page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

২০১৫ এর সবচেয়ে জনপ্রিয় ১৫টি সাই-ফাই ছবি

ফটোগ্রাফি কৌশল ব্যবহার করে ১৯০২ সালে জর্জ মেলিয়েসের ‘এ ট্রিপ টু দ্য মুন’-এর মাধ্যমে সাইলেন্ট ছবির যুগের প্রথম থেকেই সাই-ফাই ছবির ধারা চালু হয়েছে। এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছবি ছিল ১৯২৭ সালের মেট্রোপলিসমেট্রোপলিসই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সায়েন্স ফিকশন ছবি। ১৯৩০ এর দশক থেকে ১৯৫০ এর দশক পর্যন্ত সায়েন্স ফিকশন ঘরানায় প্রধানত অল্প বাজেটের বি ক্যাটাগরির ছবি হয়েছে। ১৯৬৮ সালে স্ট্যানলি কুব্রিকের ২০০১: এ স্পেস অডিসি’র পরে সায়েন্স ফিকশন ঘরানার ছবিকে সিরিয়াসলি নেয়া হয়। ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে স্টার ওয়ার্সের ব্যাপক সাফল্যের পরে স্পেশাল ইফেক্টের বিগ বাজেট সায়েন্স ফিকশন ছবিগুলি দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয় এবং তা অনুসরণ করে পরবর্তী দশকগুলিতে ব্লকবাস্টার হিট সায়েন্স ফিকশন ছবি তৈরি হতে থাকে।

নিচে popularmechanics.com এর বাছাইয়ে গত বছরের সেরা ১৫ টি সাই-ফাই মুভির তালিকা।

১. জুপিটার অ্যাসেন্ডিং (Jupiter Ascending)

জুপিটার জোনস (মিলা কুনিস) এক রাতের আকাশের নিচে জন্মগ্রহণ করে, কিছু লক্ষণ বলছিল তার জীবনে দারুণ কিছু ঘটবে। জুপিটার নক্ষত্রের স্বপ্ন দেখে কিন্তু বাস্তবে সে টয়লেট পরিষ্কারের চাকরি করে। এবং সে চাকরিতে একটার পর একটা বিপত্তি ঘটতে থাকে। এরপর জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ারিং করা সাবেক মিলিটারি-হান্টার কেইন (চ্যানিং টটাম) যখন পৃথিবীতে পৌঁছায় তখন জুপিটার সৌভাগ্যের ঝলক দেখতে শুরু করে। জুপিটারের জেনেটিক চিহ্ন থেকে দেখা যায় সে এমন এক বিশেষ কিছুর উত্তরাধিকার যেটা পুরো মহাবিশ্বের ব্যালেন্স উলটপালট করতে পারবে।

২. ফিউরিয়াস সেভেন (Furious 7)

ডমিনিক এবং তার ক্রুরা অপরাধের জীবন পিছনে ফেলে এসেছে। তারা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ওয়েন শ’কে পরাজিত করে এবং তাদের আলাদা আলাদা রাস্তায় যায়। কিন্তু এখন শ’য়ের ভাই ডেকার্ড শ প্রতিশোধের জন্য একের পর এক ক্রুকে হত্যা করতে শুরু করে। তার চেয়েও খারাপ হলো জাকার্ডে নামের একজন সোমালিয়ান সন্ত্রাসী এবং মি. নোবডি নামের একজন সরকারী কর্মকর্তা গড’স আই নামের একটি কম্পিউটার সন্ত্রাসী প্রোগ্রাম চুরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই প্রোগ্রামটি যেকোনো টেকনোলজিক্যাল ডিভাইসকে অস্ত্রে পরিণত করতে পারে। শ’কে থামাতে এবং প্রোগ্রামটি উদ্ধার করার জন্য টরেট্টোকে তার দলের সাথে আবার একত্রিত হতে হবে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও সন্ত্রাসীদের মধ্যকার ক্ষমতার যুদ্ধ তো আছেই।

৩. এক্স মাকিনা (Ex Machina)

কেলিব, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট কোম্পানির ২৬ বছর বয়সী একজন কোডার। সে একটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জেতে। পুরস্কারটি ছিল ওই কোম্পানির নিঃসঙ্গ সিইও নাথানের ব্যক্তিগত মাউন্টেইন রিট্রিটে এক সপ্তাহ কাটানো। কেলিব যখন দূরের একটি জায়গায় পৌঁছায় তখন সে জানতে পারে যে তাকে একটি অদ্ভুত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে। সেই প্রতিযোগিতায় থাকে পৃথিবীর প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, একটি সুন্দরী মেয়ে রোবট, যার সাথে তাকে ইন্টার‍্যাকশনে যেতে হবে।

আরো পড়ুন: অ্যালেক্স গারল্যান্ডের সায়েন্স ফিকশন এক্স মাকিনা

৪. অ্যাভেন্জারস: এইজ অব আলট্রন (Avengers: Age of Ultron)

যখন টনি স্টার্ক সুপ্ত অবস্থায় থাকা একটি শান্তিরক্ষাকারী প্রোগ্রাম চালু করার চেষ্টা করে পরিস্থিতি হঠাৎ খারাপ হয়ে যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী হিরো আয়রন ম্যান, ক্যাপ্টেইন আমেরিকা, থর, দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক, ব্ল্যাক উইডো ও হাওকিয়ের ওপর এই গ্রহের ভাগ্য নির্ধারণের দায়িত্ব পড়ে। খলনায়ক আল্ট্রন যেন তার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে না পারে সেজন্য এগিয়ে আসে অ্যাভেন্জাররা।

৫. ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড (Mad Max: Fury Road)

ম্যাড ম্যাক্সকে তার ভয়ঙ্কর অতীত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ম্যাড ম্যাক্স বিশ্বাস করে টিকে থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো একা একা ঘুরে বেড়ানো। তারপরও সে যুদ্ধনেতা ফিউরিওসা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে এমন একটি দলের সাথে মিশে যায়। ইমমরটান জো আক্রান্ত একটি দুর্গ থেকে তারা পালাচ্ছিল। জো এর কাছ থেকে মূল্যবান কিছু একটা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধনেতা মারাত্মক ক্ষেপে গিয়ে তার সব গ্যাংগুলিকে একত্রিত করে বিদ্রোহীদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু করে।

৬. টুমরোল্যান্ড (Tomorrowland)

একটি টিনেজ মেয়ে (ক্যাসি নিউটন), একজন মধ্য বয়স্ক জিনিয়াস ব্যক্তি (ফ্র্যাঙ্ক ওয়াকার), একটি রোবট মেয়ে (র‍্যাফে ক্যাসিডি)কে নিয়ে এই ছবি। আলাদা একটি মাত্রায় টুমরোল্যন্ডের অস্তিত্ব আছে। তারা তিনজন টুমরোল্যান্ডে যায় এবং সেখানে কী হয়েছে তা উন্মচন করে।

৭. জুরাসিক ওয়ার্ল্ড (Jurassic World)

জুরাসিক পার্ক ঘটনার ২২ বছর পরে ইসলা নাবলার একটি ডাইনোসর অ্যাডভেন্চার পার্ক শুরু করেছে। জন হ্যামন্ড যেমন কল্পনা করেছিলেন ঠিক তেমনই এটি, নাম জুরাসিক ওয়ার্ল্ড। এই পার্কের মালিক প্যাটেল কর্পোরেশন। জুরাসিক ওয়ার্ল্ডের সদস্য ওয়েন (ক্রিস প্র্যাট) ভেলোসিরাপটরসদের ওপর একটি আচরণগত গবেষণার আয়োজন করে। জুরাসিক ওয়ার্ল্ডের দর্শকদের সংখ্যা কমতে শুরু করে এবং দর্শকদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য নতুন একটি আকর্ষণ ব্যাকফায়ার তৈরি করা হয়।

৮. টার্মিনেটর: জেনেসিস (Terminator: Genisys)

যখন হিউম্যান রেজিস্ট্যান্সের নেতা জন কনোর (জেসন ক্লার্ক), সারাহ কনোরকে (এমিলিয়া ক্লার্ক) রক্ষা করার জন্য ও ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য সার্জেন্ট কাইল রীজকে (জেই কোর্টনি) ১৯৮৪ তে পাঠায়, অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটনার কারণে টাইমলাইন ভেঙে যায়। এখন সার্জেন্ট নিজেকে অপরিচিত ন্তুন ভার্সনের একটি অতীতে নিজেকে আবিষ্কার করে। সেখানে সে গার্ডিয়ান (আর্নল্ড শোয়ার্জনিগার), অপ্রত্যাশিত মিত্রবাহিনী ও বিপদজনক শত্রুর মুখোমুখি হয়। সেখানে সে নতুন একটি মিশনেরও মুখোমুখি হয়। মিশনটি হলো ভবিষ্যৎকে রিসেট করতে হবে।

৯. অ্যান্ট ম্যান (Ant-Man)

এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে স্কট ল্যাং (পল রাড) এর। নিজেকে আকারে ছোট করে শক্তি বাড়িয়ে নিতে পারে সে। তার নিজের ভিতরের নায়ক সত্তাটিকে জাগিয়ে তুলে তার মেন্টর ড. হ্যাংক পিমকে (মাইকেল ডগলাস) সাহায্য করতে হবে তার। তার অবিশ্বাস্য অ্যান্ট-ম্যান স্যুটের পিছনের গোপন কাহিনী হুমকি থেকে রক্ষা করতে হবে। পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য শক্তিশালী বাধার মুখে ল্যাং এবং পিমকে কিছু একটা পরিকল্পনা করতে হবে।

১০. দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোর (The Fantastic Four)

মার্বেলের অরিজিনাল এবং সবচেয়ে বেশিদিন ধরে চলা সুপারহিরো দলের কাহিনীর সমসাময়িক রূপান্তর হচ্ছে দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোর। চারজন তরুণ অন্য একটি বিপদজনক মহাবিশ্বে নিজেদেরকে টেলিপোর্ট করে। ফলে তাদের দেহাকৃতি অদ্ভুতভাবে বদলে যায়। বন্ধু থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া একজনের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য তাদের চারজনকে এখন একসাথে কাজ করতে হবে।

১১. দ্য ম্যান ফ্রম ইউ. এন. সি. এল. ই. (The Man From U.N.C.L.E.)

১৯৬০ এর দশকের শুরুর দিকের কাহিনী। কোল্ড ওয়ারের চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এমন একটা সময়ের গল্প, সিআইএ এজেন্ট সোলো ও কেজিবি এজেন্ট কুরায়াকিন ছবির মূল চরিত্র। নিজেদের মধ্যকার বিরোধ ভুলে দুইজন মিলে একটি রহস্যময় আন্তর্জাতিক অপরাধ সংগঠনকে থামানোর মিশনে নামে তারা। এই অপরাধ সংগঠনের কাজ হলো পারমাণবিক অস্ত্র ও প্রযুক্তিতে কাজে লাগা পাওয়ার অকেজো করে দেওয়া। অপরাধী সংগঠনটিকে ধরার একমাত্র চাবিকাঠি হচ্ছে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া এক জার্মান বিজ্ঞানীর কন্যা। পৃথিবীকে দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচাতে হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সেই বিজ্ঞানীটিকে তাদের খুঁজে বের করতে হবে।

১২. স্পেকটার (Spectre)

অতীত থেকে আসা একটি সাংকেতিক মেসেজ জেমস বন্ডকে দুর্বৃত্ত ধরার মিশনে পাঠায় মেক্সিকো সিটিতে এবং তা শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় রোমে। রোমে জেমস বন্ডের সাথে দেখা হয় সুন্দরী ও কুখ্যাত এক অপরাধীর বিধবা স্ত্রী লুসিয়া সিয়ারার (মনিকা বেলুচ্চি)। জেমস বন্ড একটি গোপন মিটিং থেকে স্পেকটার নামের এক অপরাধ সংগঠনের সন্ধান পায়। এরই মধ্যে লন্ডনে দ্য সেন্টার ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটির নতুন প্রধান ব্যক্তি ম্যাক্স ডেনবিগ (অ্যান্ড্রু স্কট) বন্ডের কাজকর্ম ও এম (রালফ ফিয়েনেস) এর নেতৃত্বাধীন এমআই সিক্সের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে চ্যালেন্জ করে। বন্ড তার পুরাতন শত্রু মি. হোয়াইট (জেসপার ক্রিসটেনসেন) কে খোঁজার জন্য হোয়াইটেরই মেয়ে ম্যাডেলেইন সোয়ান (লীয়া সেডাওক্স) এর সাহায্য নেয়। হোয়াইটকে ধরতে পারলেই হয়ত স্পেকটারের সূত্র উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

১৩. দ্য মার্শিয়ান (The Martian)

একটি মিশনে মঙ্গল গ্রহে যায় মাহাকাশচারী মার্ক ওয়াটনে (ম্যাট ডেমন)। একটি তীব্র ঝড়ের পর তার ক্রুরা তাকে মৃত মনে করে ফেলে চলে আসে। কিন্তু মার্ক ওয়াটনে বেঁচে থাকে এবং নিজেকে একা আবিষ্কার করে। খুব অল্প পরিমাণ সাপ্লাই থাকে তার জন্য, এরই মধ্যে তাকে নিজের বুদ্ধি এবং স্পিরিট ব্যবহার করে পৃথিবীতে সিগন্যাল পাঠাতে হবে যে সে বেঁচে আছে। তার থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন মাইল দূরে নাসায় বিজ্ঞানীরা তাকে ফিরিয়ে আনতে অক্লান্ত চেষ্টা করে। ওয়াটনের ক্রুরাও তাকে উদ্ধার করার মিশনে নামে।

১৪. স্টার ওয়ার্স: দি ফোর্স অ্যাওয়াকেনস (Star Wars: The Force Awakens)

ডার্থ ভেডার ও তার সাম্রাজ্যের পরাজয়ের ৩০ বছর পরে জাক্কু গ্রহের এক স্ক্যাভেন্জার রে একটি বিবি-এইট ড্রয়েড খুঁজে পায়। এই ড্রয়েডটি দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ লিউক স্কাইওয়াকারের সন্ধান জানে। রে, একজন স্টর্মট্রুপার ও দুইজন স্মাগলার ফার্স্ট অর্ডারের সৈন্যবাহিনী ও তাদের প্রতিরোধকারীদের যুদ্ধের মাঝখানে পড়ে।

১৫. মিশন ইম্পসিবল: রোগ নেশন (Mission Impossible: Rogue Nation)

ইথান হান্টের খুবই কার্যকরী ও ধংসাত্মক ইমপসিবল মিশন ফোর্স (আইএমএফ) ওয়াশিংটনের প্রতিশোধপরায়ণ আমলাদের কারণে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই আমলাদের মধ্যে প্রধান সিআইএ চীফ (অ্যালেক বাল্ডউইন)। কিন্তু অপশক্তি ‘দ্য সিন্ডিকেট’ ও এর প্রধানের (শন হ্যারিস) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য হান্ট নিজের দলকে (জেরেমী রেনার, সিমন পেগ এবং রেবেকা ফার্গুসন) একত্রিত করে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক