রথম উপন্যাসটার সময়ে সিক্যুয়াল করার একদমই ইচ্ছা ছিলো না। বেসিক্যিালি, জাগৃতির প্রকাশক যিনি ছিলেন, ফয়সাল আরেফিন দীপন, দীপন ভাই প্রথমটা উপন্যাসটা একটু জমজমাট হওয়ার পরে ওনার ব্যক্তিগতভাবে ভাল্লাগছে, রেসপন্সও মোটামুটি ভালো ছিল। এর প্রেক্ষিতে উনি একদিন উনার অফিসে বইসা বলল যে রণক কী দিবেন?

আমি বললাম একই টাইপের কিছু একটা দেই। ধরেন, প্রেম ট্রেম, বা নরমাল কিছু তো লিখাই যায়। আমি যেহেতু নন ফিকশন লেখি প্রচুরি, ইতিহাস নিয়া ফিচার-টিচার করতে হয়, এগুলা দায়সারা গোছের কাজ হয় অনেক সময়। কিন্তু একই জিনিস যদি আমি উপন্যাসের মোড়কে দেই, তাইলে একটা কার্যকরণ অন্তত যোগ হয়, আমার গদ্য যদি অসামান্য না হয়, আমার গদ্য যদি অ্যাজ ইউজ্যুয়াল হয়, তারপরও কিন্তু একটা ফ্যাক্ট তৈরি হয়। কী ফ্যাক্ট? হ্যা, এই বইটা পড়লে ক্লিউপেট্রা সম্পর্কে পাঁচটা ইনফরমেশন আপনি জানতে পারবেন। এটা কিন্তু একটা সিগনেচার। দীপন ভাই ওইটা এপ্রিশিয়েট করছেন, এবং উনি বললেন, এক কাজ করেন, এটারই সিক্যুয়াল করেন।

‘ভাই এইটার সিকুয়াল ক্যামনে করুম, এইটা তো শেষ কইরা দিছি।’

‘ভাবেন আপনে, করতে পারবেন।’

তখন পরে হচ্ছে, ওই যে ক্লিউপেট্রার একটা কমেন্ট থেকে শুরু কইরা এই গল্পটা। এবং এই গল্প হচ্ছে এখানে আসলে ভালোবাসাটাকে মুখ্য উপজীব্য হিসাবে রাখা হইছে। ফ্যান্টাসির মূল জায়গা হিসাবে রাখা হইছে।

সাদ: দীপন ভাই বলার বাইরে ওই উপন্যাসটার রেসপন্স থিকা কি আপনার আরেকটা উপন্যাস বের করার, একই প্লট নিয়া এরকম?

রণক: একই প্লট নিয়া দীপন ভাই বলার বাইরেও যেটা হয়, ধরেন আপনে যখন কোন কাজ করবেন, আপনের আশেপাশের মানুষগুলোর সঙ্গে কিন্তু শেয়ার করা হয়। এমন অনেক অসম্পূর্ণ প্রজেক্ট থাকে, যেটা আমাদের বন্ধুবান্ধব অথবা বান্ধবী পর্যন্ত আটকায়া থাকে। শেষ পর্যন্ত ওটা বাস্তবায়িত হয় না। এরকম আলাপ হয়। তো আমার ওই কনসেপ্টটা মাথায় ঢুকছিল, ওই যে বললাম,অ্যাটলিস্ট একটা কার্যকরণ, যে, নরমাল উপন্যাসের বাইরে বিষয়ভিত্তিক কোনো কিছু। যেমন আমি একটা কিশোর উপন্যাস, শেষ করতে পারি নি। আমি তুতেনখামেনের মমিরহস্য যেটা ছিল, ওইটা দিয়া একটা কিশোর উপন্যাস লিখতেছি। ‘সোনার মুখোশ’ নাম। এই একই ব্যাপার। যে অ্যাটলিস্ট একটা গল্প বা একটা আলাদা কার্যকারণ আমার উপন্যাসের মধ্যে থাকুক, যেটার একটা হিস্টিরিকাল বেইজ থাকবে, সাথে আমার ফ্যান্টাসি বা কল্পনা বর্ণনা সহ, যেটা হয়।

সাদ: এর চরিত্রগুলা বোধহয় বাংলাদেশী?

রণক: হ্যাঁ, আমার মূল চরিত্র, সে হচ্ছে বাঙালি বংশোদ্ভূত কিন্তু হচ্ছে সে পড়াশুনা করতেছে লিভারপুলে। আর্কিওলজির স্টুডেন্ট হিসাবে, বিদেশে। প্রথম উপন্যাসটার শুরুটাই হয় এরকম যে, ক্লিউপেট্রার মমি আবিষ্কার হইছে, তার মমিটার একটা এক্সিবিশন চলতেছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। ওখানে সে অ্যাটেন্ড করতে যায়। ওখান থেকে মূল গল্পটা শুরু, প্রথমটা। এবং ফ্যাক্ট হচ্ছে বাস্তবিক ক্লিউপেট্রার মমি এখনো অবিষ্কার হয় নাই। আমি ওইটাই উপজীব্য ধরে এগুইছি। গল্প পড়ে কেউ বিশ্বাস করতে হবে, সেটা বলছি না। অবিশ্বাস করলেও সেটার লজিক আছে। কারণ আমার গল্পে স্বয়ং নায়কই প্রশ্ন করতেছে যে, আসলেই বিষয়টা ঘটছিল? এবং সে সুস্থ হওয়ার জন্য কামনা করে। আমার ‘অতিমানবে’র সবচে বড় দুর্বল দিক হচ্ছে, সে প্রকৃত অর্থে ওরকম অতিমানব না। এটাই আমি চাই আমার পাঠকের কাছে বিস্তৃত হোক।

সাদ: এই যে হিস্ট্রিকে সঙ্গে করে উপন্যাস লিখছেন, এই যে হিস্ট্রিকে আপনার ভিতরে নেওয়া, এই প্রক্রিয়াটা কেমন? এটা কি চাকরি, বা আপনি নিজে, কী সুবাদে?

রণক: এটা আমি বলবো যে বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর একটা বড় ভূমিকা আছে, আমি ওখানে ‘রকমারি’ নামে একটা পাতা চালাই, তো ওখানে কাজ করতে গিয়ে হচ্ছে আমাকে প্রচুর লিখতে হয়। তো যে কারণে, প্রচুর লিখি, অনেক সময় দায়সারা… দৈনিকে কাজ করলে বোঝেনই, দায়সারা গোছের অনেক কাজ হয়। কিন্তু এর মধ্যে ‍কিছু কিছু বিষয় আপনাকে ছুঁয়ে যায়। যেমন ধরেন ক্লিউপেট্রা, আমাকে ছুঁয়ে গেছিল। এবং হচ্ছে আমি ক্লিউপেট্রা নিয়ে উপন্যাস লিখে ফেলছি, কিন্তু ক্লিউপেট্রা নিয়ে নন ফিকশন, বা হিস্ট্রিকাল বই যেটা, সেটা আমি এখনও পর্যন্ত শেষ করতে পারি নাই। কারণ আমি এখনো গুঁতাচ্ছি। নতুন একটা ইনফরমেশন পাচ্ছি, দেখছি, জানছি, এর মধ্যে কিন্তু ক্লিউপেট্রার হিস্ট্রি আমার মোটামুটি মুখস্থ। একারণে যে সুবিধাটা হইছে, আমি ওই যে উপন্যাস লিখতে যেয়ে উপন্যাসে দেওয়ার মতো যে বেসিক ইনফরমেশনগুলো্ ওগুলোও আর আমার নতুন করে ঘাটতে হচ্ছে না।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ১৫/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাদ রহমান
সাদ রহমান

জন্ম. ঢাকা, ১৯৯৬। কবিতার বই: 'কাক তুমি কৃষ্ণ গো' (২০১৬)।