page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

সোশ্যাল মিডিয়ায় মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দাম নিয়ে কথা বলেছে আইসিস যোদ্ধারা

ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা যৌনদাসীদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করার ব্যাপারে আলোচনা করেছে। মৌলবাদ বিরোধী এক পর্যবেক্ষক সূত্র এ তথ্য প্রকাশ করেছে। একটি আলোচনায় একজন জিহাদী সমর্থক এগুলিকে ‘বিচ্ছিন্ন অংশ’ উল্লেখ করে কিডনি, লিভার কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

মিডল ইস্ট মিডিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউট নামের ওয়াশিংটন ভিত্তিক একটি সংবাদ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ সংস্থা জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার এই আলোচনাগুলি থেকে কোথায় এবং কী অবস্থায় নারীদের রাখা হয়েছে, তাদের কেমন দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসার মত বিষয়েও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

yeajidi-456

যেসব এলাকায় আইএস নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেসব এলাকা থেকেও জঙ্গিরা সংখ্যালঘু আরো অনেককেই যৌনদাসী বানিয়েছে।

মৌলবাদ বিরোধী থিঙ্ক ট্যাঙ্কের গবেষকরা ইসলামিক স্টেটের জঙ্গি এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যকার কয়েকটি আলোচনা বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে একটির বিষয় ছিল নারী দাসীদের মূল্য এবং তাদের কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে সে ব্যাপারে।

জঙ্গিবাদ বিরোধী এই গ্রুপটি জানিয়েছে, এই আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে আইসিস মানব দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাচার করছে। আলোচনায় জিহাদীরা মাঝে মাঝেই এসবের দাম এবং দাসীদের নেয়ার ব্যাপারে আলোচনা করেছে।

সেপ্টেম্বর ২০১৪-এর একটি আলোচনায় দেখা যায় আইএসের একজন সদস্য অথবা সমর্থক আরেকজনকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দামের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছে। এই আলোচনায় সে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ‘বিচ্ছিন্ন অংশ’ বলেছে। সেই সদস্য অথবা সমর্থক অন্যজনকে বলেছে সে যৌনদাসীদের কিডনি অথবা লিভার যোগাড় করতে পারবে কিনা।

yeajidi-3

ইরাকের দুহুকে একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া ইয়াজিদী মেযেরা।

২০১৫-এর ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘে ইরাকের দূত মোহাম্মদ আলহাকিম বলেছেন, খেলাফত আন্দোলনের খরচ যোগানোর জন্য আইএস মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করছে। গণকবরগুলিতে অপারেশনের চিহ্নসহ ছিন্নভিন্ন এবং কিডনিবিহীন দেহ পাওয়া যাওয়ার পর আলহাকিম জাতিসংঘকে এই বিষয়ে তদন্ত করতে আহবান জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, আমাদের কাছে এইসব দেহ রয়েছে। এসে পরীক্ষা করে দেখুন। এটা স্পষ্ট যে এইসব দেহে নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই। তিনি আরও জানান, আইএসের কথামত ভিকটিমদের দেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সরাতে রাজি না হওয়ায় উত্তর ইরাকে অনেক চিকিৎসককে তারা হত্যা করে।

হাজার হাজার ইরাকি নারীদেরকে জড়ো করে যৌনদাসী বানানো হয়েছে এবং ইয়াজিদী গোত্রের ৩০০০ নারী এবং কিশোরীকে বন্দি করা হয়েছে। তাছাড়া আরো যেসব এলাকায় আইএস নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে সেসব এলাকা থেকেও জঙ্গিরা সংখ্যালঘু আরো অনেককেই যৌনদাসী বানিয়েছে।

দাসী, নারী এবং শিশুদের সাথে আইএস যোদ্ধারা কী আচরণ করবে সে বিষয়ে ২০১৪ এর শেষের দিকে আইএস একটি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে।

জিহাদীদের দাবি, অবিশ্বাসী নারীদেরকে বন্দি করা ইসলামে বৈধ। সেই প্রজ্ঞাপন অনুসারে জঙ্গিরা বন্দি করা নারীদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে, এবং সেই নারীটি যদি কুমারী হয় তবে তা যত দ্রুত সম্ভব। আর যদি সে কুমারী না হয় তাহলে শারীরিক সম্পর্কের পূর্বে তার জরায়ু পবিত্র করে নিতে হবে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক