page contents
সমকালীন বিশ্ব, শিল্প-সংস্কৃতি ও লাইফস্টাইল
ব্লগ

ইসলামিক স্টেটের প্রতি আল-কায়েদা — অ্যালান হ্যানিংকে ছেড়ে দিন

আল-কায়েদা ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর কাছে আবেদন জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সাহায্যকর্মী অ্যালান হ্যানিংকে যাতে ছেড়ে দেয়া হয়। আল-কায়েদার মতে, এই ব্রিটিশ জিম্মি সৎ ও নিষ্ঠাবান সাহায্যকর্মী, তিনিই একমাত্র পুরোপুরিভাবে ভুক্তভুগী মুসলিমদের সহায়তা করার জন্য সোচ্চার ছিলেন।

১৩ বছর আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর হামলা করা সংগঠন আল-কায়েদা আইএস’কে আরো বলেছে যে, এই অ্যালান হ্যানিংকে আটক করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। কারণ তিনি প্রায় চার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের জন্য দরকারি চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে গিয়েছিলেন। হ্যানিং মুসলিমদের এই দুর্ভোগে এতটাই ব্যথিত হয়েছিলেন যে সেখানে দুর্গত ও যুদ্ধাহত মুসলমানদের সাহায্য করার জন্য তিনি স্যালফোর্ডের বাসা ছেড়ে তার স্ত্রী আর দুই বাচ্চা নিয়ে সিরিয়ার আল-ডানাতে চলে যান।

মার্কিন সাংবাদিকের ভাষ্যমতে, আল-কায়েদার জাবাখত-আল-নুসরা শাখার আমীর তার প্রাক্তন আইএস সঙ্গীদের সাথে দেখা করার সময় এসব বুঝিয়ে বলেন, যে তারা যেভাবে হ্যানিংকে অপহরণ করেছে সেটি পুরোপুরি ইসলাম বিরোধী।

চলচ্চিত্র নির্মাতা বিলাল আবদুল করিম দি ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, যে বা যারা আইএসকে ডিসেম্বরে অপহৃত হ্যানিংকে মুক্তি দেয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন আমি তাদের সাধুবাদ জানাই কারণ এই ধরনের কাজ মুসলমানদের জন্য অভিশাপ বয়ে নিয়ে আসবে।”

বিস্ময়কর হলেও সত্যি আল-কায়েদার আমীর এক সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আইএস’এর কোনো অধিকার নেই এমন কাউকে অপহরণ করা যে মুসলমানদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছে, তারা শুধুমাত্র অমুসলিম বলেই হ্যানিংকে আটক করেছে যেটি ইসলামেও সম্পূর্ণ অন্যায্য।’

আইএস পুরো বিশ্বে আলোড়ন ফেলে দেয় একটি ভিডিওর মাধ্যমে। যেখানে দেখানো হয় দুজন মার্কিন সাংবাদিক আর একজন সাহায্যকর্মীর শিরশ্ছেদ করা হচ্ছে।

আইএসের সাম্প্রতিক ভিডিওবার্তায় দেখানো হয় হেইনেস নামের এক বন্দিকে নির্মমভাবে চাকু দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। তার অপরাধ সে ডেভিড ক্যামেরনের ইঙ্গিতে উত্তর ইরাকের সুন্নিদের মারার জন্য কুর্দিদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়। আর তারই প্রতিশোধ হিসেবে ছিল এই ভিডিওবার্তা।

অ্যালান হ্যানিং সিরিয়ার একটি হাসপাতালের জন্যে জেনারেটর বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

সেই ভিডিওবার্তায় মুখোশধারী ব্যক্তি ঘোষণা দেয় যে পরবর্তী লক্ষ্য হ্যানিং, হ্যানিং সিরিয়াগামী সাহায্য দলের মধ্যে একমাত্র অমুসলিম ছিলেন। তুরস্ক সীমান্ত থেকে কিছু দূরে অবস্থিত আল-ডানা শহরের দুর্গতদের সাহায্যের জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছিল সেই সাহায্যকারী দল।

আমেরিকার চলচ্চিত্র নির্মাতা করিম তার বার্তায় বলেন যে তার সাথে জাবাখত-আল-নুসরার আমীরের কথা হয়েছে। তিনি হ্যানিং-এর ব্যাপারে আইএসের সাথে আলোচনা করবেন। কারণ গত ডিসেম্বরে তাকে অপহরণ করার পর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নি।

বিশ্লেষকদের মতে এখানে আল-কায়েদার স্বার্থও জড়িত। কারণ আইএস প্রতিষ্ঠা ও এর মিডিয়া সম্প্রচারের পর থেকে আল-কায়েদার আধিপত্য কমছে। আর ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর তা আরও ঘোলাটে আর নেতৃত্বহীন হয়েছে। তাই তারা খুব নিয়মিতভাবেই আইএসের সমালোচনা করে।

লন্ডনের কিংস কলেজের প্রফেসর পিটার নিউম্যান বলেন, দুটি দলের মধ্যে আদর্শগত পার্থক্য খুব বেশি না থাকলেও, আল-কায়েদা তুলনামূলকভাবে বেশি কৌশলী। যেমন তারা শিরশ্ছেদের বিরুদ্ধে না, তবুও তারা আইএসের মতো এর প্রচার করছে না, কারণ এতে করে তারা বন্ধু হারাতে পারে।

ইন্ডিপেনডেন্ট থেকে পাওয়া সংবাদে জানানো হয় যে ডেভিড ক্যামেরন আইএসের উপর মারাত্মক ক্ষুব্ধ আর তিনি চান আইএসকে যাতে খুব দ্রুত নির্মুল করা হয়। ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক সচিব ফিলিপ হ্যামন্ড জানান, তারা ৪৭ বছর বয়সী হ্যানিংকে খুঁজে পাচ্ছেন না এবং তারা হেইনেসের মৃত্যুর পর হ্যানিংকে নিয়ে খুব শঙ্কিত।

About Author

সাম্প্রতিক ডেস্ক
সাম্প্রতিক ডেস্ক