page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

আপনার ইরেকশন সমস্যার জন্যে দায়ী ৮টি সহজ কারণ

irrection-1

আপনি কী খান তা থেকে শুরু করে, কীভাবে ঘুমান, সব কিছুই আপনার যৌনাঙ্গকে নিস্তেজ করে দিতে পারে।

আপনার যৌনাঙ্গের সবলতা বা দুর্বলতা নির্ভর করে আপনার শরীরের রক্তপ্রবাহের উপর। আপনার রক্ত পাম্প করে আপনার শরীরের যে অঙ্গ—অর্থাৎ হার্ট—আপনার পরিপূর্ণ ইরেকশনের জন্য এই হার্টের সাইজ একদম নিখুঁত থাকতে হবে।

আপনার হার্টের জন্য ক্ষতিকর যেসব জিনিস, যেমন অতিরিক্ত ওজন হয়ে যাওয়া অথবা ধূমপান করা, সেইসব আপনার যৌনাঙ্গের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

স্ট্রং বা শক্তিশালী ইরেকশনের জন্য টেস্টোস্টেরোন দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। অনেক অনেক অদ্ভুত জিনিস এই টেস্টোস্টেরন উৎপাদনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। আপনার পৌরুষকে বিপদে ফেলতে পারে যে ৮টি জিনিস তা নিচে থাকছে।

 

১. সুপার স্টোর বা এটিএমবুথের রিসিপ্ট
সুপার মার্কেটের রিসিপ্টে যেসব কাগজ ও কালি ব্যবহার করা হয় সেগুলিতে প্রচুর বিসফেনল-A থাকে। এই কেমিকেল আপনার শরীরের নারী হরমোন এস্ট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ায়। আর বিসফেনল-A-র জন্য এই এস্ট্রোজেন বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে আরো হরমোনাল পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে যৌনাঙ্গ পরিপূর্ণভাবে শক্ত হয় না।

এটিএম রিসিপ্ট, এয়ারপোর্ট বা বাসের ব্যাগেজ ট্যাগ, লটারি টিকেট সবকিছু এই ধরনের কাগজ ও কালিতে প্রিন্ট করা হয়।

শক্ত প্লাস্টিক ও ক্যানজাত খাবারও এই বিসফেনল-A এর অন্যতম উৎস।

২. ডেজার্ট
চিনি খাওয়া, তা এক স্লাইস কেকের সাথেই হোক অথবা এক ক্যান সোডার সাথেই হোক, এতে আপনার রক্তের গ্লুকোজ বেড়ে যায়। এর ফলে ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে আপনার শরীরের টেস্টোস্টেরন উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ইরেকশনে সমস্যা হয়।

সুগার-ইনসুলিন ও টেস্টোস্টেরনের মধ্যকার সম্পর্ক থেকে বোঝা যায় কী কারণে সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই ইরেকশন হয়। তখন অনেক কয়েক ঘণ্টা না খেয়ে থাকার ফলে রক্তে গ্লুকোজ বাড়ে না, তাই ইরেকশন ঘটে।

৩. কম ঘুমানো
টানা কয়েক রাতে ৫ ঘণ্টা বা তার চেয়ে কম ঘুম হলে তা আপনার ইরেকশন ১০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

টেস্টোস্টেরন উৎপাদনের জন্য ঘুম খুব জরুরি। আর যদি আপনার রাতে যথেষ্ট ঘুম না হয় অর্থাৎ ৮ ঘণ্টার মত ঘুম না হয় তাহলে আপনার ইরেকশনে সমস্যা হতে বাধ্য।

৪. আপনার বেডরুমে কোনো বাচ্চার অবস্থান
আপনার ঘরে যদি আপনার নবজাতক সন্তান থাকে, তাহলে আপনার টেস্টোস্টেরন উৎপাদন ৭ শতাংশ কমে যায়।

গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে শিশু বা নবজাতকের পাশে ঘুমালে টেস্টোস্টেরন অনেক কমে যায়।

৫. সয়
নিরামিশাষীদের খাবারে এস্ট্রোজেন জাতীয় উপাদান বেশি থাকে, এর ফলে শরীরের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়। অল্প পরিমাণ সয় বা সয়াবীন হয়ত আপনার লিবিডো ধ্বংস করে দিবে না, কিন্তু প্রচুর সয় খেলে আপনার ইরেকশনে সমস্যা হবে।

৬. ঘরের ভিতরে বেশি সময় কাটানো
টেস্টোস্টেরন উৎপাদনে ভিটামিন D-এর ভূমিকা অনেক। আপনার নিয়মিত খাবার অথবা সূর্যের আলো থেকে যদি যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন D না পান, তাহলে শরীরের টেস্টোস্টেরন উৎপাদন ২০ শতাংশ কমে যায়।

দিনে মাত্র পনের মিনিট যদি আপনার হাত-পা সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকে, তাহলে শরীর যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন D পায়।

৭.  অতিরিক্ত বেশি দৌড়ানো
ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়ার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ৪০ মাইল বা তার বেশি দৌড়ালে টেস্টোস্টেরন ১৭ শতাংশ কমে যায়।

অতিরিক্ত দৌড়ালে আপনার মস্তিষ্ক ও হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থির মধ্যে যোগাযোগে সমস্যা হয়, এতে টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন কমে যায়।

৮. মদ্যপান
আপনি যদি নিয়মিত মদ্যপায়ী হয়ে থাকেন তাহলে আপনি হয়ত আশা করছেন এই লিস্টে যেন মদ্যপানের ব্যাপারটি না থাকে। কিন্তু না! আপনার জন্য দুঃসংবাদ!

বিয়ার, ওয়াইন প্রভৃতি অ্যালকোহল জাতীয় পানীয়ের কারণে এস্ট্রোজেনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই টেস্টোস্টেরন কমে যায়।

তবে সামান্য বা অল্প মদ্যপানে এই ক্ষতিকর প্রভাবটি কার্যকর নয়। আপনি যদি নিয়মিত মদ্য পান করে থাকেন, যেমন, দিনে অন্তত দুই পেগ, তাহলে এটা আপনার টেস্টোস্টেরন কমিয়ে দিবে।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক