page contents
লাইফস্টাইল, সংস্কৃতি ও বিশ্ব
লাইফস্টাইল

২০১৫ এর সেরা ১৫ হরর মুভি

‘হরর’ সিনেমার এমন এক জনরা, যা মানুষের আদিমতম অনুভূতি, ভয় ও আতঙ্ক দিয়ে নেতিবাচক আবেগ সঞ্চার করে। এডগার এ্যালান পো, ব্রাম স্টোকার এবং মেরি শেলির লেখা থেকে হরর মুভির শুরু। 

হরর মুভি দর্শকের ভয়, দুঃস্বপ্ন, অজানা আশঙ্কা ও দুর্ভাগ্য কেন্দ্র করে তৈরি হয়। অকস্মাৎ অমঙ্গল বা অশুভের আরম্ভ দিয়েও হরর কাহিনী শুরু হয় অনেক ক্ষেত্রে। জনপ্রিয় হরর মুভির সাধারণ আইটেম ভূত-প্রেত, প্রেতাত্মা, ভিনগ্রহের প্রাণী, ভ্যাম্পায়ার, ওয়ার উলফ, শয়তান, জীবন্মৃত, ডাইনি, মানুষখেকো, রক্ত, নির্যাতন, ভয়ঙ্কর প্রাণী, দৈত্যাকৃতি প্রাণী বা দৈত্য, সাইকোপ্যাথ এবং সিরিয়াল কিলার ইত্যাদি। আধিভৌতিক সব মুভিই অবশ্য হরর মুভি নয়।

২০১৫ সালের অসংখ্য হরর মুভি থেকে বাছাই করা ১৫টি ছবির তালিকা তৈরি করেছে filmschoolrejects.com.

১৫. গুডনাইট মামি (Goodnight Mommy)


জঙ্গল আর ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে এক বাড়িতে ৯ বছরের দুই জমজ ভাই অপেক্ষা করছে তাদের মায়ের জন্যে। কসমেটিকস সার্জারির পরে ব্যান্ডেজ মোড়ানো অবস্থায় বাড়ি ফিরেন মা।  দেখা গেল কিছু আর আগের মত নাই। দুই ছেলে সন্দেহ করতে শুরু করে আসলে ইনি তাদের মা কিনা। অস্ট্রিয়ার তৈরি, জার্মান ভাষার ছবি।

১৪. দ্য ইন্টেরিয়র (The Interior)


এক হতাশ ব্যক্তি নিজেকে আবিষ্কার করার উদ্দেশ্যে বনে চলে যায়, কিন্তু তার এই জার্নি হঠাৎ করে অদ্ভুত রকমের দুঃস্বপ্ন হয়ে ওঠে। লেখক এবং পরিচালক ট্রেভর জুরাস আলাদা আলদাভাবে দিন এবং রাতের মধ্য দিয়ে গল্প নিয়ে যেতে যেতে ধীরে ধীরে আতঙ্ক বাড়িয়েছেন—বিশেষ করে তাবুর কিছু দৃশ্যে আতঙ্ক এমন মারাত্মক হয়ে ওঠে যে দর্শকেরা শেষপর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারে না যে এই আতঙ্ক আসল নাকি কাল্পনিক।

১৩. ডেথগাজম (Deathgasm)


এক হঠকারী ব্যক্তি দুর্ঘটনাবশত নরকের এক শয়তানকে ডেকে আনে, আর তারপরই সে এবং তার বন্ধুদেরকে পুরো শহরের মানুষদের জীবন রক্ষার লড়াইয়ে নামতে হয়। জেসন লেই হাউডেনের এই হেভি মেটাল হরর ও কমেডি ছবিটিতে হাসি এবং মারাত্মঙ্ক ভয় দুইটিই সমান্তরালে চলেছে।

১২. কাব (Cub)


টিনএজে পড়ে নি এমন একটা বাচ্চা তার কাব স্কাউট দলের সাথে বনে যায় এবং কিছুটা দেরিতে এক নির্মম পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। বেলজিয়ামে হরর ছবি খুব একটা না হলেও এই ছবিটি খুব সুন্দরভাবে শ্যুট করা হয়েছে। ডার্ক থিম, মারাত্মক নিষ্ঠুরতার ভিতর দিয়ে কাহিনী এমনভাবে এগিয়েছে যে দর্শকদের দুঃস্বপ্ন দেখার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

১১. দ্য এডিটর (The Editor)


এই ছবিটা একটু কম বাজেটের হলেও খুব আর্টিস্টিকভাবে তৈরি। ছবিটি শুরু হয় দস্তানা পরা এক খুনীর হাতে একজনের মৃত্যু দিয়ে। ভালো হরর এবং ভালো কমেডি একসাথে খাপ না খেলেও এই ছবিটি সেরকম নয়, বরং খুব স্মার্ট। খুব কার্যকরভাবে ছবিটিতে মারাত্মক ফানি এবং ভয়ঙ্কর একটি গল্প বলা হয়েছে।

১০. উই আর স্টিল হিয়ার (We Are Still Here)


এক দম্পতি মারাত্মক শীতের মধ্যে গ্রামের বাড়িতে যায় এবং তাদের বেজমেন্টে ভুতুরে কিছু বামন আবিষ্কার করে। লেখক ও পরিচালক টেড গেওগহেগান-এর প্রথম ছবি এটা। ছবিটির কনসেপ্ট পরিচিত। এই ধরনের ক্লাসিক ছবিগুলির প্রতি পরিচালকের ভালোবাসাও বোঝা যায় ছবিটি দেখে। সেই ভালোবাসাকে পরিচালক শক্তিশালী বর্ণনাভঙ্গির সাথে মিলিয়ে সুন্দরভাবে এই ছবিটি বানিয়েছেন।

৯. ব্যাককান্ট্রি (Backcountry)


আরো ঘনিষ্ঠ হওয়ার উদ্দেশ্যে এক দম্পতি বনে যায়, কিন্তু তারা যে জিনিসের মুখোমুখি হয় তা তাদেরকে ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলতে পারে। হিংস্র জন্তুদের আক্রমণ নিয়ে ছবি আরো অনেক আছে, কিন্তু এই ধরনের ছবিগুলির মধ্যে সবচেয়ে ভয়ের তিনটা ছবির একটা বলতে হবে এই ছবিটিকে। অ্যাডাম ম্যাকডোনাল্ডের ভালুক-কেন্দ্রিক এই ন্যাচার থ্রিলারটিতে তীব্র আতঙ্ক কাজ করে এবং দর্শকদেরকে আতঙ্কে নিশ্চল করে দেয়।

৮. দ্য ডেভিলস ক্যান্ডি (The Devil’s Candy)

এক তরুণ দম্পতি একটি নতুন বাড়িতে ওঠে এবং মানসিক বিকারগ্রস্থ বাড়ির পুরাতন মালিক এবং সম্ভবত সাক্ষাৎ শয়তানের মুখোমুখি হয়। ছবিটিতে শন ব্রায়ানের দ্য লাভড ওয়ানস গেটসের কাহিনীর প্রভাব আছে, সেইসাথে হরর গল্পের মাধ্যমে চরিত্রগুলির ভাগ্য কাহিনীতে এমন এক পর্যায়ে চলে আসে যে দর্শকদেরকে তাদের নিয়ে বিচলিত হতেই হয়।

৭. হি নেভার ডাইড (He Never Died)


ছবিটিতে অভিনেতা হেনরি রলিনস একজন নিঃসঙ্গ ব্যক্তির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সেই ব্যক্তি সবসময় একা থাকতে চায়। কিন্তু সে কিছু গ্যাংস্টার ও অপরিচিত এক বাচ্চার সাথে জড়িয়ে পড়ে। এই সুপারন্যাচারাল নয়ের ধরনের ছবিটির ট্রেলারেই অনেক কিছু দেখানো হয়েছে। সুতরাং ট্রেলার না দেখে এই উত্তেজনাকর, সারপ্রাইজিং থ্রিলার দেখুন যেটা আপনি খুব তাড়াতাড়ি ভুলতে পারবেন না।

৬. ক্রীপ (Creep)


একজন মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তি (মার্ক ডুপলাস) তার অনাগত সন্তানের জন্য তার জীবনের একটি দিন ভিডিও করতে এক ভিডিওগ্রাফার ভাড়া করেন। কিন্তু আসলেই কি তাই ঘটছে? লেখক/ পরিচালক/ সহ লেখক প্যাট্রিক ব্রাইস এই বছরই ছবিটি দেখানোর জন্য শুধু ফুটেজগুলি ছেড়েছেন। কিন্তু তিনি এমন স্মার্টভাবে দ্রুতগতির, ফানি ও মাঝে মাঝে আতঙ্ক তৈরি করে গল্প বলেছেন যে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

৫. ডেডম্যান ইনফার্নো (Deadman Inferno)


একজন অবসরপ্রাপ্ত জাপাই গ্যাংস্টার জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়ে এবং তার বন্ধুর মেয়ে এক জম্বি পূর্ণ দ্বীপে আটকা পড়ে। গ্যাংস্টার ও জম্বিদের নিয়ে আগেও ছবি হয়েছে, যেমন ককনেইস ভার্সাস জম্বিস, কিন্তু সেটা এই জাপানি ছবিটির মত এত বাস্তবসম্মতভাবে, এত ক্রিয়েটিভ ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে ও শক্তিশালীভাবে তৈরি করা হয় নি।

৪. ইট ফলোস (It Follows)


একটি টিনএজ মেয়েকে অদৃশ্য এক শক্তি আক্রমণ করে। শুধু মেয়েটিই এই অদৃশ্য শক্তিকে দেখতে পায়। এই ভয়ঙ্কর অদৃশ্য শক্তির হাত থেকে মুক্তির উপায় হলো, তার জননাঙ্গের কাছাকাছি কোনো আনলাকি পুরুষকে রাখা। আপনি এই ছবিকে আপনার পছন্দমত ইন্টারপ্রিট করতেই পারেন, তবে লেখক/ পরিচালক ডেভিড রবার্ট মিশেল দুর্দান্ত ভয়ের, স্বপ্নের মত পরিবেশের ও মনে রাখার মত আবহ সঙ্গীতের সমন্বয়ে দারুণ এই ছবিটি নির্মাণ করেছেন।

৩. স্প্রিং (Spring)


এক বিষণ্ন তরুণ নিজের জীবনের যন্ত্রণা থেকে পালাতে ইতালিতে যায় এবং সেখানে এক রহস্যময় নারীর প্রেমে পড়ে। হরর ছবি এর আগে কখনোই এত সুন্দর ছিল না। তবে এই ছবির এত সুন্দর দৃশ্য ও রোমান্টিক আবহ দিয়ে বোকা হবেন না, কারণ এটা শেষ পর্যন্ত চমক নিয়ে আসবে। এটা হরর কাহিনীর একটি রোমান্টিক ছবি।

২. দে লুক লাইক পিপল (They Look Like People)


দুই পুরাতন বন্ধু একসাথে হয় এবং বিভিন্ন যন্ত্রণায় এবং পাগলামিতে ভুগতে থাকে। বিভিন্ন হরর ঘটনার মধ্য দিয়ে তাদের বন্ধুত্ব পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। পেরি ব্ল্যাকশিয়ারের এই উত্তেজনাকর থ্রিলারটি দর্শকদেরকে আমন্ত্রণ জানায় দুই বন্ধুর সাথে সময় কাটাতে। দর্শকের মনে হতে থাকে দুই বন্ধুর একজন অথবা তাদের দুজনের জন্যই ধ্বংস অনিবার্য। এইভাবে সাসপেন্সের মধ্য দিয়ে আশ্চর্য রকমের এক ভয়ঙ্কর উপসংহার ঘটে গল্পের যেটা দর্শক কখনোই ভুলতে পারবে না।

১. হোয়াট উই ডু ইন দ্য শ্যাডোজ (What We Do In the Shadows)


একটি ডকুমেন্টারির ক্রু চারজন ভ্যাম্পায়ারের জগতে প্রবেশের সুযোগ পায়। সেই চারজন ভ্যাম্পায়ার নিউজিল্যান্ডে একটা ফ্ল্যাট শেয়ার করে থাকে। দুজন পরিচালক, তাইকা ওয়াইতিতি ও জেমেইন ক্লেমেন্ত এই ছবিটি বানিয়েছেন। নিঃসন্দেহে বলে দেওয়া যায় এটা বারবার দেখার মত একটা ছবি। এটি একটি মডার্ন মাস্টারপিস। ছবিটিতে দারুণ হাসির ঘটনা, মারাত্মক বুদ্ধিদীপ্ততা, ভ্যাম্পায়ারের কাজ সবকিছু খুব সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক