page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

ইমরান হাশমি ও ‘টাইগার’ প্রসঙ্গে অস্কারজয়ী ডিরেক্টর ও কো-প্রডিউসারের ইন্টারভিউ

নো ম্যানস ল্যান্ড ছবির জন্য অস্কারজয়ী বসনিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা ড্যানিস ট্যানোভিক এবং দি গার্ল উইদ পার্ল ইয়ার রিং ছবির প্রযোজক অ্যান্ডি প্যাটারসন মুম্বাই গিয়েছেন ট্যানোভিক পরিচালিত আগামী ছবি ‘টাইগার’ এর নির্মাণ পরবর্তী কাজ করার জন্য। টাইগারে অভিনয় করেছেন ইমরান হাশমি। ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪ তে টরোন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে টাইগার এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হবে। ড্যানিস ট্যানোভিকের সাথে ছিলেন সিনেমাটির সহ-প্রযোজক এবং সহ-লেখক অ্যান্ডি প্যাটারসন। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা দুজন ছবিটি নিয়ে কথা বলেছেন। ছবিটিতে শিশু খাদ্যে কেলেঙ্কারীর ঘটনা দেখানো হয়েছে। এখানে সাক্ষাৎকারটির মূল অংশ দেওয়া হলো।

আপনারা কি ইমরান হাশমির নতুন মুক্তি পাওয়া ছবিটি দেখেছেন?

ড্যানিস ট্যানোভিক: হ্যাঁ, এটি একটি বিনোদনমূলক ছবি। কিন্তু টাইগার-এ এমরান একদম আলাদা। এটাই প্রমাণ করে কতটা ভালো অভিনেতা সে।

মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির একজন সেলসম্যান যে বাচ্চাদের জন্য ফর্মূলা-খাদ্যপণ্য বিক্রি করে, কিছু কুৎসিত সত্য দেখার পর সে তার অবস্থান পরিবর্তন করে।

ড্যানিস ট্যানোভিক (জন্ম. ১৯৬৯)

ড্যানিস ট্যানোভিক (জন্ম. ১৯৬৯)

আপনাদের কীভাবে মনে হলো আয়ান নামের এই চরিত্রটি সে করতে পারবে?

ড্যানিস ট্যানোভিক: অনুরাগ (ক্যাশপ) আমাকে ইমরানের কথা বলেছিল। আমি তার কয়েকটা ছবি দেখি এবং যেটাতে তার ভূড়ি ছিল সেই ছবির (সাংহাই) পারফরম্যান্স দেখে বিশেষভাবে মুগ্ধ হই। আমি তার সাথে দেখা করার জন্য উড়ে আসি। সে চমৎকার, দেখতে সুন্দর একজন যুবক। সে নিজেকেই ছবিটিতে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে। বলিউডে সে একটি ইমেজ বহন করে। এখানে আমি দেখি না যে লোকজন রাস্তাঘাটে নাচে অথবা চুমু খায়… সুতরাং আমি অবাক হয়েছি যে তারা সিনেমায় তা দেখার আশা করে।

ইমরানের ছেলের নামও আয়ান…

অ্যান্ডি প্যাটারসন: ইমরানের ছেলের নামানুসারে তার চরিত্রের নাম আয়ান রাখা কোনো সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল না।

অ্যান্ডি প্যাটারসন

অ্যান্ডি প্যাটারসন

ড্যানিস ট্যানোভিক: আপনি এটাকে আনন্দদায়ক একটা কাকতাল বলতে পারেন, এমনকি গন্তব্যও বলতে পারেন। আয়ান হলো আমার ডেভিড। সে বিরাট ধনী কর্পোরেট গলিয়াথ (দানব) এর চাকরিতে নিযুক্ত হয়। এই কর্পোরেট দৈত্যের তার ভাণ্ডার পূর্ণ করার জন্য আসলে এই রক্তাক্ত টাকার দরকার নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিবছর দেড় মিলিয়ন নবজাতক শিশু অনিরাপদ খাবারের কারণে মারা যায়। আপনার নিজের মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার থেকেও কঠিন কিছু যদি থাকে তা হলো আপনার নিজের সন্তানের মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া।

অ্যান্ডি প্যাটারসন: একটি অ্যাকশন গ্রুপের রিপোর্ট থেকে আমরা এই কঠিন সত্যটি জেনেছি। আমরা ভেবেছিলাম আমাদের ছাত্রজীবনের এই ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলি সত্তুরের দশকেই শেষ হয়েছে কিন্তু সাত বছর আগে পাকিস্তানে যখন কিছু ঘটল তখন দেখলাম ঘটনা এরকম।

ড্যানিস কিভাবে ছবিতে প্রবেশ করলো?

অ্যান্ডি প্যাটারসন: আমি তাকে সামাজিকভাবে চিনতাম এবং আমি দেখেছি নো ম্যান’স ল্যান্ডের জন্য অস্কার, গোল্ডেন গ্লোব এবং অন্যান্য অ্যাওয়ার্ড জেতার পর সে কীভাবে ফেনোমেনন হয়ে উঠলো। সে একজন সিরিয়াস পরিচালক এবং সে ফাদার অব ফাইভ। গল্পটি তাকে ক্ষুব্ধ করেছে।

ড্যানিস ট্যানোভিক: আমি এখনো ক্ষুব্ধ। আমি আশা করি ছবিটির মাধ্যমে আমরা জনগণের মতামত জাগ্রত করতে পারব এবং পরিবর্তন আনতে পারব।

অ্যান্ডি প্যাটারসন: আমরা বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের সময় টাইগার এর শ্যুটিং শুরু করি। ড্যানিস সারাদিন ছবিটির শ্যুটিং করেছিল। সন্ধ্যা আটটার সময় সে কালো একটি টাই পরে অ্যান এপিসোড ইন দ্য লাইফ অব অ্যান আয়রন পিকার এর জন্য দুটি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করে আবার কাজে ফিরে গিয়েছিল, যেন দৈনন্দিন সাধারণ কাজের বাইরে বিশেষ কিছুই ঘটে নি।

আপনারা মনে করেন যে কর্পোরেটরা যদি এর বিতর্কিত ইস্যুগুলিতে আপত্তি না করে তাহলে টাইগার এর অস্কারে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?

ড্যানিস ট্যানোভিক: আইডিয়াটি হলো ছবিটি যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়া।

আপনি [ট্যানোভিককে] লাঞ্চবক্সের সহ-প্রযোজক ছিলেন। গত বছর জুরিরা দি গুড রোডকে ভারতের অফিসিয়াল প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচিত করার আগ পর্যন্ত এটি অস্কার মনোনয়নের জন্য শক্তিশালী প্রতিযোগী ছিল।

ড্যানিস ট্যানোভিক: যদি এটা পুরস্কার নাও পেত, এটার মনোনয়ন পাওয়া উচিৎ ছিল। এটার প্রভাব এখনো আছে এবং সারা পৃথিবী জুড়ে যারা এই ভাষা বোঝে না তাদেরকেও দারুণভাবে স্পর্শ করেছে।

অ্যান্ডি প্যাটারসন: হ্যাঁ, আমি এটা সাবটাইটেল সহ দেখেছি।

ড্যানিস ট্যানোভিক: ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র সব জায়গায় লোকজন এটা নিয়ে কথা বলছিল। ভারতীয় ছবির ক্ষেত্রে সচরাচর এমনটি ঘটে না। আমাকে নয়টি ছবির জন্য শর্টলিস্টে রাখা হয়েছে। লাঞ্চবক্সের জন্য আমি আনন্দের সাথে আমার জায়গা ছেড়ে দিতাম।

টাইগার এর শুটিংয়ে হাশমি

টাইগার এর শুটিংয়ে হাশমি

আপনারা কি আর কোনো ভারতীয় ছবি সহ-প্রযোজনা করবেন?

ড্যানিস ট্যানোভিক: এটা গল্পের উপর নির্ভর করবে। টাইগার খুব বাণিজ্যিক একটি শিরোনাম…

অ্যান্ডি প্যাটারসন: যখন আয়ান (ইমরান হাশমি) কোম্পানিতে জয়েন করে তাকে টাইগার এর মত কঠোর পরিশ্রম করতে বলা হয়। সে শেষপর্যন্ত একটি টাইগার এর মতই লড়াই করে যায়। এটা কাজ করার মত একটি শিরোনাম। আমরা কিছু সময়ের জন্য শিরোনাম হিসেবে ‘হোয়াইট লাইস’ এর কথা ভেবেছিলাম কিন্তু শেষপর্যন্ত টাইগার রাখার সিদ্ধান্ত নেই।

টাইগার এর শুটিংয়ে হাশমি

টাইগার এর শুটিংয়ে হাশমি

গল্পটি যেহেতু পাকিস্তানের, আপনারা কি সেখানে শ্যুটিং করার কথা ভাবেন নি?

ড্যানিস ট্যানোভিক: ভারত শ্যুটিং এর জন্য বেশি সুবিধার জায়গা। ভারত এবং পাকিস্তান একসময় একই দেশ ছিল কিন্তু এখন এ দুটি ভিন্ন পৃথিবী। আমি শুধু লাহোরে গিয়েছিলাম তাও সাত বছর আগে। সাত বছরে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গত দশকে ভারত আশ্চর্যজনকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অর্থনীতির বৃদ্ধি ঘটছে। এবং তরুণ পরিচালকদের নতুন প্রজন্ম এখন প্রভাব ফেলছে।

অ্যান্ডি প্যাটারসন: সে (ড্যানিস ট্যানোভিক) তার এক মেয়ের নাম রেখেছে ইন্ডিয়া!

বসনিয়াও কি পরিবর্তিত হয়েছে?

ড্যানিস ট্যানোভিক: এটি এখন আর নো ম্যান’স ল্যান্ড নেই। কিন্তু এখনো দেশের জনসংখ্যা জুহু বিচে আপনি যত লোক দেখেন তার চেয়ে কম।

ইমরান ছাড়া বলিউডের আর কোন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সাথে কাজ করতে পছন্দ করবেন?

ড্যানিস ট্যানোভিক: আমি একটি অনুষ্ঠানে শাহ রুখ খানকে নাচতে দেখেছি। সে এন্টারটেইনিং। আমি ঐশ্বরিয়া (বচ্চন)কে অনেক বছর ধরে চিনি। সে গর্জিয়াস এবং বুদ্ধিমতী কিন্তু আমি তাকে ছোট একটি গ্রামে ইমরানের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিতে পারতাম না। পারতাম কি? এই কারণেই আমি আল পাচিনোর সাথে কাজ করার সুযোগ হত্যা করেছি, তার (আল পাচিনো) সাথে কাজ করার জন্য আমার একটি স্ক্রিপ্ট দরকার।

 

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক