page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

২০১৫ এর সেরা ১০ মুভি

তালিকাটি রটেন টমাটো থেকে নেওয়া। ‘টমাটোমিটার রেটিং’ তৈরি হয় শত শত পেশাদার ও অপেশাদার ফিল্ম ও টেলিভিশন সমালোচকদের প্রকাশিত অভিমতের ভিত্তিতে। মিলিয়নের উপরে মুভি ও টি-ভি’র দর্শকের কাছে ১৯৯৮ এ লঞ্চ হওয়া এই সাইটের রেটিংই সবচাইতে বেশি বিশ্বাস্য বলে গ্রহণযোগ্যতা পায় এখনো।

১. ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড (Mad Max: Fury Road)


অতীত থেকে পালিয়ে বাঁচতে ম্যাড ম্যাক্স সব ছেঁড়েছুঁড়ে একা চলার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপরেও ওয়েস্টল্যান্ডের উপর দিয়ে এক অভিজাত ইমপেরেটার ফিউরিওসার চালানো এক দৈত্যাকার ওয়ার-রিগ নিয়ে পালানো এক দল লোকের সাথে কীভাবে কীভাবে যেন ভিড়ে যায় সে। ওরা পালাচ্ছিলো অত্যাচারী ইমমরটান জোয়ি নামের একজনের দূর্গ থেকে, এই মুভির প্রধান এ্যান্টাগনিস্ট চরিত্র থেকে। যার কাছ থেকে অমূল্য অপূরণীয় একটি জিনিস খোয়া গেছে। রাগে উন্মাদ ওয়ারলর্ড তার সমস্ত গ্যাং এক করে সমস্ত বিদ্রোহীদের শায়েস্তা করতে তাই মাঠে নামে হাই অকটেন রোডে। শুরু হয় যুদ্ধ।

২. ইনসাইড আউট (Inside Out)


বড় হওয়াটা এবং সেই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে যাওয়াটা একটা যন্ত্রণাবিশেষ। রাইলির জন্যও খুব একটা ব্যতিক্রম না ব্যাপারটা। বাবা মিডওয়েস্টের জীবন ছেড়ে সান ফ্রান্সিসকোয় চাকরি নিলেন, সাথে সাথে রাইলিও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো তার শেকড় থেকে। আমাদের সবার মতই রাইলিও তার ইমোশান দিয়ে পরিচালিত হয়। তার ইমোশান, অর্থাৎ আনন্দ (এমি পোয়েলার), ভয় (বিল হেইডার), রাগ (লুইস ব্ল্যাক), বিতৃষ্ণা (মিনডি কেইলিং) এবং দুঃখ (ফিলিস স্মিথ) এরা বাস করে রাইলির মনের হেড কোয়ার্টারের কন্ট্রোল সেন্টারে। এরাই তাকে প্রতিদিনের জীবনযাপন পদ্ধতি নিয়ে উপদেশ দেয়। যখন রাইলি ও তার ইমোশনদের সান ফ্রান্সিসকোর নতুন জীবনের সাথে মানিয়ে চলতে কষ্ট শুরু হয়, তখনই হেড কোয়ার্টারেও শুরু হয় বিবাদের অশান্তি। যদিও রাইলির প্রধান ইমোশান—আনন্দ, সবকিছু স্বাভাবিক করার আপ্রাণ ইতিবাচক চেষ্টা চালায়, কিন্তু বাকিরা ব্যস্ত থাকে নিজেদের মত আলাদা করে নতুন শহর, বাসা ও স্কুল পরিচালনায়।

৩. সেলমা (Selma)


এক অবিস্মরণীয় সত্য ঘটনা অবলম্বনে বলা এক প্রচন্ড আবেগের তিন মাসের গল্প নিয়ে শুরু হয় সেলমার কাহিনী। সময়টা ১৯৬৫ সাল, ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র সেই সময় সবার সমান ভোটাধিকারের জন্য এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধাচরণ করে প্রচারণা চালানোর এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধে নেমেছেন। সেলমা থেকে শুরু হয়ে মন্টেগোমারিতে তার সেই মহাযাত্রা, শেষ হয় প্রেসিডেন্ট জনসন যখন সাক্ষর করেন ‘ভোটিং রাইটস এ্যাক্ট ১৯৬৫’ তে। পৃথিবীর মানবাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে যা এখনো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসাবে মর্যাদার সাথে বিবেচিত হয়। পরিচালক আভা দ্যু ভেরনাভের ‘সেলমা’র গল্প- স্বপ্নদর্শী ও মানুষের নেতা ড. মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং তার ভাই ও বোনদের চিরদিনের জন্য পৃথিবীর ইতিহাস পালটে ফেলার গল্প।

৪. স্টার ওয়ার্স: এপিসোড ৭ – দি ফোর্স এওয়েকেনস (Star Wars: Episode VII – The Force Awakens)


গ্যালাকটিক এমপায়ারের পরাজয়ের শতাব্দী পরে, নতুন এক হুমকির আবির্ভাব হয়। ফার্স্ট অর্ডার চেষ্টা করে গ্যালাক্সি শাসনের এবং রেজিস্ট্যান্সের সাহায্য নিয়ে শুধুমাত্র একদল আধাপাগল বিশৃঙ্খল যুবকই পারে তাদের ঠেকাতে।

৫. ব্রুকলিন (Brooklyn)


ব্রুকলিনের গল্প এলিস লেইসি (সাওয়ার্স রোনান) এর এক মর্মস্পর্শী গল্প, যেখানে একজন আইরিশ অভিবাসীকে দেখা যায় ১৯৫০ এর ব্রুকলিনে নিজেকে মানিয়ে নেবার আপ্রাণ চেষ্টায় ব্যস্ত। আমেরিকার দেখানো স্বপ্নের প্রলোভনে এলিস নিজের মায়ের বাড়ির স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে আয়ারল্যান্ড থেকে নিউ ইয়র্কের তীরে এসে পাড়ি জমায়। তার কিছুদিনের জন্য বাড়ির জন্য করা মন খারাপ অবশ্য অল্পসময়ে কেটে যায় নতুন প্রেমের উন্মাদনাময় সৌন্দর্যে। কিন্তু যখন অতীত এসে বিপর্যস্ত করতে শুরু করে তাকে, তার সাময়িক প্রাণবন্ততা কেটে যায়, সে এসে দাঁড়ায় এক দ্বারপ্রান্তে, তাকে বেছে নিতে হবে দুই দেশের যেকোনো একটিকে, দুই জীবনের যেকোনো একটিকে।

৬. শন, দ্য শিপ (Shaun the Sheep)


শন ভাবে আজকে সে ছুটি নিয়ে খুব মজার একটা দিন কাটাবে, কিন্তু সে কি ভেবেছিল যা চেয়েছিল তার চাইতে একটু বেশিই আনন্দ জুটে যাবে তার কপালে? এক চাষী, এক ক্যারাভান এবং অসম্ভব ঢালু এক পাহাড় তাদের নিয়ে যায় এক মস্ত শহরে! এখন শুধু শন আর তার দলই পারে সবাইকে তাদের সবুজ ঘাসে ঘেরা নিজের বাড়িতে ফেরৎ নিয়ে আসতে।

৭. দ্যা মারশিয়ান (The Martian)


মার্সে পাঠানো মনুষ্যবাহী এক মিশনে, ঝড়ে পড়া মহাকাশচারী মার্ক ওয়াটনি (ম্যাট ডেইমন) কে মৃত মনে করে তার দল তাকে পেছনে ফেলে চলে যায়। ওয়াটনি অবশ্য বেঁচে যায় কোনোরকমে, নিজের অসহায়ত্ব ও নিজেকে আবিষ্কার করে এক অচেনা প্রতিকূল গ্রহে। খাবার পানির সামান্য সরবরাহ থেকে তাকে হতে হবে উদ্ভাবনপটু, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ধরে রাখতে হবে তার বুদ্ধি, কল্পনা, রসবোধ ও সাহস, খুঁজে বের করতে হবে পৃথিবীতে পাঠানোর সিগন্যাল, জানাতে হবে, সে বেঁচে আছে। মিলিয়ন মাইল দূরে ‘নাসা’ ও একদল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী মিলে চেষ্টা করছে এই ‘মারশিয়ান’কে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে, তার দলের লোকেরা প্ল্যান করছে এক ভয়ঙ্কর রেসকিউ মিশনের। অসম সাহসের অবিশ্বাস্য গল্পের ভিতর দিয়ে শেষ হয় ওয়াটনির নিরাপদ প্রত্যাবর্তন। শেষ হয় কি?

৮. স্পটলাইট (Spotlight)


বোস্টন গ্লোবের স্পটলাইট ইনভেস্টিগেশান দল এমন একটি স্ক্যান্ডাল আবিষ্কার করেছে যা নাড়িয়ে দেবে পুরো পৃথিবীকে। ক্যাথলিক চার্চের ভেতর বোস্টনের আর্চডায়োসিসের যৌন কেলেংকারীর ধামা চাপা দেওয়া ঘটনা বহু বছর মিডিয়া, পোলিস ও লিগাল সিস্টেমের নজরের বাইরে ছিল। কিন্তু স্পটলাইট দলকে সব বাধা পেরিয়ে সত্য প্রকাশ করতেই হবে।

৯. ইট ফলোস (It Follows)


১৯ বছর বয়সের জে (মনরো)’র কাছে জীবন সীমাবদ্ধ স্কুল, ছেলেবন্ধু এবং লেকের পাড়ে উইকএন্ড কাটানোতেই। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এক স্বাভাবিক যৌন সম্পর্কের পরেই দুঃস্বপ্ন তাড়া করা শুরু করে তাকে, সারাক্ষণই তার মনে হতে থাকে, কেউ যেন তাকে পিছন থেকে অনুসরণ করছে! ঘাড়ের পিছনে সে অনুভব করে অদৃশ্য কারো নিঃশ্বাস! আতংক সামনে আসতে শুরু করলে এখন জে ও তার বন্ধুদের এই ভয় থেকে মুক্তি পেতে পালানো ছাড়া গতি নেই!

১০. পেডিংটন (Paddington)


প্যাডিংটনের গল্প এক পেরুভিয়ান ভালুক (ফার্থের গলায়) এর হাস্যরসাত্মক অভিযানের দুঃসাহসিক গল্প। সে একদিন শহরে আসে নিজের বাড়ির খোঁজে। কিন্তু শহরের রাস্তায় রাস্তায় একলা ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হতাশ প্যাডিংটন বুঝতে পারে, শহর নিয়ে তার যেমন কল্পনা ছিলো, শহরজীবন তেমন না মোটেও! ঠিক তখনই অবশ্য তার দেখা হয় দয়ালু ব্রাউন পরিবারের সাথে। পরিবারটি আবিষ্কার করে প্যাডিংটনের গলায় একটি লেবেল লাগানো, যাতে লেখা, ‘এই ভালুকটিকে যত্নে রেখো, ধন্যবাদ!’ ব্রাউন পরিবারের আদর যত্নে কয়েকদিন ভালোই কাটলো প্যাডিংটনের, কিন্তু হঠাৎ একদিন যাদুঘরের এক চর্মসংরক্ষণবিশারদের চোখে পড়ে যায় এই বিরল প্রজাতির ভালুক, আর ঘটনা শুরু হয় তখনই।

সূত্র: rottentomatoes.com

Tagged with:

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক