page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

ইন্ডিয়ার টয়লেট সমস্যা নিয়ে বিল গেটস

ইন্ডিয়ার চিত্র: নতুন প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ

বিল গেটস

নরেন্দ্র মোদী ইন্ডিয়ার টয়লেট সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন।

নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক সময়ে যুক্ত্ররাষ্ট্র ভ্রমণের আগেই নিউ ইয়র্ক টাইমস তার সম্পর্কে লিখেছে, তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন আমলাতন্ত্রের জটিলতা দূর করবেন, দুর্নীতি দমন করবেন, ইন্ডিয়ার অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করবেন এবং হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু তিনি এমন একটি বিষয় নিয়েও স্পষ্টভাবে বলেছেন যেটি নিয়ে আলোচনা কম হয়—খোলা জায়গায় মলত্যাগ।

আপনার হয়ত আশ্চর্য মনে হতে পারে যে ইন্ডিয়ায় এত পরিবর্তন আসছে অথচ ৬৩০ মিলিয়ন মানুষ সেখানে খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে। কারণ তাদের টয়লেটের সুযোগ নেই। সারা পৃথিবীজুড়ে এই সংখ্যা ২.৫ বিলিয়ন।

এই ইস্যুটি নিয়ে অধিকাংশ রাজনীতিবিদই কথা বলতে পছন্দ করে না। কিন্তু আমার ধারণা প্রধানমন্ত্রী মোদী তার দায়িত্ব গ্রহণের এই অল্প সময়ে টয়লেটের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে অন্য কোনো নেতার চেয়ে বেশি কাজ করেছেন।

মানুষের জন্য ভালো স্যানিটেশন ব্যবস্থা, মলত্যাগের জন্য একটি নিরাপদ জায়গা তৈরি করা আমাদের ফাউন্ডেশনের একটি বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুতরাং আমি আর মেলিন্ডা যখন গত মাসে নয়া দিল্লীতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করেছি তখন ভ্যাকসিন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং স্বাস্থ্য ক্লিনিকের সাথে টয়লেট ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়। ইন্ডিয়ার একেবারে দরিদ্র জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা এবং দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার ব্যাপারে তার প্রতিজ্ঞা দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছিলাম।

এটি আমার এবং মেলিন্ডার একসাথে তৃতীয়বারের মত ইন্ডিয়া ভ্রমণ ছিল (আমরা নিজেরাও একা একা অনেকবার ইন্ডিয়া ভ্রমণ করেছি)। এবার সেখানে বিশেষভাবে ব্যস্ত সময় পার হয়েছে, চায়নার রাষ্ট্রপতি জিও তখন এসেছিলেন এবং সরকার তখন জম্মু ও কাশ্মীরের ভয়াবহ বন্যা নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তাই আমাদের সাথে দেখা করার জন্য যেসব মন্ত্রীরা সময় করে উঠতে পেরেছিলেন আমরা তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছি।

আমাদের সে সময়ের আলোচনা থেকে বোঝা যায় তিনি আগ্রাসী লক্ষ্য স্থির করছেন এবং সেগুলি তাড়াতাড়ি বাস্তবায়নের জন্য লোকজনকে চাপ দিচ্ছেন। তিনি সবসময় অনেক মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করছেন, তাদের জিজ্ঞাসা করছেন, একশ দিনের মধ্যে আপনারা কী করতে পারবেন? আপনারা কি আপনাদের লক্ষ্য আরো শক্ত করতে পারবেন? আরো উচ্চাভিলাষী?

আমরা সম্ভবত অন্য কিছুর চেয়ে স্যানিটেশন নিয়ে বেশি আলোচনা করেছি। মেলিন্ডা অথবা আমি আগেও এই বিষয় নিয়ে ইন্ডিয়ায় কথা বলেছি, কিন্তু সাধারণত আমরাই এই বিষয়টি সামনে নিয়ে আসতাম। এবার প্রধানমন্ত্রীই এনেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন যে উন্নতির ধীর গতি নিয়ে তিনি হতাশ। তিনি ২০১৯ এর মধ্যে খোলা জায়গায় মলত্যাগ বন্ধ করতে চান। দেশটির ৫০০ বড় বড় শহরের বাস এবং রেল স্টেশনে টয়লেট স্থাপন করা সহ তার কিছু চিন্তার কথা আমাদের জানিয়েছেন।

বড় নিষ্কাশন পাইপ ও পানির পাইপের দরকার হবে না একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী তেমন টয়লেট ডিজাইন প্রসঙ্গে আমি কথা বলেছি। আমাদের ফাউন্ডেশন দুইবার ‘টয়লেটব্যবস্থা পরিবর্তন’ মেলার সহ-আয়োজক ছিল। এর মধ্যে একটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল দিল্লীতে। আমি পয়েন্ট আউট করেছি যে সবচেয়ে অগ্রসর ধারণার দুটি পরীক্ষিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নিজের প্রদেশ গুজরাটে। এমন নতুন ধরনের টয়লেটের ডিজাইনও আছে যেগুলি মানুষের বর্জ্য ব্যবহার করে শক্তি, সার এমনকি পানযোগ্য পানি তৈরি করবে।

পুরোটা সময় আমরা শুধু টয়লেট নিয়েই আলোচনা করি নি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর আরো অনেকগুলি গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে আলোচনা করেছি। এর মধ্যে ছিল দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছে ব্যাঙ্কিং সেবা পৌঁছে দেওয়া। (সঞ্চয় করা এবং দারিদ্র্য দূর করার জন্য একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকা জরুরি- কিন্তু ভারতে অর্ধেকেরও কম মানুষের তা আছে।) প্রতিটি শিশুকে ভারতে প্রস্তুতকৃত রোটাভাইরাস ভ্যাকসিন দেওয়ার অসাধারণ চিন্তাটি নিয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা অপুষ্টির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর লড়াই নিয়ে কথা বলেছি। এর একটি বিশেষ দিক হলো মহিলা এবং মেয়েদের ভালো পুষ্টির ব্যাপারে শিক্ষিত করা।

এটি শুধু ভারতের জন্যই একটি উত্তেজনাকর সময় নয়। যারা একদম দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যকর, উৎপাদনক্ষম জীবনযাপন করার সুযোগ দেওয়ার কথা চিন্তা করে তাদের জন্যও উত্তেজনাকর। এই ক্ষেত্রটিতে স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে যত পরিবর্তন আসছে, আমাদের তা কাজে লাগানোর দারুণ একটি সুযোগ রয়েছে। ভারত এইসব উদ্যোগ নিয়ে সামনে আগাচ্ছে এটি সত্যিয় অনুপ্রেরণাদায়ক।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক