page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

“আমি তো চাচ্ছি না কবিতাকে অনেক বেশি বাঙ্ময় টাইপের করতে।”—সাদ রহমান

সাঈদ রূপু: জন্ম কত সালে?

সাদ রহমান: আমার জন্ম ১৯৯৬ সালে।

সাঈদ: এই মেলাতে আপনার কী বই আসছে?

সাদ: একটা বই আসছে, কবিতার বই—’কাক তুমি কৃষ্ণ গো’।

সাঈদ: কোন প্রকাশনী থেকে?

সাদ: ঘাসফুল প্রকাশনী থেকে আসছে।

সাঈদ: আচ্ছা আপনার কবিতার ‘কাক তুমি কৃষ্ণ গো’—এই নামটা, নামকরণ কীভাবে? এটা একটু অন্যরকম শোনাচ্ছে।

boimela-logo-2016

সাদ: আমি নাম নিয়া একটু ইয়াতে ছিলাম, একটু কনফিউজড ছিলাম নামের ব্যাপারে। একদিন রাতে বেশ কয়েকটা নাম মাথায় ছিল, ওই জায়গা থেকে একটা নাম ‘কাক তুমি কৃষ্ণ গো’—ওইটা দিলাম। মনে হইলো যে এটা দেওয়া যায়, আমার কবিতার সঙ্গে ব্যাপারটা যাচ্ছে।

সাঈদ: মানে আপনার কবিতাগুলি কি আগে লিখছেন তারপরে নাম ঠিক করছেন, নাকি নামটা ভেবে তারপর কবিতা লিখছেন?

সাদ:  না ব্যাপারটা যেমন আমি পাণ্ডুলিপি রেডি করতেছি আবার এদিক দিয়া বইয়ের নামও ভাবতেছি। তো বইয়ের নাম ভাবতে ভাবতে তখন পাণ্ডুলিপি প্রায় রেডি হয়ে গেছে ওই সময় নামটা মাথায় আসছে। এর পরও, নামটা ঠিক হওয়ার পরেও আমি আরো কিছু কবিতা পাণ্ডুলিপিতে ঢুকাইতে পারছি।

সাঈদ: আচ্ছা অনেকে আছে যে কবিতার ভিতরে একটা কবিতাকে কেন্দ্র করে নাম করে, বা নামকে ভিত্তি করে একটা কবিতা করে, তো আপনি এটাকে কীভাবে দেখছেন?

saad-book-1সাদ: আমি ওই কাজটা করি নাই আর কি। আমি চাইছি যে এমন একটা নাম হোক যেটা পুরা বইটাকেই সামনে নিয়ে আসতে পারে। বইয়ের একটা ভাষা বা বইয়ের একটা যে ভিতরের কাজ আছে, মানে আমার কবিতার যে সব কাজ ওইটাই যাতে নিয়ে আসতে পারি এমন চাইছি।

সাঈদ: আচ্ছা, আপনার কবিতার সাথে নামের যেই ইয়েটা যেটা আপনি বললেন নিয়ে আসছে চাইছেন, তো এইটা কতটুকু আসছে?

সাদ: এটা হইছে কী ‘কাক তুমি কৃষ্ণ গো’ এই যে মানে এটার ভিতরেই মানে একটু নতুন কিছু আছে বোধহয়। তো সেই জিনিসটাও আমার কবিতায় আছে, ভাষার দিক দিয়ে। আর মানে কাককেও কৃষ্ণ বলার ভেতর দিয়া যে একটা মানে নিজে নিজেই একধরনের স্যাটায়ার আছে না, এ ব্যাপারটাও আছে। ফলে আমার কবিতার সঙ্গে ব্যাপারটা দুই দিক দিয়াই হয়তো গেছে।

সাঈদ: আচ্ছা আপনি বললেন যে ভাষার একটা পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন, যে আপনি একজন তরুণ কবি হিসেবে সেটা আপনি কোন ধরনের চিন্তা বা কোন ধরনের পরিবর্তন করবেন?

সাদ: ভাষার পরিবর্তনের যেটা সেটা হচ্ছে যে অনেক বেশি কবিতাময় করে তুলতে চাই না আমি। তো সে ক্ষেত্রে আমার ভাষাটাকে নিতে হয়। যেমন আমি তো চাচ্ছি না কবিতাকে অনেক বেশি বাঙ্ময় টাইপের করতে। তো সেক্ষেত্রে আমি একটু স্যাটায়ারধর্মী। বা স্যাটায়ার বলবো না, এটাকে কী বলে মানে একটু সাবলীল সহজ ভাবে বা আমি যেমনে কথা বলি সেই ভাবে নিয়া আসতে চেষ্টা করছি। সে ক্ষেত্রে ভাষাটাকে ইম্পোর্ট্যান্ট মনে হইছে, ফলে ভাষার ভিতরে একটু আলাদা বা একটু উল্টাপাল্টা এরকম কিছু চেষ্টা করছি।

সাঈদ: আচ্ছা আপনার তো এইটা প্রথম বই।

সাদ: হ্যাঁ।

সাঈদ: তো প্রথম বই হিসেবে সাহিত্য মহলে কবিতা লিখবেন এই ধারণা কোত্থেকে আসলো? বা উপন্যাস কেন লিখলেন না?

সাদ: উপন্যাস যে কারণে লিখতাম বা লেখা হইত কবিতাও সেই কারণেই। কিন্তু এর বাইরে একটা কথা আছে, মানে কবিতাটাই আমি জীবনে, মানে আমার এই জীবনে বেশি লিখছি। কবিতাটাই আমার পক্ষে বেশি সুইটেবল।

সাঈদ: শেষ পর্যন্ত কি আপনে কবি হিসেবেই থাকতে চান, পরিচিতি পাইতে চান? নাকি ঔপন্যাসিক?

সাদ: না, আমি উপন্যাসও লিখতে চাই। উপন্যাসও লিখতে চাই। তবে কবি পরিচিতি পাইতে চাই না। আমি চাই যে আমার ভিতর দিয়া অনেক ভালো কিছু কবিতা বের হয়ে আসুক।

সাঈদ: কবিতার যেই সমাজটা আছে, তারা যেই ধরনের কবিতা লেখে আপনি কি তাদের চেয়ে অন্য রকম কবিতা লিখতে চান?

সাদ: একটু অন্যরকম তো চাইই সবার থেকে। মানে নিজেকেই বিশেষ ভাবে প্রকাশ করতে চাই।

সাঈদ: আপনার এই কবিতার বইতে কতগুলি কবিতা আছে?

সাদ: ৪০ টা।

সাঈদ: এটা কত দিন সময় নিয়ে লিখছেন? কবিতা কি এক দিনে একটা শেষ করতে পারছেন?

সাদ: এই কবিতাগুলি লিখছি সাধারণত ২০১৫ -এর সেপ্টেম্বরের পর থেকে। সবগুলাই সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের পর থেকে।

সাঈদ: কবিতার ক্ষেত্রে আপনার কি মনে হয় যে এটা তো আসলে ভাবনার বিষয়, লিখতে বসলেই আসে না বা কী ধরনের চিন্তা-ভাবনা এইটা?

সাদ: কবিতা মানে অনেকটা প্রজ্ঞারও বিষয়। যেমন আমি তো হঠাৎ কইরাই… যেমন এখন আমি কবিতা লিখতে পারব না, তাই না? সেক্ষেত্রে কবিতাকেও আমাকে কিছুটা চাইতে হবে আমিও কবিতাকে কিছুটা চাইতে হবে। তো এর ভিতর দিয়া যখনই এই জিনিসটা ঘটে তখনই কবিতা লিখতে মনে চায় বা তখনই লেখা হয়।

সাঈদ: তো মেলার প্রায় শেষের দিকে, তো আপনার বই কবে আসছে?

সাদ: আমার বই একটু দেরি হইছে আসতে, সতেরো তারিখ বা ষোলো তারিখের দিকে।

সাঈদ: এইটার সাড়া কী রকম দেখছেন আপনি?

সাদ: ভালোই তো।

বাংলা একাডেমি বইমেলা, ৬/২/২০১৬

ইউটিউব ভিডিও

About Author

সাঈদ রূপু
সাঈদ রূপু

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স। ইন্ডিপেনডেন্ট টিভিতে শিক্ষানবিশ সাংবাদিক।