page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
আন্তর্জাতিক

হাড় ভাঙার চিকিৎসায় গাঁজা

চিকিৎসা ক্ষেত্রে মারিজুয়ানার আরেকটি ব্যবহার পাওয়া গেল। নতুন একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভাঙা হাড়ের চিকিৎসায় মারিজুয়ানা বা গাঁজা সাহায্য করতে পারে।

গবেষকরা দেখেছেন ক্যানাবিডিওল নামে মারিজুয়ানার একটি উপাদান মানুষকে নেশায় আসক্ত করে না—তবে গবেষণায় দেখা গেছে ইঁদুরদের পায়ের হাড় ভাঙার পর তা আট সপ্তাহ পর সারিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে এই উপাদান। এই গবেষণাটি তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয় ও হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নাল অব বোন অ্যান্ড মিনারেল রিসার্চে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের বোন রিসার্চ ল্যাবরেটরির ইয়াংকেল গ্যাবেট। তিনি বলেন, দেখা গেছে এই উপাদানটি হাড় সারিয়ে তোলার সাথে সাথে হাড় মজবুতও করে, ফলে ভবিষ্যতে আর ফ্র্যাকচার হয় না। এটি ঘটে কারণ ক্যানাবিডিওল শরীরকে একসাথে ধরে রাখে যে টিস্যু, সেই কানেকটিভ টিস্যু বা সংযোগতন্তুর কোলাজেন নামক প্রোটিনকে সম্পূর্ণ করে।

গ্যাবেট একটি সংবাদ বিবৃতিতে আরো বলেন, এই উপাদানটি দ্বারা চিকিৎসা করলে ভবিষ্যতে সেই হাড় ভাঙা কঠিন হবে।

এই গবেষণাটির ফলাফল মারিজুয়ানার স্বাস্থ্যগত উপকারের তালিকায় আরো একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার যোগ করল। ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপিতে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর জন্য ইতোমধ্যে মেডিসিনাল মারিজুয়ানার ব্যবহার রয়েছে। পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের চিকিৎসায়ও মারিজুয়ানা ব্যবহার করা হয়।

গ্যাবেটের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এর আগে গবেষণায় দেখেছিল যে দেহের যে অংশ ক্যানাবিনয়েড গ্রহণ করে সেই অংশ ক্যানাবিনয়েড পাওয়ার পর হাড়ের বৃদ্ধি দ্রুত করে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করে। গবেষকরা বলছেন এই গবেষণার মাধ্যমে অস্টেওপরোসিস বা হাড়ের অন্যান্য অসুখের চিকিৎসায় মারিজুয়ানা কীভাবে কাজে লাগে তা জানার দরজা খুলে গেল।

যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের প্রায় সর্বত্র মারিজুয়ানা এখনো নিষিদ্ধ। কিন্তু ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া এবং ২৩টি রাজ্যে চিকিৎসার জন্য মারিজুয়ানা প্রেসক্রাইব করা বৈধ।

যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মারিজুয়ানাকে এলএসডি এবং হেরোইনের সাথে একটি শিডিউল-ওয়ান ড্রাগ হিসাবে শ্রেণীভুক্ত করেছে। এর অর্থ হলো—বর্তমানে গ্রহণযোগ্য কোনো চিকিৎসা-ব্যবহার নেই এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। এই বছর মারিজুয়ানার ক্ষেত্রে এই শ্রেণী থেকে বের হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও, মারিজুয়ানা যেভাবে বিবেচিত তা বদলানোর জন্য নানা চেষ্টা এবং উদ্যোগ দেখা গেছে।

গ্যাবেটের মতে, চিকিৎসাগতভাবে মারিজুয়ানা ব্যবহার করে সঠিক থেরাপি তৈরি করার জন্য এখনো অনেক কাজ করতে হবে। তবে একটি ক্লিনিক্যাল থেরাপি তৈরির উদ্দেশ্যে এই উদ্ভিদের নেশাসক্ত করার ব্যাপারটি বাদ দেওয়া সম্ভব। ক্যানাবিনয়েড-সংক্রান্ত যৌগের ক্লিনিক্যাল সম্ভাবনা অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক