ত্যিকারের সফল হয় তারাই যারা সবকিছুকে জোরে একটা ঝাঁকি দিতে পারে।
বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কারেন আর্নল্ড বলেন, “আপসকারী আর সিস্টেমকে মেনে নেয়াদেরকেই কিন্তু আমরা সাফল্যের স্বীকৃতি দিচ্ছি।”
মানে, সেরা রেজাল্ট করা শিক্ষার্থীরা আসলে শিক্ষকরা কী চায় তা ধরে ফেলতে পেরেছিল এবং সেটাই তারা নিয়মিত পরীক্ষার খাতায় দিয়ে যাচ্ছিল। এ কারণেই তারা সফল হতে পেরেছিল।
কিন্তু পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী চিন্তক ও নেতাদের বিশেষত্ব হলো তারা কিছু রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সমস্যার অভূতপূর্ব সমাধান এনে দিয়েছিল। যে জিনিসটা অলরেডি ঠিকঠাকভাবে কাজ করছিল এমন কোনো কিছুকে পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে কেউ কখনই বিখ্যাত হতে পারবে না।
বার্কার বলেন, “স্কুলে নিয়মকানুন একদম নির্দিষ্ট করে দেয়া। কিন্তু বাস্তব জীবনে নিয়মকানুনের ঠিকঠিকানা থাকে না। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো বদ্ধ একটা সিস্টেম থেকে বের হওয়ার পর আসলে অল্পস্বল্প নিয়ম-না-মানারাই ভালো করতে পারে।”
২. জেনারেলিস্টরাই স্কুল কলেজে ভালো করে, কিন্তু বাস্তব জীবনে ভালো করে প্যাশনেট আর নির্দিষ্ট এক বিষয়ে দক্ষরা।
বার্কার বলেন, স্কুল বা কলেজে থাকাকালীন কেউ যদি ইতিহাস বিষয়ে খুব আগ্রহী হয়, তবু সে সবকিছু ছেড়ে কেবল ইউরোপিয়ান রেনেসাঁ নিয়ে পড়ে থাকতে পারবে না। আগ্রহ থাকুক বা না থাকুক, একসময় তাকে ম্যাথ হোমওয়ার্ক নিয়ে বসতে হবেই।
কিন্তু বাস্তব জীবনে তার উল্টোটা। আপনাকে কোনো এক নির্দিষ্ট বিষয় বা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে হবে। এবং অন্যান্য জ্ঞান বা দক্ষতা তখন খুব একটা কাজে লাগে না।
এবং সবচেয়ে বড় চমকটা হলো: আর্নল্ড তার গবেষণায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে ইন্টেলেকচুয়াল শিক্ষার্থীরা, যারা কোনোকিছু শিখার ব্যাপারে সত্যিকারের আগ্রহী, স্কুল কলেজে ভালো করতে পারে না।
পুরো গবেষণাটি সামারাইজ করে বার্কার বলেন, “স্কুল কলেজের সেরা রেজাল্ট করা শিক্ষার্থীরা মূলত প্রচলিত সিস্টেমকে সাপোর্ট করে এমন সব কাজে ভালো করে। তারা প্রচলিত সিস্টেমেরই অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু তারা এই সিস্টেম ছুঁড়ে ফেলতে পারে না বা তাতে কোনো নতুন পরিবর্তন আনতে পারে না।”
তবে এর মানে এই নয় যে আপনি যদি স্কুল কলেজের সেরা রেজাল্টকারীদের একজন হয়ে থাকেন, আপনি কখনই বড় কোনো সাফল্য পাবেন না। আপনিও তেমন সফল হতেই পারেন।
কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে প্রচলিত ও প্রত্যাশিত নিয়ম সবসময় মেনে চললে বাস্তব জীবনে সাফল্য পাওয়া যাবে না। ঝুঁকি নেয়া ও স্রোতের বিপরীতে সাঁতরে যাওয়া কঠিন বটে, কিন্তু কেবল এভাবেই আপনি যেতে পারবেন বহুদূর।