page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

“‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ আমার প্রথম বাংলা ছবি।”—শাহানা গোস্বামী

shahanag78

আন্ডার কনস্ট্রাকশন  নিয়ে শাহানা গোস্বামীর সাথে আলাপ

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আশরাফুল আলম শাওন

রুবাইয়াত হোসেনের দ্বিতীয় ছবি আন্ডার কনস্ট্রাকশন-এর  গল্প অনেকটাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক। সিনেমার গল্পের মূল চরিত্র ঢাকা শহরের একটি মেয়ে। তার নাম রয়া। সে স্টেজে রক্তকরবীর নন্দিনী চরিত্রে অভিনয় করে।

ইন্ডিয়া থেকে এসেছেন অভিনেত্রী শাহানা গোস্বামী। সিনেমার রয়া চরিত্রটি করছেন তিনি। শুটিং-এর মাঝে ইন্টারভিউর জন্যে সময় দেন তিনি। শাহানা গোস্বামীর সাথে আলাপে মনে হয়েছে তিনি নিজের জন্য  রয়া  চরিত্রের  মনস্তত্বের একটি নকশা তৈরি করে নিয়েছেন।

আশরাফুল আলম শাওন: নাম কি আপনার ক্যারেক্টারটার?

শাহানা গোস্বামী: ক্যারেক্টারটার নাম হচ্ছে রয়া। আর ও হচ্ছে একজন অভিনেত্রী। অনেক বছর ধরে সে রক্তকরবী পারফর্ম করছে।

শাওন: স্টেজে?

shahana-7892

শুটিংয়ের ফাঁকে কথা বলছেন শাহানা গোস্বামী।

শাহানা: স্টেজে, হ্যাঁ। নন্দিনীর পার্ট। বারো বছর ধরে সেটা ও করছে। আর এটা ওর জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট মতন যেখানে ও অনেক কিছু নিয়ে প্রশ্ন করছে নিজের জীবনে। অ্যাক্টিং নিয়ে, ওর লোকেদের সাথে সম্পর্ক নিয়ে, সেটা ওর মা হোক বা ওর হাজব্যান্ড হোক বা জাস্ট সোসাইটিতে লোকজন কী রকম। শহরটাকে নিয়ে। এগুলোকে নিয়ে ওর মধ্যে মনের মধ্যে একটা ভাবনা চলছে যেটা কোনোভাবে ওকে লিড করে নিজের জীবনের প্রতি একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার।

শাওন: রুবাইয়াত হোসেনের সাথে যোগাযোগ হলো কীভাবে বা ফার্স্ট কতদিন আগে?

শাহানা: রুবাইয়াতের সাথে আমার যোগাযোগ বম্বেতে। কয়েক বছর আগে, তখন এই সিনেমাটা একটা অন্য রূপে ছিল। আর তার পর পরই রুবাইয়াত ওটাকে পালটে আন্ডার কনস্ট্রাকশনের ভঙ্গিতে এনে আমাকে আবার দেখায়। আমার খুব ভাল্লেগেছে কারণ, ও সব এলিমেন্টসকে একটা মহিলার জীবনের, জীবনটাকে ইউজ করে দেখিয়েছে সেটা আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছে। মানে ওই মেয়েটার শহরের সাথে রিলেশনশিপ বা ওর কাজের সাথে রিলেশনশিপ, ওর বরের সাথে বা ওর বাড়িতে যে মেয়েটা কাজ করে তার সাথে রিলেশনশিপ, ওর নিজের সাথে রিলেশনশিপ, ওর মার সাথে রিলেশনশিপ এগুলোকে খুব স্মুদলি উইভ করেছে একটা গল্পের মধ্যে, যেটা আমার খুব ইন্টারেস্টিং লেগেছিল।

শাওন: আর, ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ তো আপনার ফার্স্ট বাংলাদেশের ফিল্ম। কিন্তু এর আগে বাংলা ছবি, কলকাতার বাংলা ছবি করা হয়েছে?

শাহানা: না, এখন অব্দি ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ আমার প্রথম বাংলা ছবি, সেটা বাংলাদেশীই হোক বা কলকাতারই হোক, এটা প্রথম ছবি আমার জন্য।

শাওন: এর আগে সবগুলো কি ছিল হিন্দী?

শাহানা: এর আগে সব হিন্দী বা ইংরেজীতে।

শাওন: বাংলাদেশের ফিল্ম নিয়ে বা বাংলাদেশের হিস্ট্রি নিয়ে কোনো আইডিয়া আছে?

শাহানা: হিস্ট্রি নিয়ে একটু-আধটু আইডিয়া আছে বাট ফিল্ম নিয়ে না, একেবারেই না। আর আমি এখনো একচুয়ালি কিছু দেখি নি বাংলাদেশী সিনেমা। কিন্তু এখানে আসার পর অনেক কিছু শুনেছি, ভালো ভালো সিনেমার নাম শুনেছি, যেগুলো দেখার ইচ্ছে আছে। তো সেগুলো ফেরার সময় নিজের সাথে নিয়ে যাব, সো দ্যাট আই ক্যান সি দেম।

শাওন: রুবাইয়াত হোসেন মানে আপনার এই ছবির ডিরেক্টর, তার ফার্স্ট ফিল্ম নিয়ে কোনো আইডিয়া আছে?

শাহানা: হ্যাঁ, আইডিয়া আছে কিন্তু দেখা হয় নি এখন অব্দি। আর আমার মনে হয় আমাদের মিডিয়া ওয়ার্ল্ডে তো অনেক কিছুই বেশি রিঅ্যাকশন হয়ে যায়, এত অ্যাটেনশান পাওয়া হয়, অনেক কিছু হয়ত ভুলভাল বোঝা হয়, আর ওই ভুলভাল বোঝা থেকে অনেক কিছু ইজ ব্লোউন আউট অব প্রোপোরশন। তো যতদূর আমি জানি, রুবাইয়াতকে চিনি, আমার মনে হয় না কিছু সেনসেশনাল, মানে ওর করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল। সেটা হয়ত লোকেরা ভুল বুঝেছে বা কিছু। আর আমাদের এখানে… আমরা যে সিনেমা… ইটস ভেরি রিয়াল। তো সেটাই আমার মেইন আকর্ষণ।

ছবিতে শাহানা ও রাহুল।

ছবিতে শাহানা ও রাহুল।

শাওন: এতদিন পর্যন্ত যতটুকু শুটিং হলো, এনজয় করছেন?

শাহানা: হ্যাঁ,খুবই এনজয় করেছি। যাদের সাথে কাজ করছি তারা খুব ভালো, বাংলাদেশের অনেক ভালো মানুষ আছে।

শাওন: আপনার অন্যান্য সিনেমা নিয়া কিছু বলেন।

শাহানা: এই সিনেমাটার আগে আমি একটা সিনেমা করেছি ‘ভারাহ’ বলে, যেটা একজন বুদ্ধিস্ট লামা ডিরেক্ট করেছেন, ‘খেনচেন উম্বু’—ওর সাথে কাজ করে খুব ভাল্লেগেছে।

শাওন: কোন দেশি ফিল্ম?

শাহানা: এটা ভুটানিজ ফিল্ম। কিন্তু ইংরেজিতে সিনেমাটা। তার আগে দীপা মেহতার সাথে কাজ করেছিলাম, সেটা ওয়াজ এ ভেরি নাইস এক্সপেরিয়েন্স।

শাওন: কোন ছবিটাতে?

শাহানা: মিডনাইটস চিলড্রেন। আর নন্দিতা দাসের সাথে কাজ করেছিলাম ফিরাকে, সেটা ওয়াজ অলসো খুবই ভালো একটা এক্সপেরিয়েন্স ছিল। আর আমার প্রথম সিনেমা ছিল নাসিরুদ্দীন শাহ-এর ডিরেকশন। খুব ছোট পার্ট ছিল কিন্তু ওটা প্রথম সিনেমা হিসেবে করতে ওটা আমার একটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট মেমোরি আর এত ভালো একটা ভেটেরান অ্যাক্টরের সাথে ওর নির্দেশনায় কাজ করাটা খুব…।

শাওন: আর রুবাইয়াত হোসেনের ডিরেকশন নিয়ে কিছু বলেন, কিছু কমেন্ট করেন।

শাহানা: আই অ্যাম ভেরি ইমপ্রেসড উইদ রুবাইয়াত। এটা ওর সেকেন্ড ফিল্ম সেটা মনেই হয় না। ও এত ভালোভাবে বোঝে যে ও কী চায়, নিজের ভিশন থেকে আর অ্যাক্টরদের থেকে। আর সেটা খুব ভালো করে কম্যুনিকেটও করে, আর অনেকটা ফ্রিডম দেয় যে যদি কোনো কিছু অনসেট ক্রিয়েট হয়। সেটা উইদ দ্য হেল্প অব দ্য টেকনিশিয়ানস বা অ্যাক্টরদের সাথে একটু যদি কিছু একটা আইডিয়া আসে তাহলে শি ইজ ভেরি ওপেন টু এক্সপেরিমেন্ট উইদ দ্যাট। কিন্তু ওর যে মেইন ভিশন বা যে আইডিয়াটা সেটাতে ও খুব ক্লিয়ারলি ওটাকে বোঝে। সো দ্যাট ইটস ভেরি নাইস।

আগস্ট ২০১৩

About Author

আশরাফুল আলম শাওন
আশরাফুল আলম শাওন

জন্ম টাঙ্গাইলে। পড়াশোনা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।