page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

হাওয়াই দ্বীপে আগ্নেয়গিরির লাভার সমুদ্র যাত্রা (ভিডিও)

২০১৬ এর ২৮ জুলাই এই ভিডিওটি বিগ আইল্যান্ড ভিডিও নিউজ ওয়েবসাইটে পোস্ট করা হয়েছে।

হাওয়াই দ্বীপের একটি আগ্নেয়গিরির লাভা প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে পড়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে ভিডিওটিতে। হাওয়াইয়ের আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত বিজ্ঞানীরা এই ঘটনার নাম দিয়েছেন ‘কামোকুনা ওশেন এন্ট্রি’ বা লাভার সমুদ্রে প্রবেশ।

২০১৬ এর ২৪ মে হাওয়াই এর কিলাউয়ে আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা বের হয়ে প্রবাহিত হওয়া শুরু করে। এবং দুই মাস পর, সাড়ে ছয় মাইল পথ প্রবাহিত হয়ে জুলাই এর ২৮ তারিখ লাভা সমুদ্রে পৌঁছায়। কিলাউয়ে আগ্নেয়গিরি সমুদ্র থেকে সাড়ে ছয় মাইল দূরে।

এর আগে ২০১৩ সালে লাভা প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে পৌঁছেছিল। ২০১৩ এর সেই ঘটনার পর আবার লাভা প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রে পৌঁছাল।

এই ভিডিওটি করেছেন মিক কালবার। হেলিকপ্টার থেকে অর্থাৎ উপর থেকে এই ভিডিও ধারণ করা হয়েছে।

মিক কালবার বলেছেন, আরো একবার আগুনের দেবী পেলে তার বোন, সাগরের দেবী না-মাকার সাথে মিলিত হয়েছে।

হেলিকপ্টার থেকে ভিডিও করার ফলে, লাভা সাগরের পড়ার দৃশ্যটি খুব ভালোভাবে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে সাগরের পাশের উঁচু জমি দিয়ে লাভা প্রবাহিত হয়ে সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে। উঁচু জমি থেকে তরল লাভা গড়িয়ে পড়ছে সাগরে। তরল ও উজ্জ্বল লাভাকে মনে হচ্ছে জীবন্ত কিছু। লাভার সৌন্দর্য ভয়ঙ্কর, হিপনোটাইজড বা সম্মোহিত হওয়ার অনুভূতি দেয়।

সমুদ্রে লাভার গড়িয়ে পড়া দেখছে দর্শক।

সমুদ্রে লাভার গড়িয়ে পড়া দেখছে দর্শক।

ভিডিওতে হেলিকপ্টারের শব্দ শোনা যাচ্ছে। উপর থেকে দেখা যাচ্ছে, লাভা গড়িয়ে পড়ছে এবং সাগরের তীব্র ঢেউ এসে সেই পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়ছে। ঢেউ আছড়ে পড়ার ফলে সাদা ফেনা তৈরি হচ্ছে আর উত্তপ্ত লাভা পানিতে পড়ে সেখান থেকে সাদা ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে। ঢেউয়ের ফেনা আর দ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকা ধোঁয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যাচ্ছে না।

হেলিকপ্টারে উপর থেকে ভিডিও করার ফলে পুরো দৃশ্য সামগ্রিকভাবে এসেছে। যেখানে লাভা পড়ছে তার কিছু দূরেই একটি বোট দেখা যাচ্ছে। উপরের জমিতে মাটির কিছুটা নিচ দিয়ে লাভা প্রবাহিত হয়ে আসছে, আর তার থেকে সামান্য দূরে কিছু মানুষ এসে সাগরের তীরে দাঁড়িয়েছে।

ভিডিওটির শেষদিকে খুবই সামান্য সময়ের জন্য ভিডিওগ্রাফার মিক কালবারকে স্মিত হাসিমুখে ভিডিও করতে দেখা যাচ্ছে।

কিলাউয়ে আগ্নেয়গিরির এই লাভা হাওয়াইয়ের আগ্নেয়গিরি ন্যাশনাল পার্কের মধ্যেই রয়েছে।

লাভা সমুদ্রে পড়ার দৃশ্য সরাসরি উপস্থিত হয়ে দেখার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছে পরিদর্শকদের। কর্তৃপক্ষ বলেছে লাভা এবং পানি যেখানে সরাসরি মিশছে সেখানে লাভা থেকে আগুন ছিটকে উঠছে। তাছাড়া সাগরের উপরের এই জমি মজবুত নয়। কারণ শীতল হয়ে যাওয়া লাভা ও বালুর মিশ্রণে এই জমি তৈরি হয়েছে, ফলে যেকোনো সময় ঢেউয়ের আঘাতে ধসে পড়তে পারে। আরেকটি ব্যাপার হলো, লাভা সমুদ্রের পানির সাথে মেশার ফলে সেখানকার বাতাসে লাভার বিভিন্ন ক্ষুদ্র উপাদান মিশে এক ধরনের এসিডীয় কণা ভেসে বেড়াচ্ছে, এগুলি ত্বক, চোখ ও ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর।


Kamokuna Ocean Entry Flyover (July 28, 2016)

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক