ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ বর্তমানে আমেরিকায় দেশব্যাপী একটি সফরে ব্যস্ত আছেন।

তার ভাষ্যমতে, এই সফরের মুখ্য উদ্দেশ্য “অধিক মানুষের জীবনযাপন, কাজ এবং তাদের ভবিষ্যত ভাবনা সম্বন্ধে জানার ও শোনার চেষ্টা।”

অনেকেই মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসাবে তার আত্মপ্রকাশের উদ্দেশ্যে একটি পরীক্ষামূলক প্রচারণা।

২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি ফেসবুকে মার্ক জানান, “এ বছর আমার ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ হল—বছর শেষে প্রতিটা রাজ্যের মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ সম্পন্ন করা। ইতোমধ্যে অনেক রাজ্যেই বেশ কিছু সময় কাটানো হয়েছে। তো এই চ্যালেঞ্জ পূর্ণ করার জন্য আরো প্রায় ৩০টি রাজ্য ঘুরে দেখতে হবে।”

এর আগের বছর ডিসেম্বরে মার্ক ফেসবুকের একটি কমেন্টের জবাবে বলেন, একটা সময় পর্যন্ত নাস্তিক থাকলেও বর্তমানে তিনি মনে করেন ধর্ম অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তারও আগে তিনি বলেছিলেন, ফেসবুকের অবকাঠামো এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে যে, তিনি সরাসরি অনুপস্থিত থাকলেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে তাকে পদত্যাগ করতে হবে না। এসব কিছু তার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবার দিকেই ইঙ্গিত করে বলে মনে করছে ভেঞ্চার বীট পত্রিকা।

কিন্তু বাজফীড নিউজের একটি প্রশ্নের উত্তরে এ রকম সম্ভাবনার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন তিনি।

যদি এমনটা হয়েও থাকে, তবে একটা ব্যাপার অন্তত বেশ ভাল মত বোঝা যাচ্ছে যে—ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে কোনো প্রকার সহায়তা তিনি পাবেন না। কারণ সম্প্রতি মন্টানার গ্লেসিয়ার ন্যাশনাল পার্কে সফর করার আগে—যে পার্কটিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক বলে মনে করেন অনেকে—ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে সেই সফরে জুকারবার্গকে কোনো প্রকার সহায়তা করা থেকে বিরত থাকতে  বলা হয় পার্কের কর্মীদের। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর কোনো ছবি প্রকাশেও কর্মীদেরকে দেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা।

এর আগে জলবায়ু পরিবর্তনকে ভুয়া বলে দাবি করায় ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন জুকারবার্গ। মাত্র তৃতীয় দেশ হিসাবে প্যারিস চুক্তি থেকে আমেরিকার নাম প্রত্যাহার করেন ট্রাম্প। একই সাথে কয়েকটি ডিপার্টমেন্টকে জলবায়ু পরবির্তন সম্পর্কিত কোনো প্রকার গবেষণা ও বিবৃতি প্রদান করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন তিনি।

প্যারিসের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক চুক্তি থেকে ট্রাম্পের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে জুকারবার্গ ‘পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্যে ক্ষতিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে গত ২ জুন, ২০১৭ তারিখের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে মার্ক বলেন :

“প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করা পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং তা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিবে।”

“আমাদের দিক থেকে, প্রত্যেকটা নতুন ডাটা সেন্টার যেন ১০০% নবায়নযোগ্য শক্তি দিয়ে চালিত হয়—সে ব্যাপারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।”

“একটা বৈশ্বিক সঙ্ঘবদ্ধ কমিউনিটি হিসাবেই কেবল জলবায়ু পরিবর্তন রুখে দিতে পারব আমরা। বেশি দেরি হয়ে যাবার আগেই তাই আমাদেরকে কাজে নামতে হবে।”

শুধু জলবায়ু পরিবর্তনে মতপার্থক্য হওয়াতেই যে ট্রাম্প মন্টানার পার্কে জুকারবার্গের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন তা নয়। সম্প্রতি এ রকম কথা উঠেছে যে, ট্রাম্পের মত জুকারবার্গও হয়ত কোনো মধ্যপন্থায় না গিয়ে প্রধান নির্বাহীর অবস্থান থেকে সরাসরি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

এপ্রিল মাসের শেষের দিকে এক সপ্তাহে ৪ রাজ্য ঘুরে দেখেন জুকারবার্গ। আর এই ৪টিতেই ট্রাম্প ছিলেন বিজয়ী: ওহাইয়ো, মিশিগান, ইন্ডিয়ানা ও উইসকনসিন।

এখানকার যেসব মানুষ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সাথে ওতপ্রোত জড়িত নয়, তাদের সাথেই বেশি সময় কাটিয়েছেন তিনি। অবশ্য একই সময় এই ট্রাম্পের ৪ রাজ্য ঘোরার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ কাকতালীয়ও হতে পারে; যেহেতু জুকারবার্গের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবার ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায় নাই।

নিউজউইক এর তথ্য মতে, ট্রাম্পের চাইতে জুকারবার্গের গ্রহনযোগ্যতা বেশি হলেও আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ তার ব্যাপারে অনিশ্চিত। শতকরা ২৯ ভাগ তার পক্ষে এবং ২৪ ভাগ মানুষ তার বিপক্ষে।

 

ছবি ও ক্যাপশন

 

১.

২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে উইসকনসিনের ব্ল্যানশার্ডভিলে গ্যান্ট পরিবারের খামার ঘুরে দেখেন জুকারবার্গ।

২.

“সামরিক বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার স্ত্রীদের সাথে মধাহ্নভোজের সময় অনেক কিছু শিখলাম আমি”—জুকারবার্গ

৩.

মাদার ইমানুয়েল এএমই চার্চে।

৪.

“Watching the rodeo with Fort Worth Mayor Betsy Price.”

৫.

“My next stop in Texas was meeting with officers from the Dallas Police Department. These officers do such important work, and it meant a lot to me to be able to thank them in person.”

৬.

“Chef Judy, a military veteran herself, started a small business and cooked us lunch at Fort Bragg.”

৭.

“বাছুরটা আমাকে বেশ পছন্দ করে এখন।”—জুকারবার্গ

৮.

৯.

১০.

১১.

১২.

১৩.

১৪.

১৫.

১৬.

১৭.

১৮.

১৯.

 

২০.

“মিশিগান-ডিয়ারবর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন মুসলিম শিক্ষার্থীর সাথে আলাপ করলাম। আমেরিকার সবচাইতে বড় ও পুরাতন মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে একটি হল ডিয়ারবর্ন। এর প্রায় ২০ শতাংশ অধিবাসী মুসলিম।”—জুকারবার্গ

২১.

“লুইজিয়ানাতে এসে পৌঁছালাম মাত্র। প্রথমেই ব্যাটন রুজে বার্বিকিউ খাব। আগামী দুইদিন আরো অনেক মানুষের সাথে দেখা করার আশা রাখি।”—জুকারবার্গ

২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে জুকারবার্গ বছর শেষে সম্পূর্ণ আমেরিকা সফরের ব্যাপারে যে সঙ্কল্প ব্যক্ত করেছিলেন, তারই বিভিন্ন মুহূর্ত থেকে এই ছবিগুলি তোলা হয়েছে। প্রযুক্তি মহলে তার অবস্থান এবং  “বিশ্বকে সংযুক্ত করা ও সকলকে তাদের মত প্রকাশের সুযোগে করে দেওয়া”র ওপর ভিত্তি করে তার এই যাত্রা শুরু হয়।

কিন্তু কয়েক মাস পার হয়ে যাবার পর তার এই সফরকে কেবল একটি সামাজিক যাত্রার চাইতে বরং একটা পুরাদস্তুর ক্যাম্পেইন বলেই মনে হচ্ছে বেশি।